আমার মনের মাঝে কে বাঁধিল ঘর সে কি রাধারাণী না কি কৃষ্ণ মাখন চোর তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি জানলাম না রে।
আমি না জানি কোন বিধান না আছে মোর ঘরে কোন পূজার উপাদান তারে আমি সেবিব কেমন করে তারে আমি তুষিব কেমন করে আমার মনের মাঝে কে বাঁধিল ঘর সে কি আপন - না - “পর” তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি জানলাম না রে -- ২ আমার মনের মাঝে কো বাঁধিল ঘর . . .
আমার বেড়ার ঘরে কে দিল যে সীঁদ সে রাম - রহীম না রসীদ হে ঠাকুর কেডা কবে তা হঁদীস করে কারে আমি খুঁইজা মরি আমার মনের অন্ধকারে -- ২
কি নাম গাহিব আমি কি নাম জপিব আমি তাহা তুমি হে! ঠাকুর এ অধমে কহ দয়া করে কহ দয়া করে হে ঠাকুর মোহে কহ দয়া করে। আমার মনের মাঝে কে বাঁধিল ঘর সে কি আপন - না - “পর” তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি জানলাম না রে আমার মনের মাঝে কো বাঁধিল ঘর . . .
সে জন মোরে পলকে হাসায় পলকে কাঁদায় সে কি মোর সর্ব প্রিয়তম নর - নারায়ণ নর - নারায়ণ তারে আমি জানলাম না রে তারে আমি চিনলাম না রে মোর মনের মাঝে . . .
কভু সে মোরে . আড়ালে থেকে ডাকে দেখায় কত যে স্বপন সে কি মোর পরম প্রিয়জন . মদন - মোহন - নারায়ণ, স্বয়ং নারায়ণ তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি জানলাম না রে. . . আমার মনের মাঝে কে বাঁধিল ঘর . . . তারে আমি চিনলাম না রে -- তারে আমি চিনলাম নারে . . .
ওরে! ভবের হাটে হাট বসেছে আমি করে দরাদরী কিনলাম একখানা প্রেমের ডোরী ও শ্রী হরি হায় রে মোর পোড়া কপাল কাছে নেই যে কোন কানা-কড়ী আমি দাম দিতে . যে না পারি ও শ্রী হরি আমি এখন যে কি করি . . . ও শ্রী হরি ও যে নালিশ শুনে কোতয়াল এসে মোর পায়ে দিল যে বেড়ী আমি দাম দিতে যে . না পারি ও শ্রী হরি হায় রে আমি কি যে করি।
আমি কেন এলাম ভবের হাটে ছিলাম ভালো মাঠে ঘাটে সেথায় ছিলাম আমি ঠাটে - বাটে লাগত না কোন কানা কড়ী। ও শ্রীহরি আমি এখন কি যে করি।
সেথায় ছিল মোর রাজত্ব দাস-দাসী ছিল কত বিনা দামে তারা সবই দিত হাত জোড় করি ও শ্রী হরি আমি এখন কি যে করি আমি দাম দিতে যে . না পারি হায় রে কি লোভে যে কিনতে গেলাম ভবের হাটে প্রেমের ডোড়ী আমার নেই যে কোন কানাকড়ী আমি তার দাম দিতে যে না পারি।
ও কোতয়াল তোর পায়ে পড়ি তুই দয়া কোরে মোরে দেরে ছাড়ি আমি আর আসব না . এ দেশে দোহাই তোরে মোরে দে রে ছেড়ে ফিরে যাই আমি নিজের দেশে কোনদিন আসব না আর প্রেমের হাটে মোর চাহি না কোন প্রেমের ডোরি ও কোতয়াল তুই ছেড়ে দে রে মোরে দয়া করি খুলে দেরে মোর পায়ের বেড়ী চাহিনা মোর আর কোন প্রেমের ডোরি কোন প্রেমের ডোরি।
তোর সুন্দর গা খানা পড়লি তাতে কত গয়না লোকে তোরে কয় সুন্দরী বুদ্ধিমতি গুণধরী মরি আমি হায় রে মরি আমি হায়রে নিজের ভুল নিজে ধরি ও ভোলামন কাণ্ডারী সাধ্য কি মোর আমি অধর্মী আমি অধর্মী।
প্রভু না স্মরে মোর মোর গায়ে কার ঘর কার হেথা আনা গোনা তারে আমি চিনি না আমি তারে জানি না মূর্খ আমি হায়রে মূর্খ আমি হায়রে সাততলা মণি পর লয়েছে বানায়ে সে আপন ঘর
সদা মোরে করে ছলনা কাম বাসনাতে লিপ্ত করে মোরে দেয় যে গঞ্জনা সে ধরা না দেয় রে মোরে দেখা না দেয় রে মূর্খ আমি হায়রে মূর্খ আমি হায়রে।
তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি চিনলাম না রে মোর হৃদয়ে কে নিবাস করে আমি কাঁন্দি মরি হায়রে আমি কাঁন্দি মরি হায়রে যে জন মোর ঘরে নিবাস করে তারে আমি চিনলাম না রে তারে আমি জানলাম নারে।
জীবন ভর রইলাম লিপ্ত অকাজে - কুকাজে নরাধম আমি লোকটি বাজে আমার সুন্দর গা খানা এলনা কোন কাজে . . .
ও রে খ্যাপা তুই খেপিস ক্যানে মোর কথা তুই কেন দিস কানে তুই হলি অতি জ্ঞানী তোরে সবাই চ্যানে -- ২
আমি ন’হি লালন -- ২ মানিনা কোন বিধি না করি “ফকিরি” না করি কোন ধর্ম পালন আমি ন’হি লালন -- ২
ভজি আমি দেহ রাগ দিয়া অতি মনযোগ লোকে কয় ওরে লালন এ-যে তোর মনরোগ -- ২ দেহে কি থাকে ঈশ্বর দেহ তো নশ্বর বৃথা দেহ সেবা কর দেহে কারে খুঁইজা মর কারে তুমি খুঁইজা মর।
আমি ন’হি লালন -- ২ তোমার ঈশ্বর কে তুমি রাখলা মন্দির - মসজিদ - গীর্জাতে। নেই যে মোর কোন দালান কোঠা তাই “তাঁরে” আমি রাখি মোর এ দেহেতে -- ২ তাঁরে সেবি আমি দিন রাতে -- ২
আমি ন’হি লালন -- ২ মানিনা কোন বিধি না করি “ফকিরি” না করি কোন ধর্ম পালন আমি ন’হি লালন -- ২
ও সখী শুধাই তোমারে মোর পানে চেয়ে থাকো সদা এমনি করে সদা এমনি করে লিখব আমি গান করিয়া মোদীয় প্রেম ব্যাখ্যান তুমি সুর করে গেও তুমি সুর করে গেও ও সখী তুমি সুর করে গেও মোদীয় প্রেমের গান। ও সখী মোর পানে তুমি সদা চেয়ে থাক এমনি করে।
তুমি রূপশী-উর্ব্বশী পূর্ণিমা রাতে যেন শশী সুন্দর তব নয়ন যুগল কমলার কোয়ার মত ওষ্ঠ তব আর ঐ অধোআবৃত স্তন যুগল হাতছানি দিয়ে মোরে ডাকে তব প্রেমে যে আমি হই পাগল তব প্রেমে যে আমি হই পাগল।
তুমি সুন্দরী - রূপশী সুন্দর তব মেঘ ঘন কালো চুল যা সদা হাওয়ায় ভাসয় তোমার গলের ঐ মুক্তমাল কর্ণের সোনার দুল হেরিয়া তব ও সুন্দর রূপ মমঃ মন জুড়ায় মমঃ মন জুড়ায় হে! সখী তুমি অতি সুন্দরী . মোহময়, অতি মোহময়,
ও সখী! নিত্য তোমায় আড়ালে হেরি তব যে আমি প্রেম-পূজারী আমি জ্বলি প্রেমানলে . জ্বলি প্রেমানলে। আড়ালে হেরি তোমার সুন্দর বক্ষ যুগল করি পান মিষ্ট . লালীমাখা তোমার ঐ ওষ্ঠ ভাবি কোন সুমিষ্ট . অমৃত ফল - অমৃত ফল তোমারই অধআবৃত স্তনযুগল।
ও সখী, যেন থাকে ভেক পদ্মবনে ভন্ডিয়া তারে আলিগণে যেমত মধু পান করে সে মত মধু পান করি আমি আড়ালে থাকিয়া মনে মনে।
যেমত হেরিয়া মমঃ নবঘন রূপ গোপাঙ্গণা সব হয়ে লালায়িত চুম্বন দংশনে করে ক্ষত-বিক্ষত মোর স্বরূপ, সে মত আমি পাই সুখ হেরিয়া তব এ সুন্দর রূপ।
ও সখী! মোরে তুমি দিও না ধিত্কার মানিও ইহা অতি চমত্কার সর্বদা তোমা আমি কামী তব আমি স্বামী মূরলীধর রসিক নাগর মমঃ সম কামী ও ধরণী মাঝে . নেই কেহ যে আর, হে! রাধে, হে! রাধে, করি পূজা তব . পাদপদ্মে, তুহি তো মমঃ তারন হার . মমঃ তারন হার।
তুমি মোহময়ী পবিত্র শুদ্ধ তব প্রেমে আমি আবদ্ধ আমি তব প্রেমী সদা তোমা কামী আমি সদা তোমা কামী।
বাদলা দিনে পাগলা হাওয়ায় উড়ে চলে যেতে চায় মন কোন অচেনা পথে চল চলে যাই আমরা দুজনে কোন অচেনা পথে নিজেদের হাত নিয়ে হাতে চল চলে যাই কোন অচেনা পথে।
দূর পাহাড়ের বুকে . কোন গাঁয়ে গড়ে কুঁড়ে ঘর নিভৃতে . থাকব মোরা সুখে চল চলে যাই . কোন অচেনা পথে আমরা দুজনে নিজেদের হাত নিয়ে হাতে
সেথায় বাউল হয়ে আমি লিখব কত গান সুর দিয়ে তুমি গেও খুশীতে ভরা মোদের ছোট্ট কুড়ে ঘরে সেথা নেই যে . আর কেহ, সেথায় তুমি খুশীতে . গান গেও।
চল চলে যাই আমরা দুজনে কোন অচেনা পথে কোন অচেনা পথে চল চলে যাই নিজেদের হাত নিয়ে হাতে।
সেথায় ভোরের বেলা . জাগবে তুমি মিষ্টি পাখীর ডাকে পুষ্প তুলি, গান গেয়ে তুমি দিয়ে সুড়-সুড়ি জাগাবে আমাকে জাগাবে আমাকে তখন আমি তোমায় বাহুবন্ধনে বেঁধে ভালবাসব তোমাকে। চল চলে যাই আমরা দুজনে কোন অচেনা পথে
"বিরহ গীত" কবি রাধাকান্ত মন্ডল নিউ দিল্লী, তারিখ : ০৫.১০.২০১৫
মোহে তুমি ছেড়ে যেওনা
না না বন্ধু ভালোবেসে তুমি মোহে ছেড়ে যেওনা মর্মে মোর আঘাত হেনে মোহে তুমি ফেলে যেওনা বন্ধু মোহে তুমি ছেড়ে যেওনা..... ২
না না বন্ধু মোহে তুমি দিওনা এত বেদনা কোমল হৃদয় মোর চূর্ণ করে তুমি চলে যেওনা - যেওনা না না ভালোবেসে বন্ধু তুমি মোহে ছেড়ে যেওনা...২
ওগো বন্ধু তুমি যে মোর হৃদয়ের মনি নিত করি আমি তোমা বন্দনা হৃদয়ে তোমাকে দিয়েছি স্থান আমি নিত করি তোমা উপাসনা চূর্ণ করে মোর সব আশা মোহে তুমি ছেড়ে যেওনা – ২
বন্ধু! তুমি যদি যাহ আজি মোহে ছাড়িয়া যেন বন্ধু , আজি আমি মরিব নিশ্চয় অগ্নিতে পুড়িয়া
তোমার সাথে প্রেম করিলাম এ দেহ - মন সবই তোমা সপিলাম তবু কেন কর মোহে তুমি এত অবহেলা কহ বন্ধু কিসের কারণ – ২ প্রেম হলো মোর কাল প্রেমে হলো মোর মরণ
করিনু তোমায় আমি কত অনুরোধ - কত অনুনয় তবু তুমি দেও না তো কোনো সাড়া নাহি শোনো তুমি মোর কোনো বিনয় যাবে যদি বন্ধু তুমি তবে শুনে যাও মোর শেষ বচন আজি আমি ত্যাজিব মোর জীবন...২
ও সখী কেন বারে বারে মোহে তুমি শুনাও ও রাধা নাম তারিখ : ২৬.০৯.২০১৫
ও সখী কেন বারে বারে মোহে তুমি শোনাও ও রাধা নাম কেন বারে বারে মোহে তুমি শোনাও ও কৃষ্ণ নাম ধীরজ না ধরিতে পারি আমি আর শুনিয়া ও নাম হৃদয়ে লাগে বড়ো ব্যথা ও সখী – শুনিয়া রাধা - কৃষ্ণ নাম - 2
ও সখী – মুদিলে আঁখি দেখি আমি সেই যমুনার তীর দেখি আজিও সেই কদম্ব তলে বাজায় বংশী নব-ঘন শ্যাম যদু বীর দেখি সেই যুগল মূর্তি কি অদ্ভূত – অপরূপ হেরিয়া সে দৃশ্য মোর হৃদয় হয় পুলকিত দেখি সেই বৃন্দাবন যেথা নৃত্য করিত বনের ময়ুর আর সুক-সারি গাহিত গান যেথা মাধব চরাইতো ধেনু ভ্রাতা বলরাম সঙ্গে ফিরিত গোয়ালে গাভী গোধুলি বেলা শুনিয়া মাধবের বেনু মোহন রূপ হেরিয়া তাহার মোহিত হইত সকল বৃন্দাবন বাসী না হেরিলে তাহারে একদিন সকলে ভুলিত তাদের মুখের হাঁসি না ফুটিত পুষ্প গাছে না বহিত বায়ু গাভী শিশু না করিতো দুগ্ধ পান বৃন্দাবন মাঝে যেন সবাই হয়ে যেত নিষ্প্রাণ
যে দিন মোহন না করিতো চুরি মাখন গোপী-গণ আসিয়া সুধাইত যশোদারে কান্হার হাল - জিগাইতো ডাকিয়া তাহারে আছে কেমন তাহার দুলাল সে যে আমাদের নয়নের মনি বিন তাহার - মোরা সবাই যে কাঙ্গাল |
ও সখী ! তাই কহি তোমায় কেন বারে বারে মোহে তুমি শুনাও ও রাধা নাম কেন বারে বারে মোহে তুমি শুনাও ও কৃষ্ণ নাম …… ধীরজ না ধরিতে পারি আমি আর শুনিয়া ও নাম হৃদয়ে লাগে বড়ো ব্যথা ও সখী – শুনিয়া রাধা - কৃষ্ণ নাম - 2