কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
|
যা ছিলাম আছি তাই
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
একদিন ভোরবেলা
. মিঠুয়াকে বললাম----
তোর হয়ে আজ আমি
. ইস্কুলে চললাম !
আশা ছিল এইবার
. ফার্স্ট হব নির্ঘাৎ
অঙ্কের ঘন্টায়
. লড়ে যাব এক হাত !
গজ-ফুট-ইঞ্চিতে
. কে আমায় ছাড়াবে
টাকা-আনা-পয়সায়
. কে এখন হারাবে ?
মণ-সের-ছটাকের
. হিসেবেও ভুল নেই
এ্যাতো দিনে মুখস্ত
. মাইলের আঁক সেই !
ঠিক ঠাক উত্তর
. পেয়ে যাবে মাস্টার
আর এই মস্তকে
. ভাঙবে না ডাস্টার !
ক্লাসে গিয়ে সগর্বে
. ফার্স্ট-বেঞ্চ্ জাঁকিয়ে
মিথ্যেই বসলাম
. ভুরু দুটো বাঁকিয়ে !
পটাপট সব্বাই
. দিয়ে গেল উত্তর,
আগের মতোই আমি
. ঢোঁক গিলি ধুত্তোর !
এ্যাতো কাল কষিনিতো
. এ-অঙ্ক একটাও,
কষিনি এ কিলো-মিলো
. সেন্টি বা হেক্ টাও !
অঙ্ক মেলানো ছাই
. এ জীবনে গেলো না,
পুরানো এ ধারাপাত
. পাত্তাই পেলো না !
এ্যাতো পাতা ভরিয়েও
. খুললো না মাথাটা
বড়ো বড়ো গোল্লায়
. ভেসে গেলো খাতাটা !
সব কিছু পালটেছে
. রয়ে গেছে একটাই
অঙ্কেতে ‘লাস্ট বয়’
. যা ছিলাম আছি তাই !!
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
মিঠুর ডাক্তারী
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
মিঠু করে ডাক্তারী এও হলো সত্যি |
ওষুধ সে দেয নাকো খালি দেয় পথ্যি |
মাথা যদি ধরে কারো পেট কারো কামড়ায়
মিঠু দেবে রস করে আম আর আমড়ায়
দেবে সে ‘আইস-ক্রীম’ দেহ কভু তাত্ লে,
বমি হলে ঝোলা গুড় ঘিয়ে নুনে সাঁতলে !
ফুটবলে ঠ্যাং ভেঙে এলো মনু কুন্ডু
মিঠু দিলে কাত্ লার গোটা দুই মুন্ডু |
গোবরার ছোট ভাই তুলছিল হেঁচ্ কি
খেতে দিল গুচ্ছের উচ্ছের ছেঁচ্ কি !
গণ্ শার কির্ মিতে দিয়েছিল কোর্ মা,
পট্ লার সর্দিতে পটলের দোলমা !
শণিবার ফণি বোস তুলেচিল হিক্কা !
খেতে দিল ইয়া বড়ো বিরাশীর শিক্কা !
মাসী বলে --- “মিঠু ধন, জ্বর করে ছাড়বে ?”
মিঠু বলে --- “মাসী, তুমি খাবি খাও,-সারবে !”
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
রাঁধুনী - মিঠুয়া
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
(সুধীন দাশগুপ্তর সুরে, মান্না দের গাওয়া, প্রথম কদম ফুল ছায়াছবির "আমি শ্রী শ্রী ভজহরি মান্না"
গানটি, কবি, এই ছড়াটিকে কেন্দ্র করেই লিখেছিলেন!)
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
জামাইকা-গ্রীস গিয়ে কানাডা- প্যারিস গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
হাতে নিয়ে ডেচ্ কি
যেই তুলি হেঁচকি
. বিরিয়ানী কোর্মা
. পটলের দোলমা
মিলেমিশে হয়ে যায় উচ্ছের ছেঁচ্ কি,
মুখে দিলে এই হাসি এই পাবে কান্না |
আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
খাইবার পাস গিয়ে রোম-সাইপ্রাস গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
চ্যাং ব্যাং-খল্ সে
রোদ্দুরে ঝল্ সে
. খুন্তিটা বাজিয়ে
. দিই যেই সাজিয়ে
অমনি যে হয়ে যায়
. ‘মাগুরের ঝোল্ ‘ সে,
ভুঁড়ির ভাবনা নেই
. যত খুশী খান না !
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
ম্যারিকা-এডেন গিয়ে কোপেনহেগেন গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
‘হরে কর করম’বা
‘রাঙালুর দম’বা
. ঢ্যাঁড়সের কচুরি
. খেজুরের খিচুড়ি
মোটা খেলে রোগা হবে বেঁটে হবে লম্বা
ককিয়ে বলতে হবে ,--- “কোবরেজ আন না |’
আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
ইস্তাম্বুল গিয়ে জাপান- কাবুল গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না |
কচি খস্ খসেতে
গ্যাঁদালের রসেতে
. কিছু বিট্ নুনকে
. কিছুটা রসুনকে
কচুর সাথে মাখি
. টম্যাটোর সসেতে
চেখে দিন উপহার
. দশ রতি পান্না !
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
ফিজি-ব্যবিলন গিয়ে তাহিতি-স্লোন গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
দুধে আর আখেতে
পাকা পুঁইশাকেতে
. কড়াইটা তাৎলে
. যদি দিই স্যাঁৎলে
গোগ্রাসে খেতে হবে চোখে-মুখে-নাকেতে
ফুরোবে না এ-খাবার যত খুশী চান না !
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
ঘানা-ব্রিসবেন গিয়ে মরক্কো-স্পেন গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
না-কেটেই খাসিটা
‘টাটকা’ কি ‘বাসি’ তা
. ঠিক পড়ে নজরে
. বলে দিই সজোরে
মাংসটা ঝাল হবে
. ‘মেটে’ হবে আশিটা,
পেটে গিয়ে ব্যা-ব্যা-করে
. জুড়ে দেবে কান্না !
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
সুইজারল্যান্ড গিয়ে ইজিপ্ট-হল্যান্ড গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !
আমি নই ‘কেতাবী’
এ চ্যালেঞ্জ এ দাবি
. ইহকাল কেটেছে
. পরকাল কেটেছে
দলে দলে খেয়ে যান দম্ ভরে এ-‘খাবি’
থাকবে না খাওয়া নিয়ে লক্ষ-বাহান্না !
. আমি শ্রী শ্রী মিঠুরাম মান্না
পৃথিবীর ছাদে গিয়ে আসল ও-চাঁদে গিয়ে
. শিখেছি নতুন এই রান্না !!
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
প্রেস্ টিজ পাঙ্ক্চার
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
অ্যাম্ প্লিফারায় হাঁকলো
একটা বিয়ে পাকলো
. পাড়া-পড়শীর ঘুম ক’টা দিন
. শিকেয় তোলা থাকলো |
পাশের বাড়ীর ছোট্ কা
টানলো চুরুট মোট্ কা
. গন্ধ শুঁকে বল্ লো কাকী---
“কী সুন্দর বোট্ কা” !
জরদা খেকো বড়দা
. পালিয়ে গেলো খড়দা
মৌরি খেয়ে বৌদি হাঁফায়
. ফাটিয়ে কানের পর্দা !
নয়ের কোঠার নামতা
পড়েই পালাও আমতা
নইলে যাবে আক্কেল-দাঁত
. করবে আমতা -আমতা !
দোহাই রেকর্ড থামারে
ঝরে যে কাল ঘামরে
. কানের পোকা কটাস্ কটাস্
. যাচ্ছে খালি কামড়ে !
বললে পাড়ার জয়দা :---
“ইস্ মে বহুত ফায়দা,
. এক রাত্তির বাঁচবে পাড়ার
. মাছ-মাংস ময়দা !”
বাজছে রেকর্ড বাজছে
বিয়ে বাড়ী সাজছে
. একুশটা ঝি ভিয়েন ঘরে
. বাসন-কোসন মাজছে !
তবুও ফেলে বাটনা
ঠান্ দি ছোটে পাটনা,
. আশে পাশে থাকিসনি কেউ
. কাট্ না সাবাই কাট্ না !
হাঁক্ লো মিঠু :--- “যাসনি,
. তেমন বিয়ে পাস্ নি
তিনশো বামুন চপ গড়েছে
জীবনে যা খাস্ নি |”
“সইবে তোদের পেট্ কি ?
. গরম গরম ভেটকি ?
জেনে শুনে বোকা বনে
করবি মাথা হেঁট্ কি ?
কোরমা কারির গন্ধে
মাতরে সকাল সন্ধে
. পেটের ভালো করবো সবাই
. কানের কিছু মন্দে |”
এলো নেমন্তন্ন :---
. “চেয়ো না কেউ অন্ন
. ‘ বিনা ভোজের বিয়ে’ অতিথ
. আইন থাকার জন্য !’
কাট্ লো রেকর্ড কাট্ লো
কান-গলা দুই--ই ফাট্ লো
কল্পনাতেই জয়দা-মিঠু
চপ-কাটলেট সাঁট্ লো !
অ্যাম্ প্লিফায়ার হাঁকরে,
পচা বিয়ে পাক্ রে
. পাড়ার মাথা জয়দা-মিঠুর
. ‘প্রস্ টিজটা রাখরে !!
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
এ পদ্য ছাপবে না
একি গাজোয়ারী নাকি?
সব কটা দাঁত আছে ?
. এর নাম মাড়ি নাকি ?
কুট্ কুট্ করে না যে
. সে আবার দাড়ি নাকি ?
এক্ কোপে কাটে বাঁশ
. এ-যেমন কাটারী
লোকে পায় পয়সা
. সে-তেমন লটারী
কুকুর-ই পড়েছে চাপা
. সে কি ড্রাইভার নাকি
একদানে স্টার্ট হয়
. সে আবার গাড়ি নাকি ?
ডুবে জল খায় না
. সে-যেমন সাঁতারী
মশামাছি কেউ নেই
. সে তেমন মশারী
চাঁদার জুলুম নেই
. সে কি বারোয়ারী নাকি
খৈনীর নেশা নেই
. সে-পুলিশ ফাঁড়ি নাকি ?
টিপ্ লেই পাওয়া যায়
. সে আবার কী নাড়ি,
উইল লেখেনি যে গো
. সে আবার বেমারী ?
বৃষ্টি পড়ে না ঘরে
. সে নতুন বাড়ী নাকি
দুটো ছেঁড়া সুতো নেই
. সে নতুন শাড়ী নাকি ?
এখনো হয়নি ভাগ
. সে আবার কী হাঁড়ি
মিনিটে হয় না ভাব
. সে আবার কী আড়ি
ধরে আছে মুন্ডুটা
. সে কি মারামারি নাকি
ফুটপাতে হাঁটছে যে
. সে কি পথচারী নাকি ?
কাছা ধরে টানা নেই
. সে যেমন কাছারী
কোনো ছুঁচি-বাই নেই
. সে তেমন আচারী
য়ার দুটো খাতা নেই
. সে-কি কারবারী নাকি
যে-পায়ে পড়ে না তেল
. সে কি পায়াভারী নাকি ?
দল্ টল্ মানে না যে
. সে আবার রেফারী
“দম্ ভরে” বাজায় না
. সে আবার সেতারী
গোঁজামিল যাতে নেই
. সে কি সরকারী নাকি ?
মিল দেওয়া কবিতাও
. লেখা ঝকমারী নাকি ??
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
একটা মোটা-মুটি ছড়া
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
মোটা বলে, --- “মুটিরে
. ছাড় ডাল রুটিরে |
. ক’টাদিন নির্জলা
. খারে শুধু চালকলা,
আটকালে গলাতে
. গেল্ দুটো ‘ফুটিরে’!
সবাই অবাক হবে
. দেখে এই জুটিরে!”
মুটি বলে, --- “মোটা রে,
চর্বিটা গোটারে
. বিশ লাফ লাফিয়ে
. যেই যাবি হাঁপিয়ে
ওমনি গলায় দে
. বেগুনের বোঁটারে
কোনো দিন দেবে না
. কেউ কোনো খোঁটা রে!!”
মোটা বলে --- মুটি রে
কর্ ছোটাছুটিরে
. ভেঙে গেলে ঠ্যাংটাকে
. তুলে রাখ্ উঁচু তাকে
মই বিনা সেইখানে
. যাবে না তো ওঠা রে
মোটামুটি কোনোখানে
. খাবি না তো খোঁটা রে!!
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
রঙ রঙ শুধু রঙ
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
রঙ রঙ শুধু রঙ
. ফিরে এলো দোল রে----
আয় খুশী হল্লায়
. শোরগোল তোল রে !
এই মিঠু, আয় ছুটে
. মঠ যদি খাবি রে,
আয় তোর চুলগুলো
. ভরে দিই আবীরে |
গলা ছেড়ে সব্বাই
. ধর নারে বায়না
কড়াই ভাজার লোভ
. সামলানো যায় না |
সোনা তোর সাদা ফ্রক
. বাসন্তী হয়ে যায়,
আরে বুড়ো রামখুড়ো
. তোকে আজ চেনা দায় |
ও প্রতীপ, ভাণু তুই
. ছেলে ভারী আদুরে----
আয় তোর মুখে দিই
. নীল রঙ বাঁদুরে |
আদ্দিটা বরবাদ
. কী হোলির ঢঙ তোর---
হে-হে হি-হি বেঁচে থাক
. ভ্যানিশিং রঙ তোর !
অলকটা নাবালক
. তবু কোথা শিখলো----
আলু-ছাপ দিয়ে পিঠে
. ক্যাবলা সে লিখলো |
দোল দোল রঙে রঙে
. যত ব্যথা ভোলরে
আজ খুশী হল্লার
. শোরগোল তোল রে !!
. *************************
. সূচিতে
মিলনসাগর
এমনও হয়
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
গু-গা-বা-বা চপ্পল
. দুটি পায়ে পরিয়া
একদিন মিঠুবাবু
. হয়ে গিয়ে মরীয়া
. যেতে গিয়ে ‘গড়িয়া’
. চলে গেল ‘ঝরিয়া’ !
মানুকাকী ছিল তার
. দূর সেই ‘ঝরিয়া’
ভিন্ টেজ গাড়ি যার
. যেতো ঝর্ ঝরিয়া !
ছুটে এলো মনুকাকী
. সেই গাড়ি চড়িয়া !
দুজনাতে চলে গেলো
. সেই গাড়ী করিয়া |
যেতে গিয়ে ‘গড়িয়া’
চলে গেলো ‘কোরিয়া’ !!!
. *********************
. সূচিতে
মিলনসাগর
আজকালকার ছড়া
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
আজকে যে ভাইপো
আজকে যে ছোক্ রা
আজ খায় চুষি, কাল
আজ খ্যাঁদা নাকে কাল
আজ যে পালক পেলো
আজকের ভিদ গাঁথা
আজ যে বেসুরো-তান
আজ ধীর স্বস্তি
আজ যেটা শুরু হয়
আজ মুখে মধুদান
কালকে সে খুড়ো
কালকে সে বুড়ো |
কাত্লার মুড়ো
নস্যির গুঁড়ো!
কালকে সে উড়ো
কালকের চুড়ো |
কালকে সে সুরো
কাল তাড়াহুড়ো!
কাল সেটা পুরো
কাল জ্বলে নুড়ো!!
লম্বা দাড়ি চৌকিদার
কবি পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছড়া
লম্বা দাড়ি চৌকিদার
. পেস্তা খাওয়া পালোয়ান
গিলতো বরফ শীতের রাতে
. গ্রীষ্মে নিতো আলোয়ান |
দুপুর রোদে ঘামতো না
তাল পুকুরে নামতো না
সন্ধেবেলায় দেখতো ভালো
বলতো দিনে ---- “আলো আন !”
. পেস্তা খাওয়া পালোয়ান |
পাট্টা ভারী চৌকিদার
. হাঁক ছিল যে জবর তার
ফড়িং এলে বলতো হেঁকে
. “হেই সামালো খবরদার !”
ছাগল দেখেই কাঁপতো সে
দাড়ির বহর মাপতো সে |
হুক্কাহুয়ার হল্লা শুনে
বলতো “বহুৎ ভালো গান !!”
পেস্তা খাওয়া পালোয়ান !!
. *********************
. সূচিতে
মিলনসাগর