কবি মোহিতলাল মজুমদারের কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
বাঁশি বাজে ওই---এবার নয়নে লেগেছে ঘোর
হাতে হাতে সেই বাঁধি' মালাখানি
আর কতখনে পরশিব পাণি ?
এসেছে কি আজি সে-সুখ-লগন জীবনে মোর---
স্বপন রজনী হয়েছে ভোর ?

পাতি' ফুল-শেজ বসিব দুজনে কথা না বলি',
চিবুক ধরিয়া তুলিব আনন-কুসুম-কলি !
সে-রূপ ন্হারি' আঁখি অনিমেষ---
প্রদীপ জ্বালায়ে হবে আঁখি শেষ !
ভুলে যাব গান, ফুলের মধুও ভুলিবে অলি---
শুধু চেয়ে র'বো কথা না বলি' |

বধুরে আমার দেখিনি এখনো, শুনেছি তার
অপরূপ রূপ --- চোখের চাহনি চমত্কার !
আর কত দেরি গোধূলি লগন ?
নিবিয়া আসিবে সারাটি গগন,
শুধু সেই চেলি উজলি তুলিবে অন্ধকার---
সেই আঁখি-তারা চমত্কার !


. ************************    
.                                                                                           
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
গানে যথা ধরা দেয় অ-ধর অধীর
কবির মনের মায়া ! নিদ্রা অচেতনে
কর্ণে তব স্পর্শ লভি শুধু কণ্ঠস্বনে,
তার বেশী চাওয়া বৃথা --- বারণ বিধির |

.        ************************    
.                                                                             
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
প্রিয়া চেয়ে আছে শিশুর বয়ানে---
শিথিল বেণীটি লুটায়ে শিথানে,
ঝলমল করে হারখানি তার
       পয়োধর মূলে
            স'রে এসে !---
মোর আঁখি আজ হেরিছে স্বপন
           অনিমেষে |


বধু ও জননী পিপাসা মিটায়
           দ্বিধাহারা---
  রাধা ও ম্যাডোনা একাকারা !
অধরে মদিরা, নয়নে নবনী,
এ কী অপরূপ রূপের লাবণী !
সুন্দর ! তব এ কী ভোগবতী
      মরম-পরশী
            রসধারা !
বধু ও জননী পিপাসা মিটায়
        দ্বিধাহারা |


পাশে শুয়ে শিশু করিছে আকুল
            কলভাষে,
প্রিয়া বাঁধিয়াছে বাহুপাশে,
জনমে-জনম ওই বাহুপাশে |
শিশুকণ্ঠের ওই কলভাষ,
বাঁধিয়াছে জানি গাঁটছড়াখানি
        দ্বিগুণ করিয়া
        দৃঢ়-ফাঁসে---
তাই ধরা পড়ি এই ধরণীর
        বাহুপাশে |


.      ************************    
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
হারাই যাহারে তারি তরে হিয়া আরো করে হায় হায়---
                    স্মৃতি সুখ উথলায় !
মরণের ডালা সাজাইয়া ধরি অমরণ ফুলপাতে |

হাহা কর হাওয়া, দীপ নিবে যায়, সাথীহীন অমারাতি,
বাহিরে বিজনে হাসনুহানায় জ্বলিছে জোনাকি-পাঁতি |
সে মহাশূণ্য ভরি এঠে মোর নিরাশার উল্লাসে,
                   ---কেঁদে উঠি কলহাসে
আঁধার নয়নে চমকিয়া ওঠে মেরু-দামিনীর ভাতি !

যত ব্যথা পাই তত গান গাই---গাঁথি যে সুরের মালা !
ওগো সুন্দর ! নয়নে আমার নীল কাজলের জ্বালা !
আঁখি অনিমিখ, মেটে না পিপাসা, এ দেহ দহিতে চাই !
                     সুখ দুখ ভুলে যাই !
বুঝিয়াছি কেন কুলে কালি দেয় তোমা লাগি কুলবালা |


.               ************************    
.                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
স্তম্ভিত হৃৎপিণ্ডের 'পরে তুলেছে অচল পাষাণ-ভার---
সহিবে কি সেই নিদারুণ গ্লানি মানবসিংহ যুগাবতার
---কালাপাহাড় ?

ভেঙে ফেল' মঠ মন্দির-চূড়া, দারু-শিলা কর নিমজ্জন !
বলি-উপচার ধূপদীপারতি রসাতলে দাও বিসর্জ্জন !
নাই বাহ্মণ, ম্লেচ্ছ-যবন, নাই ভগবান---ভক্ত নাই,
যুগে যুগে শুধু মানুষ আছে রে ! মানুষের বুকে রক্ত চাই !
ছাড়ি' লোকালয় দেবতা পলায় সাত-সাগরের সীমানা-পার !
ভয়ংকরের ভয় ভেঙে যায়, ---বাজায় দামামা, কাড়া-নাকাড়,
---কালাপাহাড় !

ব্রাহ্মণ যুবা যবনে মিলেছে, পবন মিলেছে বহ্নি সাথে !
এ কোন্ বিধাতা বজ্র ধরেছে নবসৃষ্টির প্রলয়-রাতে !
মরুর মর্ম বিদারি' বহিছে সুধার উত্স পিপাসাহরা !
কল্লোলে তার বন্যার রোল ! ---কূল ভেঙে বুঝি ভাসায় ধরা !
ওরে ভয় নাই ! ---মুকুটে তাহার নবারুণ-ছটা, ময়ূখ হার |
কাল নিশীথিনী লুকায় বসনে !---সবে দিল তাই নাম তাহার
কালাপাহাড় !

শুনিছ না ওই--- দিকে দিকে কাঁদে রক্তজপিশাচ প্রেতের পাল !
দূর-মশালের তপ্ত-নিশাসে ঘামিয়া উঠিছে গগন-ভাল !
কার পথে-পথে গিরি নুয়ে যায় ! কটাক্ষে রবি অস্তমান !
খড়্গ কাহার থির-বিদ্যুৎ ! ধূলি-ধ্বজা কার মেঘ-সমান !
ভয় পায় ভয় ! ভগবান ভাগে ! প্রেতপুরী বুঝি হয় সাবাড় !
ওই আসে ! ওই বাজে দুন্দুভি---বাজায় দামামা, কাড়া-নাকাড়
---কালাপাহাড় !


.                    ************************    
.                                                                             
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
মিলনোত্কণ্ঠা
কবি মোহিতলাল মজুমদার

বধুরে আমার দেখিনি এখনো, শুনেছি তার
অপরূপ রূপ, চোখের চাহনি চমত্কার !
স্বপ্ন নহে
কবি মোহিতলাল মজুমদার

স্বপ্নহীন রাতি মোর | কৃষ্ণা তিথি যবে,
বাঁধন
কবি মোহিতলাল মজুমদার  

পাশে শুয়ে শিশু করিছে আকুল
             কলভাষে,
প্রিয়া বাঁধিছে বাহুপাশে |
ব্যথার আরতি
কবি মোহিতলাল মজুমদার

যত ব্যথা পাই তত গান গাই, গাঁথি যে সুরের মালা,
ওগো সুন্দর ! নয়নে আমার নীল কাজলের জ্বালা |
কালাপাহাড়
কবি মোহিতলাল মজুমদার

শুনিছ না---ওই দিকে দিকে কাঁদে রক্ত পিশাচ প্রেতের দল!
শবভুক্ যত নিশাচর করে জগৎ জুড়িয়া কী কোলাহল !