তোমার তূণীরে ভরে ছিল না কি শব্দভেদী শর . ব্যবহার শেখো নি কখনো . ধ্বনি শুনে ভেবেছিলে চিতল হরিণ . আয়ুক্ষীণ . বালকের প্রাণ তাই ছিঁড়ে নিলে রক্তমাখা বাণে
অনভ্যাসে ভূলে যাও প্রতিদিন কবিতার স্তব্ধ কারুকলা . এ যে আরও কঠিন মৃগয়া . দীর্ঘ উপবাসে যে ভাবে শুকিয়ে আসে সুঠাম শরীর . মেদমজ্জা ঝরে যায়, একদিন হাড়ের প্রাচীর . ভেদ করে উড়ে যায় প্রাণ . কবিতার দান . সেভাবে কি পুড়ে যাবে সাম্প্রতিক নিঃসাড়শ্মশানে . শব্দ ছন্দ জ্বলবে না অলৌকিক যজ্ঞে সম্প্রদানে ?
ক্রমশঃ হাতের থেকে সরে যায় অভিমানী হাত ক্রমশঃ শরীর থেকে মুছে যায় বর্ণালি --- তাপ জেগে থাকে বালিয়াড়ি আর দীর্ঘ শীতের কুয়াশা অন্ধকারে ম্রিয়মান শূন্যতম স্টেশন মাস্টার বুকের আড়ালে কিছু কাটাকুটি ক্ষয় বা ক্ষরণ ফুসফুসে কেঁপে ওঠে অশ্রুহীন নীরক্ত বিকেল মানুষের বোঝাপড়া ছদ্মবেশ মুখোশ মুকুট শূন্য জাল হাতে জেলে সন্ধ্যাবেলা নদীর কিনারে
ক্রমশঃ চোখের থেকে ফিরে যায় চোখের অঞ্জলি ক্রমশঃ ঘরের থেকে সরে যায় মানময়ী আলো ক্রমশঃ পাড়ের থেকে দূরে যায় স্বপ্নের জাহাজ পাথরে পাথর ঘষে জ্বলে না আগুন কোনোখানে জ্যোত্স্নার ভিতরে কাঁপে পরিত্যক্ত জীর্ণ দালান শব্দ জাগে না আর অন্তহীন সমাধি বাগানে |
অন্যমনস্ক দিন জেগে আছে বৃষ্টিভজা শেফালির ঠোঁটে নিয়মের বর্শা-গাঁথা দিবসরজনী পার হয়ে অপূর্ব লাস্যমুদ্রা ভেদ করে এই দিন সজল সমাধিলেখা -------একা ভাসমান-------
২ জ্যোত্স্নার ভিতরে আমি খুঁড়ে দেখব একদিন তোমার কবর : বস্তুময় তোমার করোটি ভেঙে দেখে নেব ক’ইঞ্চি মনীষা ছিল তাতে একদা , সে বসন্তপ্রভাতে ?
৩
আমর পতন আমার শব্দ আমার হৃদয় আমার ভ্রান্তি আমার শিখর আমার প্রাচীর আমার জীবন আমার রক্ত !
৪
কী ভাবে প্রমাণ হয় অনন্ত ত্রিভুজ . মানে . প্রেম ঘৃণা বশ্যতার আগ্নেয় তিন বাহু মেলে . জ্বলতে দুটি সমকোণ ?