কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্তর কবিতা
*
বিষকন্যা
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

সহসা সেদিন ---
আমার মানস কন্যাকে |
খুঁজে ‘আমি পেয়েছি যে,
কন্টাকিত কমলের বনে |
অতি সন্তর্পনে |
জানি আমি ----
মূক হয়ে, ক্ষয়ে, ক্ষয়ে
দুর্ব্বিসহ জ্বালা সয়ে,
হয়তো বা কাঁদে একা,
নিভৃতে গোপনে |

তবুও তো----
বাসুকির সহস্র ছোবলে,
এখনও পড়েনি ঢলে |
যদিও বা কন্ঠ নীল,
তরল গড়লে |
যদিও বা----
জঠড়ে কঠোর জ্বালা,
কন্ঠে হলাহল |
দুর্ব্বার দুর্জ্জয় গতি,
আজও অঞ্চল |
বারং বার------
এ সমাজ দিয়াছে ছোবল,
ক্রূর দৃষ্টি মেলে,
অতি অবহেলে
ঢেলেছে গরল
এটাই তো
পাথেয় সম্বল |

.   ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
বর্ণচোরা
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

আমি কংগ্রেস নই কমুনিষ্ট নই,
নইতো আমি বি. জে. পি.
দেখি যে তাই, সমান সবাই,
পাশের বাড়ীর বুঁচি কিম্বা টেপী |
.              আমি সিয়াও নই, সুন্নিও নই,
.              আমি সাচ্চা, মুসলমান |
.              তাইতো রে ভাই, প্রাণ ভরে গাই,
.              আল্লা, খোদা, রহমান |
আমি ক্যাথলিক নই, নই প্রোটেষ্ট্যান,
আমি কিন্তু জাতে খ্রীষ্টান |
দুহাত তুলে বিভেদ ভুলে যাই যে গেয়ে,
মাতা মেরী কিম্বা যীশুর গান |
.             আমি ব্রাহ্মণ নই, ক্ষত্রিয় নই,
.             নইতো কায়েত, শূদ্র ভাই |
.             আমি যে এক, সৃষ্টিছাড়া বর্ণচোরা,
.             নাইতো আমার, জাতের বালাই |
আবার শাক্ত হয়েই শক্ত হাতে,
শ্যামা মায়ের চরণ ধরি |
ঐ বৈষ্ণব ধর্মের, দীক্ষা নিয়ে,
বিষ্ণু হরির পূজা করি |
.             আমি দর্প ভরে, প্রত্যয়েরই অহংকারে,
.             জাতি ধর্মের ভাঙ্গি বেড়া |
.                   আমি জাত বিভেদের, ধারিনা ধার,
.             ডাকলে মানুষ, দেই যে সাড়া  |

.                ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রলয় নিশান
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

উড়িয়ে দেনা প্রলয় নিশান,
নে তুলে নে বিষের বিষাণ |
মিথ্যা মেকীর ঐ ব্যবধান,
গুড়িয়ে দিয়ে কর খান্ খান্ |
.                 তাথৈ তাথৈ নাচনা তোরা,
.                 নাচনা তোরা প্রলয় নাচন |
.                 আন ডেকে আন সবাই মিলে,
.                 কারবালারই ঐ মহারণ |
ঐ সীমারের অত্যাচার,
আনলো ডেকে হাহাকার |
হই যে শিকার বঞ্চনার,
তবুও সবাই নির্ব্বিকার |
.                  বারংবার দুর্যোধনের দুর্ব্ব্যবহার,
.                  নাইতো লজ্জা নাই বিকার |
.                  ছড়িয়ে পড়ে দিকে দিকে,
.                  প্রতিধ্বনি কংস কারার |
নিঃস্বঙ্কোচে ঘুমিয়ে আছিস,
ঘুমিয়ে আছিস নির্দ্দিধায় |
রুগ্ন মায়ের দীর্ঘশ্বাস,
দিকে দিকে ছড়িয়ে যায় |
.                         নেশার ঘোরে অন্ধকারে,
.                 আর কত দিন থাকবি তোরা |
.                 অসভ্যদের এ সভ্যতায়,
.                 মা যে তোদের বাসী মড়া |
নেশার ঘোরটা কাটিয়ে নিয়ে,
ওঠনা সবাই গা ঝেড়ে |
স্ব মুর্ত্তি সব ধরনা এবার,
বৃহন্নলার বেশ ছেড়ে |

.           ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
আত্ম বিশ্লেষণ
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

মা সারদা হারিয়ে গ্যাছে,
হারিয়েছে তার শুভ্র আঁচল |
যেই আঁচলে মুছিয়ে দিত,
সন্তানেরই চোখের জল |
.                 ওরা শাঁখা সিঁদুর দেয় বিসর্জ্জন,
.                 পঙ্কে ডুবে সভ্যতারই |
.                 ডুরে শাড়ীর ধারেনা ধার
.                 সভ্য যুগের সভ্য নারী |
জিন্সের প্যান্ট টাইট পোশাক,
কামিজ সালোয়ার |
বিকাশ ঘটায় ডাইনে বায়ে,
নগ্ন সভ্যতার |
.                 ওদের স্বাধীনতা ডুকড়ে কাঁদে,
.                 শালীনতার স্বৈরাচার |
.                 দুর্গন্ধ যে ছড়িয়ে পড়ে,
.                 পঁচা গলা সভ্যতার |
পুড়ছে যে ঘর, উড়ছে যে ছাই,
স্বাধীনতার হাল বেহাল |
নাইতোরে দাড় নাইতোরে হাল
বৈতরণী টাল মাটাল |
.                সৃষ্টি তোরা শক্তি রূপী,
.                তোরাই ঘরের মা ও বোন |
.                মিথ্যা মোহে করিস কেন ?
.                       নগ্নতারই প্রজনন্ |
ডাইনে বায়ে, পায়ে, পায়ে,
মুখোশ পরা হিংস্র দানব
ওরা অসভ্যতার প্রতিচ্ছবি |
মিথ্যা মোহের কলরব |
.                ভাবনা তোরা ভাবনারে আজ,
.                নিজের কথা একটু ভাব |
.                ক্ষতি তাতে নাইতো কিছু
.                আছে, ভবিষ্যতের চরম লাভ |

.                  ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
আক্ষেপ
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

মরুর বুকে, তরুর ছায়া,
নয় কি শুধুই অবাস্তব |
মানতে হবে দিতে হবে
বৃথাই সবার কলরব |

.                    স্বাধীনতার পটভূমি,
.                    ছিল নাকি লজ্জাস্কর ?
.                    স্বপ্ন সবার, গুড়িয়ে দিল
.                    জগৎ শেঠ আর মিরজাফর |

খাল কেটে আজ, ঢোকায় কুমির,
রায়দুর্ল্লভ আর রাজবল্লভ |
দেশে নাইতো মানুষ, একটিও আর,
আমরা সবাই মৃত শব |

.                     জাল, জালিয়াৎ, জুয়াচুরির,
.                     আখড়া যে এই সোনার দেশ |
.                     তাইতো মা আজ জনম দুখী,
.                     তাইতো মায়ের মলিন বেশ |

যে দিকে চাই, দেখতে যে পাই,
উত্শৃঙ্খল ঐ অসুর দল |
রক্ত নেশায় মত্ত হয়েই,
করছে ওরা কোলাহল |

.                      ওরা নিতী বোধের ধারে না ধার,
.                      ধার ধারে না সভ্যতার |
.                      দিন দুপুরে ঘরে, ঘরে,
.                      করে বেড়ায় ব্যভিচার |

ওদের কামনারই অগ্নিদাহে,
মা বোনেরা হয় শিকার |
একটিও কি মানুষ আছে,
করবে যে আজ তার বিচার |

.                       তাইতো বলি, লোভ কিছু নাই,
.                       মিছিল , মিটিং , ধর্মঘটে |
.                       সবাই কে আজ ভুলিয়ে রাখে,
.                       মিথ্যা মোহের ঐ ব্যালটে |

হায়রে ,  তোরা, দেখলি অনেক,
ভোট কেত্তন আর ব্যলট পেপার |
একই পথের, পথিক আমরা,
কে কাটবে কার বাঁশের ঝাড় |

.                       জনম দুখী জননী আজ,
.                       কেঁদে বেড়ায় সারাক্ষণ |
.                       চায়না সেতো | মিছিল মিটিং,
.                       চাইছে মা আজ মহারণ |

মনুষ্যত্ব, বিবেক, বুদ্ধির,
হাতিয়ারে ধরেছে জং |
জংগুলো আজ মেটাতে হায়,
মাখছে তাতে শুধুই রং |

.                                  রং মেখে তাই লাভ কিছু নাই,
.                       শানিয়ে নে তোর হাতিয়ার |
.                       ঝলসে উঠে অস্ত্রগুলো,
.                       শেষ করে দিক মিথ্যাচার |


শিখন্ডি আজ সেজে সবাই,
করবি কত হা হুতাশ |
বৃথাই তোদের বসে থাকা,
বৃথাই তোদের দীর্ঘশ্বাস |
         
.                     গা ঝেড়ে আজ ওঠনা সবাই,
.                     বজ্রে তোরা দে না শান |
.                     হাতেতে হাত মেলা তোরা,
.                     রাখিস না আর ব্যবধান |

তার চেয়ে আয় এক সাথে সব,
মোছাই মায়ের অশ্রু জল |
দেনা ছুড়ে ঐ সে দূরে,
হানাহানি কোলাহল |

               আজকে যে হায়, চলতে গেলে,
.                    নাইতো যে আর অন্য পথ |
.                এক পথেরই সামিল হয়ে,
.                    চালাই সবাই বিজয় রথ |

এছাড়া তো রাস্তা নাই,
নাইতো বাঁচার কোনই পথ |
বর্ত্তমান আজ ভয়াবহ,
অন্ধকার যে ভবিষ্যৎ |

.                  আয়না সবাই একসাথে ভাই,
.                  করি মাতৃ মন্ত্র উচ্চারণ |
.                  দেশ জননীর চরণ তলে,
.                  আত্মাকে দেই বিসর্জ্জন |

.                  ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
আত্মঘাতী
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

ঘরে ঘরে স্বাধীন নারী,
স্বাধীনতা বিশ্ব জুড়ে |
বাংলার ঘরও লক্ষ্মী ছাড়া,
লক্ষ্মী হেথায় গেছে ছেড়ে |

.                 কেমন করে থাকবে লক্ষ্মী,
.                 লক্ষ্মী যে ভাই চঞ্চলা |
.                 সহজ সরল নীতি বোঝে,
.                 বোঝেনাতো ছলা কলা |

আজকে নারীর বলিহারী,
বৃথাই তাদের ঘর বাঁধা |
এদের রীতিনীতি যায়না বোঝা,
এরা যে এক গোলক ধাঁধা |

.                আত্মকেন্দ্রিক জাতি এরা
.                আত্ম সুখই সার |
.                বিদ্যা, বুদ্ধি, থাক বা না থাক,
.                আছে, আত্ম অহংকার |

এরা স্বামীর মাথায় ভাঙ্গে কাঁঠাল,
আত্মসুখের তরে |
নাইতো, এদের মত বুদ্ধি-মতী,
এ বিশ্ব সংসারে |

.                   বিকায় ওরা বিজ্ঞাপনে,
.               নগ্ন দেহে আজ |
.               দিচ্ছে যে সব জলাঞ্জলী,
.               ওদের শরম লাজ |

হিংস্র কুটীল স্বভাব ওদের,
জটীল মনের গতি |
আজকে সতীর হরেক পতি,
তবুও ওরা সতী |

.                    এতো জীবন বেদের অভিজ্ঞতা,
.               নয়তো গল্প কথা |
.               ঘরে ঘরে নাইকো শান্তি,
.               আছে যে শুন্যতা |

স্নেহ কোমল মায়ের পরশ,
নাইতো কিছু আর |
জ্বলে পুড়ে খাঁক্ যে হোল,
বাঙ্গালীর সংসার |

.                    সন্তানেরা বাড়ছে যে আজ,
.               আয়ার কোলে কোলে |
.               তাইতো ওরা ডাকেনা আর,
.               মাকেই মা বলে |


শ্রদ্ধা, ভক্তি, ভালবাসা,
পায়না পিতা মাতা |
জন্ম দিয়েই কর্ত্তব্য শেষ,
নাইতো মাথা ব্যথা |

.                অবক্ষয়ে পথেই চলে,
.                আজকে যুব যুবা
.                কেমন করে পাবে এরা,
.                সন্তানেরই সেবা |

.         ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
রঙ্গমঞ্চ
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

ভোট ব্যালটের নাটক চলে,
দেশের রঙ্গালয়ে |
নাট্যায়নের প্রহসনে, কয়েক কোটী টাকা যে আজ,
হোচ্ছে যে নয় ছয় |

.                     কৃষ্টি ওদের সৃষ্টি ছাড়া,
.                     দৃষ্টি যে প্রখর |
.                     চারিদিকেই চলছে জানি ,
.                     ভোট ব্যালটের ঝড় |

এই নাটকের কুশীলব আজ,
মন্ত্রী মিনিষ্টার |
নয়তো কেউ মিনি জেনো,
সবাই সুপার ষ্টার |

.                     আসল কাজে ভোঁ ভোঁ জানি,
.                     কথায় ক্ষুরধার |
.                     ব্যালটেরই টোপটি দিয়ে,
.                     তুলছে যে ভোটার |

কেউবা হেথায় উপদেষ্টা,
কেউবা নির্দ্দেশক |
কেমন করে টানবে ভোটার,
কযছে তারই ছক |

.                               প্রতিবেশীর দেয়াল জুড়ে,
.                     ভোটের বিজ্ঞাপন |
.                     বারে. বারে, ঠকেও করি,
.                     হৃদয় সমর্পণ |
দুদিন পরেই বুঝতে পারি,
মোড়ায় যখন মাথা |
যা ছিল সব ফাঁকা বুলি,
সবই মিথ্যা কথা |

               ভোট ব্যালটের কৃপায় যে আজ
.                    গেল, দেশটা জাহান্নামে |
.                    বিখ্যাত সব নট নটীরা,
.                    ঘুরছে ডাইনে বামে |

বহুরূপী সেজেই ওরা
রং যে বদল করে |
অন্ন কিন্তু জোটেনা হায়,
তোমার আমার ঘরে |

.                   আমরা ছিলাম যেই তিমিরে,
.                   সেই তিমিরেই থাকি |
.                   করছে, কোটী টাকা আত্মসাৎ,
.                   দিয়ে, সবাইকে ফাঁকি |

.         ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিস্মৃত স্মৃতি
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

ছায়া ঢাকা মায়ায় ঘেরা,
কোথায় গেল শান্তি নীড় |
সব কিছু আজ কেড়ে নিল,
কোন কিরাতের তীক্ষ্ণ তীর |

.                     কোথায় গেল বটের ছায়ে,
.                     রাখাল ছেলের আনাগোনা |
.                     কোথায় গেল মাঝির কন্ঠে,
.                     ভাটিয়ালীর মুচ্ছর্না |

শহরের এই জীবন খাতায়,
ছকে বাঁধা জীবন বেদ |
বিত্ত মোহে চিত্ত ঢেকে,
শান্তি সুখের ব্যবচ্ছেদ |

.                    নাইতোরে সুখ নাইতো শান্তি,
.                    নাইতো কোনো শৃঙ্খলা |
.                    সান্ধ্য প্রদীপ জ্বলেনা আর,
.                    দিনের শেষে সাঁঝ বেলা |
তুলসী তলায় প্রদীপ হাতে,
কৈ সে গায়ের বধূ কৈ
বিত্ত, বিলাস, বৈভবেই,
আমরা সবাই মত্ত রই |

.                  টি. ভি. ফ্রিজ টেপ মোবাইল,
.                  হাজার রকম বিনোদন |
.                  এত কিছু থেকেও কেন,
.                  শান্তি তো আজ পায়না মন |

আসল শান্তি নাই তো এতে,
সব কিছুই মেকী তার |
ভোগ লালসায় মেতে সবাই,
হচ্ছি শিকার বঞ্চনার |

.         ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


মিলনসাগর
*
আনন্দ-ময়ীর আবাহন
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

আর কতকাল থাকবি মা তুই,
নয়ন দুটি বন্ধ করে |
ওরা জাল, জালিয়াৎ, জুয়াচুরির,
স্বর্গ রাজ্য গড়লো ওরে |
                        
.                    মাগো, করনা কৃপা দয়া করে,
.                    শক্ত হাতেই কৃপাণ ধরে |
.                    ওদের মেরেই তৃষা মেটা,
.                    যারা, সৃষ্টি, স্থিতি, বিনাশ করে |

দেশটা যে আজ গেল ভরে,
মিথ্যা , মেকী, ব্যভিচারে |
ঐ, দালাল গুলোর, হালাল দেখে,
লজ্জাতে আজ যাই যে মরে |

.                 ওরা খদ্দর পরে, ভদ্দর সেজে,
.                    বেড়ায় দেশের সেবা করে |
.                    ভোট ভিক্ষারই আশায় ওরা,
.                    ঘুরে বেড়ায় দ্বারে দ্বারে |

ভোট দিয়ে আজ লাভ কি বল,
লাভ কি বল ব্যালট ঘেটে |
পাপের পাল্লা হচ্ছে ভারী,
খুন ধর্ষণ বাড়ছে রেটে |

.                           নেতা গুলোর কেতা দেখে,
.                   লজ্জাতে আজ যাই যে মরে |
.                   বিত্ত বিলাস বিরাজ করে,
.                   আজকে নেতার ঘরে ঘরে  |

নুন আনতে পান্তা ফুরায়,
থাকি অনাহারে, অর্দ্ধহারে |
তবু, খুললো না চোখ, ভাঙ্গলো না ঘুম,
ভোট দিতে যাই বারে বারে |

.                 ধিক বাঙ্গালী, তোদের ধিক !
.                          একটু  তোরা হ নির্ভীক |          
.                 নইলে, কলুর বলদ হয়েই শুধু,
.                 মাঙতে হবে তোদের ভিখ |
          
সূর্য্য, যতীন, বারীন, ক্ষুদির,
ভাবনা তাদের কথা আজ |
বিনয়, বাদল, দিনেশ মিলে
পরলো কেমন মৃত্যু তাজ |

.                         কেন, বাঙ্গালী আজ কাঙাল হয়ে,
.                 ভিক্ষা করে দ্বারে দ্বারে |
.                 তাই, রাসবিহারী নেতাজীর ঐ,
.                 আত্মা গুলো গুমরে মরে |

কেন শৌর্য, বীর্য, মনুষ্যত্ব,
দিলাম সবই জলাঞ্জলী |
যারা হাসি মুখে রক্ত দিল,
তাদের কথা কেন ভুলি |

.               আত্ম সুখের আশায় কেন
.               দিচ্ছি সবাই আত্মবলি |
.               স্বার্থান্ধতার চশমা পরে,
.               করছি কেন চুলোচুলি  |

মা, বোনেদের সম্মান আজ,
ধূলায় লুটায় বারং-বার
আদর্শ আজ ত্যাগ যে করি
শান্তি, সুধা, প্রীতিলতার |

.                কোথায় যে আজ হারিয়ে গেল,
.                সেই সে নারীর মাতৃরূপ !
.                ঠাকুর ঘর আজ লুপ্ত প্রায়
.                জ্বলেনা আর সাঁঝের ধূপ |

মদ্দা গুলো মাদী সাজে,
মাদী গুলোর মদ্দা বেশ |
ঐতিহ্য আজ বিকিয়ে দিলাম,
বিকিয়ে দিলাম সোনার দেশ |

.               লজ্জা কারোর নাইতো যে হায়,
.               নাইতো কোনো আত্ম গ্লানি |
.               ক্ষনিক সুখের আশায় কেন,
.               করি, পরস্পরে হানাহানি |

পার্টিতে যাই, ফোয়ারা ছোটাই,
ব্রান্ডি, বীয়ার হুইস্কি ঢেলে |
এক গেলাসের বন্ধু যে হয়,
এই সমাজে বাপ ও ছেলে |

.              কলুসতার এই কালিমায়,
.              মা, ও মেয়েরও একই হাল |
.              রূপটা তাদের থাক বা না থাক,
.              তবুও তারা রূপের কাঙ্গাল  |

রং মেখে সব বেড়ায় ঘুরে,
জোকার সেজে সার্কাসের |
নাইতো কোনো ঠিক ঠিকানা,
বাঙ্গালীর এই সংসারের |

.                  আজকে ঘরে ঘরে, বিরাজ করে,
.            অশান্তিরই তীব্র অনল |
.            অমৃত আজ ছুড়ে দূরে
.            পাত্রে ঢালি হলাহল |

কাক হয়েও ময়ূর সেজে,
করি নগ্নতারই আবাহন |
বাঙ্গালী আজ কাঙ্গাল হয়ে,
সভ্যতাকে দেয় বিসর্জ্জন |

.             আয়না মাগো এলোকেশী,
.             আয়না মাগো সর্ব্বনাশী,
.             সংহারিনী মূর্ত্তি ধরে,
.             কৃপান হাতে আয়না ওরে |

দুর্দ্দিনের এই দুর্ব্বিপাকে ,
জড়াগ্রস্থ ধরাটাকে,
শেষ করে দে এক নিমেষে ,
এসে অট্টহাস্যে প্রলয় বেশে |

.         ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    


( কাজী নজরুল ইসলামের  আনন্দময়ীর আগমনে কবিতাটির ছায়া অবলম্বনে )

মিলনসাগর
*
বিশ্বায়নের বিষাগ্নি
সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত

আয়না শ্যামা, আয়নারে মা,
রুদ্রাণী তুই আয় |
বিশ্ব কাঁদে নিঃস্ব হয়ে,
জড়া ও মড়ায় |
.                 প্রেত পিচাশ আজ, দুহাত তুলে,
.                 তাথৈ তাথৈ নৃত্য করে |
.                 বিশ্ব জুড়ে, আনছে ডেকে,
.                 আদিম হিংস্র সভ্যতারে |
মাগো, চলছে এ কোন বিশ্বায়ন,
চতুর্দ্দিকেই প্রলোভন |
পঁচা গলা মাছি ভন্ ভন্ |
.                 মরছে মানুষ, তিলে,  তিলে
.                 অন্তঃরীক্ষে জলে স্থলে |
.                 হোচ্ছে পেষাই অর্থনীতি,
.                 বিশ্বায়নের যাতাকলে |
আমরা হোলাম, দাসানুদাস,
বলনা মা এ-তোর, কোন পরিহাস |
শিক্ষিত সব বেকার গুলো,
ফেলছে কেন দীর্ঘশ্বাস |
.                নাইতো অন্ন, নাইতো বস্ত্র,
.                নাইতো শিক্ষা, নাইতো দীক্ষা,
.               বলনা মা তোর, এ কোন খেলা,
.               বুঝিনাতো তোর পরীক্ষা |
ধোপ দুরস্ত, নেতা গুলোর,
কেতা দেখে লজ্জা পাই |
রাহুর ক্ষুধা, নিয়েই ওরা,
চাইছে গিলতে বিশ্বটাই |
.               কংস রাজার, বংশধর আজ,
.               ধরলো এসে তরীর হাল |
.               এই বৈতরণী ডুবু ডুবু,
.               আমরা যে সব টালমাটাল |
অবক্ষয়ের পথ থেকে আজ,
নাইতো বাঁচার রাস্তা নাই |
লোভাগ্নিতে জ্বলছে ধরা,
উড়ছে যে তার চিতার ছাই |

.         ***************  
.                                                                              
সূচিতে . . .    



মিলনসাগর