কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
নব্য হিটলারনামা
কবি রাজেশ দত্ত
রচনা - ২০ এপ্রিল ২০১৮।
২০ এপ্রিল, ২০১৮ কুখ্যাত স্বৈরাচারী খুনি একনায়ক অ্যাডলফ হিটলারের ১২৯তম
জন্মবার্ষিকীতে তীব্র ক্রোধে, ঘৃণায় ও ধিক্কারে আমাদের দেশ জুড়ে “হিটলারের নবজন্মে”র
বিরুদ্ধে, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণসংগ্রামের সংকল্পে, আহ্বানে, সংহতিতে
রচিত একটি কবিতা।


মন্দির ভাসে আসিফার খুনে,
আদালতে ‘মৃত’ লোয়া!
সবার ঊর্ধ্বে নয়া হিটলার –
পদতলে মাথা নোয়া!
তেরঙা পতাকা গৈরিক হল,
‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’!
চুপ করো যত ‘দেশদ্রোহী’,
গোয়েবলরা সাচ্চা!
রাষ্ট্র বলছে, প্রশ্ন কোরো না
মেনে নাও নতশিরে।
‘হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান’
জয় বলো সোচ্চারে!
প্রশ্ন কোরো না, কেন আফজল
ফাঁসির দড়িতে ঝোলে।
প্রশ্ন কোরো না, অসীমানন্দ,
কোদনানি ছাড়া পেলে।
প্রশ্ন কোরো না, বুরহান কেন
‘জঙ্গি’ দমনে মরে।
প্রশ্ন কোরো না, মোদি-অমিতেরা
মসনদে কেন চড়ে।
প্রশ্ন করলে জবাব পাবে না,
‘জঙ্গি’ তকমা জুটবে।
দেশ জুড়ে দেখো মানুষের খুনে
রাঙা ‘শতদল’ ফুটবে।
‘আচ্ছে দিন’-এর স্বপ্নপূরণে
‘রামরাজ্য’ গড়তে
কত আসিফারা বলি হয়ে যাবে,
লোয়াদের হবে মরতে!
কত ইশরাত, সোহরাব, ভেমুলা
বারবার হবে খুন।
চিরে ফেলে ভাবীকালের গর্ভ
ত্রিশূলে বিঁধবে ভ্রূণ।
কাশ্মীর থেকে দণ্ডকবনে
খাণ্ডবদাহ চলবে।
চাষি-মজুর-দলিত-আদিবাসী
রাষ্ট্ররোষে জ্বলবে।
কুনান পোশপোরার কান্না
উন্নানে কাঠুয়ায়।
কামদুনি, কুশমুণ্ডিও বলে,
মুখ ঢাকো লজ্জ্বায়।
ভুলিয়ে দিচ্ছে বাবরি ধ্বংস,
গুজরাট গণহত্যা।
হীরক রাজার বচনই সত্য,
সব ইতিহাস ‘মিথ্যা’!  
ধর্ম জিগিরে মেরে আখলাক,
পেহেলু, আফরাজুল –
গৈরিক গোয়েবল দল সব
মুছে দেবে বিলকুল।
রক্তের হোলি খেলার মাতন,
মৃত্যু মিছিল দেশে।
গৌরী, দাভোলকরেরা মরেন
গৈরিকী সন্ত্রাসে।
লোয়া নয়, আজ আদালতে পড়ে
গণতন্ত্রের লাশ।
বিচারের বাণী কাঁদে না নিভৃতে,
বিচার মোদির দাস!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
বিভূতিভূষণ, ক্ষমা করো...
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ২৮ এপ্রিল ২০১৮


আসিফা বেটির জন্য কেঁদেছি
হাতে মোমবাতি জ্বেলে।
উন্নাও থেকে কুশমুণ্ডিতে
ভেসেছি চোখের জলে।
ভাবাদীঘি ঘিরে ভেবেছি আমরা
পরিবেশ চেতনায়।
রোগে-অনাহারে চা-মজুর মরে
কাঁদি শোকে, যাতনায়।
রাষ্ট্রের ত্রাসে ভাঙরের পাশে
থাকি প্রতিবাদী স্বরে।
ধর্মজাতের বিদ্বেষ বিষে
রুখে উঠি সোচ্চারে।
আমরা ‘সুশীল’ ‘বিদ্বজ্জনে’রা
হাতে হাত বেঁধে রেখে
সংহতি গড়ে গেছি সিঙ্গুর,
নন্দীগাঁয়ের ডাকে।
টালিনালা থেকে বেলেঘাটা হয়ে
নোনাডাঙা উচ্ছেদে
বস্তিবাসীর হকের দাবিতে
লড়েছি কোমর বেঁধে।
প্যালেস্তাইনে বোমার আঘাতে
ক্ষতবিক্ষত হই।
সিরিয়ায় স্যাম চাচার হানায়
রাজপথে হইচই।
‘শাহবাগ’ তোলে মিটিং-মিছিলে
সভায় ‘হাল্লা বোল’ –
এপার বাংলা ওপার বাংলা
মিলে ওঠে শোরগোল!  
বাংলাদেশের ব্লগার হত্যা
আমাদের ঘুম কাড়ে।
গৌরী, দাভোলকরের খুনে
ফেটে পড়ি ধিক্কারে।
‘রাজনীতি’ রঙে রাঙিনি আমরা,
‘মানবাধিকারে’ লড়ি।
তবু কেউ কেউ মেপে হাঁটি পথ,
‘মাও’ জুজু ভয়ে মরি!
গণহত্যায় মেতেছে রাষ্ট্র
খেলে রক্তের হোলি।
কাঁদে বিজাপুর, মালকানগিরি
কাঁদে গাড়চিরোলি।
স্বজন-হারার আর্তি শুনেও
নীরব মহানগর!
পাছে ‘মাও’ বলে পুরে দিয়ে জেলে
বানায় ‘ছত্রধর’!
সেন্সর করি ‘সেন্‌সিটিভিটি’
কণ্ঠ রুদ্ধ করে।
বলা তো যায় না, রাজার সেপাই
যদি হানা দেয় ঘরে!
ছাপোষা আমরা, ডালভাত খাই
ঘুরি ট্রেনে-বাসে চড়ে,
কী হবে বেঘোরে ঢুকে কারাগারে
‘সুখী গৃহকোণ’ ছেড়ে?
বেশ আছি সুখে, লিখে মেপেজুকে
ফেসবুক দেওয়ালে –
‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ গুণতি করে
দিন কাটে ফাঁকতালে।
সশঙ্কিত ‘বিদ্বজ্জনে’রা
ভয় পান রাজরোষে।
কত ‘বিপ্লবী’ সেজে ‘অহিংস’
‘মাওবাদী’দের দোষে!
‘স্যান্ডউইচ থিয়োরি’ সাজায়
কথার যুক্তিজালে।
রাষ্ট্রের ‘উইচ্‌ হান্ট’-এর কথা
বেমালুম যায় ভুলে!
আদিবাসী গাঁয়ে হানা দেয় সেনা,
রাজার মৃগয়া চলে।
লুঠ হয়ে যায় বনজঙ্গল,
‘উন্নয়ন’-এর ছলে।
শাল-মহুলের শাখায় কাঁপন
ফৌজির ভারী বুটে,
রুখাশুখা ভুখা আদিবাসীদের
বাসভূমি নেয় লুটে।
জল্লাদদের আদিম উল্লাসে
খাণ্ডবদাহ চলে –
শ্মশানের চিতা জ্বলে দিকে দিকে
সবুজ বনাঞ্চলে।
তবু সিধু-কানু-চাঁদ-ভৈরব
আজও প্রতিরোধ গড়ে।
বিরসার ‘উলগুলান’-এর ডাকে
গেরিলা সেনারা লড়ে।
রাষ্ট্র যখন স্বৈরাচারী
চলে না কোনও আইনে,
শাসকের হানাদারির জবাব
দেবে না ল্যান্ডমাইনে?
ওদের দু’বেলা অন্ন জোটে না
ওরা ভুখা বনবাসী,
রাষ্ট্র ওদের অধিকার কেড়ে
বানিয়েছে ‘সন্ত্রাসী’।
রক্তক্ষয়ী এ সংগ্রামের
নেই কেতাবি তত্ত্ব।
অনুভব করো বিবেক থেকে
জাগিয়ে মনুষ্যত্ব।
বিভূতিভূষণ, ক্ষমা করে দাও,
ভুলে আরণ্য-গাথা
ভাবি না তোমার দোবরু পান্না,
ভানুমতীদের কথা।
ভুলে গেছি ধন্‌ঝরি পাহাড়ের
অরণ্য প্রান্তর।
ভানুমতীদের জন্য কাঁদে না
নাগরিক অন্তর।
লবটুলিয়ার বনপথে পড়ে
ভানুমতীদের লাশ...
‘সুশীল’ সমাজ দেখেও দেখে না
রাষ্ট্রের সন্ত্রাস।
মফঃস্বলের কবিয়াল আমি
নগর-চরণদাস
শব্দ-ছন্দে বেঁধে যাই শুধু
হৃদয়ের হা-হুতাশ।
কবিতার খাতা অশ্রু সিক্ত,
কলমের নিবে খুন –
ছিঁড়েখুঁড়ে গেছে হৃদ্‌শতদল
পাঁজরে জ্বলে আগুন।
হে অরণ্যানীর আদি মানবতা,
আমায় করো গো ক্ষমা।
আখরে আখরে পুঁততে পারি না
প্রতিরোধী ল্যান্ড-বোমা!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ডিরোজিও স্মরণে
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল -  ১৮ এপ্রিল, ২০১৮
জন্মদিনে শ্রদ্ধায় ভালোবাসায় বাংলায় যুক্তিবাদী মুক্তচিন্তা প্রসারের অগ্রদূত হেনরি লুই
ভিভিয়ান ডিরোজিও-র অমর স্মৃতির উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য (জন্ম - ১৮ এপ্রিল, ১৮০৯ – মৃত্যু -
২৬ ডিসেম্বর, ১৮৩১)


ধর্মদ্বেষের ঘন কালো মেঘ
বাংলায় ধেয়ে আসে।
নাগিনীরা ফেলে বিষ নিঃশ্বাস
আমাদের চারপাশে।
ধর্মমোহের বিষের ছোবল
মৃত্যু-সমন আনে।
'বাংলার মুখ' পুড়ছে আগুনে
শ্মশানে-গোরস্থানে।
আলোক পথযাত্রী, তোমাকে
ডাকছি জন্মদিনে।
সাড়া দাও হে অগ্রপথিক,
বিবেকের আহবানে।
চেতনা মননে যুক্তির আলো
জ্বেলে দিয়ে প্রাণে প্রাণে
'ঝড়ের পাখি' ডানা মেলে ওড়ো
বাংলার আসমানে।
কালবোশেখির ঝড় নিয়ে এসে
আঁধার ঘুচিয়ে দিও।
নবযৌবনে জেগে ওঠো আজ
বিদ্রোহী ডিরোজিও!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
আসিফা
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ১ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৫ এপ্রিল, ২০১৮


নববর্ষের পুণ্য লগনে
বাঙালিরা আজ ‘বকরওয়াল’ –
আসিফা বেটির খুনে রাঙা হল
ফেসবুকে দেখো সব দেওয়াল।

রক্তক্ষরণ ফেসবুকে নয়,
রক্ত ঝরছে বুকের গভীরে –
হারিয়ে ফেলছি মানুষের মুখ
জল্লাদ আর শ্বাপদের ভিড়ে।

হারিয়ে ফেলছি ‘বাংলার মুখ’
অদ্ভুত এক আঁধার গ্রাসে!
বিপন্ন এই স্বদেশ, সময়
মৌলবাদের হুংকার ত্রাসে।

ধর্মদ্বেষের বিষের জ্বালায়
জ্বলছে বাংলা, জ্বলছে সমাজ।
ঘাতকেরা হাতে ত্রিশূল শানায়,
বাংলার বুকে হিংসার রাজ!

সম্প্রীতি সুরে বলি সোচ্চারে,
বাংলা তো নয় ‘হিন্দুস্তান’।
‘বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি’
দূর হঠো গৈরিক শয়তান!

‘রাম’ নয়, গাই রাবণের গাথা –
মধুসূদনের অমর কাব্য।
শহিদ হুদূড় দুর্গা স্মরণে
দাঁশাইয়ের গানে আমরা কাঁদব।

দেবালয়ে যদি নির্দয়ে দলে
ছোটো তাজা এক ফুল-কুঁড়ি প্রাণ,
রক্তে ভাসানো সেই পূজাবেদি
পদাঘাতে ভেঙে করি খানখান।  

চেতনা মননে কাজী নজরুল
অন্তর জুড়ে রবীন্দ্রনাথ।
লালনের সুরে বেঁধে একতারা
আনব নতুন দিনের প্রভাত।

বৈশাখী প্রাতে শুধু এ কামনা,
জ্বালো মানবিক চেতনার আলো।
আমাদের ঘরে ফুলের মতন
আসিফা বেটিরা থাকে যেন ভালো।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
লালকমল-নীলকমল
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ১০ এপ্রিল, ২০১৮


রানিগঞ্জে রাজসন্ত্রাস,
ভাঙরের ত্রাসে রানি –
যাদের রক্তে সিক্ত জমি
তাদের খুন কি পানি?
কীসের লড়াই? কাদের লড়াই?
কারা আজ যুযুধান?
সবার পেটেই জ্বলছে আগুন,
সবার ভাতের টান!
বুঝবো কবে জাতের নয়,
লড়াইটা তো ভাতের –
ঘুচবে কবে ধর্মমোহের
আঁধার কালো রাতের?
বুঝবো কবে ভোটের নয়,
নোটের জন্য খাটি।
দীন দুনিয়ার দিনরাত্তির
ঘামে ভেজা নোনা মাটি।
বিদ্বেষ বিষে মারছে যারা,
বেঘোরেতে যারা মরে,
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
তাদের সবারই ঘরে।
সাদাকালো শতরঞ্জি খোপে
খেলছে শতেক রঙে।
ভুলছে সবাই হরেক টোপে,
উঠছে কে ঘুম ভেঙে?
ওরে লালকমল-নীলকমল
তোরা কে জাগিস, ভাই?
খোক্কসেরা ভাঙছে দুয়ার,
চল্‌ লড়াইয়ে যাই!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ভাঙনের গান
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ৩১ মার্চ, ২০১৮


ঘর ভেঙেছ, দেশ ভেঙেছ
ভেঙেছ মসজিদ।
আস্থা ভেঙে ভোট লুটতে
ইভিএম-এ সিঁদ!

গ্রাম ভাসিয়ে কূল ভেঙেছ
নদীর বড়ো বাঁধে।
মাটির লক্ষ্মী-ভাঁড় ভাঙো
নোটবন্দির ফাঁদে।

ঝুপড়ি ভাঙো, বস্তি ভাঙো
ভাঙো হকার-স্টল।
সাবেককালের বাড়ি ভেঙে
গড়ো শপিংমল।

বনের নৈঃশব্দ্য ভাঙো
সেনার ভারী বুটে –
আরণ্যক বসত ভেঙে
মাতো হরির লুঠে।

খুচরো বেসাত ভাঙে বড়ো
পুঁজির সদাগর।
জিএসটি-র জাঁতায় ভাঙে
ছোটো দোকানঘর।

ভাঙার খেলা শহর জুড়ে
উজাড় গাছপালা,
সর্বনেশে ‘উন্নয়নে’
হারিয়ে যায় জলা।

প্রকৃতির বুক ভাঙা দুখ
ছড়ায় দেশে-গাঁয়ে।
ধর্ম-জাতির ভাঙাভাঙি
ভাঙন নীতি ন্যায়ে।

ভাঙনে কেউ স্বজনহারা,
কেউ হারাল জান।
কেউ হারাল বসতভিটে,
শেকড়-মাটির টান।

কিষানের স্বপ্ন ভাঙায়
ধানের ছড়া কাঁদে,
অশ্রু হয়ে শিশির ঝরে
ভোরের সোনা রোদে।

ঘরগেরস্থি ভাঙো কত
বন্ধ চা বাগানে।
‘অসুর’দের কান্না বাজে
‘দাঁশাই’-এর গানে।

এত কিছু ভেঙেও রাজার
মিটল না তো আশ।
লেনিন মূর্তি ভেঙেচুরে
গেরুয়া সন্ত্রাস।

রাজার মনে ভয়ের বাসা,
বুকে কাঁপন ধরে –
লেনিন যদি ওঠেন জেগে
দেশের ঘরে ঘরে!

রক্তরাঙা লাল নিশানে
গেরুয়া হলে ফিকে,
প্রতিরোধের আগুন জ্বলে
উঠবে দিকে দিকে।

দণ্ডক থেকে কাশ্মীরে
অশনি সংকেতে
জাগছে কারা বন-পাহাড়ে
খনি-খামারখেতে?

কালবোশেখির ঝোড়ো মেঘ
জমে ঈশান কোণে –
টলছে মাটি মসনদের,
রাজা প্রমাদ গণে।

গাঁইতি শাবল ভোঁতা হবে,
ত্রিশূল যাবে খসে।
মূক জনতা মুখর হয়ে
উঠবে জ্বলে রোষে।

ঝিলিক দেবে কাস্তে ফলা
চাষির হাতে হাতে,
বন্ধ মিলে ভাঙবে তালা
হাতুড়ির আঘাতে।

লক্ষ তারা উঠবে জ্বলে
আঁধার হলে নিশি –
জাগবে ভুখা মজুর চাষি
দলিত-আদিবাসী।

ভাঙবে যত মূর্তি তত
লেনিন পথে মিশে
ভেঙে দেবেন সব জড়তা,
ঘুম ভাঙবে দেশে।

ভাঙা মূর্তি মূর্ত হয়ে
বজ্র মুঠি বেঁধে,
লক্ষ লেনিন ডাক দেবে
লড়াই-প্রতিরোধে।

ধামসা-মাদল দ্রিমি দ্রিমি
শাল-মহুল বনে
উঠবে বেজে দীপ্ত তেজে
প্রাণের স্পন্দনে।

লক্ষ কণ্ঠে শোনা যাবে
শেকল ভাঙা গান –
কমরেড লেনিনের সেই
যুদ্ধ আহ্বান।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
সুকুমার রায় স্মরণে
কবি রাজেশ দত্ত
সুকুমার রায়-এর ‘গল্প বলা’ ছড়া অনুসরণে।
সুকুমার রায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীতে ছোটোদের পত্রিকা ‘ইচ্ছেডানা’য় প্রকাশিত। চতুর্থ
বর্ষ, চতুর্থ সংখ্যা (২০১৫-২০১৬)।


‘এক যে ছিল মস্ত কবি।’
‘কবি নয় সে, আঁকত ছবি।’
‘তার যে ছিল কলম-কালি –’
‘কলম কোথায়? আঁকার তুলি।’
‘লিখত ছড়া, গল্পগাথা।’
‘ভরিয়ে দিত আঁকার খাতা।’
‘জন্ম যে তার বঙ্গদেশে।’
‘বঙ্গ তো নয়, এ সন্দেশ-এ।’
‘কল্পনারই ডানা মেলে –’
‘কবি কোথায় পাখনা পেলে?’
‘আবোলতাবোল লিখত কবি।’
‘মনগড়া নয়, সত্যি সবই।’
‘থোও না বাপু ধানাইপানাই,
তারপরে কী ঘটল শোনাই –
একদিন ঘুম ঘনিয়ে এল,
গল্প-ছড়ার সাঙ্গ হল।’
‘সাঙ্গ কোথায়? সেই তো শুরু,
শিল্পী হলেন গল্প গুরু।
আজব ছড়ার ছন্দে মেতে
জুটল সবাই সন্দেশেতে।
একশো পঁচিশ বছর পরে
ছন্দে-ছড়ায় হৃদয় ভরে
কোল জুড়ে রয় বাংলা মা’র
চিরশিশু কবি সুকুমার।’

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
শোনো শাহবাগ
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

কাদের ফাঁসি কাদের বিচারে?
কে দেবে সাজা কার?
ধর্ম-রাষ্ট্র মিলেমিশে গড়ে
ঘাতক ‘রাজাকার’।
বিষধর সাপ ‘ওঝা’ হয়ে ঝাড়ে,
মতলব বোঝা ভার।
চোখ মেলে দেখো, যুগ যুগ ধরে
কে বইছে বোঝা কার?
মিডিয়ার ছলে জনরোষ ভোলে
মানুষের অধিকার।
শাহবাগ, তুমি কান পেতে শোনো
শোষিতের হাহাকার।

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
ভাঙর চাষজমি বাঁচাও আন্দোলনের গান
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ১৮ জানুয়ারি ২০১৭
[বাম আমলে ‘সিঙ্গুর কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলন’-এর সংহতিতে ২০০৬-এর ১৪
অগস্ট রচিত ‘মাটি আমাদের প্রাণ’ গানটি অবলম্বনে একই সুরে ভাঙর আন্দোলনের
সংহতিতে রচিত।]


মাটি আমাদের প্রাণ।
মাটি আমাদের মান।
মাটির মানুষ আমরা গাই
মাটির সুরে গান।
আমরা মাটির সন্তান॥

এই মাটিতে জন্ম মোদের,
মরণ মাটির কোলে।
ঘাম ঝরিয়ে মাটির বুকে
সোনার ফসল ফলে।
মোদের রক্তে মিশে আছে মাটি,
দেহে মাট্রির ঘ্রাণ।
আমরা মাটির সন্তান॥

ছিনিয়ে জমি, ছড়িয়ে দূষণ
গড়বে পাওয়ার স্টেশন?
সইবে না আর গাঁয়ের চাষি
জোরজুলুমের শাসন।
ছিঁড়বে না এই মাটির বাঁধন,
এমনি নাড়ির টান॥
আমরা মাটির সন্তান॥

শহিদ হল আলমগির,
শহিদ মফিজুল।
লুটছে ভাঙর, জমির হাঙর
মোল্লা, আরাবুল।
খুন ঝরিয়ে কাড়তে জমিন
পারবি না, শয়তান।
আমরা মাটির সন্তান॥

‘উন্নয়ন’-এর গল্প ফেঁদে
ভাবছ দেবে ফাঁকি?
সিঙ্গুর থেকে নন্দীগাঁ —
ভুলে গেলে নাকি?
(তাই) জোট বেঁধে আয়, করব লড়াই
করছি কবুল জান।
আমরা মাটির সন্তান॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
অথ ‘সংঘ’ কথা
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - মে, ২০১৮


কখনো ভাঙব লেলিনের স্ট্যাচু,
কখনো সরাব জিন্না।
ভেঙে পেরিয়ার,  ভীমের মূর্তি
ছড়াব বিভেদ, ঘেন্না।

কখনো বানাব মন্দির-থান,
আমাদের ‘গড’ গডসের।
গড়ে পেল্লাই স্ট্যাচু ‘প্যাটেলে’র
নজর কাড়ব গিনেসের!

সাভারকার, হেডগেওয়ারকে
বানাব দেশের ’আইকন্‌’!
গোলওয়ালকররা ‘দেশপ্রেমী’,
যত নিন্দুক যাই কন্‌।

শ্যামাপ্রসাদের  শিষ্য আমরা,
‘হিন্দুত্বে’র পূজারী।
“হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানে”র
জিগির হুংকার জারি।

মুসলিমদের করব নিকেশ,
গড়ব ‘হিন্দুরাষ্ট্র’।
আমাদের আছে জঙ্গি সংঘী
পুলিশ-সেপাই-অস্ত্র।

বিরানব্বইয়ে ভেঙেছি বাবরি,
দু’হাজার দু’য়ে গুজরাট।
গণহত্যার রক্তে রাঙানো
আমাদের রাম-রাজপাট।

‘এনকাউন্টার’ সাজিয়ে করব
আদিবাসীদের ধ্বংস।
ব্রাহ্মণ্যবাদী রোষে দলিতের
ঘুচে যাবে জাত-বংশ।

বুলেটে-প্যালেটে তছনছ করে
‘কাশ্মীর’ নেব ছিনিয়ে।
খতম করব কাশ্মীরিদের
উগ্রপন্থী বানিয়ে।

মনগড়া সব গল্পকথায়
ভুলিয়ে দেব ইতিহাস।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন সব --
আর যা কিছু ‘ছাইপাঁশ’!

আমাদের আছে ‘গোয়েবল্‌’ গুরু,
মিথ্যেকে করি ‘সত্য’।
মগজ ধোলাইয়ে পেটোয়া মিডিয়া
মোতায়েন আছে নিত্য।

ভাত ছড়ালেই ঝাঁকের কাকেরা
দলে দলে এসে জুটছে।
গণতন্ত্রের লাশের ভাগাড়ে
চিল-শকুনেরা লুটছে।

কন্ঠ যাদের রুদ্ধ হয় না,
তোলে বিরুদ্ধতার স্বর --
ওরা হবে কালবুর্গি, গৌরী
গোবিন্‌দ, দাভোলকর!

ভোট বৈতরণী পার করে দিয়ে
বাঁচিয়ে রাখতে গদি
আছে ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর
অমিত, আদিত্য, মোদি।

ভাঙাগড়া সব ‘ত্রিদেব’-এর হাতে
শোনো সুধীজন মন দিয়া,
আম্বানিদের দাসখতে গড়ে
“ইনক্রেডিবল্‌ ইন্ডিয়া”!

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর