ও আমার চন্দ্রমল্লিকা বধূ চন্দ্র দেখেছে যেন কোন শুক্লাপঞ্চমী চোখে স্বপ্ন এসেছে তার সবুজ পাতা বলে অবুঝ হিয়া ভোলে ও তার অঙ্গ ভঙ্গিমায় বাতাস ছন্দ রেখেছে--- ও আমার চন্দ্রমল্লিকা--- আমার ভাঙলো দ্বিধা ভয় শুধু রঙ রূপ রাগে অধর মানলো পরাজয় নতুন আলোর সোহাগে সেই প্রহর ফিরে এল সেই ভ্রমর দোসর পেল ও সে পাপড়ি ধরে আজ যেন স্বর্ণ মুখেতে ও আমার চন্দ্র মল্লিকা---
কথা -পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পী - তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ম্যাগনোলিয়া আর ক্যামেলিয়া ফুল যার খোঁপায় আজ দুলছে লাজে | তাই প্রতিদিন সঙ্গিবিহীন স্বপ্ন রঙ্গিন তার কাঁকন বাজে || জাফরাণী রং আর জংলা শাড়ী এলোমেলো হাওয়া লেগে দুলছে যেন পথ চলা তার ভয় কেন আর ভীরু মন চলতে গিয়ে থমকে থমকে দাঁড়ালে কেন তাই প্রতিদিন সঙ্গিবিহীণ স্বপ্ন রঙিন ম্যাগনোলিয়া আর ক্যামেলিয়া ফুল যদি মনের কথা বুঝতো, চলার পথে সে সঙ্গি ছেড়ে পথ হারিয়ে আমায় খুঁজতো | যার দিন যায় মন যায়, মনে করি বলবো বলবো তবু বলা হয়নি বলা | চিরদিনই এমনি করেই কত কল্পনা করেছো তাই প্রতিদিন সঙ্গিবিহীন স্বপ্ন রঙিন ||
আবার দুজনে দেখা যমুনার কিনারে | না, না, বৃন্দাবন নয়, নয় ওই ব্রজপুরে | তার চেয়ে কিছু দূরে কুতুবের মিনারে | আহা, যাই যাই করে শীত যায় নি, কোকিলরা সবে গলা সেধেছে---- তখনো কোথাও গান গায় নি | বাগান সাজান আছে গোলাপের বাহারে | কুতুবের মিনারে | পাথরের সিঁড়িগুলো পায়ে পায়ে পেরিয়ে গোল বারান্দা আসতেই যাকে আমি খুঁজতাম মনে হলো এই সেই---- . ( তুমি সেই, আমি সেই, তুমি সেই---- ) দেখি শহরটা পড়ে আছে নীচুতে, সবার উপরে আছি আমরা--- হারাইনি কোনদিন কিছুতে, আলোর কবিতা . তুমি জ্বেলে দিলে আঁধারে | কুতুবের মিনারে |
আমি দুচোখ ভরে ভুবন দেখি, মায়ের দেখা পাই না আমি হাজার গান তো গেয়ে শোনাই মায়ের গান তো গাই না, আমি দুচোখ ভরে---- আমি কিতাব খুলে জ্ঞান নিয়ে যাই কিতাব খুলে জ্ঞান নিয়ে যাই ভালোবাসার চেতনা চাই শুধু মার চেতনায় চেতন আমার চিনতে তাকে চাই না | আমি দুচোখ ভরে --- আমি এই পৃথিবীর মাটি নিয়ে, করি অনেক যত্ন ফসল ফলাই ফুলকে ফোটাই, পাই যে মানিক রত্ন, করি অনেক যত্ন আমি শুধু মার প্রতিমার মাটি, মার প্রতিমার মাটি আমি জানি না তো কতো দামি, এই মার মমতার কি ক্ষমতা মার মমতার ক্ষমতা, বুঝতে আজও চাই না | আমি দু’চোখ----
যখন এমন হয়, জীবনটা মনে হয় ব্যর্থ আবর্জনা ভাবি গঙ্গায় ঝাঁপ দি রেলের লাইনে মাথা রাখি কে যেন হঠাৎ বলে, আয় কোলে আয় আমি তো আছি ভুললি তা কি, মাগো সেকি তুমি, সেকি তুমি, লাঞ্ছনা শুধু লাঞ্ছনা সজনের কটু গঞ্জনা দিনরাত শুনে শুনে যখন সারাটা গায়ে, আগুন জ্বলে কে যেন হঠাৎ বলে ---- সেকি তুমি--- যখন ভালোবাসা বহু পথ ঘুরে ঘুরে চলে যাই দূর থেকে দূরে বন্ধুর দরজাতে যতো কিছু করাঘাত, যায় বিফলে কে যেন হঠাৎ বলে--- সেকি তুমি, যখন এমন হয়---