দূরের আকাশে হয়ত এখনো রোদ, প্রাচীন নগরে বিকেল ফুরিয়ে আসে ; তত্সমে ছিল গত শতকের ক্রোধ, ইদানীন্তন প্রাকৃতের অভ্যাসে উপেক্ষা করে আচার্য-তর্জনী কিছুটা ইতর শোনায় মুখের বুলি ; ভরে যায় পাড়া চিত্কৃত গর্জনে, তবু খেত ছেড়ে পালায় না বুলবুলি |
শেষ হয়ে এল বিশশতকের বেলা----- তত্ত্বে ছিল না কোথাও ঘাটতি কোনো ; ঠিক দুপুরেই ভূতে তবু মারে ঢেলা, কটাক্ষ ভোলে পরিচিত মৃগনয়নও | ন্যায়শাস্ত্রের এ-পাতা ও-পাতা ফুঁড়ে জেগে উঠেছিল হৃদয় উপদ্রুত ----- সংশয় তবু অসহায় বুক জুড়ে, দিক্-অঞ্চলে তারারা নভোচ্যুত |
সেদিন শুনেছি জয় হবে জয় হবে------ সে-ভবিষ্যতে আমাদেরও ছিল সায় ; তারপর কিছু সহজিয়া কলরবে বেনোজলে এল সমূহ বিপর্যয় | শহিদবেদিতে উড়ে এল বাসিপাতা, পোশাক বদলে নতুন মহড়া শুরু ; এ-নবনাট্যে স্পনসর আজ ত্রাতা, মঞ্চের নীচে চোরাবালি ঝুরুঝুরু |
. এদিকে গণেশ দুধ খায় পোস্টমডার্ণে, ওদিক দাপায় শত রণবীর সেনা----- দুনিয়া এখন এককেন্দ্রকে মানে, ইতিহাস শেষ ভূগোলও হয়েছে কেনা | আবার শুনছি জয় হবে জয় হবে, উদারনীতির শেষে যাবে সব পাওয়া ; এ-আকালে শুধু দেখি বহু পরাভবে কালপুরুষের একা একা হেঁটে যাওয়া |
মনে কি পড়ে প্রিয় বাতাসে অবিরত বারুদঘ্রাণ তোমার ঠোঁট ছুঁয়ে সেদিন ঝরেছিল শ্রাবণগান | জানি না সমাপিকা ক্রিয়ার পরে আর কথকতার থাকে কি অবসর ! গোপন গুহামুখে অন্ধকার
জমাট হয়ে আছে, না ভেঙে তাকে আর বরং আজ পুঁথির পাতা খেকে তত্ত্বকথা ছেনে যদি বেলাজ কার্ নিভালে মাতি, তুমুল হুল্লোড়ে কফির কাপ জুড়োয়, তারপর জুড়িয়ে যাবে ফের স্মৃতির তাপ !
না পারি দিতে যদি মুগ্ধ প্রেমিকের মুখরতা তোমার হাতে তুলে, থমকে যায় যদি ছিন্ন তার সরোদে খুব দ্রুত, চুমুর মাঝখানে আর্তনাদ বিঁধিয়ে দেয় ছুঁচ, হঠাৎ মরে যায় শুক্লা চাঁদ--------
ভুলব মনে মনে ভারতবর্ষের কালো আকাশ গ্রস্ত হয়ে আছে, নদীর শুখা চরে বছরমাস সবুজ বিপ্লব ভেংচি কাটে শুধু ; ফ্যাক্ টরির শূন্য শেডে তোলে বাবু ও প্রোমোটার ফ্ল্যাটবাড়ি |
সুপার মার্কেটে উপছে পড়ে মুখ, কত যে ‘মুখ’ সইয়ের পর সই ---- মুক্ত বাজারের মহিমা গাও নগরকীর্তনে, লিখতে বসে যাও বাস্তবিক বাজারে বিপ্লবে এ-সহাবস্হান কী দ্বান্দ্বিক |
. এখন খুব দ্রুত ছুটছে চারপাশে মুগ্ধ দেশ | আপনাকে যেতে হবে একুশ শককেই আহা হা বেশ----- বিশ্বায়নে হব আমরা সহগামী, খঞ্জ কেউ পিছনে পড়ে থাক, বিরহে ফেলে যাব প্রেমিকাকেও |
ছুটির দুপুর থেকে সিরিয়ালে সিরিয়ালে রাত | আবার সকাল আসে, ফের সেই অফিসের তাড়া----- ট্রামের জানালা থেকে চোখে পড়ে হোর্ডিং-এর আলো নিভে গেছে, তার নীচে ফেরিওলা-পুলিশের খেলা |
এপ্রিল নিষ্ঠুর মাস, পাখা নেই দ্বিতীয় শ্রেণীতে, বাসেও বেজায় ভিড় ; মনে পড়ে এখন কঠিন ওয়ার্ক কালচার খুব, দশেই হাজিরা বাধ্য আর হাঁটতে হবে মে-দিবসে, নাহলে বিপ্লব যাবে দূর |
ক্ষতি নেই | কূপমন্ডুকতা ছেড়ে বাইরে তাকানো মন্দ নয়, বিশেষত আশেপাশে রাখলে নজর ঠিকঠাক জানা যায় শেয়ার বাজারে ওঠানামা------ কতটা দ্রুতির সঙ্গে ফেলা যাবে পরের কদম |
তিরিশবছর আগে আগুন কি জ্বলেছিল কোনো ! সে-সব তো ইতিহাস, কে না জানে বাতিল অধুনা | বরং দরকার খুব জেনে নেওয়া ---- মরণ-বাঁচন সৌরভ গাঙ্গুলি আজ শেষাবধি টিমে আছে কিনা !
মেঘলা দুপুরে পুরনো গানের কলি মনে পড়ে গেলে ঢেকে দিয়ে অলিগলি . ভেসে আসে দ্রুত নব কথামৃত ভাষণে----- তোমার জন্য মাখা আছে দুধেভাতে অরুচিতে দেব হ্যমবার্গার পাতে . মেনে নাও শুধু যা বলেছি অনুশাসনে |
আমাকে কি আর তেমন গোঁয়ার ভাব ! মানব তো বটে, না মেনে কোথায় যাব ! . ওয়ার্ শ প্যাক্ট মিশে গেল ওই ন্যাটোতে ; পৃথিবী গুটিয়ে এখন ছোট্ট গ্রাম চরণে নোয়ালে বাঁচবে মাথা ও নাম . প্রসাদ জেনেই মুখ রাখি আজ এঁটোতে |
পুণ্য প্রহরে হংকং এল চীনে---- এক দেশ দুই সমাজ ; আষাঢ়দিনে . আহা, অপরূপ দ্বন্দ্বের নব কান্তি | আমরাও জানি এক ও দুয়ের খেলা বাইরে সভায় কী দারুণ খোলামেলা . ভিতরে শিকলে বজায় ঘরোয়া শান্তি !
এখন জেনেছি বিশ্বজগৎ মায়া প্রাণের ভিতরে একী সুরে গান গাওয়া----- . মন চলো যাই তরী ভরে নিই পণ্যে | হঠাৎ কখনো পুরনো গানের কলি ভিড় করে এলে জোড় করে অঞ্জলি . ক্ষমা করো বলে মিশে যাব জনারণ্যে |
হাওয়া কিছু উড়িয়ে নিয়েছে তবু মেঘ থেকে যায় রক্তের গভীরে শিমুল তুলোর মতো উড়ে যায় ছেঁড়া ভালোবাসা দূর থেকে মনে হয় তোমার শরীর পাহাড়চূড়ায় কোনো নিঃসঙ্গ বৃক্ষের মতো কুয়াশায় ভর দিয়ে আছে |
ঝুঁকে আছে রিক্তপুষ্প চেরির প্রশাখা আলগা খোঁপায় যেন ভরে ওঠে আসন্ন রাত্রির অভিমান ; কাঠের ঘন্টার শব্দ থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল ঝরে অর্কিডের ফুলে, কঠিন কুয়াশা বিঁধে দু-একটি কাঠুরে হেঁটে যায় দিগন্তের কাছে | চা-বাগানে বিবর্ণ রক্তিম ঝান্ডা, তার নীচে কয়েকটি মজুর মাঝে মাঝে দেয়ানেয়া করে কৈশোরের বিস্ময়ের মতো থেকে-যাওয়া কিছু স্বপ্ন দিনবদলের | এই শান্ত বিকেলবেলায় রঙিন পশম নিয়ে হেঁটে যায় ভুটিয়া যুবতী |
এখনো কি আছ তুমি স্থির ভাস্কর্যের মতো একা !
কাঠের বারান্দা থেকে নেমে আসে দ্রুত পায়ে সূর্যাস্তের আভা-----
তোমার সঙ্গে দলবৃত্তে গল্প করে একাকীত্ব কেটেই যেত, এখন তবু ছন্দে দেখি জবুথবু ; তাহলে আর এমন ঝুঁকি কেনই বা নিই, উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে যখন অমিল পয়ার ! পোষ-না- মানা ঘোড়ার সওয়ার হই বা কেন, অতএব পছন্দটা বদলে নেব |
পুঁজিপাটা খুব সামান্য, এদিক তো অপরাহ্ণ ঘনিয়ে এল, তবে কি আর মানায় বলো ছন্দবাহার ! ভেবেছি তাই এই যাত্রায় মুলতুবি থাক চোদ্দমাত্রা | অক্ষমতা আমার মানি ক্ষমা করো হে মানিনী------ আজকে তবে গদ্যছন্দে তোমার সঙ্গে এ-সম্বন্ধ বজায় রাখি ; হয়ত কিছু উট্ কো লাইন পিছুপিছু ভিড় জমাবে, জমাক তাতে বাড়বে বরং জমার খাতে | এই ভণিতার সেটাই লক্ষ্য---- আর বাকি সব কৃষ্ণপক্ষ পেরিয়ে কেবল এগিয়ে চলা পূর্ণ করতে চন্দ্রকলা |