কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
‘বাম’ চরিত মানস
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - মে, ২০১৮


ফুসফুসে শ্বাস ফেলেন ফ্রয়েড,
হৃদ্‌পিণ্ডে লাফায় ‘হনু’!
ধর্মের মদে মাতাল বেহেড,
মনের কোণে থাকেন ‘মনু’।

লাল নামাবলী গায়ে, হাতে ধরা
‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’।
মার্কস-লেনিনেরা হলেন মলিন,
মনুসংহিতা, গীতা শ্রেষ্ঠ!

মার্কস সাহেবের বিলিতি কেতাব
অর্থ বোঝা বেজায় কষ্ট।
‘জনভিত্তি’ গড়তে ভরসা
বিবেকানন্দ, রামকেষ্ট!

‘কমরেড’ বলে নাস্তিক নই,
যাই মন্দিরে মসজিদে।
‘ধর্ম আফিম’ দেয়াল-লিখনে,
থাকি ভক্তিতে-ভাববাদে।

মজ্জা-শোণিতে ‘শনি-শেতলা’,
শিরায় শিরায় ‘শরিয়তি’।
টিকি-কাছা-দাড়ি ফাঁক পেলে নাড়ি,
মঠ-দরগায় খয়রাতি।

পুজো-ইফতার-বড়দিনে ভিড়ি,
বলি ‘পাবলিক রিলেশন্‌’!
সব ধর্মের তোষণে পোষণে
ঝুটা ‘সেকিউলার’ ভাষণ।

মানি পাঁজিপুঁথি, গ্রহ-তারা-তিথি,
দশ আঙুলে পরি পাথর।
কেউ ঢেকে রাখি কবচ-মাদুলি
শার্টের হাতার ভেতর।

জাত-কুল-মান সব মেনে চলি,
আছে পৈতে, তাবিজ-তাগা।
কেন মিছামিছি ‘নাস্তিক’ হয়ে
দেব ধম্মোকম্মে দাগা?

রামে-বামে শুধু ফুটকি ফারাক,
চুটকি মেরেই তুলে দিয়ে
স্বদেশি ‘হিন্দু’ বনে যেতে পারি
মার্কস-এঙ্গেলস ভুলে গিয়ে।

ভোটের গাজনে বাজনের তালে
নাচি সংসদে ‘সং' সেজে।
কখনো লেফটে, কখনো রাইটে
পা ফেলি জোটের রং বুঝে।

আমরা “তাসের দেশে”র গোলাম,
দহলা গুরুর দলবল।
‘কৃষ্টি’র নামে অনাসৃষ্টির
হিন্দুয়ানি-ই সম্বল।

আমরা “রক্তকরবী”র সেই
গোঁসাইয়ের জাতবংশ!
বিশু, ফাগুলাল, রঞ্জনদে'র
সমূলে করছি ধ্বংস॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী হলে
নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
হিন্দি গণসংগীত
কশ্মীর মাঙ্গে আজাদী
কথা ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল - ৩০ অগাস্ট ২০১৬


আজাদী আজাদী
ইয়ে কশ্মীর মাঙ্গে আজাদী।
ইন্‌কিলাব কি আওয়াজ উঠি হ্যায়
গুঞ্জ রহি হ্যায় ইয়ে ওয়াদি।
আজাদী আজাদী
হম্‌ লড়কে লেঙ্গে আজাদী॥

জুলমোঁ সে অব্‌ নহীঁ ডড়েঙ্গে
মরতে দম্‌ তক্‌ হম্‌ লড়েঙ্গে।
জন্নৎ কো জো দোজখ্‌ বনায়া
ওয়হ্‌ শ্যয়তানোঁ কো নহীঁ ছোড়েঙ্গে।
কিত্‌না হি জুল্‌ম কর লে, জালিম্‌
কিতনা হি কর লে বরবাদী —
শহীদোঁ কে রাহ্‌ পে চল্‌ কর
হম্‌ লে আয়েঙ্গে আজাদী॥

বরসো সে সহে রহে হ্যায় সিতম্‌
অব্‌ ক্যা দর্দ হ্যায়, অব্‌ ক্যায়া গম্‌?
জো পথ্‌থর রহা থা সীনে মে
ওঅহ্‌ পথ্‌থর হাথ্‌ মে লিয়ে হ্যায় হম্‌।
চলালে জিৎনি গোলী তু, কাতিল্‌
দেখ্‌ পথ্‌থর কা হ্যায় কিৎনা দম্‌।
বগওআৎ কী তুফান্‌ হ্যায় দিল মে,
রোক্‌ না সকেগা ইয়ে আঁধী॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
দরজা জানলা ভেজাও যতই না
মূল কবিতা - ‘নিরর্থক’ - কবি প্রেমেন্দ্র মিত্র
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২০০৯

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

দরজা জানলা ভেজাও যতই না,
আকাশই তোমায় খুঁজবে।
পাল্লা, শার্সি, ফাটলে, ফুটোয়
কত  কাঁথা-কানি গুজবে!
আকাশ তোমায় খুঁজবেই –
উঁকি দেবে – দেবে – দেবেই… … …
যতই ভাবো না কিছু নেই,
ছাড়া পেতে ছোটো যেখানেই,
একদিন ঠিক শিরায় শোণিতে
ছটফটে ছোঁয়া বুঝবে!
আকাশ তোমায় খুঁজবেই
আকাশ তোমায় ডাকবেই
আকাশ তোমায় খুঁজবেই – হে হে হে হে… … …

যেখানেই কেন রওনা হও না,
ঘরেই নিজের ফিরবে।
তেপান্তরেও হারাতে চাইলে
সেই দেয়ালেই ঘিরবে।
ঢাকা দেবে – দেবে – দেবেই… … …
যতই ভাবো না কিছু নেই,
ছাড়া পেতে ছোটো যেখানেই,
হেঁশেলে, গোয়ালে, আসরে, বাসরে
মামুলি ছক কে ছিঁড়বে!
আকাশ তোমায় খুঁজবেই
আকাশ তোমায় ডাকবেই
আকাশ তোমায় খুঁজবেই – হে হে হে হে… … …

নিরুদ্দেশের পাল তুলে তবু
নিজেরই সীমায় দুলবে।
যেখানেই কেন  উধাও হও না,
প্রাণ তার বেড়া তুলবে!
বেড়া দেবে –  দেবে – দেবেই … … …
যতই ভাবো না কিছু নেই,
ছাড়া পেতে ছোটো যেখানেই,
খুঁটির এ বাঁধনে বাঁধা পড়ে গেলে,
সে বাঁধন কী করে খুলবে!
আকাশ তোমায় খুঁজবেই
আকাশ তোমায় ডাকবেই
আকাশ তোমায় খুঁজবেই – হে হে হে হে… … …

যে ঘাটেই কেন নোঙর ফেলো না,
সাগর তবুও ডাকবে।
তরী ছেড়ে যদি তরু হও,
তবু  ঝোড়ো হাওয়া ডালে লাগবে!
নাড়া দেবে – দেবে – দেবেই… … …
যতই ভাবো না কিছু নেই,
ছাড়া পেতে ছোটো যেখানেই,
ফসলের জল ঢালে যে বাদল,
সে মেঘই মোহ-মুদ্গর হাঁকবে!
আকাশ তোমায় খুঁজবেই
আকাশ তোমায় ডাকবেই
আকাশ তোমায় খুঁজবেই – হে হে হে হে… … …

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে
মূল কবিতা - ‘মশাল জ্বলে’ - দুষ্ট কবি
‘বলো সিঙ্গুর বলো নন্দীগ্রাম’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত, রচনাকাল - ২৭ মার্চ ২০০৬
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১২ জানুয়ারি, ২০১২

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে।
মশালের আগুন কথা বলে।
তার দামাল শিখার তালে তালে
নাচে যত বাংলা মায়ের ছেলে॥

ওঠে তোর বেবাক কণ্ঠ গেয়ে,
শুনে তা লুণ্ঠিত যায় ধেয়ে।
বাংলা মায়ের যত মেয়ের
বয়ে যায় রক্ত ধরাতলে॥

ঘুম ভাঙল বিষাণ শুনে।
জমে মেঘ ঈশান কোণে।
কালো হাত তখনও জাল বোনে।
নির্ভীক কালের প্রহর গোনে॥

মশালের আগুন কথা বলে।
আগুনে ঝাঁপায় সবাই মিলে।
তার দামাল শিখার তালে
লেখা জয় হবেই তাদের ভালে॥

বাংলার মশাল জ্বলে দেখে,
চমকে দাঁড়ায় দিকে দিকে।
বাংলার এ-রূপ ছটা দেখে
ধন্য, দুষ্ট কবি লিখে॥

হাতে তাঁর মশাল দেখি জ্বলে।
মশালের আগুন কথা বলে।
তার দামাল শিখার তালে তালে
নাচে যত বাংলা মায়ের ছেলে॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
লালকমল নীলকমল পারুল বোন
নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক জমি বাঁচাও আন্দোলনের সংহতিতে রচিত
মূল কবিতা - ‘অন্য রূপকথা’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
পরিবর্তন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ৫ জুলাই, ২০১২

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


লালকমল নীলকমল পারুল বোন,
সত্যি এক রূপকথার গল্প শোন্‌।
লালকমল নীলকমল পারুল বোন,
অন্য এক রূপকথার গল্প শোন্‌।
এক সে দেশ, বাস্তু-ক্ষেত, নদীর চর
রাক্ষসের সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর।

রক্ত খায়, বিষ ছড়ায় সর্বনাশী,
দুঃশাসন মায়াবীর অট্টহাসি।
লুটতে চায় চাষ-জমি, প্রাণ-বাতাস,
নদীর চর,  বাস্তুঘর, দীর্ঘশ্বাস।

স্পর্ধা বুক জুটল সব জান কবুল,
ডাক পাঠায়, তৈরি হও রাম-রসুল!
যন্ত্রণায় কাঁপছে মা, কাঁদছে বোন।
প্রতিরোধের শঙ্খ ডাক জীবন-পণ।

ঝলসে ওঠে আঁশবঁটির তীক্ষ্ণ মুখ,
রাক্ষসের নখ-দাঁতে ‘মার চাবুক’!
জেগে ওঠে মাতঙ্গিনীর মেদিনীপুর,
লক্ষ কণ্ঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন-সুর॥

****************************************

[ সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১২ ডিসেম্বর ২০১৮-তে এই গানটির শেষ অন্তরাটি
পরিবর্তন করা হয়েছে নিম্নলিখিত রূপে - ]
ঝলসে ওঠে টাঙ্গি, কুড়াল, তীর-ধনুক –
রাক্ষসের নখ-দাঁতে ‘মার চাবুক’!
জাগছে দলিত, আদিবাসী, চাষি-মজুর,
লক্ষ কণ্ঠে স্বাধীনতার স্বপ্ন-সুর॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
রবীন্দ্রনাথের প্রতি - তোমাকে খুঁজেছি কবিতা খাতায়, গানে
সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ও লালগড়ের ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধ আন্দোলনের সংহতিতে রচিত।
মূল কবিতা - ‘২৫শে বৈশাখ’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী (‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে।
পরিবর্ধন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১৭ নভেম্বর, ২০১২

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   

তোমাকে খুঁজেছি কবিতার খাতায়, গানে।
তোমাকে খুঁজেছি মানবিক জাগরণে।
তোমাকে খুঁজেছি নিঃসঙ্গতায় একা।
নন্দীগ্রামেও তোমার সঙ্গে দেখা।

হেঁটেছিলে তুমি নাগরিক সে মিছিলে,
বিপন্নতায় তুমিও তো পাশে ছিলে।
আজও আশ্রয় তোমার সকল গানে –
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’!

তোমাকে খুঁজেছি লালপাহাড়ির দেশে,
শাল-মহুলে, মাদলের বোলে মিশে।
রক্তপলাশে, টাঙ্গি- কুড়ালে শানে –
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’!

তোমাকে খুঁজেছি কবিতার খাতায়, গানে।
তোমাকে খুঁজেছি মানবিক জাগরণে।
তোমাকে খুঁজেছি নিঃসঙ্গতায় একা।
লালগড়েও তোমার সঙ্গে দেখা॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
তপ্ত রোদ বল্‌গাহীন
মূল কবিতা - ‘’রক্তদাগ’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থ থেকে
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১২ অক্টোবর, ২০১২

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


তপ্ত রোদ বল্‌গাহীন,
নাভিশ্বাস রাত্রিদিন।
বৃষ্টি আয়।
শিশুর দল, জ্যোৎস্না মুখ,
অবাক চোখে সৃষ্টিসুখ
আদুল গায়।
বৃষ্টি আয়, বৃষ্টি আয়
বৃষ্টি আয়, বৃষ্টি আয়॥

খটখটে তালপুকুর,
নদীর স্রোতে করুণ সুর
ছলাৎছল।
খেলছে মাঠ, খেলছে রোদ
নুন-ঘামের জীবনবোধ –
খেলবি চল্‌।
খেলবি আয়, খেলবি আয়
খেলবি আয়, খেলবি আয়॥

স্বপ্ন-ভোর, রাত্রি জল
আঁধার ফুঁড়ে বর্গি দল,
লুঠতরাজ।
ব্যস্ততায় কর্মময়,
জোট বাঁধার স্বপ্ন জয়
যুদ্ধ সাজ।
লড়বি আয়, লড়বি আয়
লড়বি আয়, লড়বি আয়॥

কল্পনায় দৃশ্যমান
সবুজ মাঠ, হলুদ ধান
অস্তরাগ।
যুদ্ধ জয়ে প্রাণের দাম,
ধানের শিসে মাথার ঘাম,
রক্তদাগ … ...
ডাকছে আয়, ডাকছে আয়
ডাকছে আয়, ডাকছে আয়॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই - সিঙ্গুর ২০০৬
মূল কবিতা - কবি সব্যসাচী গোস্বামী
'প্রতীক্ষায়, প্রসব যন্ত্রণায়’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত
পরিবর্তন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
(প্রেরণা - সলিল চৌধুরী)
সুরারোপ - ২৩ জানুয়ারি,, ২০১৩


এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই –
খুঁড়লে কিন্তু উঠতে পারে আস্ত সূর্যটাই॥
এত কোমল, এত কোমল হৃদয় যেন পদ্ম-সরোবর,
এরই মাঝে লুকিয়ে আছে কালবোশেখি সর্বনাশের ঝড়।
ঈশান কোণে জমেছে মেঘ, স্পর্ধায় বুক টান –
বলছে হেঁকে – “জান কবুল, হেই সামালো ধান!”

হেই সামালো, ধান হো
কাস্তেটা দাও শান হো
জান কবুল আর মান কবুল
আর দেব না, আর দেব না
রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো


এত আগুন এত আগুন চাপা ছাই –
খুঁড়লে কিন্তু উঠতে পারে আস্ত সূর্যটাই॥

ভাঙা গতর, মলিন মুখ, লাঙল-ঠেলা কাঁধ –
এই শরীরই অজেয় দুর্গ – প্রতিরোধের বাঁধ।
ভাঙতে ভাঙতে, নিভতে নিভতে আবার ওঠে জ্বলে –
অন্ধকারের মুখোশটা দেয় খুলে।
সিঙ্গুরে চাষি মাথা তুলে গায় তেভাগার গান,
বলছে হেঁকে, “জান কবুল, হেই সামালো ধান!”

হেই সামালো, ধান হো
কাস্তেটা দাও শান হো
জান কবুল আর মান কবুল
আর দেব না, আর দেব না
রক্তে বোনা ধান মোদের প্রাণ হো


এত আগুন, এত আগুন চাপা ছাই –
খুঁড়লে কিন্তু উঠতে পারে আস্ত সূর্যটাই॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
অগোছালো ঘর, অপেক্ষায় বসে থাকে মা
মূল কবিতা - ‘প্রতীক্ষা’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘এই সংলাপ ব্যক্তিগত’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত। কবির মায়ের উদ্দেশে লেখা কবিতা।
পরিবর্ধন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - জানুয়ারি, ২০১৩

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


অগোছালো ঘর, অপেক্ষায় বসে থাকে মা,
হায়, ছেলে গেছে দূর তেপান্তর।
সংসার দুর্বহ, সুখ নয়, অন্ধ কারাগার।
করুণ ঝাপসা মলিন মুখ মা’র।
কাটে না অন্ধকার রাতের প্রহর –
হায়, ছেলে গেছে দূর তেপান্তর॥

তবুও হৃদয় ছুঁয়ে প্রতীক্ষা,
চেনা প্রত্যাশা।
তবুও স্মৃতির অ্যালবামে চেনা ছবি,
চেনা ভালোবাসা।
উথাল-পাথাল নদী বুকের ভিতর –
হায়, ছেলে গেছে দূর তেপান্তর॥

মা, তোর নিখোঁজ সন্তান
খুঁজে ফেরে আলোর সন্ধান।
মা, তোর প্রতীক্ষার শেষ,
সীমান্তে মুক্তির স্বদেশ –
একদিন আসবে মা, সূর্যের ভোর।
ছেলে গেছে দূর তেপান্তর॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
আমার ঈশ্বরী - মন ভালো নেই আমার
মূল কবিতা - ‘আমার ঈশ্বরীকে’ – কবি সব্যসাচী গোস্বামী
‘ভিজে যাওয়া কবিতা খাতা’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত। কবির মায়ের উদ্দেশে লেখা কবিতা।
পরিবর্তন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ৩ জানুয়ারি, ২০১৩

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


মন ভালো নেই আমার, তোমার শরীর।
একলা হৃদয়ে রাত জাগো, আমার ঈশ্বরী।
বুকে জমা কত কথা, সময় ফেরারী,
যন্ত্রণা নিয়ে রাত জাগো, আমার ঈশ্বরী।

রাগ-অনুরাগ, মান-অভিমান, এই ভাব, এই আড়ি।
জলে ভেজা চোখে রাত জাগো ঈশ্বরী।

নির্ঘুম রাতে তোমার চোখেতে রঙিন স্বপ্নের সারি,
ভালোবাসা বুকে রাত জাগো ঈশ্বরী।

শ্বেত সন্ত্রাসে, নাগিনীর বিষে গুমোট বাতাস ভারী,
ত্রস্ত হৃদয়ে রাত জাগো ঈশ্বরী।

অনেক হৃদয়ে দৃঢ় প্রত্যয়ে সংগ্রাম রেখে জারি,
দশপ্রহরণে জ্বলে ওঠো ঈশ্বরী॥

.         ***************************                    
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর