রিম ঝিম ঝিম বৃষ্টি মাটির কানে কানে কী কথা নিয়ে পড়ে ঝরে ঝরে ; আমার সারাদিন কি ভাবে কেটে যায় শুধু তুমি, তুমি, তুমি করে || কী করে জুঁইফল জলের উচ্ছাস এভাবে বুকে তার সয়ে যায়, আমার কানাকানি তোমার মন ছুঁয়ে কি করে জানাজানি হয়ে যায় | হয় তো এরই নাম প্রথম ভালোবাসা কিছু জ্বালা সয় মালা পরে পরে || কী ভাবে এ বাতাস যখনই বয়ে যায় অমনই মনে হয় কে যেন গান গায় | কি করে দুটি চোখ অচেনা এত রঙ না-দেখা এত রূপ দেখে যায়, যা ছিল স্বপ্নেতে মনের ভাবনাতে সে ছবি অপলকে এঁকে যায়--- তবু আরও সাধ আরও কী কল্পনা কাছে এসে এসে যায় সরে সরে ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর ও শিল্পী - মান্না দে
ললিতা গো, ওকে আজ চলে যেতে বল্ না | ও ঘাটে জল আনিতে যাব না যাব না--- ও সখি, অন্য ঘাটে চল্ না || দিবালোকে সে আমায় নাম ধরে ডাকে ; আমাকে সবাই দোষে, সে সাধু থাকে-- অসময় সময় কিছু কেন সে বোঝে না, আমি কি তার হাতের খেলনা || নিশিরাতে বাঁশি তার সিঁদকাঠি হয়ে চুপি চুপি ঘরে এসে বাজে রয়ে রয়ে | যখনই ডাকবে সে তখনই যেতে হবে-- আমি কি এমনতর ফেলনা ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর ও শিল্পী - মান্না দে
সুন্দরী গো, দোহাই দোহাই, মান করো না, আজ নিশীথে কাছে থাকো, না বোলো না || অনেক শিখা পুড়ে তবে এমন প্রদীপ জ্বলে, অনেক কথার মরণ হলে হৃদয় কথা বলে | ( না না ) চন্দ্রহারে কাজল ধোওয়া জল ফেলো না || একেই তো এই জীবন ভরে কাজের বোঝাই জমে, আজ পৃথিবীর ভালোবাসার সময় গেছে কমে | ( না না ) একটু ফাগুন আগুন দিয়ে না জ্বেলো না ||
( আকাশপানে চেয়ে চেয়ে সারারাত জেগে জেগে দেখেছি অনেক তারার ভীড় অরুন্ধতী, স্বাতী, সপ্তঋষির খেলা--- সব দেখেছি )
শুধু চাঁদ দেখতে গিয়ে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি, কোন্ জোছনায় বেশি আলো এই দোটানায় পড়েছি || বন্ধুরা সব বলে এমনধারা হলে চোখ নাকি আর সরে না, যদি হঠাৎ এমন করে কারো চোখেতে চোখ পড়ে, তবে দৃষ্টি না কি ফেরে না | বলো তাহলে কি আমার এ চোখ নষ্ট আমি করেছি || বন্ধুরা সব বলে এমনধারা হলে ঘোর নাকি আর কাটে না, আমার প্রাণটা জ্বলে মরে মন কেমন যেন করে--- আমার কিছুই ভালো লাগে না | তাই চিন্তা করে পাইনা বুঝে বেঁচেছি কি মরেছি ||
ভুলে থাকার কথা ছিল তোমারই, আমার তো নয়, কথা রাখার কথা ছিল তোমারই, আমার তো নয় || সোনা নদীর কোণাতে ওই কূল ছাপানো লহর এলে একা তুমি আঁকবে কিছু পূর্ণ চাঁদের প্রহর এলে---- ছবি আঁকার কথা ছিল তোমারই, আমার তো নয় || কথা ছিল ভালোবাসায় আসব আমি মালা দিত তুমি শুধু ডাকবে আমায় অবহেলায় জ্বালা দিতে | চাঁপা বনের কাঁপা হাওয়া আরও কিছু সরল হলে অভিমানের যত সুধা ভুলি হাসির গরল হলে--- হাসি ঢাকার কথা ছিল তোমারই, আমার তো নয় ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - সুধীন দাশগুপ্ত শিল্পী - লতা মঙ্গেশকর, ছবি - শঙ্খবেলা
আজ মন চেয়েছে আমি হারিয়ে যাব---- হারিয়ে যাব আমি তোমার সাথে ; সেই অঙ্গীকারের রাখী পরিয়ে দিতে কিছু সময় রেখো তোমার হাতে | | কিছু স্বপ্নে দেখা, কিছু গল্পে শোনা, ছিল কল্পনা জাল এই প্রাণে বোনা----- তার অনুরাগের রাঙা তুলির ছোঁয়া নাও বুলিয়ে নয়নপাতে || তুমি ভাসাও আমায় এই চলার স্রোতে চিরসাথি রইব পথে | তাই যা দেখি আজ সবই ভালো লাগে এই নতুন গানের সুরে ছন্দরাগে--- কেন দিনের আলোর মতো সহজ হয়ে এলে আমার গহন রাতে ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী - লতা মঙ্গেশকর, ছবি - মণিহার
নিঝুম সন্ধ্যায় পান্থ পাখিরা বুঝি বা পথ ভুলে যায়---- কুলায়ে যেতে যেতে কি যেন কাকলি আমারে দিয়ে যেতে চায় || দূর পাহাড়ের উদাস মেঘের দেশে ওই গোধূলির রঙিন সোহাগ মেশে ; বনের মর্মরে বাতাস চুপি চুপি কি বাঁশি ফেলে রাখে হায় || কোন্ অপরূপ অরূপ রূপের রাগে সুর হয়ে রয় আমার গানের আগে ; স্বপন কথাগুলি ফোটে কি ফোটে না, সুরভি তবু আঁখি ছায় ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - রাজেন সরকার, শিল্পী - সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, ছবি - নতুন জীবন
আমি তোমারে ভালোবেসেছি চিরসাথি হয়ে এসেছি || এ লগন পূর্ণ যে তোমাতে শুভরাত জানে না গো পোহাতে তোমারই ব্যথায় কেঁদেছি যে হায় তোমারই হাসিতে হেসেছি || তোমার কানে কানে দুটি কথা তাই শুধু বলব, ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি |’ প্রণয়ের নীলাকাশে দুটি তারা হয়ে মোরা জ্বলব ‘ভালোবাসি, ভালোবাসি’ | পৃথিবীকে তাই বলি বারেবার, মোর চেয়ে সুখী কেহ আছে আর ? বহু জনমের মিলনসাগরে আমারা দু’জনে ভেসেছি |
দুরাশার বালুচরে একা একা আজও গান গাই, সাগরের ঢেউ আসে আমি তবু ঘর বেঁধে যাই || . মনে হয় ভাঙনের তীরে . আবার এসেছ তুমি ফিরে---- আমার হারানো নাম শুনে আমি চোখ মেলে চাই || সযতনে রাখি ফুলমালা ---- মানি না ঝরুক এ ফুল দেখি না কাঁটার ভুল, লাগে না তো বুকে কোনো জ্বালা | . যেখানেই থাকো তুমি শোনো . অনুভব রাখি নি তো কোনো----- আকাশে প্রদীপ জ্বলে অন্তরে আমি আলো পাই ||
বাদলের মাদল বাজে গুরু গুরু দুরু দুরু মন, বরষার স্বপ্নে ভিজে কাঁপলো দু’নয়ন || আমাকে আমার মাঝে যায় না দরে রাখা, জানি না খুশির মযূর কোথায় মেলে পাখা--- তা তা থৈ নাচের কি তাল শুনছি সারাক্ষণ || হয়তো আমার কথা না শুনে না মেনে আসবে না আর, তাই তো মনে মনে তোমায় ভেবে ভেবে এই অভিসার | খেলেছ মেঘের পরে মেঘ জমানোর খেলা, এল তাই নতুন করে বৃষ্টি ঝরার বেলা----- কিছুতেই মানবে না মন ঝরবে অকারণ ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর ও শিল্পী- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি - মন নিয়ে
ওগো কাজলনয়না হরিণী, তুমি দাও না ও দু’টি আঁখি ; ওগো গোলাপ পাপড়ি মেলো না, তার অধরে তোমাকে রাখি || ওগো কাঞ্চনবর্ণা চম্পক মঞ্জরী করো তাকে চম্পকবর্ণা, এসো উচ্ছল ঝর্ণা অকারণ উল্লাসে হাসি হয়ে তার ঝরে’ পড়্ না ; ওগো নিবিড় পুঞ্জ মেঘ দিগন্ত হতে এসো মেঘমালা কুন্তল ললনা, এসো অপরূপ চন্দ্রিমা পূর্ণিমা জোছনা ঝর না আননে তার ঝর্ না | ওগো মযূর পেখম তোলো না, তার লজ্জা তোমাতে ঢাকি || ওগো কুঞ্জ কোকিল এসো পঞ্চম সুর দিয়ে কোকিলকন্ঠী তাকে কর্ না, এসো অশান্ত সমীরণ দাও দোল দাও ছন্দে ছন্দে তাকে ধর্ না ; ওগো যৌবনবন্যা লীলায়িত রঙ্গে কানায় কানায় তাকে ভর্ না, এসো অনন্ত জগতের যত রূপ লাবণি তার রূপে সাধ করে মর্ না | এসো আমার মনের মাধুরী, তার স্বপ্ন তোমাতে আঁকি ||