কবি কবিতা সিংহের কবিতা
*
অপমানের জন্য ফিরে আসি
কবি কবিতা সিংহ

অপমানের জন্য বার বার ডাকেন
ফিবে আসি
আমার অপমানের প্রয়োজন আছে!

ডাকেন মুঠোয় মরীচিকা রেখে
মুখে বলেন বন্ধুতার--বিভূতি--
আমার মরীচিকার প্রয়োজন আছে |

অপমানের জন্য বার বার ডাকেন
ফিরে আসি
উচ্চৈঃশ্রবা বিদূষক-সভায়
শাড়ি স্বভাবতই ফুরিয়ে আসে
আমার যে
কার্পাসের সাপ্লাই মেলে না |

অপমানের জন্য বার বার ডাকেন
ফিরে আসি
ঝাঁপ খুলে লেলিয়ে দেন কলঙ্কের অজস্র কুক্কুর ---
আমার কলঙ্কের প্রয়োজন আছে!

যুদ্ধরীতি পাল্টানোর কোনো প্রয়োজন নেই
তাই করমর্দনের জন্য
হাত বাড়াবেন না |
আমার করতলে কোনো অলিভচিক্কণ কোমলতা নেই |


.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
আছেন ঈশ্বরী
কবি কবিতা সিংহ

কাব্যের ঈশ্বর নেই  আছেন ঈশ্বরী!
তিনি একা, তিনি নিরীশ্বর!
ঈশ্বরী কি ধ্বনি দেন? চক্ষুহীন, কর্ণবিহীন ?
না তিনি দেখান তাঁর অঙ্গুলি-হেলনে
চক্ষুষ্মান, সশরীর ---কবিতা-চেহারা!

তিনি তো ভূমন্ডলে শ্রেষ্ঠ নিষ্ঠুরা,--তিনি
তীব্র অপমান মুদ্রা, নীলবর্ণ করতলে করেন ধারণ

দু হাতে বিলান নির্বাসন |
ঈশ্বরী কাব্যের যিনি, সাকার তমসা তিনি
তিনি ঘোরঅমা!

অর্ধ দৃষ্টিপাতে তাঁর মানচিত্র ঘুরে যায় ক্রুদ্ধ-মহাকাশে,
ব্রহ্মান্ড বিদীর্ণ হয়, নীহারিকা পুনর্বিন্যাসে, ভাঙে গড়ে
বজ্রনখ বক্ষ ফাঁড়ে ঊর্ধ্ব থেকে ক্রমান্বয়ে অধঃ
তিনিই সৃজন দেন, এক এক হরফ নেয় রক্তের শরীর
করোটি বিদীর্ণ করে, ---আরাধ্য অক্ষর!

বৃথা শব্দে পাপী যত, ছদ্ম পূজারী,---তিনি
তিন নেত্রে করেন দাহন,
ক্কচিৎ কখনো কেউ, ফিরে আসে উত্কীর্ণ পাথর হাতে
বজ্রে উত্পাটিত,
যেমন ‘সেনাই’ থেকে নেমে এসে একেলা ‘মোজেস’
পৃথিবীর জন্য দেন স্বর্লোকের দশটি নির্দেশ!


.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
ভাঙ্গী রমণীর ক্রোধে
কবি কবিতা সিংহ

ধুউশ করে জ্বলে গেল ভিত থেকে চাল
মুহূর্তেই সংসার জঞ্জাল
ভাঙ্গী রমণী একা তাকাল ঊরুর দিকে তার
কালো ত্বক বেয়ে ক্রমে অর্থহীন নামে রক্তধারা |
এতদিন তার,---চোখের কোটরে শুধু গাঢ় ভয় ছিল
বড় অন্ধ, অসহায় ভয়
গভীর সন্ত্রাস ছিল সঙ্কোচ বেদনা
নিজের আজন্ম পাপ জন্ম অস্পৃশ্যতা
অপবিত্র শিশু স্বামী আত্ম পরিজন
আকাশ নদী ও ভূমি শস্যের মতন
                মৌল শুদ্ধতাকে--
দখল করেছে বলে অপরাধে বড় ছোট ছিল
রক্তের মোড়কে রাখা মজ্জাগত গাঢ় অশৌচ
যাঁতার মতনতার বুক ভেঙে পিষেছে বিস্বাদ!
তবু আজ, তার নগ্নতার আর--বাকি নেই
কোনো ঘোর ভয়---ব্রাহ্মণ বাটপাড়---
ধরনীর মত তাকে কর্ষণে করেছে রজস্বলা
শাড়ির সঙ্গে তার উড়েছে ভীরুতা
এখন ভিতরে তার শুধু ক্রোধ শুদ্ধ ঘোর ক্রোধ!
মন্দিরে যায় নি নারী দেখে নি সে অবিকল
তারই
নগ্ন কালো রক্তজিহ্ব প্রতিমার
          অদ্ভুত বিশাল
এলো চুলে কাল স্তর! খড়্গে জ্বলে লাল
স্পৃশ্যতার কূটকচাল আজ জেনে গেছে ভাঙ্গী রমণী |

শুধু দুই চক্ষু নয় ধ্বক্ ধ্বক্ কপালের চোখ
জ্বলে উঠে পেতে চায় পদতলে রাজপুত লোক
ক্রোধ তার জ্বলে উঠে বুক থেকে অন্য বুকে যায়
উরন্ত সর্পের মত ভয়হীন পায়ের তলায়
পিষে যায় লোক নয় পোক্
ভাঙ্গী রমণীর শাপে খাক্ হোক
ব্রাহ্মণের দর্প খাক্ হোক!



.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
নিমকাঠ
কবি কবিতা সিংহ

হায়!
কেন এই নিমকাঠ ?   এই তেতো দেহ ?
দেহ থেকে দূরে যাও মোহিনী মহিমা
এ দাহ যে কঠিন বিদেহ

এখন নিশিত ক্ষণ শাণিত নরুণে হবে
অমর্ত তক্ষণ
এখন মন্দিরে আনো নিম জগন্নাথ

কাহার উদ্দেশে এত নিমফুল ফুটে ওঠে ঝরে---
এত নিমফল ফোটে ? তিক্ত মুক্তা
টোসা টোসা নিম    অশ্রুকষায় নিম মধু ?

হায় কেন ?    কেন এই নিমকাঠ চাও ?
এই তেতও দেহ ?
পুতুল বানাবে ? মূর্তি ? --- অনন্ত মোহিনী?
ফিরে যাও চন্দনের কাছে
মেহগণি অজচ্ছল আবলুশ রয়েছে হায়!
কেন ?

নিমকাঠ ভেসে যাক্    সমুদ্রে রয়েছে   নুন
রয়েছে প্রকৃতি আর টাইফুনে দুরন্ত ব্লিজার্ড
আবহাওয়ার আঙুলে নিপুণ
দুর্যোগের দক্ষ বাটালিতে---

এই দেখো! দেহ নেয় যে আমার বিমূর্ত প্রণয়
যে আমার নিমকাঠে প্রতিকোষে আয়নায় আয়নায়
যে আমার সমগ্র আমিকে করে তক্ষণে সৃজন
নিমের শরীর খুঁড়ে গড়ে দেয় কৃষ্ণ চেতনাকে
হস্তবিহীন তার খুলে যাওয়া বাড়ানো দুহাত

এই দেহ অধিবাসী আদিবাসী নিম জগন্নাথ !

.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
কালো ঘোড়া
কবি কবিতা সিংহ

চিৎকার উঠছে স্তব্ধতার
চমৎকারা অন্ধকারে নানান আঁধার
     ছুটেছে বিদিকে
ডেকে উঠি মুঠোয় চাবুকে

কালো ঘোড়া  আয় কালো ঘোড়া

অন্ধকারে নির্নিমেষ আপ্সায় আঁধার

সমগ্র কৃষ্ণতা নিয়ে হয়মুখে
 নির্মম ব্যাদানে

হ্রেষায় হ্রেষায় কাঁদে
      অশ্রুজ্বালা তীব্র ছিলা ছেঁড়া
ছিঁড়ে যেতে চাই তার পুচ্ছের ঝাপ্ টায়
   বালাম্ চি স্রোতগুলি যেমন
                    অকাম কৈশোরে
অন্ধকার কলঘরে নগ্ন কিশোরীর---
চুল ঝাড়া
চুল থেকে ঝরে জল
কৃষ্ণ গোলাপ কালো, যুঁইফুল তোড়া!

গন্ধমন্থন এই আসক্তির ছিন্ন লাগামে
দুই পায়ে ঊর্ধ্বমুখ হ্রেষা তোলে
কালাকাল জোড়া

আমার চাবুকে, ডাকে, ছুটে আসে
মানুষেরও অধিক সত্তায়
কালো ঘোড়া প্রিয় কালো ঘোড়া


.             ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
মরণ
কবি কবিতা সিংহ

বেশ কেমন হাল্ কা নীল রঙের শার্ট পরেছে আকাশ
শার্ট মনে করতেই ছুট
বালির উপর দিয়ে ছুট ছুট ছুট
ছুটমনে করতেই                                              সমুদ্র আঙুল
শাদা ফেনা নখে খামচে ধরা                                 হলুদ সৈকত
আঙুল মনে করতেই চাঁপা গড়ন                                    মরণ!
ঘড়ন মনে করতেই আঙুলে আঙুলে কথা বলা
কথা বলা মনে করতেই পুরন্ত                                       ঠোঁট
ঠোঁট মনে করতেই হাসি                                     --হাসি থেকে
চোখের নীলতারা
নীলতারা মনে করতেই                                  আবার নীল শার্ট
নীলশার্ট মনে করতেই                                        নীল আকাশ
নীল আকাশ মানেই বালির উপর
ছুট্ ছুট্ ছুট্
পায়ের ছাপ ফেলতে ফেলতে                                      ---মরণ
দুখানি অমল চরণ
চরণ মনে করতেই চুম্বন                                   চুম্বন চুম্বন চুম্বন!
চুম্বন মনে করতেই নেমে আসা নীলতারা
জোড়াভুরু                                                             চোখ
দুভুরুর মাঝখানের ঘূর্ণি                                     তিলের তিলক
নীলতারা                                    নীলতারা মনে করতেই আকাশ
আকাশ মনে করতেই আবার নীল শার্ট
নীলশার্ট মনে করতেই কেবল বার বার
ঘুরে ফিরে, ফিরে ঘুরে আবার---
আকাশ, আঙুল, চোখ, ছুট, হাসি, চরণ---আবার নীল শার্ট
মরণ !



.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
গর্জন সত্তর
কবি কবিতা সিংহ

পিস্তল ধ্বনিত করলো তাদের ছুট---
দূর থেকে শোনা যাচ্ছে সেই অশ্বক্ষুরধ্বনি
   থরথর কেঁপে উঠছে চারদিক
ছুটে আসছে অগুন্ তি বর্ণময় অশ্বারোহী
গর্জন সত্তর!
ঘাড় বেঁকে আছে রোখা ঘোড়ার ---
টগবগ করছে রাগে
অভিমানী নাসায় ফুঁসছে আগুন
থরথর কেঁপে উঠছে মাটি---
আমি, গর্জন সত্তরের অগুন্ তি অশ্বারোহীর উল্লাস
শুনতে পাচ্ছি!

তাচ্ছিল্যের হার্ডল ভাঙছে ক্রমাগত---
উল্টে ফেলছে অবহেলার খুঁটি---
উপরে দিচ্ছে উইয়ে-ধরা স্বপ্রোথিত জয়স্তম্ভ
গর্জন সত্তরের অশ্বারোহী!
তারা নকল ইতিহাসকে ভাঙতে আসছে

বাতাসে উড়ছে ফুল্ কি  হাওয়ায় দহনের সোঁদা গন্ধ---

শুক্ নো পাতার ওপর দিয়ে তারা চালিয়ে দিচ্ছে লাল ঘোড়া
সরসর ক’রে আগুন এগোচ্ছে...
গর্জন সত্তর আসছে অন্ধ পাহাড় গুঁড়িয়ে
বধির নদীর স্থগিত কূল ছাপিয়ে
হো হো ক’রে হেসে উঠছে, সব মন্দিরের দরোজা হাট ক’রে দিয়ে
ভিতর থেকে বেরিয়ে আসছে শুধু সাজানো মুখোশ
ছুটে আসছে
দুরন্ত অশ্বে আমার জ্বলন্ত অশ্বারোহীরা
ক্ষুরের আঘাতে ভাঙছে পদ্মভোজীর ডেরা
            বাস্ত্তঘুঘুর ঘুম

ফাল ফাল ক’রে ছিঁড়ে দিচ্ছে মুখোশ
খুলে আনছে বিদেশী মার্ক
বালিশ ফাটিয়ে বের করছে স্মাগল্ ড্ ডলার

সাবাস! আমার স্বপ্নের অশ্বারোহীরা
খান খান ভেঙে দিচ্ছে সমস্ত যৌন-টোটেম
কবিতায় রমণী ব্যবসা!
রাঁবো ভেরলেন শার্ল বোদলেয়ার কাঁচিকাটা ক’রে
ফেলে দিয়ে বাতিল পুরোনো সব অনুবাদ গন্ধলাগা গলিত দর্শন

ছুটে আসছে গর্জন সত্তর
রমণীকে একভাবে কার্ডবোর্ড ছবির মতো
        নীল-ছবি পোস্টকার্ডে
                  যারা দেখবে না

চতুর্মাত্রিক তাকে সম্পূর্ণ দেখাবে, তারা আসছে
অন্তরে বাহিরে এক, নতুন দর্শন নিয়ে
   পথ কেটে চ’লে যাচ্ছে অদ্ভুত সত্তর
পিস্তল ধ্বনিত করলো সেই তীব্র ছুট---
পথের বাঁকের দিকে কীভাবে নিমেষহীন চেয়ে!
      দ্যাখো থরথর কেঁপে উঠছে ভূধর


অশ্ব হ্রেষা, ল্যাজের চামর আপ্ সানি
রেকাব উষ্ণীব থেকে ঠিকরে পড়ছে জ্যোতি
যে-কোন মুহূর্তে আমি দেখতে পাবো
সেইসব মুখ, ---সরল কোমল রেখাহীন,---গর্জন সত্তর !



.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
আজীবন পাথর-প্রতিমা
কবি কবিতা সিংহ

মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত
দু’চোখ ছাপিয়ে নামা,চোখের জলের বৃথা দাগ
বেণীর সাটিন খুলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গেছি আমি
অশ্বক্ষুরে ঝন্ ঝন্ নারীদের দর্পণ ফাটায়ে
খরকরবালে একা   পিতার  রক্ষিতার মুন্ড এনে দিতে |


তাই ঘৃণা, দুই চোখ কাজল জানেনি
নারীর শৃঙ্গার ছলা দর্পণের পায়ে পায়ে ক্লিন্ন অধীনতা
কার জন্য এত সাজ ? বক্ষ বাঁধা ? নীবি ?
সমস্ত পুরুষ সেই আদি পিতা, নিষ্ঠুর অশুচি
তোমার স্তনের থেকে ছিন্ন করে ভুবন ঘোরাবে |

মা, আমি কি তেমন হব ? রক্ষিকতামন্যস্ফীত স্তনিত শঙ্খিনী ?
মেডেলে পদকে স্বর্ণে ব্যর্থ বিজয়িনী ?
শয্যায় পুরুষ হত্যা, পিতৃহত্যা শুদ্ধ নয় মাতা
রণক্ষেত্রে দেখা হবে সম্মুখ সমরে তীব্র ইস্পাতের অচিত্র-অঙ্গদে |
আমি ত শিখিনি মাতা রমণীয় পশ্চাদপসরণ |

মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত
ঠোঁটের কোণার থেকে তোমার দুধের খাঁটি স্বাদ
সেই থেকে সব প্রেম সব দুঃখ সমস্ত বিচ্ছেদ
উদ্ধত অশ্বের ক্ষুরে খান্ খান্ করুণ আস্থায়ী
আমি শুধু ছুটে যাই, ছিলাটান, এক অক্টেভ থেকে
          অক্টেভ অন্তরে স্থায়ী রাগে
আর ক্রুদ্ধ প্রতিশোধী, গ্রীবা ফেরালেই পাই ওই মুখ
গরীয়সী যেন স্বর্গাদপি |
হে আমার আদিপিতা, হে আমার আদিম প্রেমিক
তোমার বিচ্ছেদ দষ্ট যেন কালসর্পদষ্ট দয়িতার ওই মুখ
কোনোদিন তুমি দেখলে না |

এসো মা, তোমায় দেখি,  আমি তোর ব্রাত্যকন্যা
আজীবন পাথর প্রতিমা |


.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
সূর্যস্পশ্যা
কবি কবিতা সিংহ

এই সূর্য সংবাহন, তীব্র, পরুষ অবিকল
ঊর্ধ্বমুখ, চোখে চোখ,লজ্জা ধাঁধায় চোখ
অন্ধ হয় রৌদ্র-প্রণয়ে!

বুকের পলিতা পোড়ে, তেলহীন জ্বলে যায় গলনালী
                        অন্ত্র শ্বাসনালী
শহুরে শরীর সব ব্লাউজ শেমিজ সায়া, খয়েরি গোলাপী যত রঙের খোলশ |
ক্রমশ গায়ের ছাল ছাড়ালে যে ভাবে খোলে
কলার বুকের থোড়
থোড়ের ভিতর রঙ্      বিবর্ণ পাঙাশ
যে ভাবে বাঁশের কোঁড় ক্রমশ সূর্য়ের দিকে
নিজের বিবর্ণ বেড় খুলে হয় শাঁখা মুঠি |
রৌদ্র অজস্র সূঁচ, তিন ধারনেরও ফাঁক
  ক্রমাগত ভরে দেয় সূচিকাভরণে
আহা তবে খুলে যায় কুন্ঠিত বাহুর মূল
জরে যায় উরসের লোধ্ররেণু
   অবিকল আঁধারের করুণ ফাঙ্গাস
ঊরুর কুলুপ, ভাঁজ
খুলে যায় | সূর্যশেঁকা বায়ু ছোঁয় প্রতিপরমাণু !
সূর্য কিভাবে তার ভ্রূণগুলি, শুক্রকণাগুলি
রক্তের বিম্বগুলি, অবিকল সূর্য বিম্ব করে
ঘোরায় বিরলে |
কি ভাবে জাগায় তাকে
কি ভাবে ভাসায় তাকে
কিভাবে ত্বকের নীচে গলে যায়, ছেয়ে যায় সোনালী রাঙতা

সূর্যাস্তেরও পরে, হিমরাত্রে নারী জ্বলে সে গূঢ় উত্সারে |


.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর
*
কবিতা এবং আমি
কবি কবিতা সিংহ

কবিতা এবং আমি দুই যুযুধান পায়তাড়া
তীক্ষ্ণ ফলা আগুপিছু, সাপের জিভের স্রিক্ স্রিক্
কাগজের দলা জমছে বেতের বাস্কেটে ধিক্ ধিক্?
বিফল মারের ঘায়ে মাঠে মারা যেতেছে বিদ্যুৎ !
কবিতা এবং আমি ফালা ফালা সাঁজোয়া পোশাকে
ছড়ে যাচ্ছি, কেটে যাচ্ছি বল্লমের ভুলভাল মারে
কখন হৃদয়ে ঘা যে | অন্তরীক্ষে উত্কর্ণ যম
কখন কবিতা বলো, বিঁধে যাবে হৃদয়ে মোক্ষম ?
কি আনন্দ লক্ষ্যভেদ ! কবিতা হে ভিতরে কোথাও
ওল্টালো মধুর ভাঁড়, অমৃত গড়ায়, খাও, খাও---
এবার শাবাশ বলে হেসে উঠি দুজনে দুজন,
মৃত্যু নয়, বাঁচা নয় লক্ষ্যভেদ, সর্ত ছিল রণ |


.                   ****************     
.                                                                         
সূচিতে . . .     


মিলনসাগর