কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর ও শিল্পী- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি - মন নিয়ে
ওগো কাজলনয়না হরিণী, তুমি দাও না ও দু’টি আঁখি ; ওগো গোলাপ পাপড়ি মেলো না, তার অধরে তোমাকে রাখি || ওগো কাঞ্চনবর্ণা চম্পক মঞ্জরী করো তাকে চম্পকবর্ণা, এসো উচ্ছল ঝর্ণা অকারণ উল্লাসে হাসি হয়ে তার ঝরে’ পড়্ না ; ওগো নিবিড় পুঞ্জ মেঘ দিগন্ত হতে এসো মেঘমালা কুন্তল ললনা, এসো অপরূপ চন্দ্রিমা পূর্ণিমা জোছনা ঝর না আননে তার ঝর্ না | ওগো মযূর পেখম তোলো না, তার লজ্জা তোমাতে ঢাকি || ওগো কুঞ্জ কোকিল এসো পঞ্চম সুর দিয়ে কোকিলকন্ঠী তাকে কর্ না, এসো অশান্ত সমীরণ দাও দোল দাও ছন্দে ছন্দে তাকে ধর্ না ; ওগো যৌবনবন্যা লীলায়িত রঙ্গে কানায় কানায় তাকে ভর্ না, এসো অনন্ত জগতের যত রূপ লাবণি তার রূপে সাধ করে মর্ না | এসো আমার মনের মাধুরী, তার স্বপ্ন তোমাতে আঁকি ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় সুর ও শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
কতদিন পরে এলে একটু বসো, তোমায় অনেক কথা বলার ছিল যদি শোনো | আকাশে বৃষ্টি আসুক, গাছেরা উঠুক কেঁপে ঝড়ে, সেই ঝড় একটু উঠুক তোমার মনের ঘরে---- বহুদিন এমন কথা বলার ছুটি পাই নি জেনো || জীবনের যে পথ আমার ছিল গো তোমার ছায়ায় আঁকা সেই পথ তেমনি আছে সবুজ ঘাসে ঢাকা | চেনা গান বাজলো যদি বেজেই আবার থামবে কেন ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর- রাজেন সরকার শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি- নতুন জীবন
লাজবতী নূপুরের রিনি ঝিনি ঝিনি ভালো যদি লাগে তারে দাম দিয়ে কিনি ; ভেবো না ভেবো না বেশি তো নেবো না, বে-হিসাবি ভালবেসে হব না ঋণী || জীবনটা আমি বলি উত্সব শুধু এক মুঠো জলসার কলরব--- ভেবো না ভেবো না বেশি তো নেবো না, মায়াপুরী মনে মোর এসো মায়াবিনী || উড়ন্ত সময়ের সঙ্গে আমার নেই কো চুক্তি তাই একটু থামার, কোথাও থামার | ভাবনার ভীরু ঘর ফেলে তাই আমি খেয়ালের রাজপথে ছুটে যাই-- ভেবো না ভেবো না বেশি তো নেবো না, সোহাগিনী হয়ে এসো লীলা বিহারিণী ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - রাজেন সরকার শিল্পী - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি- মুক্তিস্নান
সুরের আসর থেকে মন নিয়ে এসেছি গো ফুলের বাসরঘরে ( বন্ধু )--- পার তো ধরো না মোরে বাঁধো না মালার ডোরে || ( বন্ধু, আমি ওগো এসেছি ) গানের আগুনজ্বালা নয়নতারা দেখে দেখে চোখ আপনহারা -- কার কাছে এলে অবাক নয়ন মেলে শুধুই কাজল পরে || সুরের সাধনা নিয়ে যার দিন যায় জানি না আসন তার পাতবে কোথায় | এ মনে মাধবী রাত খেয়ালে গড়া--- আকাশে হাজার তারা রঙেতে ভরা--- কার কাছে এলে শান্ত প্রদীপ জ্বেলে আঁচলে আড়াল করে ||
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর ও শিল্পী- হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, ছবি- রাগ অনুরাগ
সেই দু’টি চোখ আছে কোথায় কে বলে দেবে আমায়-- মনটা আমার মাতিয়ে দেবে যার ওই চোখের পাতায় || শুধুই আকাশ হলে হবে না হবে না শুধুই বাতাস হলে হবে না হবে না-- আকাশ বাতাস ভাঙা ঝড়ের হাওয়ায় যে নয়নে বিদ্যুৎ কেঁপে কেঁপে যায় || খুঁজে যাই--- আজো হয় না দেখা যার দেখা আমি পেতে চাই | শুধু দেখা হলে হবে না হবে না একার একা হলে হবে না হবে না--- একাকার হয়ে গিয়ে যে সে আমার স্বপ্নের পৃথিবীতে ডেকে ডেকে যায় ||
আমার বলার কিছু ছিল না না গো--- চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে | সব কিছু নিয়ে গেলে যা দিয়েছিলে --- আনন্দ হাসি গান, সব তুমি নিলে | যাবার বেলায় শুধু নিজেরই অজান্তে স্মৃতিটাই গেলে তুমি ফেলে || দু’হাতে তোমার ওগো এত কিছু ধরে গেল ধরলো না শুধু এই স্মৃতিটা--- রয়ে গেল শেষ দিন রয়ে গেল সেদিনের প্রথম দেখার সেই তিথিটা | কোথা থেকে কখন যে কি হয়ে গেল, সাজানো ফুলের বনে ঝড় বয়ে গেল | সে ঝড় থামার পরে পৃথিবী আঁধার হল--- তবু দেখি দীপ গেছো জ্বেলে ||
ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুয়োনা আর এত সাধের কান্নার দাগ ধুয়োনা সে যেন এসে দেখে পথ চেয়ে তার কেমন করে কেঁদেছি || দোহাই মনের বীণা মনকে ভরে তুল না দেখেই তাকে ব্যাথারই গান ভুল না সে যেন এসে শোনে তার বিরহে কি সুর আমি সেধেছি | ক্লান্ত প্রদীপ ওগো হঠাৎ আলোয় ফুটোনা দেখেই তাকে উজ্জ্বল হয়ে উঠোনা সে যেন এসে জানে কোন আঁধারে এ রাত আমি সেধেছি ||