৪ আকাঙ্ক্ষা সিশুর মত অত্যন্ত অবুঝ তাই রাতে মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে গেলে তাকে ছেড়ে দেই ঘুরে তারা খেলা করে যেমন চাঁদের আলো ছাতে জট পড়া ইচ্ছার সুতো নিয়ে শুধু খুঁজে ফিরি ---খেই |
ক্রমশ হৃদয়জাগে, হৃদয়ের অত্যন্ত গভীর দেখে আমি ভয় পাই ---সব প্রতিরোধ মরে আসে মনের আগুনে গড়া রূপ তার বিষম সুন্দর কেঁপে ফেরে বসন্তের কৃষ্ণচূড়ার উচ্ছাসে |
অবুঝ শিশুর মত তার দুটি স্ফুরিত অধরে কে আর চুম্বন দেবে? ---সান্ত্বনার মত অন্তত ঠান্ডা নরম হাতে রাত এসে তার হাত ধরে ঝরে যায় যেন তার জমে থাকা নিকষ শোণিত | উষ্ণ ললাট তার রাত্রি ছোঁয় ---চুম্বনের মত!
গোপনে সবাই খুব বিফলতা ভয় করে করে সে সব পাথুরে পথে গেলামই না! নিজে বিদ্ধ হবে বলে তুমি ছাড়া কে আর ঈশ্বর | বধ্যভূমে আপনার ক্রশখানি বহে নিয়ে গেল, হা ঈশ্বর! হা ঈশ্বর! কাকে তুমি বিফলতা বলো?
সফলতাগুলি বিফলতা?
যথার্থ প্রেমের খুব কাছে কোনো সফলতা নেই বলে জীবনে প্রেমের মুখ দেখলামই না! মুখের ভঙ্গিমাগুলি ভেঙে গেলে অদ্ভুত দেখাবে, তাই কখনো কাঁদি নি! কেউ নয়! হা ঈশ্বর তুমি বিনে কেউ কাঁদল না! ক্ষমার ভীষণ শাস্তি তাকে আর কখনো দিও না! কলঙ্কে, লজ্জায় তাকে যেতে দাও উন্মাদ জনতা ছদ্মহাতে তুমি সব পাথর ছুঁড়েছ আমি জানি,
দুজনে আহত হলে রক্তের চুক্তিতে কাছে যাবো নির্যাতিতহলে বুঝি আত্মজার মত বুকে নেবে,
সফলতা! সফলতা! না হলে কি সফলতা শুধু? কাকে ঠিক সফলতা বলে?
আমি বাঁচার জন্য তোমাকে চাই হে ! আকাশ হে, --- তুমি যে হও সে হও ! তুমি এত নীল! মেঘ হলে, ভিতরে ভিতরে যত পাল সব ফুলে ওঠে আমার সমস্ত হাড়ে ঘষে খাও বজ্রের চুম্বক
যে নারী পেরিয়ে যায় অসংখ্য শিখর বাচ্চেন্দ্রিপালের গাঢ় হৃদয়-নিবেশে . সে কী পায়? পায় না কিছুই পাবার জন্য নয় কোনো অতিক্রম অতিক্রম কেবলই হারার পথে পথে লুঠ হয়ে যায় বন্ধু সখা প্রিয় নর পড়ে থাকে নিজস্ব একেলা!
আবার পাহার ওঠে নারীর মতন নন্দাদেবী ফ্যালিক্ ত্রিশুল!
যে নারী ছোঁয় না সেই নশ্বর যৌনতা কেবল শরীরে যাহা শিহরিত ভঙ্গুর ক্ষণিক মাংসের, লসিকায়, স্নায়ু বিস্ফোরণে সে নারী যায় না কোনো মুহূর্তের মোহিনী-মায়ায়- যৌনতা ঘোরায় নারী ঘুরে যায় মোড় ঘুরে যায় গ্রীবার মোচড়!
ফেটে পড়ে শিল্পতার অজস্র বিস্ফোট শরীরের বিপরীতে জন্ম নেয় নতুন সৌরতা
নারী যায় অশেষ যাত্রায় যায় অগ্নির নির্ঘোষে পাকদন্ডী ঘুরে যায় উঠে যায় পথ অসংখ্য শিখর হার মেনে নীচে পড়ে থাকে . যত লিঙায়েতী শিলা পুত্তলিকা শূন্য থেকে নারী তার দেহ ছুঁড়ে দেয়
আমার বিষয় নয় ‘বাংলাদেশ’ দায়হীন নীরক্ত উচ্ছাস এ-জন্য মার্জনা চাই, শাস্তি দিন---যেমন বিধান ! কেবল সীমান্তপারে আমি কোনো বিশেষ আলাদা ‘বাংলাদেশ’আছে বলে স্বীকার করি না | আমার স্বদেশ তবে কোন্ দেশ ? আমি তবে কেমন বাঙালী ?
আমার বিষয় নয় চৌরাস্তার বোমার দাপটে ভয়ে মূত্রপাত করে সবিক্রমে চৌরঙ্গীর মোড়ে দিব্য সামিয়ানা তুলে যে-কোনো ছুতোয় শান দেওয়া রক্তের ভিতরশায়ী জন্মগত-ভিখিরির পেশা !
আমার বিষয় নয় ভানযুদ্ধ সুরক্ষিত বহুদূর থেকে বাস্তব নিকটব্যাপী গৃহভেদে পিঠ পেতে কানে তুলো---দুই চক্ষু বুজে চতুর আয়াসে সারা বিশ্বকে জানিয়ে বাহাস্ফোট |
আমার বিষয় নয় দলীয় প্রমেহদুষ্ট নাক অন্যের রুধির শুদ্ধ সংগ্রামের ভিতরে গলানো | আমার বিষয় নয় এ-মুহূর্তে যাবতীয় বিশ্বের সংবাদ লাওস, ভিয়েতনাম, চেকভূমে কুম্ভীরাশ্রুপাত |
আমার বিষয় শুধু নিজ বাসভূমে শিরে ঘোর সংক্রান্তির স্তম্ভিত সংবাদ | এই ঘোর গুরুদশা, গৃহদাহ, রক্তে মহামারী সন্তানের, বন্ধুর, পিতার মৃতদেহে টালমাটাল ঘর, গলি, বড় রাস্তা, কাশীপুর, বরাহনগর এর বেশি দৃষ্টি নেই, অদ্ভুত বধির
বুক ও কটিতে শুধু সামান্য সাটিন পৃথিবীকে ছুঁয়ে আছে দুপায়ের অগ্রভাগ তার তাকে ঘিরে আলো ঘোরে জালে পড়া শাদা মৌমাছি চারপাশে রঙ্গমঞ্চে থমকায় কালো অন্ধকার |
মনে হয় পিঠে তার ডানা আছে, কাচের পতাকা অথবা সে হাঁস এক, উড়ে যাওয়া আলোর পালক অস্থিহীন অলৌলিক, দেহ তার উরন্ত বলাকা ওপরে আলোর দিকে, তার দুই বাহু উদ্দালক |
হীরক কঠিন ঊরু অন্ধকারে জ্যোতি-সমকোণ কটিদেশে বৃত্তচাপ, বাহু কাঁপে সরোদের তার তবুও নাচের চেয়ে অপরূপনাচের উঠেন কারণ শরীর তার উচ্চনাদ তৃষ্ণার ভৃঙ্গার |
নাচ শেষ, ফিরে এসো উইংসের অন্ধকার কোণ যত কাছে যেতে পারে, তত কাছে নিয়ে এসো মুখ ম্যাস্ কারা বিস্ফারিত, নাচে দুটি মোহন-নয়ন অন্ধকারে ডুবে গেছে উচ্চারিত, বাহু কটি, বুক নাচ শেষ, ফিরে এসো, নেচে ওঠে অপেক্ষার মন এতখনে তোর নাচ ছাড়ায়েছে নাচের উঠোন |