কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
গণরোষ জমছে
মূল কবিতা - দুষ্ট কবি
গীতিরূপান্তর ও সুর - রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১২ জানুয়ারি, ২০১২

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

জমছে, গণরোষ জমছে...
লুণ্ঠিত মানুষের
এই শুধু জমাপুঁজি
শাসকের দংশনে
চলে গেছে রুটি রুজি
যতদূর চোখ যায়
দ্যাখে শুধু খালি পেট –
লুঠ হয় জল-জমি
জঙ্গল-ধানক্ষেত।
চাষিরা দেনার দায়ে মরছে ॥
জমছে, গণরোষ জমছে...

শাসকের নামধারী
চতুর মাকড়সা
শোষণের জাল সেও বুনছে –
মামলার নাগপাশে
কারার আঁধারে বসে,
মুক্তির দিন যারা গুনছে
ওদের তো সবই গেছে,
হারাবার কী আর আছে?
শেকল ভাঙার গান শুনছে।
জমছে, গণরোষ জমছে...

এই গণরোষ-কালোমেঘ
আরও ঘন হয়ে ওই
দেওয়ালেই আছড়ে পড়বে।
যতখুশি ইট গাঁথো
পারবে না, পারবে না
ভেঙে খান্‌ খান্‌ হয়ে পড়বে।
নিবেশের পুঁজি যত,
শাসকের জোর শত
চেষ্টায় পরাজয় মানছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে...

দুষ্ট কবি বলে,
গণরোষ – কালোমেঘ
তিলে তিলে হল সীমাহীন –
উঠবে যে ঝড় দেশে
দেখি তারই পূবাভাসে,
দুঃসময়ের নেই বেশি দিন।
জনতার প্রতিরোধে,
বিক্ষোভে প্রতিবাদে
দিকে দিকে ক্রোধানল জ্বলছে।
তাই জমছে, গণরোষ জমছে...

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
হোক কলরব
মূল কবিতা - কবি শাশ্বত বন্দ্যোপাধ্যায়
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


পিঠে মার নিয়ে যখন শিখছি আগুন পেরিয়ে যাওয়া
মিছিলের থেকে স্লোগান উড়িয়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে হাওয়া
হাওয়া তো পাগল, ঘরবাড়ি নেই, যেই দেখে হানাদারি
বুক পেতে দেয় লাঠি-বন্দুকে – আমিও লড়তে পারি
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব

দল নেই ওর, রাজনীতি নেই, শুধু কান্নার পাশে
গান এনে রাখে আলোয় আলোয়, গান এনে দেয় ঘাসে
হাওয়ার ফুলকি গায়ে লাগতেই ভিনরাজ্যও হাঁটে
জেএনএউ থেকে আওয়াজ মিশছে যাদবপুরের মাঠে
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব

যারা সারা রাত মার খায় আর পোস্টার লেখে জেগে
তারা একা নয় – ওই দেখো দেশ ঘুমোয় না উদ্বেগে
একে একে এসে ভিড় করে মাঠে হাজার বন্ধু, ভাই
অগ্নিকুণ্ড ঘিরে রব ওঠে – দ্রুত সুবিচার চাই
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব

চিৎকার লেগে কুশের পুতুল লহমায় জ্বলে খাক
অসুররাজার ঘুম ভেঙে দেয় হাল্লা বোলের ডাক
কাঁপছে আকাশ, কাঁপছে বাতাস – এই জল্লাদরাজ না
ক্ষতচিহ্নেরা এক হলে পরে হৃৎস্পন্দনও বাজনা
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব

বাজনা বাজছে বাজনা বাজছে হাতে হাত তালে তাল
আজ বিকেলের মিছিল বলছে – আবার আসব কাল
কাল দেখা হবে সংহতিগান, আবার হাঁটব একজোট
নদীও বলেছে কালকে পাঠাবে উত্তাল যত তার স্রোত
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব
হোক হোক হোক হোক হোক কলরব

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
মনটা হঠাৎ ভালো
মূল কবিতা - ‘কেন বলো তো?’-কবি সৃজনী কর
‘আবাদভূমি’ পত্রিকার এপ্রিল–জুন ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - এপ্রিল, ২০১৪।

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

মনটা হঠাৎ ভালো।
কেন বলো তো?
আজ সকালে
আকাশ কোলে
দেখলাম কতগুলো
পায়রা, শালিক, চড়ুইপাখি
মাখছে গায়ে ধুলো!

মনটা কেমন সাদা।
কেন বলো তো?
শূন্য পায়ে
আদুল গায়ে
ছোট্ট মেয়ের কাঁদা,
রিক্সাভাড়া দিতে না দিতেই,
‘ক’টি ভিক্ষা দেবেন দাদা!’

মনটা কেমন নীল।
কেন বলো তো?
শহিদের লাশ
রক্তপলাশ –
বন্ধ দুয়ার খিল,
আকাশের ওই ঘেরাটোপে আজ
উড়ছে শকুন চিল!

মনটা কেমন লাল।
কেন বলো তো?
স্বপ্ন-বাণী
দেয় হাতছানি
দেখে বিপ্লবী হাল,
দাবিদাওয়া মেখে হাজির হলেন
নাগরিক কবিয়াল!

মনটা কেমন কালো।
কেন বলো তো?
জেগে পড়লাম
মহীনের গান
নকশালি ঘোড়াগুলো
ঘাস খায় আর আমাকে কাঁদায়
থাকি মুখে গুজে তুলো!

মনটা কেমন ভালো।
কেন বলো তো?
দগ্ধ শিখা জ্বলে একা একা
ইতিহাস বইগুলো
বলে, বিপ্লব এক ফিনিক্স পাখি
আঁধার চিরে আলো!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
গণ্ডী ভাঙো
মূল কবিতা - ‘স্বাধীনতা’–কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘আবাদভূমি’ পত্রিকার কলকাতা বইমেলা, ২০১৪ সংখ্যায় প্রকাশিত
গীতিরূপান্তর ও সুর - রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


গণ্ডী ভাঙো
গণ্ডী ভাঙো
গণ্ডী ভাঙো নিজের।
নির্জনতার দেওয়াল ভেঙে
কোলাহলের বৃষ্টিতে যাও ভিজে।

ভিজতে ভিজতে
ভিজতে ভিজতে
যেই না ছন্নছাড়া,
নিষেধের হাত রক্তচোখে
পায়ের শেকল জড়ায়।

হাতের শেকল
পায়ের শেকল
মনের শেকল ছিঁড়ে
ন্যায়ের পথে মুক্ত কণ্ঠে
দাঁড়াও উচ্চশিরে।

আগল খোলো
আগল খোলো
মনের আগল খোলো,
রাতের ঘন আঁধার কেটে
আসুক ভোরের আলো।

আগল খোলো
গণ্ডী ভাঙো
শেকল ফেলো ছুঁড়ে –
স্বাধীনতার বাতাস আসুক
ঝলমলে রোদ্দুরে॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ডাকছে তোকে স্বদেশ, সমকাল
মূল কবিতা - ‘ডাক’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘আবাদভূমি’ পত্রিকার অক্টোবর–ডিসেম্বর, ২০১৩ সংখ্যায় প্রকাশিত
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


ডাকছে তোকে স্বদেশ, সমকাল
হাতছানি দেয় অশান্ত শালবন
স্বপ্নে ডাকে রাঙামাটির পথ
বিবেক দিল বিদ্রোহে ইন্ধন।

হাত ধরেছে মিছিলের রাজপথ
গ্রাম ডাকছে, শহর ডাকে – ‘আয়’।
লক্ষ মানুষ, বলছে ডেকে – ‘চল্‌
সেতু বানাই ক্ষেতে কারখানায়’।

স্বপ্নে তোকে ডাকছে দাবানল
ধামসা, মাদল, বাঁশির মূর্ছনায়।
ঘুম ভাঙালো সতর্ক সাইরেন
শৃঙ্খলিত বুকের যন্ত্রণায়।

ডাকছে তোকে বন্ধু, প্রতিবেশী
টুকরো স্মৃতির চেনা মফস্বল
মুক্ত জীবন হাতছানি দেয় তোকে
শেকল ভাঙার প্রতিজ্ঞা সম্বল॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
পায়ের নীচে নদী
মূল কবিতা - জীবন – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
গীতিরূপান্তর ও সুর - রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১৮ অক্টোবর, ২০১২

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


পায়ের নীচে নদী
মাথার উপর মেঘ
বুকের ভিতর উথাল পাথাল
খরস্রোতার বেগ।

চোখের ভিতর আকাশ
স্বপ্নে সবুজ বন
সময় ছুঁয়ে তির তির তির
জীবনের স্পন্দন।

মেঘ ভাসাল দু’চোখ আমার
নদী ভাসাল কূল
আকাশ জুড়ে রামধনু রঙ
সবুজ বনের ফুল।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
কেমন আছো শৈশবদিন
মূল কবিতা - ‘চিঠি’–কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
পরিবর্ধন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২০ অগাস্ট, ২০১৩

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


কেমন আছো শৈশবদিন?
কেমন আছো প্রাইমারি স্কুল?
কেমন আছো জামার কোঁচড়ে
বিটনুন মাখা টোপা কুল?

কেমন আছো জামরুলতলা?
কেমন আছো ছোট্‌ দিদিভাই?
দেয়ালেতে ঝুল কালি মাখা
পচা সুতো, ঘুড়ি ও লাটাই?

কেমন আছো বাবার বকুনি,
স্নেহ ভরা ভালবাসা?
কেমন আছো মায়ের দু’চোখে
স্বপ্ন সুখের আশা?
কেমন আছো রথের মেলা?
রঙচঙে মাটির পুতুল?
কেমন আছো জামার কোঁচড়ে
বিটনুন মাখা টোপা কুল?

কেমন আছো চু-কিৎ-কিৎ?
শ্লেট-খড়ি, কাটাকুটি?
কেমন আছো গাছের তলায়
শিউলির লুটোপুটি?

কেমন আছো ঘুলঘুলিতে
পায়রার বকম্‌ বকম্‌?
আকাশে সাদা মেঘের
আলপনা নানান রকম?
কেমন আছো ভাঙা পাঁচিল
ফুঁড়ে ওঠা জংলাফুল?
কেমন আছো জামার কোঁচড়ে
বিটনুন মাখা টোপা কুল?

কেমন আছো ফুটবল মাঠ?
আনমনা হলুদ দুপুর,
হাতছানি কৃষ্ণচূড়ার,
মজে যাওয়া পাড়ার পুকুর?

কেমন আছো আড্ডার রক?
নিষেধাজ্ঞার অভিধান?
ফেলে আসা চায়ের দোকানে
গুন্‌গুন্‌ আধুনিক গান?
কেমন আছো বাঁশের সাঁকো,
বর্ষার নদী কুলকুল?
কেমন আছো জামার কোঁচড়ে
বিটনুন মাখা টোপা কুল?

ভাল থেকো সেই সব দিন।
ভাল থেকো ফেরারী সময়।
উঠোনের সোনামাখা রোদে
ভাল থেকো চেনা আশ্রয়।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
শিরোনাম - আঠাশে জুলাই
মূল কবিতা - সব্যসাচী গোস্বামী
‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২৮ জুলাই, ২০১৩


লিখো সেই মানুষের নাম
অশ্রু রক্তে ভেজা ঘাস
তিন দশকের ইতিহাস
শিরোনাম – রক্তপলাশ

লিখো সেই নদীটার কথা
বুকে যার স্পর্ধা অগাধ
প্রয়োজনে গড়ে সভ্যতা
প্রয়োজনে ভেঙে দেয় বাঁধ
সে নদীর জল ছুঁয়ে যায়
দখিনা বসন্ত বাতাস

অরণ্যে জেগে ওঠে গ্রাম
পোস্টারে শহীদের নাম
লিখে নিও নয়া ইতিহাস
শিরোনাম – জুলাই আঠাশ॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
বাংলার হরিহর রায়, গঙ্গাচরণদের প্রতি
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ২২ এপ্রিল ২০১৮


দেখো, বাংলার হরিহর রায়, গঙ্গাচরণ
ঈশাণী কোণেতে অশনি ইশারা,
বাংলার বুকে গেরুয়া বর্গী করে বিচরণ।
ধর্মের মোহে হয়ে দিশাহারা
ভেবো না, জঙ্গী সংঘীরা সব ‘বিপত্তারণ’!
লুটছে স্বদেশ, হানাদার ওরা –
তোমার ভাঁড়ার, লক্ষ্মীর ঝাঁপি করছে হরণ।
মন্বন্তরী মনুবাদীরাই
আজও নিরন্ন করে ‘গঙ্গা’কে, রেখো গো স্মরণ।

হরিহর তুমি আজও ভিটেহারা,
কাছেদূরে নিশ্চিন্দিপুরে দুর্গার হয় মরণ!
মন্দির ভাসে রক্ত ধারায় –
ক্ষুধিতের খুনে রাম-নামাবলী রক্তবরণ।
বন্দি থেকো না ধর্মকারায়,
অন্ধ গর্বে অন্ধকারের নিও না শরণ।

হুঁশিয়ার হও, হরিহর আর গঙ্গাচরণ!
মিথ্যে তোমার জাতের বড়াই, মিথ্যে ব্রাহ্মণত্ব
তোমাদেরও দেবে যূপকাঠে বলি নয়া রামরাজত্ব!
মিথ্যে তোমার শালগ্রাম শিলা, মিথ্যে গলার পইতে –
বামুনে-দলিতে হবে একসাথে শোষণের জ্বালা সইতে।
পুঁথির পাঁচালী ছিঁড়ে ফেলে আজ পথের পাঁচালী পড়ো।
ভুলে জাতপাত রেখে হাতে হাত দলিতের সাথে লড়ো॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ভয় পেয়ো না
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ১১ মে ২০১৮
(সুকুমার রায়-এর ছড়ার আঙ্গিকের অনুসরণে লেখা)


ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না, তোমায় আমি মারব না।
সত্যি বলছি, পঞ্চায়েতে ‘ভোটাধিকার’ কাড়ব না।
মনটা আমার বড্ড নরম, রবি ঠাকুরের গান শুনি।
পদ্য লিখি, ছবিও আঁকি, আছে আমার সব গুণই!
সরল মতি ‘ঘরের মেয়ে’, বসন-ভূষণ ‘আটপোরে’ –
পায়ে আমার হাওয়াই চটি, চটি না ভাই চট্‌ করে।
নিন্দুকেরা যে যাই বলুক, কাউকে আমি চটাই না
বিরোধীদের মতন আমি মিথ্যে কথাও রটাই না!  
ধর্মে রাখি অটল ভক্তি, ঠাকুর-দেব্‌তা সব মানি।
দান করেছি মঠ-মিশনে, ইমামদের জলপানি।
রামনাম ভজি, হনুমান পূজি, যাই ইফতার ভোজে
মোল্লা-সাধু, পুরুত-পাদ্রী – সকলকে রাখি তোয়াজে।
গাঁয়েগঞ্জে হানাহানি দেখে হয়েছ কি বিভ্রান্ত ?
জানো না সব মিথ্যে প্রচার, মিডিয়ার চক্রান্ত?
হাতে আমার পুলিশ-সেনা, তাই কি ভরসা করবে না?
আমার কথা মান্যি করো, সেপাই তোমায় ধরবে না।
কেষ্টর মাথা গরম দেখে ভয় পেয়েছ কতই না –
জানো না ওর মাথার ব্যামো, কাউকে কেষ্ট গুঁতোয় না?
‘মাও’-‘বামে’ মিলে হামলা করলে, তবেই আমরা রাগি।
বিরোধীরাই তো করেছে অশান্ত ভাঙর-ভাবাদীঘি!
‘উন্নয়ন’-এ বাগড়া দিলে, কার হয় বলো সহ্য?
দেখছো না ভাই, কত ‘শ্রী’ দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছি রাজ্য?
আমার ভাইয়েরা লক্ষ্মীছেলে, বড়োই শান্তশিষ্ট।
একটুখানিক ‘ব্রেইন্‌ শর্ট’, তবুও ভালো ‘কেষ্ট’!
কেষ্ট বাজায় চড়াম্‌ চড়াম্‌ ‘উন্নয়ন’-এর ঢাক –
সোনার বাংলার ‘সোনার ছেলে’ আরাবুল বেঁচে থাক!
ভুলে যাবে ভাই ‘সারদা-নারদা’ – যত ‘গল্পের গরু’,
দু’টাকার চালে, বাইসাইকেলে আমি যে ‘কল্পতরু’!
এসো এসো ভাই বুথে বুথে এসো, ভোট দাও ঘাসফুলে,
গ্রামবাংলা রাঙিয়ে দেবো ‘উন্নয়নে’র ‘সাদা-নীলে’!   
অভয় দিচ্ছি শুনছ না যে? পরাবো নাকি হাতকড়ি?
ফাঁসিয়ে দেবো ফলস্‌ কেসেতে, বেরিয়ে যাবে জারিজুরি!
আমি আছি, ভাইপো আছে, পুলিশ-ক্যাডার সদলবলে
সবাই মিলে ধোলাই দেব মিথ্যে অমন ভয় পেলে।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর