কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
আমেরিকা আমেরিকা
ইংরেজি গানের মূল কথা: কামান
সুর : সুমতি ও কামান (সুরঙ্গিনীর থেকে গৃহীত)
বাংলা গীতিরূপান্তর: রাজেশ দত্ত।রচনাকাল: ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭।

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   
কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

আমেরিকা, আমেরিকা
আমেরিকা যুদ্ধে চলেছে।
যুদ্ধ যুদ্ধ যুদ্ধ --
লুটতে দুনিয়াসুদ্ধ
আমেরিকা কোমর বেঁধেছে॥

আমেরিকা এত স্বাধীন, আহা মরি মরি!
ডিজনিল্যান্ড আর স্ট্যাচু লিবার্টি।
বেছে নিন কোন্‌টা খাবেন -- কোক না, পেপ্‌সি?
ঘরেই বানায় কয়েদখানা রঙিন টিভি॥

পরমাণু বোমার জোরে করে তম্বিতম্বা,
বড়ো-ছোটো, লম্বা-খাটো হরেকরকম্বা।
ফেলল বোমা ভিয়েতনামে, আফগানিস্তানে।
কোন্‌টা ঠিক, কোন্‌টা ভুল আমেরিকায় জানে॥

যুদ্ধ খ্যাপা আমেরিকা, হামলা দেশে দেশে।
দুনিয়াটাই মন্দ বলে একে-ওকে দোষে।
আগে “কমিউনিস্‌টো”, এখন “টেররিস্‌টো”!
না হলে বলবে, আর কেউ করে অনিষ্ট॥

আমেরিকার দোসর যত দাগী অপরাধী
স্বৈরাচারী, খুনি আর গোঁড়া মৌলবাদী।
আমেরিকা নামে বিশ্ব উদ্ধারের কাজে।
বিন লাদেনকে ‘অসুর’ করে ‘অবতার’ সাজে॥

জোর যার, মুল্লুক তার -- আমেরিকার নীতি।
বাগিয়ে থাবা আঁচড়ে দেবো পেলেই নরম মাটি।
দুনিয়া জুড়ে মানুষ মেরে গড়বো পুঁজির ঘাটি,
সাফাই গেয়ে বলবো পরে “আনুষঙ্গিক ক্ষতি”॥

অস্ত্র-ভাঁড়ার লুকিয়ে করে সাদ্দাম শয়তানি,
ইন্সপেক্টরগুলোর চোখে পড়েছে কি ছানি?
অস্ত্র খুঁজে পায় না কেন? খামোখা হয়রানি।
সাদ্দামের পেটেই আছে অ্যাটম বোমার খনি॥

হরেক দেশে আমেরিকার হরেক কিসিম চাল,
সি আই এ, বিশ্বব্যাঙ্ক, মাল্টিন্যাশনাল।
ঘুষেও যদি কাজ না হয়, ঘুষির জোরেই কাত।
পুতুল-শাসক গড়তে আছে ইউ এন-এর সাথ॥

আমেরিকার  ফন্দিফিকির নেই কারো অজানা।
তেলের রাজনীতি কিংবা অস্ত্র বেচাকেনা।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ভয়ে মিথ্যে কেন চ্যাঁচাও?
স্যাম চাচার কবল থেকে দোহাই পরান বাঁচাও॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
বিশ্বায়নের রামায়ণ
(গানটি পাঁচালী গানের সুরে ও আঙ্গিকে রচিত)
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত, রচনাকাল: ৭ এপ্রিল, ২০১৮

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

শুনেন বন্ধু মন দিয়া,
শুনেন সর্বজনা।
বিশ্বায়নের রামায়ণ
কাহিনি বর্ণনা।

‘সীতা’ মানে লাঙল ফালে
চাষজমির আলপনা –
আবাদভূমির প্রতীক ‘সীতা’
বাল্মিকীর কল্পনা।

লড়াই বাঁধে বন-জমিনে
‘সীতা’র রূপকল্পে,
যুদ্ধ চলে রাম-রাবণে
রামায়ণের গল্পে।

রাবণ মেরে ‘সীতা’ কেড়ে
রামের দখলদারি।
ভূমিহারা ‘রাক্ষসে’রা,
ধ্বংস লঙ্কাপুরী।

অগ্নি গ্রাসে পোড়ে ‘সীতা’
যুদ্ধজয়ের শেষে,
আদিবাসীর জমি পোড়ে
আর্য রামের রোষে।

রাবণেরা আজও মরে,
পুড়ছে কত ‘সীতা’!
দাদরি থেকে দণ্ডকে –
করুণ অশ্রুগাথা।

শিকার উৎসব ‘বেআইনি’
রাষ্ট্রের ফরমান।
কর্পোরেটে অবাধ লোটে,
কাঁদে অরণ্য প্রাণ।

‘বন্যপ্রাণী রক্ষা’ ছলে
ঘৃণ্য অভিসন্ধি
অরণ্যের অধিকার
কেড়ে নেবার ফন্দি।

মৃগরূপী ‘মারীচ’ মারে
রামের ভাই ‘লছমন্‌’।
কৃষ্ণসার মেরে ‘হিরো’
‘ভাইজান’ সলমন!

বিচার-বাণী আর কাঁদে না,
বিচার পুঁজির দাস।
‘গণতন্ত্র’র হিমঘরে
কৃষ্ণসারের লাশ।

‘বিশ্‌নই’দের হাহাকার
চৈতি হাওয়ায় ভাসে –
‘লঙ্কাজয়’-এর উল্লাস
‘রামরাজ্য’র দেশে!

কোথা বিরসা, চাঁদ, ভৈরব?
কোথা সিধো-কান্‌হো?
নয়া ‘রাম-লক্ষণ’দের
শক্তিশেল হানো।

‘উলগুলান’-এ মাদল বাজুক,
নয় ‘ভুয়াং’-এ রোদন।
রাবণরাজার জয়ধ্বজা
ওড়ান মধুসূদন॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
সব ইমাম নয় সমান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৯ এপ্রিল, ২০১৮
আসুন, ধর্ম-জাতপাত-বর্ণ-লিঙ্গবৈষম্য বিভেদ ভুলে ‘মায়ের আঁচলের মতো সুন্দর’ এক
মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলি। ‘মানবজমিন’ আবাদ করে সোনার ফসল ঘরে তোলার সেই
চিরন্তনী বার্তাই তো দিয়েছেন আসানসোলের দাঙ্গায় পুত্রহারা ইমাম মহম্মদ ইম্মাদুল্লাহ।
এই গানটি ইমাম মহম্মদ ইম্মাদুল্লাহকে বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে লেখা। তাঁকে লক্ষকোটি
সালাম! কৃতজ্ঞতা স্বীকার: গানটি প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের ‘সব মরণ নয় সমান’ গানটির
আদলে রচিত। গণশিল্পীরা ওই গানটির সুরেই আমার এই গানটি গাইতে পারেন।


ধর্মের মাদকে মাতে রে কত মৌলবি, ইমাম –
তবু ইমামে ইমামে অনেক থাকে ব্যবধান রে
সব ‘ইমাম’ নয় সমান।

মৌলবাদের উসকানিতে, জনতার দুশমনিতে
সারা জনম কাটে যাদের দাঙ্গাবিবাদে –
ওরে সেই ‘ইমামে’র ‘ইমান’ দেখে ইনসানিয়াৎ কাঁদে রে
সব ‘ইমাম’ নয় সমান।

মযহব্‌ নয় মানুষ বড়ো, দোহাই, দাঙ্গা বন্ধ করো –
দিলেন পয়গাম্‌
ওরে আসানসোলের সেই ইমাম-এর গাইছি জয়গান রে
সব ‘ইমাম’ নয় সমান।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
মন্দিরে নয়, মসজিদে নয়
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

মন্দিরে নয়, মসজিদে নয়
ধর্ম থাকে অন্তরে।
(ওরে) ধর্ম-জাতের বালাই ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥

(ও তোর) পৈতে-টিকি, টুপি-নূরের
বাহার শুধু বাহিরে!
রক্ত-মাস আর হাড়ের খাঁচা
একই দেহের অন্দরে।
(ওরে) ধর্ম-জাতের বালাই ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥

রাম বলো আর রহিম বলো,
মিছেই ডাকাডাকি –
(ওরে) পেটের জ্বালা কেউ মেটায় না,
ধর্ম শুধুই ফাঁকি।
পিষছে মজুর-চাষা-দলিত
শাসন-শোষণ যন্তরে।
ধর্মকারার আগল ভাঙুক
মানবতার মন্তরে॥

পুরাণ-কোরান, বেদ শরিয়ত
মনগড়া রূপকথা –
মন্ত্রতন্ত্র, কলমা-আয়াত
জপতপ সব বৃথা।
(ওরে মন) ধর্মমোহের গোলকধাঁধায়
হোস্‌ না দিগ্‌ভ্রান্ত রে।
অজ্ঞানতার আঁধার ঘোচা
মানবতার মন্তরে॥

(ওই) ঝান্ডাধারী ভোট-ব্যাপারী
দাঙ্গা বাঁধায় দেশে।
আগুন ছড়ায়, রক্ত ঝরায়
ধর্ম সর্বনেশে!
(ও ভাই) বিভেদ ভুলে জোট বাঁধি আয়
শহর-গাঁয়ে, গ্রামান্তরে।
প্রাণে প্রাণে মিলন গড়ুক
মানবতার মন্তরে॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
বিশ্বায়নের গান ২
(প্রচলিত ‘ঝুমুর’-এর সুরে এই গানটি লেখা)
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
এই গানটি প্রথম রচিত হয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ (২) সরকারের আমলে ২০১১
সালের ২৪ জানুয়ারি। এরপর বর্তমান বিজেপি’র নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শাসনকালে
এটির পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ রচিত হয় ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর। গানটি
প্রকাশিত হয় ‘আবাদভূমি’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ, সপ্তম সংখ্যায় (নভেম্বর, ২০১৬ - এপ্রিল,
২০১৭)। এখানে দু’একটি শব্দ সামান্য পরিবর্তন করে গানটি টাইপ করা হয়েছে।


ও ভাই রে, ভাই
লাগল দেশে বিশ্বায়নের হাওয়া।
গরিবদুখির হরিমটর,
ধনীর হাতে মেওয়া।

‘আচ্ছে দিন’-এর ফাঁকা বুলি,
ব্র্যান্ড-মোদি বাজারে
‘উন্নয়ন’-এর স্বপ্ন ফেরি
দশ-লাখি স্যুট পরে
(আর) মজুর-চাষির অন্ন মেরে
পুঁজির গুণ গাওয়া॥

পেট্রোপণ্য আকাশছোঁয়া,
চাল-ডাল-তেল সোনা।
আনাজপাতির বাজার আগুন,
অসাধ্য হয় কেনা।
(শুধু) ভোট বাজারে ঝান্ডা নেড়ে
মিছেই দাবিদাওয়া॥

দেশের কৃষি ধ্বংস করে
বিলিতি বীজ-সার।
দেনার দায়ে গাঁয়ে গাঁয়ে
চাষির হাহাকার।
(হায়) সোনার ফসল ফলাতে চেয়ে
বিষের জ্বালা পাওয়া॥

বাড়ছে বেকার, ছাঁটাই, লে-অফ
কারখানাতে তালা।
মুক্ত বাজার অর্থনীতির
চৌষট্টি কলা।
(হায়) ঋণের জালে দেউলিয়া দেশ,
ভূতের বোঝা বওয়া॥

সংসদে সং সেজে জমে
রঙ্গ নাট্যশালা।
চলছে মোদির মনমোহিনী
ভানুমতীর খেলা।
(আর) এফডিআই’য়ে খুচরো বাজার
উজাড় করে দেওয়া॥

কালমাদি থেকে নীরব মোদির
জালিয়াতির খেল।
টুজি টেলিকম, কয়লা, ব্যপম —
দুর্নীতি অঢেল।
(তবু) দেশের মাথা মন্ত্রী-নেতা
তুলসীপাতা ধোওয়া॥

মজুর কাঁদে সেজ-এর ফাঁদে,
পুঁজিপতির হাসি।
ভিটেমাটি হারিয়ে বেঘর
গরিব আদিবাসী।
(ওই) কর্পোরেটের ভেট চড়াতে
জমির দখল নেওয়া॥

উন্নয়নে ভাঁড়ার শূন্য,
অস্ত্র আমদানি।
গঞ্জ-গাঁ’য় হামলা চালায়
ফৌজি কোম্পানি।
(দেখ) ‘গ্রিন হান্টে’র নামে পুঁজির
লুটেপুটে খাওয়া॥

কর ফাঁকি দিয়ে কর্পোরেট
লাভের কড়ি গোনে।
বানিয়াদের দেনার জোয়াল
টানছে জনগণে।
(ও ভাই) নোট বাতিলে ধুঁকছে স্বদেশ,
যমযাতনা সওয়া॥

কালাধনের গড়ছে পাহাড়
আম্বানি-আদানি।
দেশের টাকা হচ্ছে গায়েব,
বিদেশে ব্ল্যাকমানি।
(হায়) ‘দেশপ্রেম’-এর আফিম খেয়ে
সর্বহারা হওয়া॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
আজ থেকে প্রায় ১৭ বছর আগে ২০০১ সালের ১৩ নভেম্বর এই গণসংগীতটি প্রথম রচিত
হয় সেই সময়ে কেন্দ্রে বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ও রাজ্যে বুদ্ধদেব  
ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারের দমন-পীড়নমূলক আইন ‘পোকা’ ও ‘পোটো’
বিরুদ্ধে প্রতিবাদে। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ‘কলকাতা বইমেলা’য় র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন
প্রকাশনা কর্তৃক প্রকাশিত ‘মানবতার গান’ শীর্ষক রাজেশ দত্তের গানের সংকলন গ্রন্থটিতে
গানটি মুদ্রিত হয়েছিল। সেই পুরোনো গানটিকেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত ও
পরিমার্জিত করা হল। তারিখ: ২৫ এপ্রিল, ২০১৮।

‘অনীক’ পত্রিকার ২০০২ সালের, জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত, সুতপা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃত,
এই গানের স্বরলিপির
PDF  পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .    


রাজা যদি কেড়ে খায় গরিবের গ্রাস,
গরিবেরা বাধা দিলে হয় ‘সন্ত্রাস’।
রাজার শোষণ যদি হয় অসহ্য,
উলুখড়ে রুখে গেলে হয় ‘নৈরাজ্য’।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!

(যদি) অধিকার বুঝে নিতে জোট বেঁধে লড়ো –
রাজার হুকুমে ‘সন্ত্রাসী’ বলে মরো।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!

ঘরে ঘরে হাহাকার, নেই রুটি-রুজি
মজুরকে লুটে বাড়ে মালিকের পুঁজি।
লক-আউট কারখানা, অনাহারে চাষি
জমি-জঙ্গল লুঠে মরে আদিবাসী।
শোষণের নাগপাশে ধুঁকছে স্বদেশ,
ডিজিটাল ইন্ডিয়া হবে ‘ক্যাশলেস্‌’!
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!

মুক্ত হাওয়ার ঝোঁকে বাজারে আগুন,
‘জনগণমন’ গানে মেশে রামধুন।
রঘুপতি রাঘব রাজা রাম,
পতিতপাবন সীতারাম।
আম্বানি-আদানি তেরও নাম,
সবকো লুট কর হ্যায় ধনবান॥

‘রামরাজ্য’ জুড়ে ধর্মের ত্রাস,
পড়ে থাকে আসিফা, ভেমুলার লাশ।
ধর্ম-জাতের নামে চলে হানাহানি –
গরিবের খুন চোষে মোদি-আম্বানি।
গণতন্ত্রের কথা অমৃত সমান।
করজোড়ে বলো ‘মেরা ভারত মহান’!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
প্রতিরোধের গান ২
কথা ও সুর : রাজেশ দত্ত
আজ থেকে প্রায় ১৭বছর আগে ২০০১সালের নভেম্বরে এই গণসংগীতটি প্রথম রচিত হয়।
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে ‘কলকাতা বইমেলা’য় র‍্যাডিক্যাল ইম্প্রেশন প্রকাশনা কর্তৃক  
প্রকাশিত ‘মানবতার গান’ শীর্ষক রাজেশ দত্তের গানের সংকলন গ্রন্থটিতে গানটি প্রথম  
মুদ্রিত হয়েছিল। সেই পুরোনো গানটিকেই বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে পরিবর্তিত ও  
পরিমার্জিত করা হল। তারিখ: ৩ মার্চ, ২০১৮।


রক্ত যত ঝরবে, তত শক্ত হবে মাটি।
থাক না যতই উতোর চড়াই,
একসাথে পথ হাঁটি।
হামলা তোদের আর কি ডরাই?
সামলা এবার পাল্টা লড়াই।
জোট বেঁধে আজ লড়ব সবাই,
গড়ব কঠিন ঘাঁটি॥

বুলেটে-ব্যালটে, দশ-লাখি স্যুটে রাজার অট্টহাসি।
আসে ডট-কম্‌, ঘরে ভাত কম, ভুখা মরে দেশবাসী।
শান্তির বাণী শোনায় রাজা,
গরিবের খুনে দু’হাত ভেজা।
লুটছে স্বদেশ, মরছে দলিত, মরছে মজুর-চাষি॥

ধনীর ভাঁড়ার উপচে পড়ছে, ঘরে ঘরে ভুখমারি –
শিক্ষা-স্বাস্থ্য রাজার হুকুমে হচ্ছে বেসরকারি।
মরলে গরিব কী-ই বা ক্ষতি?
আসুক বাজার অর্থনীতি।
কেড়ে নেয় জল জমি জঙ্গল, আদিবাসী ঘরবাড়ি॥

পাকস্থলীর জ্বালায় জ্বললে রাজা বলে ‘পাক-চর’।
গরিবের দাবি দাবিয়ে রাখে রাজার খুনে লশকর।
বেয়নেট যত হোক না ধারালো,
ক্রোধের আগুন ভয়কে হারালো –
মৃত্যুকে আজ তুচ্ছ করে আসুক একটা ঝড়॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
হারিয়ে
মূল কবিতা - কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১৯৯৭

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

কোনোদিন গেছ কি হারিয়ে,
হাট-বাট নগর ছাড়িয়ে
               দিশাহারা মাঠে,
একটি শিমূলগাছ নিয়ে
             আকাশের বেলা যেথা কাটে?
সেখানে অনেক পথ খুঁজে
পৃথিবী শুয়েছে চোখ বুজে
              এলিয়ে হৃদয়।
শিয়রে শিমূল শুধু একা
            চুপ করে রয়।
পথ খুঁজে যারা হয়রান
কোনোদিন সেই ময়দান
            তারা পেয়ে যায়।
হঠাৎ অবাক হয়ে
            আশেপাশে ওপরে তাকায়।
কোনো পথ যেখানেতে নেই
সেখানেই মেলে এক খেই
            আরেক আশার
সব পথ হারাবার পর
           বুঝি খোঁজ মেলে আপনার।
একদিন যেও না হারিয়ে,
চেনা মুখ শহর ছাড়িয়ে
               অজানা প্রান্তরে
একটি শিমূল আর আকাশ
যেখানে মুখোমুখি চায় দু’জনারে।
একদিন যেও না হারিয়ে॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
হাওয়া বয় সনসন
মূল কবিতা - ‘জং’ – কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১৮ মে, ২০০৯

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

হাওয়া বয় সন সন
তারারা কাঁপে।
হৃদয়ে কি জং ধরে
পুরানো খাপে।
কার চুল এলোমেলো।
কি বা তাতে এলো গেলো!
কার চোখে কত জল
কে বা তা মাপে?

দিনগুলি কুড়োতে
কত কি তো হারালো।
ব্যথা কই সে ফলা-র
বিঁধেছে যা ধারালো!

হাওয়া বয় সন সন
তারারা কাঁপে।
জেনে কি বা প্রয়োজন
অনেক দূরের বন
রাঙা হ’ল কুসুমে, না,
বহ্নিতাপে?
হৃদয়ে মরচে-ধরা
পুরানো খাপে।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
নস্ট্যালজিয়া
মূল কবিতা - কবি সুনন্দা গুহ রায়
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ৯ মে, ২০০৯

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


জীবনের ফেলে আসা সেই দিনগুলি
পিছু ডাকে বারে বারে দুই বাহু তুলি।
বলে যেন আয় ফিরে, এই পথ দিয়া।
তোমরা তাকেই বল – নস্ট্যালজিয়া?

জানি আমি সে তো কভু
হবে নাকো সাধা,
হারানো গানের কলি
নব সুরে বাঁধা।

ফেলে আসা জীবনের পথ সুমধুর
আমা হতে সরে গেছে
দূর বহুদূর –
হারানো পথের বাঁকে
কেঁদে মরে হিয়া।
তোমরা তাকেই বল – নস্ট্যালজিয়া?

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর