কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
রাত্রি ঘনায়
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১ এপ্রিল ২০১৮

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

টিকটিক ঘড়িটা ঠিক ঠিক সময় জানায়,
ঝিকমিক তারারা মিটমিট আলো ছড়ায়।
সাঁঝের আকাশ তবু
চুপি চুপি এসে বলে যায় --
আর বেশি দেরি নেই,
রাত্রি ঘনায়।
সময় বয়ে যায়,
দেখো, রাত্রি ঘনায়।

কত কাজ আছে বাকি,
কত কথা রয়েছে বলার।
জ্বালানো হয়নি বাতি
হৃদয়ের তুলসীতলার।
ঘরময় জমা ধুলো,
টেবিলটা অগোছালো।
হাওয়া এসে খোলা বইয়ে
পাতা ওলটায় --
দেখো, রাত্রি ঘনায়।

দূরে আজানের ডাক
ভেসে আসে হিমেল বাতাসে।
পাশের বাড়ির শাঁখ
আজানের সুরে যায় মিশে।
পাখিদের সাথে ঘরে
ক্লান্ত পথিক ফেরে।
দুয়ার কপাট এঁটে পাড়াটা ঘুমায়,
গলিপথে রাত্রি ঘনায়--
দেখো, রাত্রি ঘনায়।

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
ঘুম ঘুম রাত্তির নিঃঝুম
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১০ জুলাই, ২০১৩

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

ঘুম ঘুম ঘুম ঘুম
রাত্তির নিঃঝুম
অলিগলি পথে নেই লোক।
টিম টিম টিম টিম
নিভু নিভু পিদিম
তন্দ্রায় ঢুলু ঢুলু চোখ॥

মিটিমিটি তারা জ্বলে থাকে
রাতজাগা পাখি ওঠে ডেকে।
একফালি বাঁকা চাঁদে
আনমনে খোলা ছাদে
আলো দিয়ে আলপনা আঁকে॥

ঝিরিঝিরি মিষ্টি হাওয়ায়
দোলা দেয় হাসনুহানায়।
আলো-আঁধারির মায়া
গাছগাছালির ছায়া
খেলা করে খোলা জানালায়॥

টুপটাপ ঝরছে শিশির
কাজলাদীঘির আরশির
ঝিকিমিকি জল-কাচে
জোনাকির আলো নাচে,
যেন মণিমালা রূপসী নিশির॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ছোট্টো একটা টুনটুনি
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২৮ জুলাই, ২০১২


কাঁঠাল গাছের ফাঁকে
টুই টুই টুই ডাকে
ছোট্টো একটা টুনটুনি
দুপুরবেলায় ডাক শুনি,
ঘরের আগল দিয়ে যখন
সবাই ঘুমিয়ে থাকে॥

মেঘলা দুপুর, টাপুর-টুপুর
মেঘপরীদের বাজছে নূপুর।
পাতার ছাতায় টুনটুনিটা
আকাশ পানে দেখে॥

ছোট্টো একটা কাঠবেড়ালি
তুড়ুক তুড়ুক লাফিয়ে খালি
পেয়ারা গাছের মগডালেতে
খেলছে মনের সুখে॥

ঝির ঝির ঝির বৃষ্টি ছন্দে
ভেজা মাটির মিষ্টি গন্ধে
বাদলা হাওয়া ঘুম কেড়ে নেয়
খোকা খুকুর চোখে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ভোরের গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল : ২৬ অগাস্ট ২০০৯

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

রাত ফুরোলো,
সকাল হোলো।
বন্ধ কপাট
দরজা খোলো।
ঘুলঘুলির ওই
টুকরো খোপে
দেয়াল জুড়ে
বায়োস্কোপে
আলোর কত
নকশা আঁকা!
ঘুরতে ঘুরতে
ক্লান্ত পাখা।
বালিশ-চাদর
অগোছালো।
উড়ছে মেঝের
জমা ধুলো।

শার্সিতে রোদ
খাচ্ছে চুমা।
পর্দা বলে,
একটু ঘুমা।
আলোছায়ার
চোর-পুলিশে
আলসেমি ঘোর
পাশবালিশে।
ফুলদানির ওই
শুকনো ফুলে
ঘুম জড়িয়ে
আছে ঢুলে।

বাইরে হাওয়ায়
নাচছে পাতা,
খুশির দোলায়
মাধবীলতা।
ডাকছে কোথাও
ভোরের পাখি।
সদর পথের
হাঁকাহাঁকি।
ডাক দিয়ে যায়
রেল-হুইসেল,
বাজছে দোরের
কলিংবেল --
বলছে এবার,
দরজা খোলো।
রাত ফুরোলো,
সকাল হলো॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
আমরা জোকার
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০০৪
প্রচেত গুপ্তের ছোটোগল্প অবলম্বনে নাট্যকার সমীর সাহা পোদ্দারের রচিত “জোকার’
নাটকের শীর্ষ সংগীত।

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

আমরা জোকার, আমরা জোকার, আমরা জোকার।
ঘর বেঁধেছি সবুজ মনে ছোট্টো খুকু-খোকার।
আমরা হাসি, আমরা হাসাই।
নেইতো কোনও  চিন্তা-বালাই।
সং সেজেছি রং মেখে তাই,
আহ্লাদেতে ডিগবাজি খাই।
হাসির হররা ছুটিয়েছি -- কেউ তো নেই রোখার।
বসত মোদের সবুজ মনে ছোট্টো খুকু-খোকার॥

খুশির চোটে তিড়িংবিড়িং
নাচছি যেন গঙ্গাফড়িং!
গিটার সাধি পিড়িং পিড়িং --
বলছে যারা, লাইফ বোরিং!
সেই রামগরুড়ের খুব জরুরি লাফিং গ্যাসটা শোঁকার।
শিখতে হাসি আয়রে কাছে ছোট্টো খুকু-খোকার॥

ব্যালেন্স করে দুই পা ফেলে
দড়ির ওপর সবাই চলে।
বাই চান্স ভাই পা ফসকালে
পড়বে ধপাস্‌, কে আর তোলে?
এই দুনিয়ার সার্কাসটা বশ তো শুধু টাকার।
দিব্যি আছি সবুজ মনে ছোট্টো খুকু-খোকার॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ইচ্ছেডানা
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৭ অক্টোবর, ২০০৬

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


সাতনরি হার ইচ্ছেগুলো
কনের সাজে মন সাজালো।
চড়ুইপাখি ইচ্ছেগুলো
বলছে ডেকে, উড়বে চলো॥

দূরের আকাশ ডাকছে দেখো,
রামধনুকের রংটা মেখো।
বুকের ভেতর বাজিয়ে মাদল
বইছে বাতাস এলোমেলো॥

ইচ্ছে-গাড়ি চলছে ছুটে।
কাশবনে ফুল উঠছে ফুটে।
ছুটতে ছুটতে দুগ্গা-অপু
তেপান্তরে পথ হারালো॥

বৃষ্টি হয়ে ইচ্ছে ঝরে।
ইচ্ছে তোলে ঢেউ সাগরে।
পদ্মপাতায় শিশির হয়ে
ইচ্ছে করে টলোমলো॥

ইচ্ছে বনে ঝরায় পাতা।
ইচ্ছে শীতের নকশিকাঁথা।
ইচ্ছে রঙে রাঙিয়ে পলাশ
আজ ফাগুনে আগুন জ্বালো॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
প্রিয় জন
অমর সংগীতশিল্পী জন ডেনভারের স্মৃতির উদ্দেশে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২১ এপ্রিল, ২০১১

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


আমার হৃদয় তুমি দিয়েছো ভরে।
গিটারের সুরে হাঁটি মেঠোপথ ধরে।
তোমার গানে স্নান করি রোদ্দুরে।
ভিতরে বাহিরে জুড়ে আছো অন্তরে।
তুমি জন ডেনভার
প্রিয় জন ডেনভার
আমার জন ডেনভার॥

তোমার গান আমার প্রাণেতে দেয় খুশির ছোঁয়া।
তোমার গান আমার দুই চোখের অশ্রু ধোয়া।
তোমার গান এই দিলদরিয়ায় রোদ ঝিকিমিকি।
তোমার গান শুনে এই জীবনে আমি বাঁচতে শিখি।

নগরবাউল তুমি জন ডেনভার।
হাতছানি দেয় কলোরাডোর পাহাড়।
জেট প্লেনে পাড়ি দিলে আকাশের পার।
ক্যালিপ্‌সোর সুরে এসো ঘরেতে আবার,
ফিরে এসো ডেনভার।
প্রিয় জন ডেনভার
আমার জন ডেনভার॥

ফিরে এসো জন ডেনভার,
শেনানডোয়া নদীর পাড়
ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ডাকছে আবার,
একবার হাত ধরো, বন্ধু আমার।
প্রিয় জন ডেনভার
আমার জন ডেনভার॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
হায়, পৃথিবী তোমায় গেছে ভুলে!
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
পিন্টু ভট্টাচার্য স্মরণে
বাংলা গানের স্বর্ণযুগের  অন্যতম  উজ্জ্বল নক্ষত্র পিন্টু ভট্টাচার্যের স্মৃতির প্রতি বিনম্র
শ্রদ্ধার্ঘ্য। কৃতজ্ঞতা : পিন্টু ভট্টাচার্যের কণ্ঠে প্রখ্যাত সুরস্রষ্টা অনল চট্টোপাধ্যায়ের সুরে
‘জানি পৃথিবী আমায় যাবে ভুলে’ গানের মূল সুরে এই গানটি সুরারোপিত।
রচনাকাল: ২২ জানুয়ারি, ২০১১।

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


হায়, পৃথিবী তোমায় গেছে ভুলে!
একলা বিজনে,
বড়ো অভিমানে
সুরের পথিক গেলে চলে॥

সোনা রোদের গান
দিলে প্রাণ ঢেলে।
সুরের তাজমহল
গড়ে রেখে গেলে।
তোমারই স্মৃতিতে, দুষ্টু বাঁশিতে
আজও সেই তান তোলে॥

গানের আকাশে তুমি
ধ্রুবতারা হয়ে জ্বলো।
দীঘার সৈকত ছেড়ে ঝাউয়ের
ছায়ায় ছায়ায় আবার চলো॥

গানেরই ভুবন
ভরে দিয়ে প্রেমে,
চলতে চলতে
তুমি গেলে থেমে।
ফুলের মতো ছড়িয়ে দিলে গো
যত সুর ছিল গলে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
রোববার মানে
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৯ ডিসেম্বর ২০০৫

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


রোববার মানে মিষ্টি সকাল।
রোববার হাসিখুশি।
রোববার মানে ছুটির ঘণ্টা।
রোববার ভালোবাসি।

রোববার মানে নেই কোনও তাড়া,
বাপির অফিসও বন্ধ।
রোববার মানে মায়ের কিচেনে
লুচি পায়েসের গন্ধ।

রোববার মানে মোড়ের দোকানে
মাংস কেনার ভিড়।
সাদা ফুটফুটে মুরগিগুলো
ছটফট অস্থির।

ছোট্টো সাবির মাংস কাটছে
রক্তমাখা হাতে।
আড়চোখে দ্যাখে
পাড়ার বিল্টু ঘুড়ি ওড়াচ্ছে ছাতে।

রোববার মানে হোমটাস্ক নেই,
শুয়ে বসে আলসেমি।
বিছানায় গড়াগড়ি, ডিগবাজি
অকারণ দুষ্টুমি।

রোববার মানে ‘হ্যারি পটার’ আর
টিভিতে ‘টম অ্যান্ড জেরি’।
মামণি আজকে বলবে না কিছু
জানে হয়ে গেলে দেরি।

রোববার ছুটি মেলে না ওদের
ইকবাল, জাহানারা।
বস্তা কাঁধে আস্তাকুঁড়ে
কাগজ কুড়োয় যারা।

রোববার মানে ফ্ল্যাটের মুন্নি
শিখবে নতুন রাইম্‌।
পাশের মোটর গ্যারেজে মুন্না
খাটবে ওভারটাইম।

রোববার মানে হারমোনিয়ামে
দিদিভাই সাথে গলা।
দশ বছরের সাবিনা তখন
কলঘরে মাজে থালা।

রোববার মানে লোকাল ট্রেনেতে
বাদামের ঝাঁকা নিয়ে
‘টাটকা বাদাম কিনবেন, বাবু?’
শিবু যায় হাঁক দিয়ে।

রোববার বেলা বাড়তে থাকলে
চারপাশ নিঃঝুম।
বাপির বুকে উপুড় হয়ে শুয়ে
দুপুরে লম্বা ঘুম।

বইমেলা কাছে ঘুম নেই তাই
কানু-ভানুদের চোখে।
কলেজ স্ট্রিটের ঘুপচি ঘরেতে
পিচবোর্ডে আঠা মাখে।

রোববার মানে নিক্কো পার্ক ঘোরা,
কখনও সায়েন্স সিটি।
ভিক্টোরিয়ার নরম ঘাসেতে
খালি পায়ে ছুটোছুটি।

রোববার মানে আলো ঝলমল
সাজানো রেস্তোরাঁতে
খাবারের মেনু নিয়ে খুনসুটি
দিদিভাইদের সাথে।

রোববার কাকে বলে তা জানে না
ফুটপাথে যারা শোয়।
বলাই হোটেলে রোববার হলে
বেশি কাপ-ডিশ্‌ ধোয়।

সোম থেকে শনি সপ্তাহ শেষে
রোববার আসে ফিরে।
আসবে কবে সেই রোববার
শিবু সাবিনার ঘরে?

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ইটভাটার গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৮ এপ্রিল, ২০০৬


গনগনে আঁচ, ইটের ভাটি
জ্বলছে আগুন, পুড়ছে মাটি।
সন্ধে-সকাল বেগার খাটি,
জুটল না তাও শুকনো রুটি।

খিদের আগুন জ্বলছে পেটে,
মুন্সি চাবুক মারছে পিঠে।
ভাঙছে শরীর, মরছি খেটে
রক্ত ঝরছে তপ্ত ইটে।

শুখার সময় আকাল দেশে।
কথায় ভোলায় দালাল এসে,
স্বপ্ন দেখায় সব্বোনেশে।
ভিন্‌ রাজ্যে গেলাম ভেসে।

এলাম ভাটায় রুজির টানে,
নগদ টাকায় মালিক কেনে।
পুড়ল কপাল গোলাম বনে,
নামল আঁধার ঘরের কোণে।

কয়েদখানায় গুমরে মরি,
ইটের পাঁজার সঙ্গে পুড়ি।
দুই হাতে-পায়ে পড়ল বেড়ি,
পাওনা হকের করল চুরি।

ওই রাজকুমারী-রানি-রাজা
সাজাচ্ছে ইট, গড়ছে পাঁজা।
ছোট্টো মাথায় ইটের বোঝা --
শৈশব হায় মিছেই খোঁজা।

খুপরি বাসায় নিশুত রাতে
হামলা চালায় মানুষ-ভূতে।
বউবেটিদের আব্রু লোটে।
মান খোয়ালাম প্রাণ বাঁচাতে।

আর কতকাল সইবি বল্‌?
ফেলব না আর চোখের জল।
ভাঙব দাসত্বের শেকল।
লড়াই করেই বাঁচতে চল্‌॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর