তুমি আর আমি আর আমাদের সন্তান এই আমাদের পৃথিবী তুমি সুর আমি কথা মিলে মিশে হই গান | বৈশাখী ঝড় থেমে যায় আষাঢ়ের ঘন বরষায় ফসলের সম্ভারে ধরা দেয় অঘ্রাণ | আমার চোখের স্বপ্ন তুমি ছড়ালে আমার চোখ ভরে আমার মনের বাসনা আমি দিলাম তোমার অন্তরে আজ এতো ভালোবাসে তাই সুন্দর করে সবই পাই শাশ্বত সুখে ভরি দুজনার এক প্রাণ |
মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে যায় মনে হয় জীবনের কত কাজ সারা হয়ে গেল, আরো কত বাকী রয়ে গেল মানুষের জীবনের আদর্শ করনীয় যা ফলাফল এলো না ভেবেই আজীবন করে গেছি তা, কি পেলাম কি দিলাম সেই হিসাবটা তবু কেন হয় এলোমেলো | কালের তরঙ্গে আমি ভাসলাম আমি কাঁদলাম কেঁদে হাসলাম যা পেয়েছি সবটুকু দিয়ে গেছি এখানে কোন ফুল ফল হবে কোন ফুল কাঁটা হবে কে জানে তবু মুখ ভার তার বুক আমি দেখলাম ভোর হল সন্ধ্যা হলো |
আমায় চিনতে কেন পারছো না মা সবই ভুলে গেলে আমি তোমার অবোধ ছেলে ফিরে এলাম মায়ের কোলে | স্বর্গ কোথায় তা জানি না, আমি জানি এই ঠিকানা যেখানে সব স্বর্গ মর্ত্ত পাতাল হারায় রসাতলে | শেষ হলো মা খেলা ধূলা এবার হবে সোনার খেলা সীমাহীন আনন্দে মা কাটবে আমার সারাবেলা এসো তুমি হাত বাড়িয়ে চলো আমায় সঙ্গে নিয়ে যেখানে নব জন্ম মৃত্যু হয় একাকার প্রতি পলে |
নীলাম নীলাম হল শুরু নীলাম এই জগতের আজ যা দামী সস্তা সেতো কাল কেউ জানে না কোন পাশাতে বরাত ফেলে চাল | এ খেলা চলছে নিরন্তর, এ খেলা চলছে নিরন্তর | এই বাটাতেই থাকতো মেজবাবুর পান ঐ যে রূপোর গড়গড়াটায় দিতেন সুখের টান আজ দেউলে হয়ে পড়ে গেছে মেজবাবুর দর | এই পালঙ্ক গয়না গাটি এই যে কলের গান সবই যে এক নতুন বৌয়ের বিয়ের রাতের দান আজ নিয়তি যে বৌকে রেখে নিয়ে গেছে বর এই যে দেখুন সখের খুকুর হারমোনিয়াম বাবার কোলে বসে খুকু গাইত কৃষ্ণ নাম | আজ খুকুর বাবার চাকরী গেছে নীরব তাদের ঘর এই খেলা চলছে নিরন্তর | এ টাইপ করার কলটা দেখুন মালিকানা যার ফুটপাতে এই কল চালিয়ে চালাত সংসার , আজ দিদিমণির আঙুল ভাঙা সে তোলে না ঝড়---- এ খেলা চলছে নিরন্তর | পেটের দায়ে বিকায় কিতাব, মেডেল উপহার পরীক্ষায় সে প্রথম হত এই ঘড়িটাই তার আজ পাশ করা এই ছেলে রইল সবার পর আসুন নীলাম ডাকুন কিনে ফেলুন স্নেহভরা সব | হেথায় ভাগ্য নিজেই চোখের নেশা বুকের ভাষা সুখের অনুভব টাকার মালায় এই যে স্বযম্ভর --- এ খেলা চলছে নিরন্তর |
আমি বলি তোমায় দূরে থাকো . তুমি কথা রাখোনা শুধু মনে মনে কাছে ডাকো . তুমি কেন ডাকোনা ? কত যে তোমারে বোঝাবো তুমি বলোনা . তুমি আমার . আর আমি তোমার নয় ছলনা আহা নয় সুরে সুরে আমার ছবি আঁকোনা | এ- তীরে সহসা তরণী তুমি বেয়োনা . কূলে আমার . যদি লাগে জোয়ার ফিরে যেয়োনা যদি চাও ভোলাতেগো আমায় ভুলে থাকোনা ||
. বৌ কথা কও গায় যে পাখী বৌ কি কথা কয় . মৌ ঝরে যায় মান করে সে ঘরের কোণে রয় ! . লাল পলাশের লাজ ঙাঙিয়ে কে দোল দিয়েছে . কোন সোহাগে মন-ভরানো পরাগ নিয়েছে ভালোলাগে অনুরাগে ও গো আবার সে-কথা যদি হয় ! নীল আকাশে ঢেউ জেগেছে কেউ তা জানেনা মন-পবনের নাও ছুটে যায় বাঁধন মানেনা আজ খেয়ালী সাজ পরে কে নতুন হয়েছে কোন খুশীতে প্রাণ রাঙিয়ে দূরেই রয়েছে ভালোবেসে কাছে এসে ওগো আবার সে কিছু যদি কয় ! কার বাঁশীতে বাসন্তী রঙ হাওয়ায় ভেসেছে এই ভুবনে আজ কি নতুন খবর এসেছে ; কেউ জানেনা কোন্ হাসিতে হৃদয় জেগেছে সুরবাহারে কার পরশে কাঁপন লেগেছে ; ভালোলাগে অনুরাগে ওগো আবার সে-কথা যদি হয় !!
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - বিজনবালা ঘোষদস্তিদার, শিল্পী - মান্না দে, ছবি - যুগমানব কবীর
আমি রামরসায়ন পান করে যে মাতাল হয়েছি . এখন কাপড় বুনবে কে ? আমি রামের প্রেমের জীয়ন রসে . সব কিছু কাজ সঁপে দিয়েছি . এখন কাপড় বুনবে কে ? ও মন তুই ভেবেছিস কুঁচি দিয়ে আমি রেখেছি সব জট্ ছাড়িয়ে সূতোর জট ছাড়াবার কুঁচিই বেচে . রস যে খেয়েছি . এখন কাপড় বুনবে কে ? আমি তাঁত বুনতে এসে . রামের নেশায় কোথায় গেলাম ভেসে ; দেখি নাচছে ‘পোড়েন’ নাচছে ‘তানা’ নাচে পুরোনো সেই ‘কুঁচি’ খানা কাজের তাঁতকে ঘিরে নাচছে কবীর . কী রস পিয়েছে ! . এখন কাপড় বুনবে কে ?
কথা - পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুর - হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শিল্পী - আরতি মুখোপাধ্যায়, ছবি - অজানা শপফ
মনে রেখো মোরে যদি আমি চলে যাই . আমার হৃদয়ে যে-ছবি এঁকেছি সে যে শুধু তোমারি তোমারি তোমারি ! প্রথম বরষা যেদিন জীবনে এলো খেয়ালী ময়ূর খুশীর মাধূরী পেলো মরমী বীণায় যে গান রেখেছি সে যে শুধু তোমারি তোমারি তোমারি ! যে-কথা বলিনি বলিতে পারিনি যারে . তোমারি সে-কথা সাজায়ে রেখেছি . প্রাণের অলংকারে ; প্রথম ফাল্গুনে জ্যোছনা নিবিড় রাতে . ফুল-রাখী আমি বেঁধেছি তোমারি হাতে যে আলোয় আমি আমারে দেখেছি . সে যে শুধু তোমারি তোমারি তোমারি !!