কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
প্রতিরোধের গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: নভেম্বর, ২০০১


রক্ত যত ঝরবে, তত শক্ত হবে মাটি।
থাক না যতই উতোর চড়াই,
একসাথে পথ হাঁটি।
হামলা তোদের আর কি ডরাই?
সামলা এবার পাল্টা লড়াই।
জোট বেঁধে আজ লড়ব সবাই,
গড়ব কঠিন ঘাঁটি॥

বুলেটে-ব্যালটে, থাকে দুধে ভাতে চন্দ্র থেকে বুদ্ধ।
আসে ডট-কম্‌, ঘরে ভাত কম, ভুখা মরে দেশসুদ্ধ।
শান্তির বাণী শোনায় রাজা,
গরিবের খুনে দু’হাত ভেজা।
চাই না শান্তি শ্মশানের, চাই পাল্টা একটা যুদ্ধ॥

রাজার ভাঁড়ারে পচছে খাবার, ঘরে ঘরে ভুখমারি –
শিক্ষা-স্বাস্থ্য রাজার হুকুমে হচ্ছে বেসরকারি।
মরলে গরিব কী-ই বা ক্ষতি?
আসুক বাজার অর্থনীতি।
সাজছে শহর, ভাঙছে বস্তি হাল্লা রাজার হল্লা গাড়ি॥

পাকস্থলীর জ্বালায় জ্বললে রাজা বলে ‘পাক-চর’।
গরিবের দাবি দাবিয়ে রাখে রাজার খুনে লশকর।
বেয়নেট যত হোক না ধারালো,
ক্রোধের আগুন ভয়কে হারালো –
মৃত্যুকে আজ তুচ্ছ করে আসুক একটা ঝড়॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী
হলে নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
বাবু গো, সন্ত্রাস কারে কয়?
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৩ অক্টোবর, ২০০১
এই রাজ্যে বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টালিনালা বস্তি উচ্ছেদের প্রতিবাদে রচিত
গান।


আমেরিকায় বিমান হানা ‘সন্ত্রাস’ যদি হয়,
তবে টালিনালায় বস্তি উচ্ছেদ ‘সন্ত্রাস’ কেন নয়?
বাবু গো, সন্ত্রাস কারে কয়?

‘সন্ত্রাস’ মানেই জঙ্গি বিমান?
‘সন্ত্রাস’ মানেই লাদেন?
আমেরিকার দুঃখ-শোকে
মন্ত্রী-নেতা কাঁদেন।
যখন দেশের মানুষ হারিয়ে ভিটে সর্বহারা হয়,
তখন ভোটবাবুদের চোখের জল সব কোথায় লুকোয়?
বাবু গো, সন্ত্রাস কারে কয়?

‘সন্ত্রাস’ মানেই তালিবান?
আর ‘সন্ত্রাস’ মানেই লাদেন?
যুদ্ধ জিগির তুলতে বাবু
‘সন্ত্রাসে’র গপ্পো ফাঁদেন।
বুশের পোষা বেড়াল হয়ে দেশটারে বিকোয়।
আর গরিবের ভাত মেরে গায় গণতন্ত্রের জয়!
বাবু গো, সন্ত্রাস কারে কয়?

‘সন্ত্রাস’ বলে হল্লা তোলে
ভাঙলে পেন্টাগন।
আর বুলডোজারে বস্তি ভাঙলে
নগর উন্নয়ন!
দ্যাখো, মানুষখেকো বাঘ জড়াল নামাবলী গায়।
রক্তমাখা হাতে সাদা পায়রা ওড়ায়।
বাবু গো, সন্ত্রাস কারে কয়?

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
নদী ভাঙনের গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২০ জুলাই, ২০০০
বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে এই রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার আখেরিগঞ্জে পদ্মা
নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো গ্রামবাসীদের নদী-ভাঙন প্রতিরোধের দাবিতে এবং
সরকার-প্রশাসনের অপদার্থতা, ঔদাসীন্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন দমন
করতে চলেছিল বর্বর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। ১৭ জুলাই, ২০০০ নিরস্ত্র গ্রামবাসীদের জমায়েতের
উপর পুলিশের নির্বিচারে গুলিচালনায় বুলেটবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান নহিরউদ্দিন শেখ।  


নদী ভাঙে পাড়,
পাড় ভাঙে ঘর,
ঘর ভাঙে সংসার।
রক্তে চোখের জলে মিশে পদ্মা একাকার॥

ও পদ্মা রে, রাক্ষুসী তোর খিদের জ্বালায়
হইলাম রে বরবাদ।
ভিটেমাটি খেয়েও শেষে
রক্ত খাওয়ার সাধ।
নুরুদ্দিনের রক্তে ভেজে পদ্মানদীর কূল,
পাঁজর-ভাঙা বুকে বেঁধে রাজপেয়াদার শূল।
চুরির টাকায় পকেট ভরে আমলা-ঠিকাদার।
রক্তে চোখের জলে মিশে পদ্মা একাকার॥

ও পদ্মা রে, ভাঙন শুধু তোর বুকে নয়,
ভাঙন দেশে-গাঁয়ে।
ভাঙছে মানুষ, ভাঙছে সমাজ
ভাঙন নীতি-ন্যায়ে।
ভাঙনে কেউ স্বজন হারায়,
কেউ বা স্বজন পোষে।
সব খুইয়ে কেউ কাঁদে,
কেউ লাভের হাসি হাসে।
পদ্মা রে, তুই ভাঙ দেখি এই শোষণ কারাগার।
রক্তে চোখের জলে মিশে পদ্মা একাকার॥

ও পদ্মা রে, চোখের জল শুকায়ে জাগে
বুকে ব্যথার চর।
ব্যথার বিষে রক্ত মিশে
পোড়াল অন্তর।
রক্ত দিয়েই শুধব আজ নুরের রক্তঋণ।
রুখতে ভাঙন জোট বাঁধি আয়, গড়ব নতুন দিন।
লড়াই করেই বুঝে নেবো বাঁচার অধিকার।
রক্তে চোখের জলে মিশে পদ্মা একাকার॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
সুন্দরবন পরমাণু চুল্লি বিরোধী গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২০০২ সালে এই রাজ্যে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের
জমানায় পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র ও মানুষের জল-জমি-জঙ্গল, জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে
সুন্দরবনে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সংগঠিত গণপ্রতিরোধ
আন্দোলনের সংহতিতে রচিত গণসংগীত।

‘অনীক’ পত্রিকার ২০০২ সালের, অক্টোবর–ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত, সুতপা
বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত, এই গানের স্বরলিপির
PDF  পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .    


সুন্দরী গরানে ঘেরা এক বন।
সুন্দরবন, নাম সুন্দরবন।
নদীজলে ঝিকিমিকি আলোর নাচন।
সুন্দরবন, নাম সুন্দরবন।
মধুচাকে ভরা গাছ,
নদীতে রুপোলি মাছ,
সবুজ পাতার ফাঁকে পাখির কুজন।
জলে বাদাবনে ভরা সুন্দরবন॥

জঙ্গলে কাঠ কাটি কাঠুরের দল।
নবান্নে ঘরে তুলি সোনার ফসল।
চাকভাঙা মধু নিয়ে আসি মউলা।
উজানে ভাসাই নাও মাঝি-মাল্লা।
রোদে পুড়ে, জলে ভিজে কাটাই জীবন।
জলে-জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবন॥

ডাঙায় দখিন রায়, জলেতে কুমির।
বাঁচান না বনবিবি, বাঁচান না পীর।
বুকভরা বিষ নিয়ে শিয়রে শমন,
এ লড়াই আমাদের মরণ বাঁচন।
তবু জীবনের এক নাম সুন্দরবন॥

এল ওরা হানাদার, হানা দিল বনে।
জমছে আষাঢ়ে মেঘ ঈশানের কোণে।
শত নাগিনীরা ফেলে বিষ নিঃশ্বাস।
জ্বালাবে আকাশ, ওরা পোড়াবে বাতাস।
হবে মহাভারতের মহা খাণ্ডব।
এল নয়া ভারতের লোভী পাণ্ডব।
সাজাতে শ্মশান চিতা করে আয়োজন,
বিপন্ন আজ দেখো সুন্দরবন॥

ইতিহাসে লেখা আছে রক্তে আবিল
ধ্বংসের ইতিকথা -- চেরনোবিল।
অসহায় মানুষের মৃত্যুমিছিল,
শতকের অভিশাপ -- চেরনোবিল॥

রুখবই রুখব এ মারণ খেলা।
বাঁচাতে বেঁধেছি জোট বন জমি জলা।
আওয়াজ ওঠাও গ্রাম শহর ও পল্লি --
দেব না দেব না হতে পরমাণু চুল্লি।
প্রতিরোধ গড়ে তুলে রুখব দূষণ।
আমরাই বাঁচাব সুন্দরবন॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
হরিপুরের পরমাণু চুল্লি বিরোধী গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২০ নভেম্বর, ২০০৬
এই রাজ্যে ২০০৬ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের জমানায় পূর্ব
মেদিনীপুরের হরিপুরে কৃষিজমি ও বাস্তুভূমি থেকে গ্রামবাসীদের উৎখাত করে, পরিবেশ
ও সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ধ্বংস করে পরমাণু চুল্লি স্থাপনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে
সংগঠিত গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের সংহতিতে এই গণসংগীতটি রচিত হয়। প্রসঙ্গত
উল্লেখ্য যে, এর আগে একুশ শতকের গোড়াতে সুন্দরবন অঞ্চলে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র
বসানোর চেষ্টা হলে স্থানীয় গ্রামবাসী-সহ বিভিন্ন গণসংগঠনের প্রবল প্রতিরোধে ২০০২
সালে বাম-সরকার পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল।


সুন্দরবন থেকে হরিপুর --
দূর নয়, দূর নয়, নয় দূর।
প্রতিবাদে প্রতিরোধে এক সুর --
ধ্বংসের কারবারি হও দূর॥

চাইছি না পরমাণু বিদ্যুৎ,
মৃত্যুর বিভীষিকা যমদূত।
মরণের সাথে আজ লড়াইয়ে
মেহনতি মানুষেরা প্রস্তুত॥

চেরনোবিলের দুর্ঘটনা
বিশ বছরের বিষ যাতনা।
পারবে কি সেই স্মৃতি ভোলাতে
ঝুটা নিরাপত্তার রটনা?

নয়া বর্গির বেশে সরকার
লুটে নিয়ে জমি করে ছারখার।
ছাড়ব না ভিটেমাটি কিছুতেই,
বুঝে নেব আমাদের অধিকার॥

গরিব মজুর-চাষি জাগছে,
আকাশে আগুন রঙ লাগছে।
চাষজমি বাঁচানোর লড়াইয়ে
সংগ্রামী সিঙ্গুর ডাকছে॥

সিঙ্গুর থেকে আজ হরিপুর --
দূর নয়, দূর নয়, নয় দূর।
প্রতিবাদে প্রতিরোধে এক সুর --
ধ্বংসের কারবারি হও দূর॥

জোট বেঁধে প্রতিরোধ গড়বই।
পরমাণু বিদ্যুৎ রুখবই।
মিছিলেতে ঢেউ তুলে সাগরের
দু’হাজার ফিরিয়ে আনবই॥

আমাদের বুকে আছে প্রত্যয়।
পার করে যত সংকট ভয়
মানবিক শক্তির কাছে আজ
হবে আণবিক দানবের পরাজয়॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
নাও ভাসাইয়া দে, নোঙ্গর খুইলা দে
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


নাও ভাসাইয়া দে, নোঙ্গর খুইলা দে।
ওরে মাঝি, পাল তুইলা দে।
নীল দরিয়ায় আইল তুফান হে।

গরজি উঠিছে দেয়া, চমকে বিজলি।
অকূল সাগরে ঢেউ উথালিপাথালি।
কালা ম্যাঘে আসমান আন্ধার হে।

কূলেতে নাও বাইন্ধা মাঝি কাটাস নে আর কাল,
ঢেউয়ের মাতনে পরান হইল রে মাতাল।
উজান গাঙে নাও সওয়ার হে।

শক্ত হাতে বইঠা বাও, হাল তুইলা ধর।
পরান বাঁধনহারা, কীসের লাইগা ডর?
মাঝদরিয়ায় রও হুঁশিয়ার হে।

নদীর তরঙ্গ গায় জীবনের গান।
রক্তের ভিতরে লাগে জোয়ারের টান।
দ্যাখ, সূর্য ওঠে ম্যাঘের ওপারে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
রাম-রহিমের গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩
শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার “অপরাধে” শামিম আসগর আলি নামে এক ছাত্রকে প্রেসিডেন্সি কলেজের
ছাত্রাবাস হিন্দু হস্টেলে থাকার অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদে ও কলেজ কর্তৃপক্ষের এই উগ্র
সাম্প্রদায়িক মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি কলেজ স্টুডেন্টস্‌ অ্যাসোশিয়েসনের সংগঠিত ছাত্র
আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই গানটি রচিত হয়।    

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে।
জাতের বেড়া ডিঙিয়ে বলো
মানুষকে দেয় দাম কে?

এক আকাশ, এক বাতাস
এক মাটিতে একসাথে বাস।
তবুও মাঝে যোজন ফারাক।
মেলাবে দুই প্রাণ কে?
তাই রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে॥

রহিম মাতে ঈদ পরবে,
রামের দুর্গাপূজা।
শুধু ভোটের সময় মিটিং-মিছিল,
সম্প্রীতি সুর খোঁজা।
ছোঁয়াছুঁয়ি জাত বিচারে
ধর্ম বাঁচে, মানুষ মরে।
মযহব্‌ নয়, মানুষ বড়ো
শোনাবে পয়গাম কে?
হায়, রহিম জানে না রামকে,
আর শামিম চেনে না শ্যামকে।

রামের ঘরে সন্ধ্যারতি,
শামিম পড়ে নমাজ।
অষ্টপ্রহর মানুষ ভুলে
ধর্মে মজে সমাজ।
রাম বড়ো না, রহিম বড়ো
মিথ্যে কেন লড়াই করো?
ধর্ম-মযহব্‌ ছেড়ে ধরো
যুক্তি ও বিজ্ঞানকে।
তবেই রহিম চিনবে রামকে,
আর শামিম চিনবে শ্যামকে।
ধর্মকারা ভেঙে মেলাও
হিন্দু-মুসলমানকে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ফেলে এসেছি কবে ছেলেবেলা
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে গানটির
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    
কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


ফেলে এসেছি কবে ছেলেবেলা।
তবু জীবনভর শুধু ছেলেখেলা
করে কত লোকে।
কেউ  ছুটছে রেসে,
কেউ  হিসেব কষে
শুধু প্রফিট-লস-এর
কাটাকুটির ছকে॥

কেউ রান্নাবাটি খেলে হেঁশেল ঘরে।
কেউ পুতুল-পুতুল খেলে মূর্তি গড়ে।
কেউ মজে আছে রাতদিন শেয়ার দরে
সাপ-লুডোর খেলায়।
কেউ ভালোবাসা নিয়ে খেলে কানামাছি,
যায় শ্বশুরবাড়ি খেয়ে চাঁছিপুছি।
শুধু শরীর-শরীর খেলা মিছিমিছি
রোজ রাতের বেলায়॥

কেউ যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলে দেশকে লোটে।
চলে অরিগামির খেলা ভোট-ব্যালটে।
বুড়িবসন্ত খেলে রাজনীতির মাঠে
কত নেতা আমলায়।
ধর্মের নামে জলকুমির খেলা।
মসজিদে মন্দিরে মাটির ঢেলা।
শুধু হানাহানি খুনোখুনি জিগির তোলা
বলো কে বা সামলায়?

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ইরাকের যুদ্ধবিরোধী গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ২৮ মার্চ, ২০০৩
‘অনীক’ পত্রিকার ২০০৩ সালের জুন সংখ্যায় প্রকাশিত, সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত, এই গানের
স্বরলিপির
PDF  পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .    


যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।
শান্তিকামী এই লড়াই।
(এসো) মেহনতি মানুষ ভাই,
তুলব দাবি আজ সবাই
ধ্বংস নয়, হত্যা নয়, যুদ্ধ নয় -- শান্তি চাই॥

যুদ্ধবাজ শয়তানে
মৃত্যু আর ভয় আনে।
হাটে মাঠে ময়দানে
জীবনের জয়গানে
মুখরিত জনতার মিছিলেতে পা মেলাই॥

যুদ্ধ-যুদ্ধ রাজনীতি
বুশ-ব্লেয়ারের বজ্জাতি।
অস্ত্র-বোমার বেসাতি
রুখব মিলে সব জাতি।
বিশ্ব জুড়ে এক সুরে
সংহতির গান শোনাই॥

বুশবাহিনী যাও নিপাত।
ইরাক থেকে ওঠাও হাত।
তেলের লোভে রক্তপাত,
বন্ধ করো এ সংঘাত।
আমেরিকার চোখরাঙানি
আমরা আর না ডরাই।

দখলদারির আগ্রাসে,
সাম্রাজ্যবাদী সন্ত্রাসে
হামলা চালায় সব দেশে।
বিশ্বায়নের নাগপাশে
থাকব না আর, হও হুঁশিয়ার --
পাল্টা একটা যুদ্ধ চাই॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
মণিপুরের গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের যোদ্ধাদের প্রতি
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৮ অক্টোবর, ২০০৪
‘অনীক’ পত্রিকার ২০০৪ সালের ডিসেম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত, সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত, এই গানের
স্বরলিপির
PDF  পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .    


জ্বলেছে জ্বলেছে জ্বলেছে জ্বলেছে দাউদাউ করে বিদ্রোহ শিখা।
কত লাঞ্ছিত মূক জনতার রক্ত আখরে ইতিহাস লেখা।
পাহাড়ে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিতে,
নির্যাতিতের অশ্রু শোণিতে
পরাধীনতার বেদনার কথা বলো কে বা কবে খুঁজেছে?
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর তাই জেগেছে।
জ্বলেছে জ্বলেছে দাউদাউ করে বিদ্রোহ শিখা জ্বলেছে॥

রাজার শাসন চলবে না আর।
দুর হটো সব যত হানাদার।
সন্তানহারা মায়েদের ডাকে জনতার ঘুম ভেঙেছে।
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর আজ জেগেছে॥

জাগে ঘরে ঘরে শত ‘মনোরমা’।
অত্যাচারীর নেই কোনও ক্ষমা।
বীরাঙ্গনা চিত্রাঙ্গদা দেখো রণসাজে সেজেছে।
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর আজ জেগেছে॥

বুকের আগুন শরীরে মাখিয়ে
আত্মাহুতির মন্ত্র শিখিয়ে
শহিদ চিত্ত লক্ষ চিত্তে দীপ্ত মশাল জ্বেলেছে।
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর আজ জেগেছে॥

পুবের আকাশে উঠেছে সূর্য।
শোনো, রণভূমে বেজেছে তুর্য।
শান্ত সবুজ পাহাড়িয়া বনে দাবানল ছোঁয়া লেগেছে।
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর আজ জেগেছে॥

রাজার সেপাই বন্দুকবাজ
ছাউনি গুটিয়ে দেশ ছাড়ো আজ।
আমরা গড়ব জনতার রাজ -- মণিপুর ডাক দিয়েছে।
জেগেছে জেগেছে জেগেছে জেগেছে মণিপুর আজ জেগেছে॥

.    ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর