কবি নগেন্দ্রবালা মুস্তোফীর কবিতা
*
তুমি কে?
কবি নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকা ও সমালোচনীর ১৮৯৬
সালের (১৩০৩বঙ্গাব্দ) ভাদ্র-আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশকাল ২৮.৫.২০২০।


কে তুমি আমারে তাহা কবে কোন জন?
দাঁড়ায়ে চিন্তার তটে,                        সুনীল আকাশ পটে,
অনিমেষে কত নিশা ক'রেছি দর্শন।
দেয়নি উত্তর ভারা,                        নীরবে চাদিমা তারা,
কেবল চাহিয়াছিল আমার বদন।


কে তুমি তাহাই আমি করিতে শ্রবণ,
সুনীল সিন্ধুর পাশে,                        গিয়াছিনু বড় আশে,
দিলনা উত্তর সে ত মনের মতন।
আপন গরব ভরে,                           শুধু’ কল কল ক'রে
করেছিল প্রিয়া সাথে প্রেম আলাপন।


কে তুমি জানিতে তাই আকুল হইয়া,
সুধাইনু মলয়ায়,                             কিছু না বলিল হায়,
ফুল-বালা মুখ শুধু সে গেল চুমিয়া।
নিশীথের অন্ধকারে,                        সুধায়েছি বারে বারে,
কই কিন্তু বলিল না করুণা করিয়া।


কে তুমি সুধাই যারে কথা নাহি কয়,
ভাসিয়া নয়ন জলে,                           সুধায়েছি নরদলে,
কত কথা কহে তারা হ’য়ে নিরদয়।
হায়গো অবোধ জীব,                        বলে ‘এক জীবশিব’
কেহ বলে ‘প্রেম’ তুমি আর কিছু নয়।


জগত্সমষ্টি তুমি কেহ পুন কয়,
কেহ প্রকৃতিরে টানে,                       তুমি আছ নাহি মানে,
আবার কেহবা বলে তুমি "জ্ঞানময়"।
ডুবিয়া দারুণ ভুলে,                            দর্শন বিজ্ঞান খুলে,
কত লোক কত বলে মনে যাহা লয়।


এসব কিছুই ভাল লাগেনা আমার,
যাহানা যা ইচ্ছা চায়,                        বলুক কি ক্ষতি তায়,
আমি জানি তুমি মোর আমিহে তোমার।
দর্শন বিজ্ঞান জ্ঞান,                           কভু নাহি চাছে প্রাণ,
চাহিনা দারুণ ভুলে ডুবিতে গো আর।


আমি জানি তুমি প্রভু আমি নিত্য দাসী,
তুমি প্রেমময় স্বামী,                       নিত্য প্রেম আণী আমি,
(তব প্রেম রাজ্যে যেন প্রেমানন্দে ভাসি )
চির বাঞ্ছা এই মম,                              যদি ইহা শুধু ভ্রম,
থাক তবে সেই ভ্রম যাবত জীবন,
যেন এ ভ্রমের ঘোর ভাঙ্গেনা কখন।

.                                 ****************                                   
.                                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
পুরাণ প্রেম
কবি নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকা ও
সমালোচনীর ১৮৯৬ সালের (১৩০৩বঙ্গাব্দ) পৌষ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশ
কাল ২৮.৫.২০২০।

.                ১
নূতন বরষ আজ
.                পুরাতন গেছে চলি,
আবার এ নববর্ষ
.                অতীতে পড়িবে ঢালি,

.                ২
যাক্ চলি' পুরাতন
.                তার তবে কিবা ব্যথা,
পুরাতন তরে বল
.                কে করে মমতা কোথা?

.                ৩
পুরাতন গেলে হয়
.                নূতনের আগমন,
নূতনে পাইলে আর
.                কেবা স্মরে পুরাতন?

.                ৪
ত্যজি পুরাতন বাস
.                সবাই আনন্দ মনে,
নূতন বসন পরে
.                পূরাণে কি স্মরে মনে?

.                ৫
পুরাণ কুসুম লতা
.                শুকাইয়া গেলে পর,
দেখা দেয় নব লতা
.                ধরি ৰেশ মনোহর।

.                ৬
তখন স্মরণ করে
.                কেইবা অতীত কথা?
অভাবে অতীত ঊষা
.                কে পায় পরাণে ব্যখা?

.                ৭
জগতেরি রীতি এই
.                নূতন পাইলে হায়,
ভুলে পুরাতনে কেহ
.                স্মরিতে নাহিক চায়।

.                ৮
কেবল পুরাণ প্রেম
.                না ত্যজে হৃদয়তল।
কেবল ভুলিতে তারে
.                পারেনা প্রেমিকদল।

.                                 ****************                                   
.                                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
কায নাই
কবি নগেন্দ্রবালা মুস্তোফী
হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকা ও সমালোচনীর ১৮৯৬ সালের
(১৩০৩বঙ্গাব্দ) পৌষ সংখ্যায় প্রকাশিত। মিলনসাগরে প্রকাশকাল ২৮.৫.২০২০।


কোলে টেনে লও আর থাকিতে লা চাই,
সংসারের কালানলে,
হৃদয় যেতেছে জ্বলে,
কত যাতনায় প্রাণ পুড়ে হয় ছাই।
কোলে টেনে লও নাথ আর কায নাই।


কোলে টেনে লও নাথ আর কায নাই,
সংসারের সুখ ছাই,
আর আমি নাহি চাই,
হৃদয়ে আগুন জ্বলে কাঁদিয়া বেড়াই,
কোলে টেনে লও নাথ আর কায নাই।


কোলে টেনে লও বিভো লওগো আমায়,
পঞ্চ পুত্র শোকে হায়,
মা বাপ পাগল প্রায়,
দেখিতে পারি না তাহা প্রাণ জ্বলে যায়।
কোলে টেনে লও বিভো লওগো আমায়।


লও নাথ দয়া করি’ কোলে টেনে লও,
সংসারের কঠোরতা,
বুকে বড় দেয় ব্যথা,
এ পোড়া দেশেতে নাই নিঃস্বার্থ কোথাও।
লও নাথ দয়া করি’ কোলে টেনে লও।


লও নাথ দয়া করি’ কোলে টেনে লও,
হেথা ভরা হিংসাদ্বেষ,
নাহি বিন্দু সুখলেশ,
কেন আর রাখি’ মোরে পরাণ পোড়াও?
লও নাথ দয়া করি’ কোলে টেনে লও।


দাও নাথ দাও ঠাঁই ও চরণতলে,
নতুবা গো বাপ মা'র
নিভাও শোকের ভার,---
ভগ্নহিয়া মাঝে তব প্রেমামৃত ঢেলে।
দাও নাথ দাও ঠাঁই ও চরণতলে।


দাও নাথ দাও ঠাঁই ও চরণতলে,
নতুবা গো হিংসাদ্বেষ
দূর কর পরমেশ,
সবারে ডুবায়ে দাও প্রেমসিন্ধুজলে।
দাও নাথ দাও ঠাঁই ও চরণতলে।


দাও মোরে দাও ঠাঁই তোমার ও পায়।
নতুবা প্রাণের হরি
নিভাও গো দয়া করি
যে আগুনে সদা মোর বুক জ্বলি’ যায়।
দাও নাথ দাও ঠাঁই তোমার ও পায়।


না না না কিছুই আমি চাহি নাক আর
মোহ ঘোরে আর হায়,
প্রাণ না ডুবিতে চায়,
তাই কর ইচ্ছাময় যা ইচ্ছা তোমার।
নাহি এ জগতে আর প্রার্থনা আমার।

১০
শুধু চাই দাও ঠাঁই তোমার ও পায়।
জগতের কিছু হায়,
এ প্রাণ নাহিক চায়,
ভুগেছি অনেক ভোগ এ পোড়া ধরায়।
দাও মোরে দাও ঠাঁই তোমার ও পায়।

১১
তোমার চরণ পেতে সদা প্রাণ চায়।
আমার কামনা এই,
তা ছাড়া কিছুই নেই,
সংসারের যত বাধা দলি যেন পায়।
দাও নাথ দয়া করি ঠাঁই ওই পায়।

১২
কোলে টেনে লও নাথ আর কায নাই,
ত্যজি দেশ ত্যজি ঘর,
এসেছি বিদেশে "পর"
আকুল পরাণে আজ দেশে যেতে চাই।
কোলে টেনে লও নাথ আর কায নাই।

.                                 ****************                                   
.                                                                                                
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর