কাব্যের ঈশ্বর নেই আছেন ঈশ্বরী! তিনি একা, তিনি নিরীশ্বর! ঈশ্বরী কি ধ্বনি দেন? চক্ষুহীন, কর্ণবিহীন ? না তিনি দেখান তাঁর অঙ্গুলি-হেলনে চক্ষুষ্মান, সশরীর ---কবিতা-চেহারা!
তিনি তো ভূমন্ডলে শ্রেষ্ঠ নিষ্ঠুরা,--তিনি তীব্র অপমান মুদ্রা, নীলবর্ণ করতলে করেন ধারণ
দু হাতে বিলান নির্বাসন | ঈশ্বরী কাব্যের যিনি, সাকার তমসা তিনি তিনি ঘোরঅমা!
অর্ধ দৃষ্টিপাতে তাঁর মানচিত্র ঘুরে যায় ক্রুদ্ধ-মহাকাশে, ব্রহ্মান্ড বিদীর্ণ হয়, নীহারিকা পুনর্বিন্যাসে, ভাঙে গড়ে বজ্রনখ বক্ষ ফাঁড়ে ঊর্ধ্ব থেকে ক্রমান্বয়ে অধঃ তিনিই সৃজন দেন, এক এক হরফ নেয় রক্তের শরীর করোটি বিদীর্ণ করে, ---আরাধ্য অক্ষর!
বৃথা শব্দে পাপী যত, ছদ্ম পূজারী,---তিনি তিন নেত্রে করেন দাহন, ক্কচিৎ কখনো কেউ, ফিরে আসে উত্কীর্ণ পাথর হাতে বজ্রে উত্পাটিত, যেমন ‘সেনাই’ থেকে নেমে এসে একেলা ‘মোজেস’ পৃথিবীর জন্য দেন স্বর্লোকের দশটি নির্দেশ!
ধুউশ করে জ্বলে গেল ভিত থেকে চাল মুহূর্তেই সংসার জঞ্জাল ভাঙ্গী রমণী একা তাকাল ঊরুর দিকে তার কালো ত্বক বেয়ে ক্রমে অর্থহীন নামে রক্তধারা | এতদিন তার,---চোখের কোটরে শুধু গাঢ় ভয় ছিল বড় অন্ধ, অসহায় ভয় গভীর সন্ত্রাস ছিল সঙ্কোচ বেদনা নিজের আজন্ম পাপ জন্ম অস্পৃশ্যতা অপবিত্র শিশু স্বামী আত্ম পরিজন আকাশ নদী ও ভূমি শস্যের মতন মৌল শুদ্ধতাকে-- দখল করেছে বলে অপরাধে বড় ছোট ছিল রক্তের মোড়কে রাখা মজ্জাগত গাঢ় অশৌচ যাঁতার মতনতার বুক ভেঙে পিষেছে বিস্বাদ! তবু আজ, তার নগ্নতার আর--বাকি নেই কোনো ঘোর ভয়---ব্রাহ্মণ বাটপাড়--- ধরনীর মত তাকে কর্ষণে করেছে রজস্বলা শাড়ির সঙ্গে তার উড়েছে ভীরুতা এখন ভিতরে তার শুধু ক্রোধ শুদ্ধ ঘোর ক্রোধ! মন্দিরে যায় নি নারী দেখে নি সে অবিকল তারই নগ্ন কালো রক্তজিহ্ব প্রতিমার অদ্ভুত বিশাল এলো চুলে কাল স্তর! খড়্গে জ্বলে লাল স্পৃশ্যতার কূটকচাল আজ জেনে গেছে ভাঙ্গী রমণী |
শুধু দুই চক্ষু নয় ধ্বক্ ধ্বক্ কপালের চোখ জ্বলে উঠে পেতে চায় পদতলে রাজপুত লোক ক্রোধ তার জ্বলে উঠে বুক থেকে অন্য বুকে যায় উরন্ত সর্পের মত ভয়হীন পায়ের তলায় পিষে যায় লোক নয় পোক্ ভাঙ্গী রমণীর শাপে খাক্ হোক ব্রাহ্মণের দর্প খাক্ হোক!
এই দেখো! দেহ নেয় যে আমার বিমূর্ত প্রণয় যে আমার নিমকাঠে প্রতিকোষে আয়নায় আয়নায় যে আমার সমগ্র আমিকে করে তক্ষণে সৃজন নিমের শরীর খুঁড়ে গড়ে দেয় কৃষ্ণ চেতনাকে হস্তবিহীন তার খুলে যাওয়া বাড়ানো দুহাত
বেশ কেমন হাল্ কা নীল রঙের শার্ট পরেছে আকাশ শার্ট মনে করতেই ছুট বালির উপর দিয়ে ছুট ছুট ছুট ছুটমনে করতেই সমুদ্র আঙুল শাদা ফেনা নখে খামচে ধরা হলুদ সৈকত আঙুল মনে করতেই চাঁপা গড়ন মরণ! ঘড়ন মনে করতেই আঙুলে আঙুলে কথা বলা কথা বলা মনে করতেই পুরন্ত ঠোঁট ঠোঁট মনে করতেই হাসি --হাসি থেকে চোখের নীলতারা নীলতারা মনে করতেই আবার নীল শার্ট নীলশার্ট মনে করতেই নীল আকাশ নীল আকাশ মানেই বালির উপর ছুট্ ছুট্ ছুট্ পায়ের ছাপ ফেলতে ফেলতে ---মরণ দুখানি অমল চরণ চরণ মনে করতেই চুম্বন চুম্বন চুম্বন চুম্বন! চুম্বন মনে করতেই নেমে আসা নীলতারা জোড়াভুরু চোখ দুভুরুর মাঝখানের ঘূর্ণি তিলের তিলক নীলতারা নীলতারা মনে করতেই আকাশ আকাশ মনে করতেই আবার নীল শার্ট নীলশার্ট মনে করতেই কেবল বার বার ঘুরে ফিরে, ফিরে ঘুরে আবার--- আকাশ, আঙুল, চোখ, ছুট, হাসি, চরণ---আবার নীল শার্ট মরণ !
সাবাস! আমার স্বপ্নের অশ্বারোহীরা খান খান ভেঙে দিচ্ছে সমস্ত যৌন-টোটেম কবিতায় রমণী ব্যবসা! রাঁবো ভেরলেন শার্ল বোদলেয়ার কাঁচিকাটা ক’রে ফেলে দিয়ে বাতিল পুরোনো সব অনুবাদ গন্ধলাগা গলিত দর্শন
ছুটে আসছে গর্জন সত্তর রমণীকে একভাবে কার্ডবোর্ড ছবির মতো নীল-ছবি পোস্টকার্ডে যারা দেখবে না
চতুর্মাত্রিক তাকে সম্পূর্ণ দেখাবে, তারা আসছে অন্তরে বাহিরে এক, নতুন দর্শন নিয়ে পথ কেটে চ’লে যাচ্ছে অদ্ভুত সত্তর পিস্তল ধ্বনিত করলো সেই তীব্র ছুট--- পথের বাঁকের দিকে কীভাবে নিমেষহীন চেয়ে! দ্যাখো থরথর কেঁপে উঠছে ভূধর
অশ্ব হ্রেষা, ল্যাজের চামর আপ্ সানি রেকাব উষ্ণীব থেকে ঠিকরে পড়ছে জ্যোতি যে-কোন মুহূর্তে আমি দেখতে পাবো সেইসব মুখ, ---সরল কোমল রেখাহীন,---গর্জন সত্তর !
মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত দু’চোখ ছাপিয়ে নামা,চোখের জলের বৃথা দাগ বেণীর সাটিন খুলে ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গেছি আমি অশ্বক্ষুরে ঝন্ ঝন্ নারীদের দর্পণ ফাটায়ে খরকরবালে একা পিতার রক্ষিতার মুন্ড এনে দিতে |
তাই ঘৃণা, দুই চোখ কাজল জানেনি নারীর শৃঙ্গার ছলা দর্পণের পায়ে পায়ে ক্লিন্ন অধীনতা কার জন্য এত সাজ ? বক্ষ বাঁধা ? নীবি ? সমস্ত পুরুষ সেই আদি পিতা, নিষ্ঠুর অশুচি তোমার স্তনের থেকে ছিন্ন করে ভুবন ঘোরাবে |
মা, আমি কি তেমন হব ? রক্ষিকতামন্যস্ফীত স্তনিত শঙ্খিনী ? মেডেলে পদকে স্বর্ণে ব্যর্থ বিজয়িনী ? শয্যায় পুরুষ হত্যা, পিতৃহত্যা শুদ্ধ নয় মাতা রণক্ষেত্রে দেখা হবে সম্মুখ সমরে তীব্র ইস্পাতের অচিত্র-অঙ্গদে | আমি ত শিখিনি মাতা রমণীয় পশ্চাদপসরণ |
মা, হাতের উল্টোপিঠে মুছে নিয়েছি শেষবারের মত ঠোঁটের কোণার থেকে তোমার দুধের খাঁটি স্বাদ সেই থেকে সব প্রেম সব দুঃখ সমস্ত বিচ্ছেদ উদ্ধত অশ্বের ক্ষুরে খান্ খান্ করুণ আস্থায়ী আমি শুধু ছুটে যাই, ছিলাটান, এক অক্টেভ থেকে অক্টেভ অন্তরে স্থায়ী রাগে আর ক্রুদ্ধ প্রতিশোধী, গ্রীবা ফেরালেই পাই ওই মুখ গরীয়সী যেন স্বর্গাদপি | হে আমার আদিপিতা, হে আমার আদিম প্রেমিক তোমার বিচ্ছেদ দষ্ট যেন কালসর্পদষ্ট দয়িতার ওই মুখ কোনোদিন তুমি দেখলে না |