অতীত, তুমি কথা বলো | চুপ করে থেকো না, সব কথা, অসংখ্য ঘটনা, খুলে বলো অতীত | ইতিহাসের অধ্যাপকেরা, ভাবনার বাতায়ণে, জুলিয়াস সিজারের ছোট্ট নদী রুবিকণ পার হয়ে যায় | হিমালয়ের হিমেল হাওয়ায়, তপ্ত নিঃশ্বাসের উষ্ণতা, বারে বারে করে উত্তপ্ত, বিচ্ছিন্নতার উত্তপ্ত লাভাস্রোতে, বিশ্বাসের দাবীপত্র হলো ভস্মিভূত ; কে পারবে জবাব দিতে || যারা একবুক বিশ্বাস নিয়ে, আজীবন আশা ভরসা কে পাথেয় করে, বিনম্র শিরে কথা বলতে অভ্যস্ত, নীরবে কথা শোনে, জীবন প্রবাহে, "আজ্ঞাবহ প্রজাতিরূপে" যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকার নীরব প্রতিশ্রুতিতে ? সেই প্রজাতির রক্তচক্ষু, ঠিকরে বেরিয়ে আসছে আজ! গোপনে লুকিয়া রাখা, সোনার কাঠি রূপোর কাঠি, কোথায় গেল হারিয়ে ? ইচ্ছে হলে ঘুমিয়ে পড়ত ইচ্ছে হলে জাগত হায়! জোর করে কেড়ে নিয়েছে তারা--- মালিক সেজে দোহাই দেয় যারা ||
যাবার সময় হল, যেতেই হবে | মিলে যাবে দেহখানি পঞ্চভূতে লীন হয়ে যাবে || ছেড়ে যেতে হবে, সাধের বাড়ি, হরিতকী, আমলকী, পেয়ারার সারি নারকেল, জামগাছ, মানকচু, বাতাবী লেবুর সাথে ছিন্ন হবে সম্পর্ক সব |
স্পন্দনহীন দেহখানি, জলাধারের সুশীতল হাওয়ায় মিশে যাবে || কোথা যাবে, জানা নেই তা, অস্তাচলের সিন্ধু পারে, অথবা সাগরের ঢেউয়ে --- মনে পড়ে ছোট বেলার স্মৃতিভরা কথা | কখনো বৈশাখের ঝঞ্ঝা বাতাসে, কখনো চৈত্রের উত্তপ্ত দুপুরে, ক্লান্ত শরীর মন, হয়েছে অক্ষম, তবুও হয়েছে পরিতৃপ্ত সব কিছু নিয়ে জীবন হয়েছে আপ্লুত | একটু বাদে পেছনে ফিরে বিনম্র চিত্তে ; হাত জোড় করে বন্দনা জানাবো আদি গুরুজনে জীবনের শেষ প্রণাম ||
আবদ্ধ ছন্দহীন গদ্যময় জীবন . প্রবাহহীন বিলের মতো | বদ্ধ জীবন ছেড়ে . চঞ্চলা তটিনীর মতো . মন চাইছে . সাগরে মিলতে |
বৃথাই আশা . কত কাঙ্খিত জীবনের . এ প্রয়াস . কখনো হবে না . সার্থক |
জানি আমি, . তবুও চলার চেষ্টা . জীবন ভরে |
প্রকৃতির ষড়যন্ত্রে . আমার পথ হয়েছে . রুদ্ধ | ঈর্ষা না প্রতারণা ? . ইস্পাত সম চাবুক . আমাকে করেছে . জর্জরিত | তাই চাই না সাগরে . যেতে | আমার অচল বিলে . ফুটবে শাপলা বধূরা সকাল সন্ধে . আসবে ফুল তুলতে কেউ ছিপ ফেলে . ধরবে মাছ | তবুও তো তারা থাকবে কিছুক্ষণ!
আমার অচল জলার ধারে! সেটাই যে আমার যন্ত্রণা ভরা হৃদয়ের . গভীর সান্ত্বনা |
আজ মূর্তি কিংবা ডায়নার . খরস্রোতা কল কল আমাকে করে না উন্মত্ত অথবা দুর্বল | সমগ্র গোষ্ঠির প্রাণ স্পন্দন আমাকে করে কেবলই বিহ্বল | সমাজ বিন্যাসের মূলতত্ত্ব ও প্রেরণ স্বচ্ছ দর্পণের ন্যায় হয় না কেন উত্ক্ষেপণ |
যারা গ্লানির কথা বলে, হতাশাকে আড়াল করতে চায় সেই সব ব্যক্তির জীবনচিত্র কোনোদিন কি অঙ্কিত হয় ?
আমি অনেক দিন পরে ভাল মন্দ মিলে চেষ্টা করছি সবকিছু বুঝতে |
জৈষ্ঠের সংক্রান্তি ও আষাঢ়ের প্রথম দিবস, প্রকৃতি পড়েছে যেন বৃষ্টির মুখোশ |
মুশলধারা বৃষ্টির শব্দে ঘুমটা গেল হঠাৎ ভেঙে আটের দশকে মাকে হারিয়েছি নয়ের দশকে পিতা তারপর একে একে স্নেহ, মায়া, মমতা, মহাজনের ঘরে সুদে আসলে দিয়েছি জমা |
সদ্য অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক, ইজিচেয়ারে গা এলিয়ে, কোন ভাবনায় বিভোর ? জানতে বড় ইচ্ছা করে, ব্যস্ত সে কি ?
অতীত কিংবা বর্তমানের হিসাব মিলাতে ? আমার মতই ভাবছে সে কি ? চিলারায়ের গড়, কোচবিহার থেকে চলেছে অসম প্রান্তর আহোম রাজার রাজ্য করিতে বিজয় |
আজ রাজা নেই, নেই প্রজা চিলা রায়ের গড়ের উপর আছে শুধু নিপিড়িত জনতা |
খড়ের ঘরে জ্বলছে কুপি টিপ টিপ করে, হ্যারিকেন আলো করছে অনেকের ঘরে | চার দিকেতে খেতে ভরা সবুজ ধানের গাছ--- তার মাঝেতে শুনতে পাই ব্যাঙদের গ্যাঙর গ্যাং আওয়াজ |
কিছুদিন আগেও চিলা রায়ের গড়ে, গভীর জঙ্গল আর বাঘ ছিল ভরে |
সন্ধ্যাবেলা উদ্বাস্তু বৌ দেয় উলুধ্বনি, ঘন্টা বাজে, শঙ্খ বাজে, মাঝে মাঝেই ভেসে আসে হরিনাম সংকীর্তন |
তার পর এসেছে "গণ পরিষদ" "ছাত্র পরিষদ" ছিল তাণ্ডব প্রকট যুবকের মতিভ্রম গ্রামটিতে এনেছে সঙ্কট |
"জয় আই অসম" বলে--- চারদিকে রব তোলে এইভাবে কত পিতা হয়েছে পুত্রহারা সরকার দেয়নি কোনদিন সারা |
এসেছে আলফা গোষ্ঠী রাত বেরাতে বন্দুকধারী প্রত্যেক বাড়িতে খায়--- থাকে আত্মীয়ের মত করি |
গ্রামটিতে উন্নতি হয় নি দুঃস্থ বুড়ো অসুস্থ রোগী উদাস ক্লান্ত ভাবে, ভ্যানে করে যায় থানার কোনো হাসপাতালে
পিরনো সংস্কৃতি অব্যাহত, বাঁশঠাকুরের নৃত্য, সত্য ঠাকুর সোনারায়ের কত যে গীত বাদ্য | সেছে শেষে "বিহু" যৌবনের প্রতীক রূপে জাগছে মানুষ দেবতা পারে নি মন কেড়ে নিতে |
ফুটবল খেলা মাঠটির পাশে তৈরী হয়েছে একটি শিব মন্দির একদিকে অনেক পুকুর, উল্টোদিকে গ্রামের হায়ার সেকেণ্ডারি স্কুল | আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা মন্দিরে যায় দিতে পূজা রাতে চলে গাজা ভাং দিনের বেলায় শিবের গাজন |
এসব নিয়ে, নেই কারো মাথাব্যথা | মানব জীবন পরিপূর্ণ হবে হৃদয় বৃত্তি গড়ে উঠবে যেখানে ন্যায়ের শাশ্বত আদর্শ হবে পরিপূর্ণ |