কবি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় - এর জন্ম উত্তর প্রদেশের জৌনপুরে | তাঁর সমগ্র জীবনে বাংলা দেশের সাথে যোগাযোগ ছিল শিথিল | তাঁকে প্রবাসী বাঙালী সাহিত্যিকদের অন্যতম বলা যেতে পারে |
কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে পড়তে পড়তেই তাঁর প্রথম রচনা, একটি কবিতার বই, "যৌবনস্মৃতি" (১৯২২) প্রকাশিত হয় | পাটনা থেকে আইন পাশ করেন | কিন্তু লেখালেখির কাজেই নিজেকে ব্যাস্ত রাখেন | ১৯২৯ থেকে ১৯৩৮ সালের মধ্যে, চলচিত্রকার হিমাংশু রায়ের উদ্যোগে, বম্বেতে গিয়ে বম্বে টকিস এর জন্য সিনেমার স্ক্রীন-প্লে লেখার কাজ শুরু করেন | ১৯৫৮ সালে তিনি বম্বে ছেড়ে পুণে তে বসবাস শুরু করেন |
তাঁর খ্যাতি মূলত গোয়েন্দা কাহিনী ও ঐতিহাসিক রোমান্সের জন্য | তাঁর প্রথম ছোটগল্প "জাতিস্মর" (১৯২৯) | তাঁর নাটক "বন্ধু" (১৯৩৭), "পথ বেঁধে দিল" (১৯৪১) | ১৯৩২-৩৩ সালে তাঁর সৃষ্ট বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র গোয়েন্দা বোমকেশ বক্সী ও অজিত-এর জুটি আত্মপ্রকাশ করে | ব্যোমকেশের "ডায়েরী" (১৯৩৩), "দুর্গরহস্য" (১৯৫২), "চিড়িয়াখানা" (১৯৫৩), "আদিম রিপু" (১৯৫৫), "সজারুর কাঁটা" (১৯৬৭) প্রভৃতি উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের স্মরণীয় রহস্য কাহিনী | তাঁর একাধিক উপন্যাসের চলচিত্রায়ণ হয়েছে, যার মধ্যে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত এবং উত্তম কুমার ও সুভেন্দু চ্যাটার্জী অভিনীত "চিড়িয়াখানা", উত্তম কুমার সৌমিত্র চ্যাটার্জী অভিনীত "ঝিন্দের বন্দী", হেমন্ত মুখার্জী সুরারোপিত তাপস পাল ও মহুয়া রায়চৌধুরী অভিনীত "দাদার কীর্তি" প্রভৃতি |
শরদিন্দুর প্রতিভার শ্রেষ্ঠ পরিচয় অতীতের রূপায়ণে | "কালের মন্দিরা" (১৯৫১), "গৌড়মল্লার" (১৯৫২), "তুমি সন্ধ্যার মেঘ" (১৯৫৮) ও "তুঙ্গভদ্রার তীরে" (১৯৬৫) তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা | অপরূপ বর্ণাঢ্য ভাষা, ইতিহাসের খুঁটিনাটির বিপুল বিন্যাস এবং অতীত কালের আবহাওয়া সৃষ্টি --- এই তিনটি দিক থেকে তাঁর উপন্যাসগুলি বিশিষ্ট | ১৯৬৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে তুঙ্গভদ্রার তীরে বইটির জন্য রবীন্দ্র পুরস্কারে ভুষিত করেন এবং ঐ বছরেই তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শরৎ স্মৃতি পুরস্কার পান |
আমরা পাঠকদের জন্য এখানে তাঁর বিভিন্ন নাটক, উপন্যাস, চিত্রনাট্য থেকে কিছু কবিতা তুলে দিচ্ছি |