কবি রমেশচন্দ্র শীল-এর কবিতা
যে কোন কবিতার উপর ক্লিক করলেই সেই কবিতাটি আপনার সামনে চলে আসবে।
১।
২।
৩।
৪।
৫।
৬।
৭।
৮।
৯।
১০।
১১।
১২।
১৩।
১৪।
১৫।
১৬।
১৭।
১৮।
১৯।
২০।
২১।
২২।
২৩।
২৪।
মরি হায় বাংলাদেশে বসতি বাংলা আমার প্রাণ    
হিন্দু মুসলিম দেশবাসী শুন বন্ধুগণ      
ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি আর কয়দিন চলিবে বল      
অত্যাচারের প্রতিশোধ আমার নেওয়া নাইবা হবে   
হুশিয়ার খুব হুশিয়ার      
বাংলার কৃষক ভাইগণ    
মিলে মিশে এক সাথে সব চল    
ওঠ জাগো কৃষক ভাই থেকো না ঘুমে      
এগিয়ে চল   
একি চমত্কার    
একুশে ফেব্রুয়ারী আবার  
ভাষার জন্য জীবন হারালি  
গরিবের দুঃখের কথা কার কাছে জানাব বল   
শুন শুন দেশের ভাই বোন রে  
ভোট দিবা কারে  
হুন্যনিরে গণ্যার বাপ     
আমাদের সমাজনীতি দেখে প্রাণে জাগে ভীতি   
শুনরে ভাই আজগুবী খবর   
আমি বাংলা ভালবাসি   
উঠেছে শান্তির নিশান   
চাষীর গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ে চাষীরে কইও  
শ্রমিক দরদী ভাই জগতে নাই     
চাষী ভাই বোন রে মেঘে দিল জল   
দেশের হাল চাল কিছু বুঝ নি      
*
মরি হায় বাংলাদেশে বসতি বাংলা আমার প্রাণ

মরি হায় বাংলাদেশে বসতি বাংলা আমার প্রাণ |
বাংলার মাটি বাংলার জল বাংলার উপাদান
.                        কিরে হৈ হৈয়া
বাংলার আশা বাংলার ভাষা গাহিব বাংলার গান ||
বাংলার মাঠে নদীর তটে ফলছে সোনার ধান |
দুলছে শ্যামল ঝলমল ঝলমল হেরে জুড়ায় প্রাণ ||
প্রকুতির লীলা নিকেতন সোনার বাংলা খান
তাতে মন মাতানো প্রাণ জুড়ানো দোয়েল শ্যামার গান ||
.                        কিরে হৈ হৈয়া-----
ঢেউয়ের তালে হেলে দুলে চলছে নৌকাখান
চলছে বহর বদর বদর মাঝি মাল্লার গান ||
বাংলা আমার মাতৃভাষা শুনে জুড়ায় প্রাণ
ওমা বাংলাভূমি চরণ চুমি কোলে দিও স্থান ||
.                        কিরে হৈ হৈয়া-------


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
হিন্দু মুসলিম দেশবাসী শুন বন্ধুগণ                        

হিন্দু মুসলিম দেশবাসী শুন বন্ধুগণ,
বারে বারে দেশে কেন ঘটে অঘটন ||
জাতির পিতার বাণী ২ নিলে মানি হিন্দু মুসলমানে |
ভ্রাতৃত্ব মিলনে আছি স্বাধীন পাকিস্থানে ||
তবে কেন বিশৃঙ্খল ২ ভাইসকল দেখ বিচরিয়া |
সমস্যা সমাধান হয় কি লাঠি ছুরি দিয়া |
জাতিসংঘের সনদ আছে ২ সবার কাছে বলি বন্ধুগণ |
এত হানাহানি দেখি কেন অকারণ ||
হিন্দুগরিষ্ঠ অঞ্চল ২ ভাইসকল হিন্দুস্থান হবে |
মুসলিমগরিষ্ঠ অঞ্চল পাকিস্থানে যাবে ||
রাষ্ট্রসংঘের রায় মতে ২ বিচারেতে হয়ে যাবে ধার্য |
ভাইয়ে ধরে ভাই সংহারে কি জঘন্য কার্য ||
স্বাধীন হলাম ষোল বছর তার খবর জানি বন্ধুগণ |
তবু কেন নিরীহের উপর এক নির্যাতন ||
দেখুন হিন্দুস্থানে ২ মুসলিমগণে আছে হতাশায় |
নিশ্চয়তা নাই কিছু কবে কি ঘটায় ||
তেমনি পাকিস্থানে ২ হিন্দুগণে দুশ্চিন্তায় মনভরা |
কখনি কি দশা ঘটে নাই কূল কিনিরা ||
বন্যা আর ঘূর্ণিঝড়ে অনেক ঘরে ছাউনি আজও নাই
দুইবেলা পেট ভরে খায় না ভেবে কিবা চাই ||
পশ্চিম বাংলার মুসলিমগণ ২ অনশন অনেক জনে করে |
হত্যা লুট গৃহদাহ গরীবের উপরে ||
গরীব হিন্দু মুসলিম মোরা ২আধা মরা উদর পোষণে |
তাদের উপর অত্যাচার কোন্ বিধির বিধানে ||
আইন কানুন কোর্ট কাছারি২ নিত্য হেরি উভয় দেশে আছে |
দোষী লোক শাস্তি পাবে আইনেতে রয়েছে |
নিরপরাধ সাজা পেতে ২ জীবনেতে  দেখি নাই কখন |
যার দেশে তার বিচার হবে আছে নির্ধারণ |
দেশের সম্পদ নষ্ট করি ২ বুঝতে নারি কিবা শান্তি পায় |
রামের দোষে শ্যামের দন্ড দেখেছেন কোথায় ||
এই সব দেশনাশা কার্য অন্যায্য বন্ধ নাহি হলে |
শান্তিকামী লোকের সুখ নাই কোন কালে ||
দুর্ঘটনা ঘটায় যারা ২ মূলে তারা গুন্ডা দলের লোক |
টাকা পয়সা সোনা রূপার উপর আছে তাদের ঝোঁক |
সাত পুরুষের ভিটা ছাড়ি ২ দেশান্তরী হিন্দু মুসলিম হয় |
সেই দৃশ্য দেখিলে ভাই প্রাণে সহ্য নয় ||
দারুণ শীতে কাপড় নাই ২ দেখ ভাই শিশু কোলে নিয়া |
প্রাণের আশায় যায় দেশের মমতা ছাড়িয়া ||
জননী জন্মভূমি ২ নিত্য নমি জাহ্নবী জনক |
জনার্দন পঞ্চ জ কার শান্তির বাহক ||
দেশের দশা দেখে ২ দুই চোখে আসে ভাই জল |
কে আনিল এই উত্পাত অমৃত গরল ||
স্বাধীন নাগরিক হই কারে কই বাক্য নাহি সরে |
ভাই বলে আলিঙ্গিয়া জড়ায়ে ধরি কারে ||
এই সম্পর্ক চিরদিন অমলিন যাবৎ জীবন |
জন্ম হতে ধর্ম বড় বলে জ্ঞানীগণ ||
শান্তিকামী মানুষ যারা সদা তারা পরহিতে রত |
পর-জীবন রক্ষায় নিজ প্রাণ দিতে উদ্যত ||
আমীর হোসেন কিসমত আলী গেলা চলি নিজ জীবন দিয়া |
পূর্ব পাকিস্থানে এক ইতিহাস রচিয়া ||
আরও অনেক জনে জীবন দানে পর-প্রাণ রক্ষিতে |
প্রমাণ পেয়েছি দেশে এইবার দুর্যোগেতে |
মানুষকে যে ভালবাসে কয় হাদিসে হজরতের ( দঃ ) বাণী |
খোদায় তাকে ভালবাসে হাদিসেতে শুনি ||
গীতায় জীবে শিবে এক বলে কয় |
জীবে সেবা মহাপুণ্য করেছে নির্ণয় ||
পবিত্র খোদার কালাম আছে সুনাম জগত মাঝার |
সেই কথা কে রাখিল কে মানিল আর | |
অহিংসা পরম ধর্ম তার মর্ম যদি মানিত |
তবে কি মানুষকে মানুষ আঘাত করিত ||
কি হিন্দু-মুসলিম ২ নাই ব্যবধান কায়েদে আজমের বাণী |
হিন্দু মুসলিম নাইরে  ভাই সবাই পাকিস্তানী ||
চট্টগ্রামে এক ঘরে ২ বাস করে হিন্দু মুসলমানে |
এক পুকুরে স্নান করে আনন্দিত মনে ||
সুরেন্দ্র ব্যানার্জি বিপিন পালে গেল ব’লে শুনিয়াছি কানে |
এমন মিলন বাংলাদেশে নাই কোনখানে ||
সেই ঐতিহ্য কোথায় গেল ২ বল বল বন্ধুগণ |
কোথায় গেল হিন্দু মুসলিম অপূর্ব মিলন ||
বার আউলিয়ার চট্টগ্রাম ২ এই সুনাম কেমনে রাখিবে |
আলাউল নবীন সেনে স্থান কোথায় দিবে ||
দেশপ্রিয় সবার প্রিয় মাস্টার কাজিমালি |
সূর্য সেন প্রীতিলতার সুনাম যাবে চলি ||
ভাইয়ে ভাইয়ে ২ এক হয়ে ছিলাম সব সময় |
আজ কেন তোমায় দেখে আমার মনে ভয় ||
তোমার আশ্বাসে আমার বুকে আসে বল |
আমি যথা বৃক্ষ হই তুমি তথায় জল ||
কেহ ছাড়া কেহ নাই দেখ ভাই দেখ বিচারিয়া |
বাগানের সৌন্দর্য বাড়ে নানা ফুল দিয়া ||
পাকিস্তানে হিন্দুগণে ভাবে মনে হিন্দুস্থানে যাব |
জানমালের নিরাপত্তায় সুখে দিন কাটাব ||
নিশ্চিন্ত সুখ ছাড়ি দেশান্তরীহয়ে পাবে তাপ |
অনিশ্চিত সুখের জন্য কোথায় দিবে ঝাঁপ ||
ছত্রিশ জাতে এক দেশেতে মাখামাখি রই |
অন্য দেশে চলে গেলে সেই পরিবেশ কই ||
সেই দেশের মানুষজনে আমার মনে মিলন যদি হয় |
বিশ বছর সময় লাগিবে তার আগে নয় ||
জীবনের সন্ধ্যায় এসে আপনাদের পাশে আর কি বলতে পারি |
শান্তির পতাকা তুলুন হাতে হাতে ধরি ||
বিরহে প্রেম বলিষ্ঠ সাধুগণ বলে |
ভ্রাতৃপ্রেম অক্ষুণ্ণ রবে আবার মিলন হলে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি আর কয়দিন চলিবে বল

ভাইয়ে ভাইয়ে মারামারি আর কয়দিন চলিবে বল
সাম্রাজ্যবাদীর ফাঁদেতে পা দিয়ে সর্বনাশ হল
.                        আর কয়দিন চলবে বল ||
ক্ষুদিরাম, কানাইলাল, সূর্য সেন, টেগরা বল |
দুই ভাইয়ে আন্দোলন করে, বৃটিশকে খেদাল জোরে,
স্বাধীনতা কাহার তরে, মানুষ যদি না রহিল |
বার বার দাংগা দাপটে, গরীব মরে হাটে মাঠে |
যার বুদ্ধিতে দাংগা ঘটে তার গায়ে কি আঁচড় পৈল ||
দাংগার বীজ ছিল কোন্ দেশে, তারে উড়াই আনে কোন্ বাতাসে |
হিন্দু মুসলিম বিনাদোষে, কি কারণে প্রাণ হারাল
লৌ মাফেজ হতে শুনি, মানুষ পাঠায় কাদের গণি
মানুষের মানুষের প্রাণহানি, এ মানুষ কে পাঠাইল ||
আরও একটা আবেদন ২ বন্ধুগণ করি সবাইর কাছে |
দুর্বৃত্ত গুন্ডা দেশে বহু গজায়েছে ||
হত্যা লুট রাহাজানি ২ দিন যামিনী যেই সেইখানে হয় |
স্বাধীন দেশে এই সব দুষ্টে দেবেন না প্রশ্রয় ||
বিষবৃক্ষ অল্পকালে ২ ধ্বংস হলে দেশের লোক সন্তুষ্ট |
গোড়া মোটা হলে তারে নোয়াইতে কষ্ট ||
ম্যালেরিয়া কালাজ্বরে ২ নাহি করে জাতের বিচার |
যারে পারে তারে ধরে প্রকৃতি তাহার ||
আজকে আমাকে যারা করে অত্যাচার |
কাল তোমারেও না করিবে কি গ্রান্টি তার ||
তাই বলি বন্ধুগণ ২ সচেতন হও জানি শুনি |
চোরের নাই শ্বশুরবাড়ি প্রাচীন লোকের বাণী ||

.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
অত্যাচারের প্রতিশোধ আমার নেওয়া নাইবা হবে

অত্যাচারের প্রতিশোধ আমার নেওয়া নাইবা হবে,
আমার পরে আসবে যারা বোধকরি তারাই নেবে |
সারাজীবন ধরে আমি তারই চেষ্টা করে যাব |
মনের কোণে সুর উঠিবে, কলম দিয়ে তাল বাজাব |
লাল মেঘেতে করবে খেলা আকাশ ভরা জোছনা রাতে |
দোল খেয়ে জ্বলবে বাতি প্রতি ঘরে লাল শিখাতে |
তার আলোতে স্বপ্ন সফল করবে মুক্তি পূজারীরা
সেদিন হবে জানাজানি দোস্ত কারা দুশমন কারা |
সোনার লোভে বিভোর হয়ে যার তার বুকে মারছ লাথি
সময় বুঝে মাথা গুঁজে পালাবে তোমার পাপের সাথী
হিংস্র জন্তুর ডাক থামিবে, পথের বাধা হবে শেষ |
বুক ফুলিয়ে বলে উঠব, এই ত আমার দেশ |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
হুশিয়ার খুব হুশিয়ার

হুশিয়ার খুব হুশিয়ার, হুশিয়ার খুব হুশিয়ার-----হুশিয়ার |
বিভেদকারী কাছে আসি বন্ধুর ভাব দেখায় ||
সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তচর, শ্রমিক ইউনিয়নে তারা ঘুরে নিরন্তর,
শ্রমিকে শ্রমিকে দ্বন্দ্ব লাগাতে চায় আনিবার ||
আছে যত শ্রমিক ভাই,
.                        শ্রমিকের দরদী শ্রমিক আর কেহ নাই,
বিভেদ মন্ত্র কানে ঢুকাই, উস্কানি দেয় বারংবার ||
যদি বাঙালী শ্রমিক পায়,
.                        অবাঙালী শ্রমিকেরে দুশমন বলি গায়,
আবার আবাঙালী শ্রমিক পাইলে, বাঙালীরে কয় দুশমন তার ||
দেশবাসী হিন্দু মুসলমান,
.                        এই দুশমন হইতে সবে থেক সাবধান,
তারা সুযোগ পাইলে তলে তলে বসাইব দাঙ্গার বাজার ||
শ্রমিক গোষ্ঠী শ্রমিকের ভাই,
.                        বাঙালী আর অবাঙালী কোন প্রশ্ন নাই,
প্রাণ দিয়ে সংগঠন বাড়াই, চল ঝান্ডা উড়াই একতার |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
বাংলার কৃষক ভাইগণ

বাংলার কৃষক  ভাইগণ, হও রে চেতন
জমিদারের হাতের মুঠায় কৃষকের জীবন ||
মাথার ঘাম পায়েতে ফেলি জলে ভিজি রোদে জ্বলি,
আটমাস থাকে গোলা খালি, নিত্য অনটন
বন্যায় মারে, পোকায় কাটে, জমিদারের ভাগা লুটে,
রেহাই চাইলে জ্বলি উঠে, আগুনের মতন ||
শোষণকারী জমিদার, জমিদার নয় “যম-দুয়ার”,
লাঙল যার জমি তার, কৃষকের এই পণ ||
হিন্দু মুসলমানে মিলি, একসঙ্গে আওয়াজ তুলি,
জমিদারী যাক চলি, বাঁচিবে জীবন ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
মিলে মিশে এক সাথে সব চল

মিলে মিশে এক সাথে সব চল, ওরে চাষীর দল |
সোনার মাঠে ঝলমল করে নূতন মেঘের জল |
মোদের ঘামে পয়দা করি সোনার ফসল রে ||
হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ
আমার খুনে আজকে যারা দেশে বড় লোক,
বাঁচি মরি চায় না, তারা সদাই শোষণ জোঁক রে
.                            যারা বড় লোক-----
ছুটে এস দরদী ভাই যত চাষীর দল,
বহু দিনের সখ স্বপ্ন করিব সফল রে ||
হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ হৈ-----
মোদের রক্তে ফসল ফলাই ;  পরের গোলা ভরে
মোরা খাই কি মা খাই আছি কি নাই, জিজ্ঞাসা কে করে রে
আদ পেটা খাই লাঙল চালাই, শরীরে নাই বল,
মাথা তোল, ছিঁড়ে ফেল পুরানো শৃঙ্খল রে  ||
হিন্দু মুসলিম চাষী মোরা একযোগ যদি হই,
পর্বত উপাড়ি ফেলতে বেশী দেরি কই রে |
মোদের অনৈক্য দেখে তাদের বাড়ে বল
শোষক দলে খর্ব কর, মিলি চাষীর দল রে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
ওঠ জাগো কৃষক ভাই থেকো না ঘুমে

ওঠ জাগো ক-ষক ভাই থেকো না ঘুমে
বীর সন্তান যত আছ তোমরা ভারত ভূমে ||
পরাধীনা পরাশ্রিতা জননী আমার |
তোল রক্ত পতাকা সকলে করিয়া হুঙ্কার |
শৃঙ্খল টুক্ রো টুক্ রো করো সিংহ বিক্রমে ||
দেশে , কৃষক মজুর আজি সকলে মিলো |
ছাই-চাপা আগুন আবার জ্বালো জ্বালো,
ধ্বংস কর যত শোষণ জুলুমে ||
কারাবরণ করেছ কত কত অনশন
ভাঙ্গব, চল্লিশ কোটির পদাঘাতে বিদেশীর শাসন,
ভ্রাতৃ প্রেমেতে মিলে হিন্দু মুসলিমে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
এগিয়ে চল

এগিয়ে চল, এগিয়ে চল, এগিয়ে চল,
মুক্তি যুদ্ধের বীর সেনা মোরা, মুছাব মায়ের নয়ন জল |
.                        এগিয়ে চল, এগিয়ে চল, এগিয়ে চল |
বাজে বিজয় ভেরী গগণ বিদারি কিসের শঙ্কা কিসের ভয়,
মুক্ত কন্ঠে গাহিব মোরা পাকিস্থানের জয়,
আমরা আনিব বিশ্বশান্তি, আমরা ঘুচাব বিভেদ ভ্রান্তি
আমরা গড়িব নতুন দুনিয়া মিলে যত তরুন দল ||
প্রগতির তালে চলিব পা ফেলে, প্রতিক্রিয়ার হবে রুদ্ধশ্বাস
বিভেদের মূল সমূলে উত্পাটি, দৈন্য আরাতি করিব নাশ
পূর্ব আকাশে নবারুণ, গণ সিংহনাদ ছাড়িছে শুন,
অরুণ বেগে আয়রে তরুণ, সঞ্চারিয়া দেহে নবীন বল |
প্রতিঘরে দীপালি জ্বালিব, পুলকে পূর্ণিত সবার প্রাণ |
সর্বহারা দল মিলিয়া গাহিবে সুমধুর সুরে শান্তির গান
বীর পদভরে কাঁপিবে মেদিনী, দিগন্ত ব্যাপিয়া উঠুক জয়ধ্বনি
আয় ছুটে আয় তরুণ তরুণী, ভীরুতা ক্লান্তি চরণে দল ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
একি চমত্কার

একি চমত্কার, দেশে এল ফাঁক তালের কারবার,
গরীব মারা কল বসেছে, হুঁশিয়ার ভাই হুঁশিয়ার ||
গরীবের খোশামোদ করে যখন আসে ভোটের কাল,
ভোট ফুরালে মেম্বার হলে তখন তাদের চক্ষু লাল |
গরীবের যে ভাঙ্গা কপাল গরীব তো বুঝে না আর ||
আমরা সকল গরীবের দল, নিজের দোষে কষ্ট পাই,
যারে তারে ভোট দিয়েছি চা’র পানি আর বিড়ি খাই |
মানুষ চিনি ভোট দিতাম ভাই হইত না এই অত্যাচার ||
ভোট দিয়া মেম্বার করছি সুখ সুবিধার কারণে
ছিঁড়া গিরা দিয়া পরে মোদের মা বোনে |
ফাইন শাড়ী মেম্বারে নেয়, ভোট দিয়া এই পুরস্কার
আইন সভায় গরীব পাঠাও, ধনীর আশা কর না
মনে রেখ সর্বজনে ভাত কাপড়ের যন্ত্রণা
এক বৃষ্টিতে  বর্ষা যায় না, সামনে ভোট হবে আবার ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
একুশে ফেব্রুয়ারী আবার

একুশে ফেব্রুয়ারী আবার দেখি ফিরে এল |
এই দিনে রমনার মাঠে ছাত্ররক্তে ঢেউ খেলিল
ঊর্দু রাষ্ট্রভাষা শুনে ঢাকার যত ছাত্রগণে,
বাংলা ভাষা আন্দোলনে, রাজপথে নামিয়ে এল |
সামনে পুলিশ হল বাদী, ছাত্র দাঁড়াল খেদি
মুহুর্মুহু গগণ ভেদি শ্লোগান শুরু হল |
পুলিশ জুলুম বন্ধ কর, নূরুল আমিন গদি ছাড়
রাষ্ট্রভাষা বাংলা কর, হুংকারে ধরা কাঁপিল |
টিয়ারগ্যাস আর লাঠি পিটে, সঙ্গে সঙ্গে গুলী ছুটে |
ছাত্ররা পিছু না হটে, বুক পেতে দাঁড়ায়ে রইল,
ইংগিত দিয়া বাঙালীরে, বাংলা ভাষা রাখিবারে,
রক্ত দিয়া রাস্তা’ পরে ,শহীদ স্বাক্ষর রেখে গেল |
দুঃখের কথা কারে বলি বাংলা ভাষা গেলে চলি
সাড়ে চার কোটি বাঙালীর আত্মহত্যা করাই ভাল |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
ভাষার জন্য জীবন হারালি             

ভাষার জন্য জীবন হারালি
বাঙালী ভাইরে রমনার মাটি রক্তে ভাসালি |
(বাঙালী ভাইরে) বাঙালীদের বাংলা ভাষা জীবনে মরণে |
মুখের ভাষা না থাকিলে জীবন রাখি কেনে ||
( ও বাঙালী ভাইরে ) কীট পতঙ্গ পশু পাখীর স্বীয় ভাষার বুলি |
তা হইতে কি অধম হলাম অভাগা বাঙালী ||
( ও ) সূর্য উঠে লাল হয়ে ভাই পূরব গগনে |
তোমাদের লাল খুনের কথা উঠে মোদের মনে ||
সারে চার কোটি বাঙালী পূর্ববঙ্গে আছে |
তোরা বুকে গুলি নিলি তারা কেমনে বাঁচে ||
ধমনীতে রক্তবিন্দু থাকে যতক্ষণ
রাষ্ট্রভাষা বাংলার জন্য জীবন মরণ পণ
একজনও বাঙালী যদি থাকিব বাঁচিয়া
যদ্দিন বাঁচি তদ্দিন আছি ভাষার দাবি নিয়া ||
বঙ্গবীর শফি, বরকত, জব্বার সালাম |
কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে তোমাদের সুনাম ||
ঐতিহাসিক দিবস এই একুশে ফেব্রুয়ারী |
দিবে শহীদ স্তম্ভে পুষ্পমাল্য বাংলার নরনারী  ||



.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
গরিবের দুঃখের কথা কার কাছে জানাব বল

গরীবের দুঃখের কথা কার কাছে জানাব বল |
স্বাধীনতা পেলাম বটে, কানে শুনা সার হইল
গরীব উপবাসে মরে, কে কারে জিজ্ঞাসা করে :
স্বাধীনতা কাহার তরে মানুষ যদি না রহিল |
সুখের আশে তাড়াতাড়ি, ভোট দিয়ে মেম্বার করি,
মেম্বার দিল গলায় দড়ি রিলিফে সব প্রমাণ হইল |
ভোটের বেলা কাকা জেঠা, ফুরালে দূর হ বেটা,
তবু এই সব বুঝাতে লেঠা দেশের মানুষ কি হইল |
হিন্দু মুসলিম মনে প্রাণে, এক হয়ে যাও দেশ গঠনে
দেশের উন্নতির কারণে, স্থির বুদ্ধিতে বুঝে চল   ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
শুন শুন দেশের ভাই বোন রে

শুন শুন দেশের ভাই বোনে রে, বন্যা এল দেশে |
হিন্দু মুসলিম নরনারী মরে উপবাসে রে ||
( দেশের ভাই বোন রে ) ভোট দিয়া মেম্বার বানাইলাম উপকারের তরে |
যার ভোটে মেম্বার হল, তারে ধরি মারে রে  ||
গভর্ণমেন্ট রিলিফ দিল গরীব বাঁচিবারে |
কার রিজিক নি কনে খাইল সাক্ষী করি কারে রে  ||
ভোটের সময় গরীবের তোয়াজ করে যাই  |
ঘাট পার হলে বুর্গ্যা দাদার কথা মনে নাই রে ||
গরু মরে, ঘর পড়ি  গেল বীজ ধানের টাকা চাই
কয়, কেটেল লোন চেটেল হল, আর তো টাকা নাই রে ||
বারে বারে এই যন্ত্রণা ভোগ করে আসিলাম
আজ যদি হুঁশিয়ার নই কেমন মানুষ হলাম রে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
ভোট দিবা কারে

ভোট দিবা কারে তোমরা ভোট দিবা ভাই কারে
ভোটের জ্বালায় অস্থির হইলাম টিকতে নারি ঘরে |
যদি কাপড় আনতে যাই দুঃখের সীমা সংখ্যা নাই
হুজুরে মজুরের মত দাঁড়াই করজোড়ে |
ফুড কমিটিতে যায়, ইউনিয়ন বোর্ডে দাঁড়ায় |
এক জনেরে তিন চার জায়গায় ভোট দি কেমন করে |
যদি ঘর ডাকাতি হয়, তাদের সুযোগ অতিশয়
ভোট দিতে যে নারাজী রয়, ধরিয়া দিবে তারে |
ভাই বলতে কি সরম, আগে কথা কয় নরম,
ভোট পেলে হয় মহাগরম, যেতে নারি ধারে |
শুন হিন্দু মুসলমান, রাখ কৃষকের পরাণ,
কৃষকের দরদী পেলে ভোট দিও ভাই তারে |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
হুন্যনিরে গণ্যার বাপ

হুন্যনিরে গণ্যার বাপ ভোট দিবার লাই কই ( বলে ) পাঠাইছে
ভোট হবে ভোট দিতে যাইও, একথা  কই ঢোল পিটাইছে ||
আমার ভোটে মেম্বার হইয়া , আমার রক্ত চুষি খায়,
হক ইনচাপে কও ত দাদা তারে নি ভোট দেওয়া যায় ||
ভোট দিয়েছি বারে বারে আমার কি উপকার করে |
আর একবার ভোট দিতাম তারে, মোরে নি পাগলে পাইছে |
ভোটের সময় হলে, ভাইরে, গরীবের গায় হাত বুলায়
তারপর গরীব মরে বাঁচে মিঞার নি আর ফিরে চায় |
গাড়ি করি যেতে ভাই সালাম আল্ কি দিয়া চাই
মিঞার মুখে হাসিত নাই, বোধ করি কি অসুখ আছে ||
আইন সভার মেম্বার হল, শোন আর এক খোশ খবর |
তিন বত্সর পর উঠ্যা গেছে, পাক্কা এক দোতালা ঘর ||
দরেয়াব কর রে ভাই এত টাকা কোথায় পায়
.                                 বিজলী বাতি পর্দা টেবিল রেডিও মোটর এনেছে |
এবার শুনি কমিউনিস্ট মেম্বার হতে এল ভাই,
.                                 ভেবে চাইবা তারা বিনে গরীবের আর বন্ধু নাই |
জেল ফাঁসির নাইরে ভয় তারাই তো হক কথা কয়
তারা যদি মেম্বার হয় গরীব  গুন্যার পরাণ বাঁচে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
আমাদের সমাজনীতি দেখে প্রাণে জাগে ভীতি

আমাদের সমাজনীতি দেখে প্রাণে জাগে ভীতি,
.                        মন প্রাণে বড় দুঃখ পায় |
গরীব ঘরে জন্মে যারা, নিজেকে ধিক্কার দেয় তারা,
.                        জগতে গরীবের বন্ধু নাই ||
কোন বাড়ি নিমন্ত্রণে, গরীব যায় খুশী মনে,
.                        পেট ভরে দুই মুঠো ভাত খাবে |
বড়লোক বসে খেতে, বড় টুকরা পড়ে পাতে,
.                        মিষ্টান্ন একবাটি বেশী পাবে ||
ঘরে যার ভেল অবস্থা, বাবিরেও সে ব্যবস্থা,
.                        সকল জায়গায় খাতির কদর পায় |
ঘরে যার খেতে নাই, খেতে চায় পরের বাড়ি যাই,
.                        দুঃখের কপাল দুঃখে যায় ||
ঘরে চোর ঢুকে, কি আগুন লাগে, গরীব দৌড় মারে আগে,
.                        বড়লোক বিছানায় গড়ায় |
আরও জিজ্ঞেস করে চাকরে এত সোর গোল কেবা করে
.                        ঘুমান যায় না বেটাদের জ্বালায় ||
এত সন্মান করে যারে, ছালামে আর নমস্কারে,
                    তার প্রতিদান মন্দ নয় |
খাজনা যখন পড়ে বাকী, বাড়ি ভিটা নিলামে ডাকি
.                        জমিদারে খরিদ করে লয় ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
শুনরে ভাই আজগুবী খবর

শুনরে ভাই আজগুবী খবর
মন্ত্রী করে চট্টগ্রাম সফর |
দিনের তিনটা বেজে গেল ময়দানে সভা বসিল |
হায় কি দেখিলাম কি ঘটিল মানুষ ভয়ে জড়সড় |
হঠাৎ দেখি পচা আন্ডা মন্ত্রীরে করিতে ঠান্ডা
উড়তে লাগলো কালো ঝান্ডা মন্ত্রীর চোখের উপর |
আন্ডার মিছিল শুরু হল মেঘে যেন বৃষ্টি এল
মন্ত্রী ভাবে যাবে কোথা পালাইবার নাই অবসর |
বিপ্লবী চট্টগ্রাম জিলা সূর্য সেনের প্রধান কিল্লা |
মন্ত্রী করে তোবা তিল্লা আসবে না জনম ভোর |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
আমি বাংলা ভালবাসি

আমি বাংলা ভালবাসি,
আমি বাংলার বাংলা আমার ওতপ্রোত মেশামেশি |
বাংলা দেশের রাস্তায় চলি, মুখে ছুটে বাংলা বুলি,
বাংলা বলি হৃদয় খুলি মুখে ফুটে হাসি |
বাংলা ভাষায় হাসি কান্দি স্বপন দেখি দিবা নিশি,
চিরদিন বাংলার আশা, বাংলা দেশে করি বাসা,
বাংলা আমার মতৃভাষা বাংলার প্রত্যাশী |
বাংলা ভাষায় মাকে ডাকি, বাংলা আমার মিঠা বেশী |
গেলে বাংলা নদীর তটে, আনন্দে প্রাণ ভরে উঠে,
সোনালী ধান বাংলার মাঠে দোলে রাশি রাশি |
বাংলার দোয়েল শ্যামার ডাকে মন প্রাণ করে উদাসী,
বাংলা দেশে ফলে ফুলে, কিবা শোভা শ্যামল দোলে,
বাংলা দেশে সুধা ঢালে শারদীয়া শশী,
বাংলা আমার গয়া গঙ্গা বৃন্দাবন মথুরা কাশী |
বাংলা আমার জন্মভূমি, বাংলা মায়ের চরণ চুমি,
দৈনন্দিন বাংলাকে নমি বাংলা দেশে বসি
বাংলা দেশের ধুলিকণা স্বর্গাদপি গরিয়সী |
সোনার বাংলায় সোনা ফলে, তার তুলনা কোথায় মিলে,
বাংলার জন্য জীবন গেলে হব স্বর্গবাসী |
আমার ঠিক থাকিবে বাংলার দাবী যদিও হয় জেয়েল ফাঁসি ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
উঠেছে শান্তির নিশান

উঠেছে শান্তির নিশান, ছুটে আয় মজদুর কিষান,
বাজে মিলনের বিষাণ চিন্তা কিরে আর |
ঐ ছুটেছে দলে দলে শান্তির পতাকা তলে
দুর্নীতি আর শোষণেরে করিতে সংহার |
নির্যাতিত নিপীড়িত দেশের যত জনগণ
শান্তি সলিলে সবে করিবে অবগাহন |
মানবধ্বংসী দানবগণ লোভে ক্ষিপ্ত অনুমান
মরণ কামড় দিতে বুঝি উদ্যত এবার |
অনশন অর্ধাসান সহিয়াছ বহুদিন,
সুদিন এসেছে ভাই আর কেন মুখ মলিন |
দুঃখ নিশি অবসান, গাও সবে শান্তির গান,
নবারুণ উদ্ভাসিত হতেছে আবার |
এ বিশ্ব মানব যত সবাই যেন ভাই,
দিকে দিকে আওয়াজ উঠে শান্তি চাই শান্তি চাই |
এতে নাই ভুলভ্রান্তি আসিবে বিশ্বশান্তি,
বিশ্বমানব হবে এক মহান পরিবার |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
চাষীর গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ে চাষীরে কইও

চাষীর গলায় ফাঁসির দড়ি পড়ে চাষীরে কইও |
চাষী করে মাছের চাষ,                চাষী পালে মুরগী হাঁস,
.                ছাগল ভেড়া সকল চাষীর ঘরে |
সেই চাষী মরে যাবে,                দেশে খাদ্য কোথায় পাবে
.                চাষীকে কেহ চায় না ফিরে  ||
পাট ক্ষেত্র করে চাষী,                তুলা জন্মায় রাশি রাশি
.                চা পাতা হয় চাষীর জোরে
পাট তুলা চা বিদেশ যায়,                  ধনীরা মুনাফা খায়
.                চাষী বেটা তিলে তিলে মরে ||
বাঙ্গালী বাঙ্গালীর বাড়ি,                          প্রথম দিবে তামাক বিড়ি,        
.                পান সুপারী দিবে তার পরে |
চাষীর গুণে লৌকিকতা,                 কেহ কি বুঝে সেই কথা,
.                চাষী মারে দেশের জমিদারে ||
কম লোকে কাজ বেশী হত,                দ্বিগুণ ফসল ফলিত,
.                যদি নাকি চাষ হত ট্রাক্টারে |
ছিল মান্ধাতার আমলে,                        বলদের পিছে লাঙ্গল ঠেলে
.                তার ফলে আজ খাদ্য ঘাটতি পড়ে ||
কৃষিপ্রধান যেই দেশ,                        কৃষি কৃষক হলে শেষ
.                সেই দেশ বাঁচিতে না পারে |
খাল কাটা বাঁধ বাঁধা হলে,                কি করিত বন্যার জলে
.                চাষী উচ্ছেদ হত আর কি করে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
শ্রমিক দরদী ভাই জগতে নাই

শ্রমিক দরদী ভাই জগতে নাই, ও দেশের ভাই,
পেটের ক্ষুধায় শ্রমিক মরে কে শুনে তার ডাক দোহাই ||
শ্রমিকের মাহিনা দিয়া খরচ না পোষায়,
হা হুতাশে দিন কাটায়, ভাতা চাইলে উল্টা বলে
.                        বার ঘন্টাতে ছাঁটাই |
উত্পাদন বাড়াতে আদেশ করে মালিকে, শ্রমিকের দুঃখ বুঝিবে কে
.                        স্ত্রীর  পরণে কাপড় নাই |
পাঠ্য পুস্তক কাগজ কালি স্কুলের বেতন দিতে নারে শ্রমিকগণ,
.                        রুটির দাবী হয় না পূরণ কি দিয়ে ছেলে পড়াই |
চা বাগানে রেলে মিলে শ্রমিক ভাইয়েরা যেমন প্রাণ থাকতে মরা
মড়ার ঘাড়ে পড়ে খাঁড়া ভাতা বোনাস যদি চাই
আবেদন নিবেদন কত করি প্রাণপণে, মালিক কানে না শুনে,
এবার জানাইব জনগণে ধর্মঘটের ঢোল বাজাই |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
চাষী ভাই বোন রে মেঘে দিল জল

চাষী ভাই বোন রে মেঘে দিল জল |
হাল বলদ হোক্কা লইয়া মাঠের দিকে চল ||
( ও ) গেল রবি শস্য  আউসের চারা অনাবৃষ্টির ফলে |
আমন ফসল ভাল হবে নূতন মেঘের জলে ||
মেঘ আমাদের প্রতিবেশী মেঘ আমাদের ভাই |
মেঘের জলে সোনার ফসল গোলা ভরা পাই ||
মায়ে যোগায় ফসলের বল, মেঘে যোগায় পানি |
মাটির ছেলে জল কাদাতে করি জিন্দেগানি ||
( ও ) কিছিম কিছিম জমিতে দিব কিছিম কিছিম ধান |
ধানের ভিতর মান ইজ্জত ভাই, ধানের ভিতর জান ||
কার্তিক মাস আসিলে সোনার ধানে আসে থোড় |
মনেতে আনন্দ লাগে মাজায় লাগে জোর ||
( ও ) ( সোনার ধানে ) হিন্দু ভাই নবান্ন করে মুসলিম ভাই শিরণী |
একপদ গহনার আবদার করি কত যে খুশী গিন্নী ||
চিকন ধান পাকিলে দোলে লম্বা লম্বা ছড়া |
জামাই এলে বানাই দিব চিকন ধানের চিড়া ||
( ও ) গোলায় তুলিলে ধান প্রাণে শান্তি আসে |
গুড়া পিডা কাটতে বৌয়ে পুডুর পুডুর হাসে |
সোনার ধান নষ্ট করে জন্তু জানোয়ারে |
মাটির মানুষ একযোগে হলে রক্ষা করতে পারে ||


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর
*
দেশের হাল চাল কিছু বুঝ নি

দেশের হাল চাল কিছু বুঝ নি
গরীব কারবাল্লা ময়দান ঠাওর পাইয়নি |
হাডত বাজার কইত্তাম যাই, জিনিসের দাম দেখি ও ভাই
.                        মাথাত উডের বাই,
আঁই হারাদিনে দুই টেঁয়া  পাই ছয়জনেরে কুলায় নি |
কি দি পোয়া পড়াইব গরীবর সাধ্য নাইরে কিতাব কিনিব
মূর্খের সংখ্যা বাড়ি যাইব, দেশর ভালা হইব নি |
মাইন্ সে আটার রুটি খায়, বৌয়র কায়রত হত্তর গিরা
টেঁয়া কডে পার, হাটতে বসতে গা দেখা যার
.                মদ্দর ইজ্জত থাকের নি |
যদি কায়র কিনতাম যাই, ষোলো টেঁয়া শাড়ির জোড়া
.                তারথুন আর কম নাই,
কায়রত যাইব মাসর কামাই ভাত ন খাই ভাই পারি নি |
দেশত সমবায় হইয়ে, গরীব গুন্যা বাচিবার লাই পথ করি দিয়ে
সমবায়ে যোগ ন দিলে গরীব আর বাচিবা নি |


.                ****************                                                             
উপরে   


মিলনসাগর