কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্য, ছবি - হংস মিথুন
সূর্যের মতো শাশ্বত হোক পৃথিবীর ইতিহাস সাগরের মত নির্মল হোক জীবনের বিশ্বাস ! . মিলন অভয় বাণী . পথের পাথেয় মানি দু’চোখে নামুক নতুন দিনের নির্মেঘ নীলাকাশ ! আগুনের মত কখনো দারুণ . দীপ্ত দহন দানে যা আছে বেদনা পুড়ে হোক সোনা . গহন গভীর প্রাণে ; . আলোর বন্যাধারা . ভাঙুক অন্ধ কারা মুক্ত হাওয়ায় হৃদয় নিল যে বুক ভরা নিশ্বাস !!
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছবি - হংস মিথুন
আজ, কৃষ্ণচূড়ার আবীর নিয়ে আকাশ খেলে হোলি . কেউ জানে না সে কোন কথা . মন কে আমি বলি ! . মনের কথা মন যদি কয় মনে মনে সেই, কথার মায়া জড়ায় কেন নয়ন কোণে আহা, কিছু শুনি কিছু ভাবি নতুন পথে চলি ! এই সুর-বলাকা মেলে পাখা আপন অনুরাগে কেন সে মানেনা সুদূর তাকে ডাক দিয়েছে আগে ; . কত যে ডাক ডেকেই চলে পায়না সাড়া . দেখা পেয়েও কত দেখা দিশাহারা তবু নদীর চোখে সাগর আঁকে . সাধের জলাঞ্জলি !!
গান ফুরানো জলসাঘরে . অমন করে আর থেকো না নিভলে রঙিন ঝাড়লন্ঠন . নেভার পরে আর দেখোনা ! . যত্নে-শেখা অভিনয়ে . যে-মন গেছে কথা কয়ে . তার কাঁচা রঙ পাকা করে . প্রাণের ছবি আর এঁকোনা ! বাসি মালা ফেলে দিও . কন্ঠ তোমার আরাম পাবে রাতের নেশা দিনের আলোয় . কাটবে কত সহজ ভাবে ; পায়ে বেঁধো বাজবে নূপুর বাঁধলে বুকে পাবে না সুর দাও গো বিদায় নাও গো বিদায় . নতুন নামে আর ডেকোনা !!
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর ও শিল্পী - মান্না দে
এইতো সেদিন তুমি আমারে বোঝালে . আমার অবুঝ বেদনা দুটি হাত ধরে আমি তোমায় বলেছি . এ শুধু আমার তুমি কেঁদোনা || তোমার প্রেমের কাছে চিরঋণী করে আরো কী চেয়েছো দিতে এ-হৃদয় ভ’রে কণাটুকু তার আমি শুধিতে পারিনি . ব্যথা দিয়ে তাই আর বেঁধোনা || অনেক হারাতে হোলো জীবনে তোমার . সেই অপরাধে আমি অপরাধী . এবার একলা আমি কাঁদি ; বিদায় নেবার আগে শুধু বলে যাই তোমার ক্ষমার মাঝে পাই যেন ঠাঁই স্বরলিপি ভুল করা শেষের এ-গান . স্মৃতির বীণায় আর সেধোনা ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী- রুমা গুহঠাকুরতা, ছবি - বাঘিনী
শুধু পথ চেয়ে থাকা রঙে রঙে ছবি আঁকা . কবে তুমি আসবে বলে ! মনে মনে কাছে ডাকা দুয়ারখানি খুলে রাখা . কবে তুমি আসবে বলে ! তোমারি কারণে সাজি এতো যে সাজে তবুও হৃদয় কাঁপে এ- কোন লাজে সে-লাজ দ্বিগুণ হয় যদি না আসো . মালা মোর জ্বালা হয়ে জ্বলে ! আমি স্বপ্ন কাজল চোখে আঁকি . সে কাজল কলঙ্ক হয়ে যায় আহা যদি না আমার দুটি আঁখি . ওই আঁখি পল্লবে মেশে হায় ; সাধের প্রদীপ আমি জ্বালায়ে রাখি সে-আলোয় পথ পানে চেয়ে থাকি সে-আলো আগুন হয় যদি না আসো . নেভেনা সে নয়ন জলে !!
ও কোকিলা, তোরে শুধাইরে . সবারই তো ঘর রয়েছে কেনরে তোর বাসা কোথাও নাইরে ? . বনে বনে দেখিস যখন পরের বাসা ও পাখী, একটি বারো পরাণটা তোর উদাস হয়ে যায় নাকি কখনো কি মন বলে না . এমনি বাসা একটি আমি চাইরে ? ভালোবাসা দেখলি শুধু . ভালোবাসা বুঝলি না বুকের মাঝে হারায় যে-মন . সে-মনটারে খুঁজলিনা ; কী সাধ আজো গোপন আছে . দিব্যি করে বলনা আমায় ভাইরে !!
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর- গোপেন মল্লিক, শিল্পী- মান্না দে ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ছবি - জীবন মৃত্যু
কোনো কথা না বলে গান গাওয়ার ছলে এই যে সুরের সাথী জুটলো তাতে ক্ষতি কী হলো ? বিনা আমন্ত্রণে আজ চোখের কোণে ওই যে অবুঝ হাসি ফুটলো তাতে ক্ষতি কী হলো ? আকাশে যে মেঘ ছিল এতো দিন সে কেন আজ হলো স্বপ্ন রঙিন আজ তারই বুকে কোন মধুর সুখে সাতরঙা রামধনু উঠলো তাতে ক্ষতি কী হলো ? এতো বাঁধন নিল নয়ন দেখে যায় তবু যদি স্বপ্ন . তাতে দোষী কে বলো ? কেউ কি জানে কোন সে দিনে আসবে কখন শুভলগ্ন ? হার মেনে যদি মেলে রত্ন মালা জয় করে চাইনা এ-কাঁটার জ্বালা কিছু পাওয়ার আগে মধু অনুরাগে এই যে মানের বাধা টুটলো তাতে ক্ষতি কী হলো ?
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর - রাজেন সরকার, শিল্পী - শ্যামল মিত্র ছবি - বালুচরী
আমি তোমার কাছেই ফিরে আসবো . তোমায় আবার ভালোবাসবো . তুমি কি ডাকবে মোরে . চেনা সে নামটি ধ’রে? . জীবনের এই পথ আঁকাবাঁকা হয় হোক . হোক্ না সে বন্ধুর ঠিকানা লিখে যাক্ ওই দুটি কালো চোখ . এই প্রিয় বন্ধুর চেনা সে নামটটি ধরে তুমি কি ডাকবে মোরে? . তুমি দিলে সে-কথা পাখী নিয়ে গায় . আকাশের নীল স্বপ্নে আলো হ’য়ে যায় ; . পৃথিবীর যত সুখ যত কিছু ভালো তার . সব নিয়ে চলে যাই ; . দুজনার দুটি মন চিরতরে একাকার . এই শুধু বলে যাই! চেনা সে-নামটটি ধরে তুমি কি ডাকবে মোরে??