কবি মোহিত ঘোষ-এর ছড়া ও কবিতা যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
ঘুমের দুয়ারে
ঘুমের দুয়ারে এসে
. রথ যেই থামলো----
ঝুরঝুর কবিতার
. ফুলঝুরি নামলো |
আয় খোকা, আয় খুকু,
. ঘুম-রথে চড়তে,
মাথা নেড়ে তাল ঠুকে
. ছড়াগুলো পড়তে |
রথের চাকার সাথে
. চোখ যাবে জড়িয়ে,
পথের দু’পাশে কত
. হাসি রবে ছড়িয়ে !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
শিশু সাহিত্যের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ছড়ার বই "টাপুর টুপুর" থেকে . . .
ওই চলে সাইকেল
টিং টিং---বাজে বেল,
ওই চলে সাইকেল,
চাকা দুটো ঘুর্ ঘুর্,
নিয়ে যায় বহু দূর |
চক্চকে শিং দুটো
দুই হাতে আঁকড়ে-----
শন্ শন্ বন্ বন্
চলে বাবু হাঁকড়ে |
ছোট গদি চেপে বসে
বাবু ওই নাচছে,
আঙুলটি নড়ে চড়ে-----
বেল তাই বাজছে |
হট সব, ছাড়ো পথ,
চলে ভাই সাইকেল ;
আগুন কয়লা নাই,
একটুও নাই তেল |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
শালিক পাখি
শালিক পাখি, শালিক পাখি,
তুই আকাশের মালিক নাকি ?
মেলে দিয়ে রঙীন ডানা-----
চষে বেড়াস আকাশখানা ;
আপন মনেই ঘুরিস শুধু,
মাথার ওপর রোদ যে ধূ-ধূ !
বকে না কেউ, কেউ মারে না
পড়---বলে কেউ হাঁক ছাড়ে না |
শালিক রে তোর খুব মজা---ইস্ !
কিচির-মিচির গান যে জুড়িস !
নিজেই যে তুই নিজের মালিক,
ওরে আমার পুঁচকে শালিক !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ডাল পুরী
ডালপুরী চাই ডালপুরী,
টাকায় বিকায় এককুড়ি,
কিনবে এসো জোর-কদমে,
ছোকরা বুড়ো আর বুড়ী |
. ডালপুরী ||
জাপান থেকে ময়দা আনা,
ডাল আনা ভাই চীন থেকে,
মশলা-ঘি সব খাস্ বিলিতি,
ডালপুরী ওই যায় হেঁকে |
কিনতে ছোটে ছোটকা-মামা,
দোদুল দোলে তাঁর ভুঁড়ি,
সকাল বেলায় ডাক শুনে হায়
জিভের ডগায় সুড়সুড়ি |
. ডালপুরী ||
ডালপুরী যায় ডালপুরী,
নেই রে কোথাও এর জুড়ি ;
কোথায় লাগে এর কাছে ভাই---
পায়েস পিঠে গুড় মুড়ি !
. ডালপুরী |
. ডালপুরী ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
. হাঁস চলেছে
হাঁস চলেছে,
হাঁস চলেছে,
ঘাড় বেঁকিয়ে,
পেঁকপেঁকিয়ে
পা বাড়িয়ে,
ঘাস মাড়িয়ে,
হাঁস চলেছে,
হাঁস চলেছে |
. নদীর পানে
. জলের টানে
. চলছে ধীরে,
. চায় না ফিরে,
. দারুণ শীতে
. সাঁতার দিতে
. হাঁস চলেছে,
. হাঁস চলেছে |
ডাকছে শুনি-----
কুকুরগুলো,
হাঁস চলেছে
কানেই তুলো |
হাঁস চলেছে
একটি সারে,
ছোকরারা সব
গুলতি মারে ;
পাশ কাটিয়ে,
লাফটি দিয়ে,
চলছে ওরা
নদীর ধারে |
. হাঁস চলেছে
. ঘাড় বেঁকিয়ে,
. হাঁস চলেছে
. পেঁকপেঁকিয়ে,
. হাঁস চলেছে,
. হাঁস চলেছে |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
. মজার গরু
লাউ দিয়ে ভাই বানাই আমি
. কেমন মজার গরু,----
পেটের নীচে কাঠি গুঁজে
. দিলাম সরু সরু |
ছুটকী-পিসির কলম দিয়ে
. এঁকেছি মুখ নাক ;
তবু আমার নতুন গরু
. করে না হাঁক-ডাক |
. লেজটা হোলো লাউয়ের বোঁটা,
. চাট্ মারে না ভাই,
. ঘাস খাওয়ানো, খড় খাওয়ানোর
. খরচা কিছুই নাই |
. সরু কাঠির চারটে পায়ে
. দাঁড়িয়ে থাকে চুপ্
. নাইবা হোলো গরুর আমার-----
. ‘মরি--মরি’ রূপ !
. **************** উপরে
মিলনসাগর
পাঠশালা
ওই যে দেখ আট-চালা,
ওই আমাদের পাঠশালা |
ওই ঘরেরই ঠিক তলে
রোজ যে মোদের পাঠ চলে |
আমরা পোড়ো একশ’ জন,
পড়াশুনোয় বেজায় মন ;
নাম্ তা পড়ি একসাথে,
তাল রেখে যাই দুই হাতে |
আশায় ভরা মোদের বুক,
করবো আলো দেশের মুখ ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
হুলোর বিয়ে
টেকো মাথায়
. টোপর দিয়ে
চললো হুলো
. করতে বিয়ে |
বাজলো শুনি
. ডুগ্ ডুগিটা,
তোয়ের হোলো
. পায়েস পিঠা |
মেয়ের বাড়ী
. দেখলো গিয়ে-----
এগোয় না কেউ
. বরণ নিয়ে |
ভাবলো হুলো
. হোলো কি এ---
কোথায় কনে,
. কোথায় বিয়ে ?
ঘুরছে শুধু
. বোলতাগুলো,
গিয়ে তাদের
. শুধায় হুলো----
‘বল্ দেখি----এই
. বোলতা ছোঁড়া,
কনে কোথায়
. জানিস্ তোরা ?’
ওরা তখন
. গুনগুনিয়ে
দিলো তারে
. গান শুনিয়ে |
হুলো রেগে
. এগিয়ে তেড়ে
ফেললো তাদের
. একটা মেরে |
আর কোথা যায় ?
. বোলতা সবে
ধরলো তারে
. বিষম রবে |
টোপর ফেলে
. ভাগলো হুলো,
হুল খেয়ে তার
. মুখটি ফুলো |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
কাকাতুয়া
কাকাতুয়া, কাকাতুয়া,
. তুই কার কাকা রে ?
খাসা দেখি চোখা চোখা
. ঠোঁট দুটো বাঁকা রে !
মাথার ঝুঁটিটা ঠিক
. ছবি যেন আঁকা রে !
পাখীদের মাঝে তুই
. বড় বেশ আকারে !
. চোখদুটি ঘোরে যেন
. ছোট দুই চাকা রে ;
. সাদা সাদা পালকেতে
. সারা গা-টা ঢাকা রে |
. ফল খাস রোজ রোজ
. কাঁচা আর পাকা রে ;
. মানুষের মত ঠিক
. নাম ধরে ডাকা রে !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ময়না
ময়না , ময়না !
কথা ঠিক কয় না |
যদি বলি -----‘বলো আম’,
বলে সে যে ----‘বলরাম’ |
বলি----পড়ো ‘রাধা রাধা’ ,
সে তো বলে-----‘গাধা গাধা’ ;
বললেই -------‘আয়না’
বলে দেয়------‘গয়না’ |
আমাদের ময়না
ঠিক কথা কয় না |
কচি পেটে ছাতু ছাড়া
আর কিছু সয় না !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
চাঁদের পরী
চাঁদ থেকে এক নামলো পরী,
গায়ে ঝিক্ মিক্ করছে জরী |
খুব মোলায়েম পাখনা দু’টো,
খোঁপায় তারা কয়েক মুঠো |
মাঠে নেমেই লাগলো খিদে,
সহর পানে চললো সিধে |
খাবার দোকান দেখতে পেয়ে
জল গড়ালো জিভটি বেয়ে ;
লুকিয়ে চুপে সরিয়ে হাঁড়ি
যেই না খেলো মালাই-কারি,
অবাক হবি শুনলে তোরা----
মিলিয়ে গেলো পাখ্ না জোড়া ;
উধাও জরীর পোষাক ভারী,
তার বদলে ময়লা শাড়ী |
নিভলো রে হায় খোঁপার তারা ;
পরী তখন কেঁদেই সারা |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ভয়ানক গরমে
ভয়ানক গরমে
রাগ ওঠে চরমে ;
করি শুধু ছট্ ফট্ ,
মারি বকি পট্ পট্ |
দীঘিটার কালো জল
করে বেশ টলমল,
তাতে গিয়ে দেই ডুব,
মজা মোর লাগে খুব ;
রাগ যায় হারিয়ে
মাঠ-ঘাট ছাড়িয়ে |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
জোনাকী
জোনাকী, জোনাকী,
আলো-দূত ও নাকি ?
ঝোপ বন বাদারে
ওড়ে গাদা গাদা রে,----
যায় সব গোনা কি ?
জোনাকী জোনাকী !
ও বাড়ীর তোজোময়
ধরেছে তো গোটা কয়,
ঘুটঘুটে নিশীথে
রেখে দিল শিশিতে |
জোনাকী, জোনাকী,
আলো হোলো কোণা কি ?
মিটিমিটি আলোটা,
গায়ে-ভরা সোনা কি----
জোনাকী, জোনাকী ?
. **************** উপরে
মিলনসাগর
মোরগ ডাকে
‘ কোঁ-- কোঁর--কোঁ’
. মোরগ ডাকে,
পূব আকাশে
. সূরযি জাগে |
খোকা জাগো,
. খুকু জাগো,
মুখ-হাত-পা
. ধুতে লাগো ;
বেড়িয়ে এসে
. পড়ায় বসো---
লেখা লেখো,
. অংক কষো |
থির রেখো হে
. মনখানাকে-----
‘কোক্--কোর-কোঁ’
. মোরগ ডাকে !
. **************** উপরে
মিলনসাগর
মেঘ গুড় গুড়
মেঘ গুড় গুড়
নাক সুড় সুড়,
পেট ভরপূর,
. ভাই রে !
ফুল তুলতুল,
টক্ টক্ কুল,
সব কাজ ভুল
. তাই রে !!
বাঘ ঘড়্ ঘড়্ ,
ষাঁড় তরতর,
সাপ সরসর,
. বাপ্ রে !!
জল ঝিরঝির,
গা শির্ শির্ ,
তলোয়ারটির
. খাপ রে !
চূণ- চূণ মুখ,
দুর-দুর বুক,
মনটায় সুখ
. নাই রে !
লক্ লক্ কান,
হেঁই-হেঁই টান,
গুন্ -গুন্-গান
. গাই রে !!
. ধুপ্ ধুপ্ তাল,
. মড়্ মড়্ ডাল,
. যায়-যায় হাল
দেশটা !
. খায় চমচম
. যায় টমটম,
. মিল একদম
. শেষটা !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
টিকটিকি
টিকটিকি টিক্ টিক্ ,
চোখ দুটো চিক্ চিক্,
বড় লেজ মোটা-সোটা
করে শুধু নামা ওঠা ;
দেয়ালের উঁচু গায়
পোকা-টোকা ধরে খায় |
বাবুদের বড়খোকা
অতি বড় এক রোখা !
দেখে ওই লেজখানা
শয়তানি জাগে নানা ;
ছড়িখানা বাগিয়ে,
ধীরে ধীরে এগিয়ে,
খোঁচা যেই মারলো----
লেজ খসে পড়লো |
খোকা হাসে ফিক্ ফিক্,
টিকটিকি বলে----ঠিক !
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ফুলঝুরি
ফুলঝুরি, ফুলঝুরি,
ফুল পড়ে উড়ি উড়ি,
ফুলগুলো আগুনের,
ফুল যেন ফাগুনের |
. ফুলঝুরি, ফুলঝুরি,
. কিনেছি তো এক ঝুড়ি,
. নিবি যদি আয় ছুটে,
. ভাগ করে নে রে লুটে |
ফুলঝুরি, ফুলঝুরি,
আঁধারেতে সুড়সুড়ি |
ছোট ছোট ফুলকি,
সোনারাঙা উলকি |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
চিলের ছোঁ
মামার কাছে পয়সা পেয়ে
জোরসে ভূতো চললো ধেয়ে ;
পথের ধারে পেঁয়াজ-বড়া
ভাজছে কেলো কড়া কড়া,
লাল ফুলুরি, বেগ্ নী ভাজা,
তৈরী আছে তাজা তাজা |
মুচ্ কি হেসে ভূতো গিয়ে
কিন্ লো অনেক, পয়সা দিয়ে |
চলছে নিয়ে ঠোঙা ভরা-----
ফুলুরি, আর পেঁয়াজ-বড়া |
ঠোঙা থেকে বেগ্ নী খুলে
যেই ধরেছে মুখটি তুলে
চিল এসে এক ছোঁ-টি মেরে
দিলে খাওয়ার কাজটি সেরে |
বিকট রকম কাঁদলো ভূতো,
হারিয়ে গেলো পায়ের জুতো |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
. ঝাউর গিজোর
‘ঝাউর-গিজোর-গিজ্ ঘি-নিতা’, ‘ঝাউর-গিজোর-গিজ্ ঘি-নিতা’,
ঢুলী ঢোলক বাজায় মিঠা ; হাসছে ছেলে , হাসছে পিতা,
নাড়ছে মাথা সামনে যারা, মায়ের মুখেও ফুটছে হাসি,
আস্ ছে পূজো, মাত্ ছে পাড়া ; রাখাল-ছেলে ফুঁকছে বাঁশী |
‘ঝাউর-গিজোর-গিজ্ ঘি-নিতা’, ‘গিজদা গিজোর গিজ্ ঘি-নিতা,
গাইছে লিলি, গীতা, সীতা,--- নাচছে কি জোর ওই ঢুলীটা !
পরবে পূজোয় নতুন জামা, ঢোলের মাথায় ঝালর কাঁপে,
আসবে মামী, আসবে মামা | কাঁপছে মাটি পায়ের চাপে |
. ‘গিজোর-ঝাউর-গিজ্ ঘি-নিতা’,
. উঠছে যে বোল মিঠা মিঠা ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
আমি হবো কি ?
. বয়েস আমার চার
অ-আ-ক-খ-র বইগুলো সব
. হয়ে গেলাম পার |
. যখন হবে পাঁচ,
. উদয় দাদার মতন আমি
. ফেলবো শিখে নাচ |
. হবে যখন ছয়,
রবির মত কবি হয়ে
. করব ধরা জয় |
. বয়েস হবে সাত,
. আমি তখন দেশের কাজে
. খাটবো দিবা রাত |
. বয়েস হলে আট,
বিদেশ-পানে ছুটবো আমি
. চুকিয়ে দেশের পাট |
. যখন হবে নয়,
. হিমালয়ের চূড়ো ছুঁতে
. করবো নাকো ভয় |
. হবে যেদিন দশ,
চারদিকেতে আপনা হতে
. ছড়িয়ে যাবে যশ |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
সিঙ্গাড়া
সিঙ্গাড়া রে সিঙ্গাড়া,
তোর যে দেখি শিং খাড়া ;
গা-টা বেজায় খস্ খসে,
হাঁটু মুড়েই রোস বসে |
ফাটিয়ে দিলে তোর ভুঁড়ি
নোলায় লাগে সুড়সুড়ি,
পাই ভেতরে এক কাঁড়ি----
জোর মজাদার তরকারী ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
বৌ-চোর
গাঙ-শালিকের ছোট জামাই
. গঙ্গা-ফরিং চৌধুরী,
নদীর ঘাটে সেদিন হঠাৎ
. গেল যে তার বৌ-চুরি |
চোরটা ছিল ময়ূর-মোহন,
. জোর চালিয়াৎ বেশ-বাসে,
ধরা পড়ে হাজির হলো
. ঈগল-পাখীর এজলাসে |
শাস্তি-স্বরূপ কাটা গেল
. চোরের পালক এক ঝাঁক,
তাই না দিয়ে বৌকে ফড়িং
. বানিয়ে দিলে হাতপাখা ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
পুরুত ঠাকুর
ডাড্ ডা-নাকুড়, ডাড্ ডা-নাকুড়,
নাচছে দ্যাখো পুরুত ঠাকুর,
নাচছে টিকি নাচের তালে
কাঁপছে মশা দাড়ির জালে,
ঘুরিয়ে কোমর, ধুন্ চি হাতে
ঠাকুর নাচেন ঢাকের সাথে |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
টুনটুনি
শোন না রে এই টুনটুনিটা,
ধার দিবি তোর ঝুন্ ঝুনিটা !
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়িস যখন
বাজতে থাকে সুর যে মিঠা !
মা রেঁধেছেন সাপ্ টে, পিঠা
তালের বড়া ভাজছে ঝি-টা ;
ভাগটা আমার দেবো তোরে
দিস্ যদি তোর ঝুন্ ঝুনিটা,
শোন না রে ভাই টুনটুনিটা |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
হ্যাংলা
ন্যাংলা-পানা হ্যাংলা ছেলে
চুষছে আমের আঁটি,
তার ছোট বোন গিলছে মুড়ি
একটি বিরাট বাটি |
হ্যাংলা যে চায় একটু মুড়ি,
ভেংচে দিলে ক্যাংটা ছুঁড়ি ;
হ্যাংলা তখন ক্ষেপে গিয়ে
কসিয়ে দিলে চাটি ;
সব মুড়ি হায় ছড়িয়ে গেল,
উল্টে গেল বাটি ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
নাগরদোলা
ঘুরছে যে ভাই নাগরদোলা,
ঘুরছে টুটু, ঘুরছে ভোলা ;
হঠাৎ দেখি লাফটি মেরে
একটা বাঁদর উঠল যে রে !
আবাক মোরা সামনে যারা,
ভোলা টুটু ভয়েই সারা,
কিন্তু এ কী ---- যাক্ বাঁচোয়া !
লেজটি যে হায় গেলই খোয়া,-----
পেঁচিয়ে গেল চাকার সনে
বাঁদর দিল ভঙ্গ রণে ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
আলতো - পাটি
আল্ তো পাটি লাল দোপাটি,
তবলা ডুগির মাথায় চাঁটি,
পাহাড় দেশের রঙীন মাটি,
কচি শিশুর হাঁটি হাঁটি |
আল্ তো পাটি লাল দোপাটি,
জামের ভেতর আমের আঁটি,
চলছে জাহাজ জোয়ার ভাঁটি,
ঘড়্--ঘড়্ --ঘড়্ বিমান ঘাঁটি |
আলে তো পাটি লাল দোপাটি,
নড়বড়ে ওই দাঁতের পাটি,
ভুঁড়িওলার আদুল গা--টি,
বাঁধছে চাষী ধানের আঁটি |
আল্ তো পাটি লাল দোপাটি
সোনার গড়া পাথর বাটি,
জল দে’য়া দুধ বেজায় খাঁটি,
একলা বসে সবটা সাঁটি |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ফুলকো লুচি
ফুলকো লুচি, ফুলকো লুচি,
. পেটটা ফুলে ঢাক,
ফুলকো লুচি, ফুলকো লুচি,
. পেটের ভেতর ফাঁক |
ফুলকো লুচি, একটু সুজি,
. একটু আলুর দম,
কেল্লা ফতে তার সনেতে
. পাই যদি চমচম ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ডিম
মিয়াদের মুরগীটা ডিম পাড়ে মস্ত,
লম্বায় হবে ঠিক পুরো তিন হস্ত |
অমলেট খেতে জোটে যত পাড়া-পড়শী,
জেলেরাও এলো নিয়ে হাতে জাল-বঁড়শী |
বিরাট এক গামলায় ভাঙা হলো ডিমটি,
পিঁপড়ে বেরিয়ে এসে কাটে সবে চিমটি ;
লাখো লাখো পিঁপড়েতে পাড়াখানা ভরলো,
বাপ বাপ ডাক ছেড়ে সব ভেগে পড়লো |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
জিবে--গজা
জিবে-গজা বড় মজা
. জিভে আসে জল,
তা-ই খেতে বাই ধরে
. গোপীরাম বল |
খেতে গিয়ে আগে-ভাগে
জিভেতে কামড় লাগে,
অতি লোভে লোভী পায়
. হাতে হাতে ফল,
জিভ বার করে কাঁদে
. গোপীরাম বল |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
চমচম
চমচম ভাই চমচম, তোর
. দমদমে কি দেশ ?
ইচ্ছে যে যায় এক কামড়ে
. করবো তোরে শেষ !
রসগোল্লার মাসতুতো ভাই,
. পানতুয়া তোর পিসে,
ছানার ফাঁকে মিষ্টি-মধুর
. রস রয়েছে মিশে |
দুই দিকটা সরু সরু,
. চেহারাটা বেশ,
চ্যাপ্টা-মুখো চমচম তোর
. দমদমে কি দেশ ??
. **************** উপরে
মিলনসাগর
ঠ্যাং--ভাঙা ব্যাং
হাতীর লাথি খেয়ে ব্যাঙার
মচ্ কে গেছে ঠ্যাং,
খোনা-গলায় কাঁদছে ব্যাঙা-----
ঘ্যাঙর--ঘ্যাঁঙর -- ঘ্যাং |
. মোট্ কা হাতীর হাসি দেখে
. ব্যাঙা গেল বিষম রেগে,
. ‘জয় মা কালী’ হাঁক না মেরে
. কষে লাগায় ল্যাং |
. হায় হায় হায় ! মচ্ কে গেল
. একটি আরো ঠ্যাং !!
. **************** উপরে
মিলনসাগর
উটকো--মুখো
উট্ কো-মুখো উট দ্যাখো ভাই
উট্ কো-মুখো উট,
ব্যাঙ-বাবাজীর দোকানেতে
খাচ্ছিল ডালমুট |
. কোথ্বেকে এক বিশ্রী হুলো----
. বিকট গায়ের রোঁয়াগুলো,
. এসেই লাগায় উটের সাথে
. ঝগড়া যে ঝুট্ মুট্,
. মাঝ থেকে হায় হট্টগোলে
. ব্যাঙের দোকান লুট |
. **************** উপরে
মিলনসাগর
বাজনা
সজনা গাছে সজনা দোলে
বাজনা বাজায় বংশীলাল,
আগ ডালেতে বন-টিয়েটা
শিস্ বাজিয়ে দিচ্ছে তাল !
. জমির মালিক রাজেন-খুড়ো
. গাজন-তলায় বাস করে,
. দৌড়ে এলো খাজনা নিতে
. মুঠিতে এক বাঁশ ধরে |
বাজনাতে যে পড়লো বাধা
চটলো বিষম বন-টিয়ে,
ঠুক্ রে দিলে খুড়োর টাকে,----
গাঁজলা ছোটে মুখ দিয়ে ||
. **************** উপরে
মিলনসাগর