জলে নেবো না আর থই পাবে না--- থই থই করে নদী এখন যে বরষা, এ সময় এ নদীর নেই কোনো ভরসা || খুব জল, ডুব জল, নেই কূল নেই তল, জল খেলা খেলো না আর তুমি সহসা || দিন নেই রাত নেই বান আসছে, থেকে থেকে কার টান আসছে | ভাঙছে তো ভাঙছেই, পাড় ভাঙছে-- ঢেউ আসে ঝাঁপিয়ে প্রাণ করে সরসা || তরঙ্গে তরঙ্গে ওঠে ঘুর্ণি, দুরন্ত মন হলো আশা-পূর্ণি | জ্বলছে তো জ্বলছেই জল চুমকি-- কোন্ তৃষা জ্বলে রে অন্তর হরষা ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - নচিকেতা ঘোষ, শিল্পী - আরতি মুখোপাধ্যায়, ছবি - ছুটির ফাঁদে
নদীর যেমন ঝরনা আছে ঝরনারও নদী আছে, আমার আছো তুমি, শুধু তুমি ! বাঁশির যেমন কৃষ্ণ আছে কৃষ্ণেরও বাঁশি আছে, আমার আছ তুমি, শুধু তুমি ! যতই থাকো দূরে সরে, তোমায় দূরে ভাববো কেন--- তোমার আমার মাঝে ওগো আড়াল তুলে রাখবো কেন ? সুখের যেমন দুঃখ আছে দুঃখের মাঝেও সুখ আছে-- আমার আছো তুমি, শুধু তুমি ! তোমার মধুর অভিসারে চিরজনম চলব আমি, সুরে সুরে গানে গানে তোমার কথাই বলব আমি | পথের যেমন পথিক আছে পথিকেরও পথ আছে--- আমার আছো তুমি, শুধু তুমি !
আমি মিস্ ক্যালকাটা চাই না দিতে টিপ্ স, এখনো তো কেউ জানে না আমার স্ট্যাটিসটিক্ স্-- আমি মিস্ ক্যালকাটা নাইন্ টিন সেভেন্ টি সিক্ স্ || আমি হরিয়ানা থেকে মেলে ডানা চন্ডীগড়ের রানি, উড়ে এসে জুড়ে বসি খেতে বড়ো ভালোবাসি বাংলাদেশের পানি | ইডলি দোসা সম্বরম রান্নাতে আমি উত্তমম্ | আমায় যে দেখেছে সে সেই বলে ফেঁসেছে-- আমি কাকে নাকি কানা করে এসেছি | যদি কেউ সাধু সেজে হয় আসলে ভন্ড নকল, আমরা সবাই যে তার মুন্ডু নিয়ে খেলব ফুটবল | ভালোবেসে সকলে রেখে দিয়ে দখলে দেব কচুপোড়া | আমি মিস্ ক্যালকাটা, চাই না দিতে ট্প্ স্-- এখনো তো কেউ জানে না আছে কত ট্রিক্ স ||
না বলে এসেছি তা বলে ভেবো না না বলে বিদায় নেবো-- চলে যাই যদি যেন হই নদী সাগরে হারিয়ে যাব || অন্ধ আবেগে বলতে চেয়েছি হয় নি যে কথা বলা, কৃষ্ণচৃড়াতে পথ ঢেকেছিল হয় নি সে পথে চলা-- এই নির্জনে নয়নে নয়নে প্রেমের কবিতা ভাবো || তোমাকে দেখার লুকানো আশায় অঙ্গে গোধূলি ভরা, শুধু বারে বারে ফিরে ফিরে চাওয়া হৃদয় নৃত্য করা | লজ্জা জড়ানো গন্ধ ছড়িয়ে জাগতে পারে নি কুঁড়ি, লক্ষ মরণে মরতে চেয়েছি, সয় নি সে লুকোচুরি-- আজ এইক্ষণে বুঝিনি গোপনে নিজেকে আবার পাব ||
লজ্জা! মরি মরি একী লজ্জা! ওগো তুমি না এলে যে কাঁটাতে ভরে গো আমার এ ফুলের শয্যা || ( মরে যাই একি লজ্জা! ) মায়াকাজলে নয়ন সাজায়ে চাঁদিনী রাতে দেখি আঁধার, মনেরই ছায়ায় কত কি যে গড়ি, মনে মনেই আমি ভাঙি আবার--- কাকে বোঝাবো, কিসে মেটাবো তোমাতে পেয়েছে মন যা || আমাকে দেখে সকলে বলে, মানিনী ওরে, হলো কি তোর--- নীরবে আমি দেখি যে আকাশ, এ নিশি কবে হবে গো ভোর | কাকে বোঝাবো, কিসে মেটাবো তোমাতে পেয়েছে মন যা ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - সুধীন দাশগুপ্ত, ছবি - পিকনিক, শিল্পী- আশা ভোঁসলে
কেন সর্বনাশের নেশা ধরিয়ে তুমি এলে না যে মরি লাজে বুকে বাজে---- মন লাগে না আর কোনো কাজে মরি লাজে || দিন এসে এসে যায় ফিরে ফিরে চোখ চেয়ে থাকে, মন সারা বেলা সেই পথে পথে কান পেতে রাখে | সব হারানোর পথে নেমে কি আজ পথ চাওয়া কি সাজে || ঝড় উঠে উঠে যায় থেমে থেমে কেউ দেখে না তাকে, বোঝ না তুমি মন কেঁপে ওঠে তোমারই কি ডাকে--- ভুল ভাঙাতে এলে না কেন এই ভুলের মাঝে ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী - আশা ভোঁসলে, ছবি - মন নিয়ে,
দীপ জ্বেলে ওই তারা এ কি কথা বলে যায়--- দূর হতে দূরে কেন আকাশ চলে যায় ? কেন যে ওরা আমাকে শুধু ডাকে শুধু ডাকে ? সময় নেই সময় নেই বলে মন কিছুক্ষণ, রাত নিঝুম দাও না ঘুম, ঘুমাক না দু’নয়ন--- ঘুম এলে সব ফেলে কাজ কেন ছুটি চায় ? কোথায় সুর কোথায় গান কি সে দেব সাড়া তার ? কোন্ সেতার ছন্দে তার সাজায় গো উপহার ? দিশাহারা ভালোবাসা সেই আলো কোথা পায় ?
ও কালো কোকিল তুমি আর ডেকো না, যে গেছে যাক না তারে অমন আকুল সুরে পিছু ডেকো না | থাক না শূন্য শাখা, ঝরুক মুকুল ক্ষতি নেই, সোনার স্বপ্ন যত হোক সবই ভুল ক্ষতি নেই, হারানো দিনের পানে অকারণ অভিমানে চেয়ে থেকো না || আর এসো না, ওই তুমি কালো পাখা আর মেলো না, নীরব কুঞ্জে মোর সুর ঢেলো না | মিলন লগ্ন যদি অকালে ফুরায় ক্ষতি নেই, আমার সাধের মালা কন্ঠে শুকায় ক্ষতি নেই--- যে ব্যথা আমার মনে তুমি যেন আকারণে খুঁজে দেখো না ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর ও শিল্পী - সতীনাথ মুখোপাধ্যায়
যেদিন তোমায় আমি দেখেছি কত রঙে ছবি এঁকে রেখেছি কি করে তোমায় বলো ভুলে যাই | স্বপনের যে মালাটি অলখে মনে মনে গাঁথা হল পলকে কি করে সে মালা আমি খুলে যাই || আমার উদাসী পথ সাজায়ে এলে যবে মঞ্জীর বাজায়ে সে দোলায় আজও আমি দুলে যাই || আমার প্রথম কথা কে তুমি তোমার প্রথম সাড়া হাসিতে ; তোমার প্রথম সুর নূপুরে আমার প্রথম গান বাঁশিতে | স্মরণ সুধায় তারা রয়েছে সেই আবেশ মোর গানে তুলে যাই ||