এত মৃতের মিছিল ভাবতে পারিনি। মরার আগে মানুষগুলোকে মেরে ফেললো! খুনীরা উল্লাস করতে করতে আনন্দে বুকে ফোলাতে ফোলাতে হাতের পিস্তল ছুরি স্টেনগান উর্দ্ধে তুলে বিজয়ধ্বনি দিতে দিতে আস্তানায় ফিরে গেল। মদের পেয়ালায় চুমুক দিতে গিয়ে চমকে উঠল পেয়ালায় ভাসছে তাদের মৃত মুখের ছবি উপছে পড়ছে রক্ত ওদের খুন করার আগে কি নিজেদের খুন করেছে ? স্পষ্ট দেখছে দূর থেকে শববাহকেরা এগিয়ে আসছে ওদের নিয়ে যাবে।
ওরা আসে শীতের রাতে --- আমার সারা শরীর চাদরে মোড়া, ডান হাত ধরে বলে সাথে যেতে। কিছুটা হাঁটতেই আর একজন বাম হাত ধরে টান দেয় --- চল না আমার সাথে। আর একজন আমাকে কাঁধে তুলে বলে --- তোমাকে রাখব গোপন আস্তানায় কেউ তোমার ছায়াও খুঁজে পাবে না। আমি বলি --- ভাবতে দাও, আমারও তো মন আছে!
ওরা আসে বর্ষার দিনে চার দিকে জল থৈ থৈ নদী, মেঘ গম্ভীর আকাশে অজস্র জিজ্ঞাসা। কেন যাব, কথা কি রেখেছ ? ওদের হাতের পতাকা --- মিছিল আমার স্বপ্নে রঙিন, আমার বুকের পোশাক সরাতেই দেখে ভারতের মানচিত্র আঁকা! আমি বলি --- যারা একে ভালোবাসে আমি যাব তার সাথে!
স্বপনবাবু দাগ কাটছেন বালির উপর একটা কাঠি দিয়ে দীঘার সমুদ্র তীরে বসে। দাগ কাটতে কাটতে রেখাগুলো স্বপনবাবুর ছবি হয়ে গেল কি বিভত্স তার রূপ একটি কঙ্কাল বুকের উপর ঘটে যাওয়া জীবনের কিছু ছাপ। সূর্য পশ্চিম আকাশে রক্তিম হাতছানি, স্বপনবাবু মিল খুঁজছেন বার্ধক্য শরীরের সাথে কঙ্কালের জোয়ারে যাবে মুছে রেখাগুলো। স্বপনবাবু ভাবছেন আর ভাবছেন!!
মণীষা আমার দিকে চেয়ে হাসছিল হাসবেই না বা কেন, আজ যে তার বিয়ে। বর আসবে নতুন করে ঘর বাঁধবে। আমার বুকটা এখন বৈশাখের মাঠ, কদিন আগে ছিল শ্রাবণের ঝরা আকাশ। সে বলেছিল --- আবার দেখা হবে ভালো থেকো। ভালো কি আর থাকা যায় ? সেই খালপাড় ইটের পাঁজা পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছটায় এখন ভরা কোটাল, আগুন রং-এর শাড়ির আঁচল তার বুকের উপর। মণিষার এলোচুলের সোঁদা গন্ধ গাছের ছায়ায় অতৃপ্ত নির্জনতায়! মণীষা ভালো ছবি আঁকতে পারে গাছপালা নদী নৌকো পাল্কী পক্ষীরাজ ঘোড়া আরো কত কি। আঙুল দিয়ে হাওয়ায় রেখা টানতে টানতে চোখদুটো তার ঝাপসা হয়ে এল, আজ মণিষার বিয়ে সে আর হাসল না চোখ ফিরিয়ে নিল।