কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
আমার মা
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৬ মার্চ, ২০০১

কবিকণ্ঠে এই গানটির ইউটিউবে  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপী গরীয়সী

শাস্তরে বলেছে, তুমি স্বর্গ চেয়েও বড়ো!
বুঝি না মা, শাস্ত্রকথার অর্থ কেমনতরো?
হিন্দু বলে, স্বর্গ আর
ইসলামে বেহেশ্‌ত।
ইংরেজিতে হেভেন্‌ বলে
সাহেবসুবোর দেশ তো।

স্বর্গ মানেই মিথ্যে সুখ,
স্বর্গ মানেই ফাকি।
স্বর্গ মানেই লুটে নেবার
সাবেকি চালাকি।
এসব কথা তোমার মুখেই শুনেছি তো মা,
কেমনে দিই তোমার সনে স্বর্গের উপমা?

শাস্তরে বলেছে, মাগো, তুমি জন্মভূমি!
দেশ মানে আজ মানুষ তো নয়, এক টুকরো জমি।
লুটল স্বদেশ হানাদারে।
বন্দি হল কাঁটাতারে।
দেশ বিকিয়ে পাল্লা দরে হল ভাগের মা।
কেমনে দিই দেশের সনে তোমার উপমা?

বলেছিলেন মধু-কবি লাখ কথার এক দামি --
“মাকে ভালোবাসি নিজের মতন করে আমি”।
ধর্ম দিয়ে দেবীর আসন
আচার-বিচার, শাসন-শোষণ
মা’র অধিকার কেড়ে দিল অশেষ যন্ত্রণা।
ধর্মকারা ভেঙে দিলে বাঁচার মন্ত্র মা॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
রাজায় বানাইলো ভগবাইন
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৯৯৬
প্রচলিত ঝুমুর গানের সুরে ও আঙ্গিকে রচিত

কবিকণ্ঠে এই গানটির সাউণ্ডক্লাউডে  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


রাজায় বানাইলো ভগবাইন গো।
মহারাজায় বানাইলো ভগবাইন॥

হেই, রাজার খেতে লাঙল টেনে
গোলা ভরাই সোনার ধানে।
ভগবাইনের বিচারে ভাত জুইটলো না।

হেই, রাজার খনির মাটি খুঁড়ে
তুলি লক্ষ টাকার কালো হিরে।
ভগবাইনে কানাকড়িও দিলে না।

হেই, বিজ্ঞজনে বইলেছেন,
রাখে কেষ্ট মারে কে?
মারল রাজায়, কেষ্ট ফিরেও দেইখলে না॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
তাবিজ কবচ মাদুলি বাইন্ধা
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৯৯৭
কৃতজ্ঞতা: বাংলাদেশের জনপ্রিয় ‘ফিডব্যাক’ বাংলা ব্যান্ডের স্বনামধন্য গায়ক মাকসুদুল
হকের একটি গানের সুরের অনুপ্রেরণায় রচিত।

কবিকণ্ঠে এই গানটির সাউণ্ডক্লাউডে  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


তাবিজ কবচ মাদুলি বাইন্ধাও কপাল ফিরল না।
হায় আল্লাহ, হায়রে আল্লাহ!
পীরের দরগায় গিয়া মানত করলাম,
তবু দুঃখ ঘুচল না রে।

জোতদারে লয় জমি ছিনা,
মহাজনের কাছে দেনা।
পঞ্চায়েতে করলাম নালিশ,
বিচার পাইলাম না রে।

ভাসল ভিটা বানভাসিতে,
দাঙ্গা বান্ধে পৌষের শীতে।
বানের জলে ভাসল ছাওয়াল,
দাঙ্গায় মরে কইন্যা রে।

ভোটের আগে নেতা আসেন,
গোঁফের ফাঁকে মুচকি হাসেন।
ভোটে জিতা মন্ত্রী হইলে
দেখা মেলে না রে।

লাল নিশান ওই হাওয়ায় ওড়ে।
মিটিন্‌-মিছিল হাট-বাজারে।
দিনবদলের কথা ফেরে,
দিন তো বদলায় না রে।

আল্লাহ, এ তোর কেমন বিচার?
ভুখায় মরে গরিব লাচার।
বাবুর গোলায় ফসল ভরে,
মোদের প্যাটে নাই দানা রে।

চক্ষের জল চক্ষেই শুকায়,
বক্ষের আগুন জ্বালা ধরায়।
আল্লাহ-নবী সব ঝুটা হ্যায়,
মিছাই সান্ত্বনা রে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
চরৈবেতি
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: মার্চ, ২০০২

কবিকণ্ঠে এই গানটির ইউটিউবে  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


প্রাণের স্বপন মনের গোপন
কোণে যখন বাঁধে বাসা,
বুকের ভেতর সুখের ওমে
উষ্ণতা পায় ভালোবাসা।
চলতে গিয়ে ফুটুক না পায়ে
পথের কাঁটা।
জীবন স্রোতে আছেই তো ভাই
উজান ভাঁটা।
পা বাড়ালেই পথেই মেলে
পথের সাথী।
জীবন থেকে মন্ত্র নিই আয়
চরৈবেতি -- চরৈবেতি॥

ভোরের আগে নিশুত লাগে
রাতের আঁধার।
পথের বাঁকে ছড়িয়ে থাকে
পাহাড় বাধা।
মানবো না হার, ভাঙবো পাহাড়
চলবো ছুটে।
আঁধার ভাঙে আকাশ রাঙে,
সূর্য ওঠে।
পা বাড়ালেই পথেই মেলে
পথের সাথী।
জীবন থেকে মন্ত্র নিই আয়
চরৈবেতি -- চরৈবেতি॥

পায়ের তলায় ছড়ায় যখন
সরষে দানা,
এই দুনিয়ায় চল্‌ খুঁজি আয়
সাকিন খানা।
দূরের নেশায় বাঁচার আশায়
চলার পথে
তুলব গড়ে বিশ্ব জুড়ে
কুটুম্বিতে।
পা বাড়ালেই পথেই মেলে
পথের সাথী।
জীবন থেকে মন্ত্র নিই আয়
চরৈবেতি -- চরৈবেতি॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
জীবন কখনো
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল : ৫ সেপ্টেম্বর, ২০০২
ইংরাজি অনুবাদ - তপোমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়

কবিকণ্ঠে এই গানটির ইউটিউবে  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   
কবিকণ্ঠে গানটির ইংরাজি রূপান্তর
‘Life’-এর  ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


জীবন কখনো আষাঢ়ের মেঘ,
জীবন কখনো বর্ষা।
জীবন কখনো রোদ ঝলমল
সোনালি সকাল ফর্সা।

জীবন কখনো ধুধু বালিয়াড়ি,
জীবন কখনো ঝরনা।
জীবন কখনো খরার আকাশ,
জীবন কখনো বন্যা।

জীবন কখনো ছন্নছাড়া,
জীবন কখনো কেতাবি।
জীবন কখনো উড়নচণ্ডী,
জীবন কখনো হিসাবি।

জীবন কখনো সাঁঝের পিদিম,
জীবন কখনো রোশনাই।
জীবন কখনো খুনসুটি আর
জীবন কখনো আশনাই।

জীবন কখনো অলস দুপুর,
জীবন কখনো গোধূলি।
জীবন কখনো চোদ্দো আনা,
জীবন কখনো আধুলি।

জীবন কখনো ভোরের শিশির,
জীবন কখনো দরিয়া।
জীবন কখনো আউল-বাউল,
রাখাল বাঁশুরিয়া।

জীবন কখনো শিশুর দেয়ালা,
ঠোঁটফোলা অভিমান।
জীবন কখনো স্বরলিপি ছাড়া
বেসুরো বেতাল গান।

জীবন কখনো বনসাই আর
জীবন কখনো ঘাসফুল।
জীবন কখনো চানঘরে ভেজা
বঁধুয়ার এলোচুল।

জীবন গাঙের নাইয়া চলো
জীবন নাওয়ে ভেসে।
নতুন করে বাঁচতে শেখো
মানুষকে ভালোবেসে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
পরানবন্ধু রে, জীবন গাঙের নাইয়া
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৯৯৭

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


পরানবন্ধু রে, জীবন গাঙের নাইয়া,
স্বপ্ন মাখা দিন, সাম্যের সুদিন
লড়াইয়ের ডাক দিল,
চল্‌ নাও ভাসাইয়া॥

থাকিস নে আর ভাঁটির টানে
পিছন পানে চাইয়া।
পাল্টা স্রোতে চল্‌
পাল তুলে নাও বাইয়া।
জীবন গাঙের নাইয়া
লড়াইয়ের ডাক দিল,
চল্‌ নাও ভাসাইয়া॥

আন্ধার রাতে বন্ধ ঘরে
স্বপ্নগুলা গুমরে মরে।
আচার-বিচার, সংস্কারে
মন-সায়রে শ্যাওলা ধরে।
খাঁচার আগল খুলে মন-পাখি দে
আকাশে উড়াইয়া।

দিনবদলের স্বপ্ন ঘিরে
চলার পথে রক্ত ঝরে।
সূর্য ওঠে নতুন ভোরে।
মানুষ ভাঙে, মানুষ গড়ে।
জং ধরা তোর হাতিয়ার
তোল্‌ হাতে শানাইয়া॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
তোমরা বলো আমরা স্বপ্ন দেখি
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৯৯৭

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


তোমরা বলো, আমরা স্বপ্ন দেখি।
আমরা বলি, আমরা একা নই।
তোমরা বলো, আমরা ঝড়ের পাখি।
আমরা বলি, ঝড়টাকে আনবোই।

তোমরা বলো, আমরা সৃষ্টিছাড়া।
আমরা মাতি সৃষ্টিসুখের ছন্দে।
তোমরা বলো, আমরা পথহারা।
আমরা হাঁটি পথচলার আনন্দে।

তোমরা বলো, আমরা বাউন্ডুলে।
আমরা বলি, এই পৃথিবীই ঘর।
বেরিয়ে এসো ঘরের আগল খুলে,
বিশ্ব মাঝে নেই তো আপন-পর।

তোমরা বলো, আমরা বেহিসাবি,
আমরা বলি, হিসেবটাই ফাঁকি।
থাক না পড়ে অঙ্ক কেতাবি,
জীবন থেকে নতুন অঙ্ক শিখি।

তোমরা বলো, আমরা নাস্তিক।
আমরা বলি, মানুষই সার সত্য।
তোমরা বলো, আমরা অধার্মিক।
আমরা বলি, ধর্ম মনুষ্যত্ব।

তোমরা বলো, আমরা ঘরের খেয়ে
তাড়িয়ে বেড়াই বোনের ক্ষ্যাপা মোষ।
আমরা বলি, মোষটা ঘরে ধেয়ে
ঢুকবে যখন করবে আফসোস।

তোমরা বলো, আমরা হাতে গোনা।
আমরা বলি, হাতটা রাখো হাতে।
তুলবো ভরে বিশ্বের আঙিনা
তোমরা আমরা মিলে একসাথে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
কত স্বপ্ন ছিল চোখের তারায়
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২ অক্টোবর, ২০০২

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


কত স্বপ্ন ছিল চোখের তারায় তারায়,
সব মুছে গেল জীবনের ভাঙাগড়ায়।
তবু জীবনের কাছে আজও হারিনি।
স্বপ্ন দেখার নেশা ছাড়িনি।
প্রতিদিন --- প্রতিদিন পথচলা তাই স্বপ্নসন্ধানে।

স্বপ্ন খুঁজি ভোরের আলোয়।
স্বপ্ন খুঁজি পথের ধুলোয়।
স্বপ্ন খুঁজি লোকাল ট্রেনে।
বুকপকেটে ঝরনা পেনে।
স্বপ্ন খুঁজি হাওড়া ব্রিজে
বাদলা ছাতায় বৃষ্টি ভিজে।
স্বপ্ন খুঁজি বাসের ভিড়ে
ধর্মতলার ব্যস্ত মোড়ে।

স্বপ্ন খুঁজি হাজরা রোডে,
নিয়ন আলোর সাইনবোর্ডে।
স্বপ্ন খুঁজি ট্র্যাফিক জ্যামে
থমকে থাকা অচল ট্রামে।
স্বপ্ন খুঁজি স্টিমার ঘাটে।
স্বপ্ন খুঁজি গড়ের মাঠে।
দমকা হাওয়ার দস্যিপনায়,
ভিক্টোরিয়ার পরীর ডানায়।

স্বপ্ন খুঁজি গোধূলিতে।
ক্যানভাসে আর রং-তুলিতে।
স্বপ্ন খুঁজি নিঝুম রাতে
ঘরের কোণে তানপুরাতে।
শ্রীরামপুরের ইস্টিশনে
অরুণ-কবির কথায় গানে
স্বপ্ন খুঁজি সেই মহুয়ায়,
যখন রাতের ট্রেনটা থামায়।

স্বপ্ন খুঁজি কাছে-দূরে
ভাটিয়ালির চেনা সুরে।
স্বপ্ন খুঁজি লাল নিশানে,
হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গানে।
স্বপ্ন খুঁজি মিছিলেতে,
আমজনতার হরতালেতে।
স্বপ্ন খুঁজি গিটারেতে।
আলতা রঙে পোস্টারেতে।

স্বপ্ন খুঁজি প্রাণে প্রাণে।
স্বপ্ন খুঁজি গানে গানে।
স্বপ্ন খুঁজি বুকের মাঝে,
স্বপ্ন যেথায় আমায় খোঁজে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
সবার উপর মানুষ সত্য
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৯৯৭
কৃতজ্ঞতা : প্রতিভাধর অন্ধ লোকসংগীতশিল্পী বিশ্বনাথ অধিকারীর কণ্ঠে শোনা একটি
লোকগানের সুরের অনুসরণে এই গানটি রচিত।

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


সবার উপর মানুষ সত্য,
ধর্মমোহ মিথ্যে ছল।
পীর-পুরুতে-পোপে মিলে
বানাইল এ মারণ কল।

হিন্দু ডাকে কৃষ্ণ কৃষ্ণ।
মুসলমানে আল্লাকে।
সাহেব ডাকে খ্রিস্ট বলে।
আমি ডাকি মানুষকে।

মন্দিরেতে জ্বালায় পিদিম।
চিরাগ জ্বালায় মসজিদে।
চার্চে জ্বালায় মোমের বাতি।
পেটে আগুন জ্বালায় খিদে।

রাম-রহিমে বাঁধছে লড়াই।
মানুষ মরে দাঙ্গাতে।
রাম-রহিম বাঁচায় না তাই
গান গাই ঘুম ভাঙাতে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
রাজা যদি কেড়ে খায়
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২০০১ সালের ১৩ নভেম্বর এই গণসংগীতটি রচিত হয় সেই সময়ে কেন্দ্রে
বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ও রাজ্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট
সরকারের দমন-পীড়নমূলক আইন ‘পোকা’ ও ‘পোটো’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে।


রাজা যদি কেড়ে খায় গরিবের গ্রাস,
গরিবেরা বাধা দিলে, হয় ‘সন্ত্রাস’!
রাজার শোষণ যদি হয় অসহ্য,
উলুখড়ে রুখে গেলে হয় ‘নৈরাজ্য’!
যদি অধিকার বুঝে নিতে লড়াইতে জোটো,
আছে নয়া গিলোটিন -- “পোকা” আর “পোটো”।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো, “মেরা ভারত মহান”॥

ঘরে ঘরে হাহাকার, নেই রুটি-রুজি,
মজুরকে লুটে বাড়ে মালিকের পুঁজি।
লক-আউট্‌, ছাঁটাইয়ের ঘোর দুর্দিনে
‘মউ’ খেতে অলি জোটে আলিমুদ্দিনে।
‘কমরেড আনবেন জনতার মুক্তি
শ্রেণীসংগ্রামে নয়, তথ্যপ্রযুক্তি!

মুক্ত হাওয়া ঝোঁকে বাজারে আগুন,
‘ইন্টারন্যাশনাল’-এ মেশে রামধুন!
রঘুপতি রাঘব রাজা রাম।
পতিতপাবন সীতারাম।
টাটা-বিড়লা তেরো নাম,
সব্‌কো লুট কর হ্যায় ধনবান!

রাম-বাম সব শেয়ালের এক রা,
কোথা ছোটো আঙারিয়া, কোথা গোধরা।
বুদ্ধের “পোকা” আর অটলের “পোটো” --
মতলব একটাই হাতে মাথা কাটো।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো, “মেরা ভারত মহান”॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর