কবি রাজেশ দত্তর গান ও কবিতা
*
ডিম্‌ ডিম্‌ ডিম্‌ মাদল বাজে
মূল কবিতা - ‘মন পড়ে আছে খুদে নদীর বাঁকে’ - কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
‘তুমি আলো এনেছ’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১৮ মার্চ, ২০১৪

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


ডিম্‌ ডিম্‌ ডিম্‌ মাদল বাজে
খুদে নদীর বাঁকে,
সুন্দরী লো সুন্দরী,
সব নোলক দোলাও নাকে॥

তির্‌ তির্‌ তির্‌ পাথর বেয়ে
নদীর ছুটে চলা।
সুন্দরী, তোর রূপের ছটায়
বিবাগী মন ভোলা॥

ঝিম্‌ ঝিম্‌ মন নেশায় মাতাল
মাদল বাজার তালে।
সুন্দরী, সব আয় ছুটে আজ
খুদে নদীর জলে।
মাতাল নদীর জল।
মাতাল করা নাচের তালে
মাদলে তোল্‌ বোল॥

আগুন ঝরা ফাগুন মাসে,
বনে বনে কী উচ্ছ্বাসে
ফোটে পলাশফুল।
পাষাণ বুকে মহুয়া ফুল
দোলে দোদুল-দুল।
নেশা নেশা রঙিন চোখে,
সুন্দরী লো, তোকে দেখে
ভ্রমর হল মন।
সুন্দরী লো, বুকে এসে
মনের কথা শোন্‌॥

ডিম্‌ ডিম্‌ ডিম্‌ মাদল বাজে,
বুকে আমার ঝড় –
সুন্দরী লো, কবে রে তুই
আসবি আমার ঘর?

.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
কোনও গণসংগীত সংস্থা বা শিল্পী, এই কবির এই গানগুলি অথবা তাঁর অন্যান্য গানের সুর ও স্বরলিপি পেতে আগ্রহী
হলে নীচের চলভাষে যোগাযোগ করতে পারেন -
চলভাষ - ৯৪৩৪৫১৬৮৯৮ / ৯৩৩০৪৬২৬২০ / ৯৪৩৩৫৬৬৩০২
অথবা ই-মেল করুন-
rajeshdattain@yahoo.com / rajeshdattain@gmail.com    
অথবা এই ওয়েব-সাইটে মেল করুন -
srimilansengupta@yahoo.co.in     
*
আকাশের গায়ে ওই তারাদের দেশে
মূল কবিতা - ‘সুন্দর’ - কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
‘তুমি আলো এনেছ’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত
পরিবর্তন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


আকাশের গায়ে ওই তারাদের দেশে
আমি দেখেছি তোমায়।
তোমার চুলের রাশি মেঘমল্লার,
তোমার মুখের হাসি সাতনলি হার।
ওই রামধনু রঙে আঁকা আকাশের গায়ে –
আমি দেখেছি তোমায়॥

তুমি এক ফালি সোনা রোদ
ছুঁড়ে দাও রুপালি আকাশে,
পাখির ডানায় ভেসে ভেসে –
দিন আসে, দিন আসে।
তার আসার পথে চোখ মেলে –
আমি দেখেছি তোমায়॥

আমি শুনেছি তোমার কান্না বরষার রাতে,
বাউলের হাতে ধরা একতারাতে।
তোমায় দেখেছি বনহরিণীর চোখে
তার কাজলকালোতে॥

নদীর এপারে বসে ওপারের ঘাটে
আমি দেখেছি তোমায়,
কপোতের শুভ্র পাখায়
আলোছায়ায়, আলোছায়ায়।
ঘাসে ঘাসে শিশির ফোঁটায় --
আমি দেখেছি তোমায়॥

.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
সোহাগবালা
মূল কবিতা - ‘সোহাগবালা’ - কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
(‘নারী তুমি কে’ কাব্যগ্রন্থে প্রকাশিত)
পরিবর্তন, গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২৭ মে, ২০১৮

কবিকণ্ঠে ইউটিউবে এই গানটির  
ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন . . .    

সোহাগবালা, সোহাগবালা
দুয়ার খোল্‌ তোর।
রাত গিয়েছে চলে সোহাগ,
এসেছে আজ ভোর॥

দুয়ার খোল্‌ সোহাগবালা,
রাত হয়েছে ভোর –
ছেঁড়া কাপড় ফেলে সোহাগ,
নতুন কাপড় পর।
নতুন রঙে সাজিয়ে ডালা
প্রভাত বরণ কর।
সোহাগবালা, সোহাগবালা
নতুন কাপড় পর।
রাত গিয়েছে চলে সোহাগ,
এসেছে আজ ভোর॥

পুরানো তোর মালাখানি
দে রে ছুঁড়ে ফেলে।
নতুন মালা গাঁথ্‌ রে সোহাগ,
শিশির-ভেজা ফুলে॥

রাতের সাথে বাসি কান্না
দে রে বিদায় আজ –
দুঃখ-সুখের সাজিয়ে ডালা
এলো সুখের সাজ।
সোহাগ রে, তোর দুঃখ গাঁথ্‌
সুখের সুতোয় আজ।
দুয়ার খোল্‌ সোহাগবালা,
পর রে নতুন সাজ।
রাত গিয়েছে চলে সোহাগ,
এসেছে ভোর আজ॥

.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
তাপসী, তোর সিঙ্গুর জুড়ে বৃষ্টি নামুক
মূল কবিতা - কবি একলব্য চট্টোপাধ্যায়
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ২০ মে, ২০১৩

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
ডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


তাপসী, তোর সিঙ্গুর জুড়ে বৃষ্টি নামুক, বৃষ্টি নামুক।
রাধারানীর নন্দীগ্রামে বৃষ্টি নামুক, বৃষ্টি নামুক।
বৃষ্টি নামুক ছিতামণির স্বপ্ন জুড়ে,
বৃষ্টি নামুক শহিদ সাথীর বীর শরীরে।
বৃষ্টি নামুক লক্ষ চাষির বক্ষ জুড়ে –
বন্ধ মিলের মরা ঘাসে মন্দাকিনীর বৃষ্টি নামুক॥

বৃষ্টি নামুক ইশতেহারের পাতায় পাতায়।
বৃষ্টি নামুক উজল রুশে ভ্লাদিমিরের উজ্জ্বলতায়।
বৃষ্টি নামুক জোসেফ স্তালিন, অমর তোমার বিজয়গাঁথায়।
মাও সে-তুং-এর লং মার্চের জয়যাত্রায় বৃষ্টি নামুক॥

বৃষ্টি নামুক চারু, কে.সি-র আত্মত্যাগের মহান দিশায়।
বৃষ্টি নামুক নতুন দিনের আলোর ঊষায়।
বৃষ্টি নামুক মূক জনতার মুখর ভাষায় –
দেখো, কাঁপছে স্বদেশ মুক্তি আশায়, বৃষ্টি নামুক, বৃষ্টি নামুক॥

.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
জ্যোতিষ বিরোধী গান - হাত দেখাইলাম, কবচ নিলাম
মূল কবিতা - কবি অরুণ ভট্টাচার্য
গীতিরূপান্তর ও সুর - কবি রাজেশ দত্ত
সুরারোপ - ৭ মার্চ, ২০১১

কবিকণ্ঠে সাউণ্ডক্লাউডে এই গানটির  
অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .   


হাত দেখাইলাম, কবচ নিলাম,
‘শনি’ তো ঘাড় ছাড়লো না।
পেটের জ্বালায় নেই চোখে ‘বুধ’,
‘বেস্পতি’ ধার ধারলো না॥

গুনিন বলেন, করতে শোধন।
ছুতো ধরেন, ছুঁত লেগেছে।
সোনা-রুপোর বায়না ধরেন,
দেন এগিয়ে যার যা আছে।
না দিলে তো হাজার ফাঁড়া!
‘রাহু’, ‘কেতু’ সরলো না।
পেটের জ্বালায় নেই চোখে ‘বুধ’,
‘বেস্পতি’ ধার ধারলো না॥

‘চন্দ্র’ বসেই পাঁচ আঙুলে
পাল্টাবে হাল রাতারাতি!
আর কত কী আয় উন্নতি,
আয়ুরেখার ঊর্ধ্বগতি!
রত্ন কিনে পকেট ফাঁকা,
ভাগ্য তবু ফিরলো না।
পেটের জ্বালায় নেই চোখে ‘বুধ’,
‘বেস্পতি’ ধার ধারলো না॥

ভুজুং-ভাজাং, ফুস্‌-মন্তোর
অবুঝ বুঝায় জ্যোতিষ এসে।
সবুজ রঙিন স্বপ্ন দেখে
হাসলো সবাই অনায়াসে।
শত্রু আজও অস্ত্র শানায়,
বাণটোনাতে ধরলো না।
পেটের জ্বালায় নেই চোখে ‘বুধ’,
‘বেস্পতি’ ধার ধারলো না

********************************

[ এই গানের শেষের অন্তরাটি সমকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিম্নলিখিত রূপে
পরিবর্তিত করা হয়েছে, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮। ]

ভুজুং-ভাজাং, ফুস্‌-মন্তোর
অবুঝ বুঝায় জ্যোতিষ এসে।
সবুজ রঙিন স্বপ্ন দেখে
হাসলো সবাই অনায়াসে।
শত্রু আজও অস্ত্র শানায়,
‘রাম’ নামে কেউ অস্ত্র শানায়,
‘রহিম’ বলেও অস্ত্র শানায় –
বাণটোনাতে ধরলো না।
পেটের জ্বালায় নেই চোখে ‘বুধ’,
‘বেস্পতি’ ধার ধারলো না॥


.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর     
*
প্রিয় বড়দিকে
কবি রাজেশ দত্ত
রচনাকাল: ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
। কবির স্কুল জীবনের প্রথম শিক্ষয়িত্রী, তাঁর গানের প্রেরণা
এবং
তাঁর সবচেয়ে প্রি শিক্ষিকা বিগতপ্রাণা শ্রদ্ধেয়া সাধনা চক্রবর্তীর স্মরণে রচিত

আমার মনের আঙিনা

ঢেলে
সকালের সোনা রোদ,
গড়েছ আমার চিন্তাচেতনা,
আমার জীবনবোধ।
আমার প্রাণের 'কিশল
' জাগে
তোমার 'সহজ পাঠে' --
তোমার স্নেহের বর্ণমালা

নানা রঙে ফুল ফোটে।
তোমার সুরেই একতারা বেঁধে
গে
য়েছি বাউল গান।
জীবন পাত্র পূর্ণ করে
মাধুরী করেছ দান।
অচেনাকে চিনে, অজানাকে জেনে
চলেছি তোমার পথে --
পরিচ
হল বিস্ম ভরা
এই বিশ্বের সাথে।
তোমার চোখের তারার আলো

পথ খুঁজে আজো চলি...
সন্ধ্যা ঘনালে, প্রাণে দাও জ্বেলে
সহস্র দীপাবলি।
তোমার স্নেহের ছায়ায়
পে
য়েছি
সুনিবিড় আশ্রয়।
তোমার অসীম প্রেরণা শেখালো
ভয়কে করতে জয়।
তুমিই আমার আলোর দিশারী,
অনন্ত কোজাগর।
গহন আঁধারে, অকূল সাগরে
উজ্জ্বল বাতিঘর


-----------------------------------
--  জন্মদিনে প্রিয় বড়দির অমর ও অম্লান স্মৃতির উদ্দেশে অন্তরের গভীর
অনুরাগে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও শতকোটি প্রণাম... রাজেশ।
রচনাকাল: ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

.              ***************************               
.                                                                                     
উপরে      


মিলনসাগর