কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্তর কবিতা
*
স্বজন
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

স্বজন ছিল আমার যারা
যেদিন সবাই গেল সরে---
টমি কিন্তু স্বজন হয়েই,
সেদিন, ঢুকলো আমার ঘরে।

.                স্বজনহারা ভাঙ্গা চোরা,
.                হৃদয় যখন কাঁদে।
.                লেজ নাড়িয়ে হাতটা চেটে,
.                হৃদয় তোরে বাঁধে।

মানুষ তো নয় পশু হোলেও,
আছে, সুক্ষ হৃদয় বোধ।
এমনি বোধের ঋণতো কভু,
হয় না জানি শোধ।

.                ওর, হৃদয় বৃত্তির শুধবো যে ঋণ,
.                কিবা আমার আছে।
.                বিত্ত বিলাস ম্লান হয়ে যায়,
.                ওর সে খণের কাছে।

অফিস যখন যাই বেড়িয়ে,
পাশে পাশেই আসে।
'অনিচ্ছাতেও জানায় বিদায়,
হয়তো দীর্ঘস্বাসে।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আক্কেল সেলামী
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

পূণ্য যে আজ করতে এসে
দেখছি আজব খেলা।
ধর্মের ষাঁড় বেড়ায় ঘুরে,
শিং দিয়ে দেয় ঠ্যালা।

.                গোত্তা মেরে বলছে ওরে,
.                পয়সা ফ্যাল ভাই।
.                পয়সা ছাড়া এ মন্দিরে,
.                নাইতো তোমার ঠাঁই।

ঢুকলে পড়ে করবে জবাই,
শুধুই ছলে বলে।
পকেট জানি কাটবে সবার,
সুনিপুণ কৌশলে।

.                এটাই এর মাহাত্য ভাই,
.                এটাই এর খেলা।
.                পয়সা তোমায় দিতেই হবে,
.                তবেই জল ঢালা।

উঠতে পয়সা, বসতে পয়সা,
পয়সা গাঁটে গাঁটে
ডাইনে বায়ে যেদিকে যাও,
কিম্বা বাজার হাটে।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৃদ্ধা
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

ভাঙ্গা-চোরা আসবাবেরই,
পরিত্যক্ত ঘবে।
নড বড়ে ঐ তক্তপোষেই,
বাতটা কাটায় ওরে।
.                ছেলের বউ এর দাত খিঁচুনী
.                দিয়েই দিনটা শুরু।
.                বুড়িটাকে দেখলে পরেই,
.                কুঁচকে যে যায় ভুরু।
ছেলের ঘরে করছে যে আজ,
রাধূনীরই কাজ।
হাড় ভাঙ্গা খাটুনী তার,
জীর্ণ মলিন সাজ।
.                নাতী, নাতনীর ঝক্কিটাও
.                হয় যে নিতে ঘাড়ে।
.                (তবু) ভার বোঝা হয়েই থাকে,
.                ছেলেরই সংসারে।
আগলে বুকে যেই ছেলেকে,
করলো এত বড়।
থাকে সেই ছেলেরই বউ-এর কাছে,
হয়ে জড়ো সড়ো।
.                চোখের জলই বুকে চেপে,
.                করছে হজম সব।
.                হাজার চড়েও রা করেনা,
.                থাকে যে নীরব।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বৃদ্ধ
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

জীর্ণ ভাঙ্গা পরিত্যক্ত,
ঐ সে আবর্জ্জনায়,
সম্তানেরই দয়ার দানে,
দিন যে বয়ে যায়।
.                প্রতাপশালী, প্রভাব শালী,
.                ছিল যে একদিন।
.                জীবনেরই শেষ সায়াহ্নে,
.                আজকে দীন হীন।
ছেলে বউ এর ধ্রূ কুঞ্জনে,
থাকে জড়ো সড়ো।
চিকিৎসা তার হয়না জানি,
হোলেও মর্‌ মর্‌।
.                ফাই ফরমাস খেটে দেওয়াই,
.                জানি বুড়োর কাজ।
.                এই নিয়মে চলছে জানি,
.                চলছে বার মাস।
চুন থেকে হায় পানটি খসলে,
উপায় তো তার নাই।
ভাগ্যে জানি রইলো পড়ে,
বাড়া ভাতে ছাই।
.                যার প্রভাবে চলতো এ ঘর,
.                জড়ায় সেতো মরা।
.                তার ডাকেতে দেয়না কেউ,
.                আজকে জানি সাড়া।
শ্রাদ্ধ শান্তি করলো সবাই,
হয়তো ঘটা করে।
শ্রদ্ধা কিছু পায়নি কভু
বেঁচে থাকতে ওরে।
.                এমনি করে বেঁচে থাকার,
.                অর্থ কিছু নাই।
.                এমন ভাবে বাঁচার চেয়ে,
.                শ্রেয় মৃত্যুটাই।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শহীদ
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

যারা মৃত্যুকেই করছে বরণ,
সীমান্তের ঐ বনাঙ্গনে।
কাদের প্রিয়ার অশ্রু বারি,
ভেজায় মাটি সাঙ্গোপনে।
কেইবা জানে!
.                খেতাব যে পায় উর্দ্ধতন,
.                অধঃস্তনের যায় জীবন।
.                কাটায়, অনাহারে অর্দ্ধাহারে,
.                পুত্র, কন্যা, পরিজন।
.                এইতো জানি মূল্যায়ন!
শহীদ হোল দেশ বাঁচাতে,
তবুও তাদের এইতো হাল।
মাথা গোঁজার নাইতো ঠাঁই,
নাইতো জানি ঘরের চাল।
হাল বেহাল!
.                যতই শোনাক অভয় বাণী,
.                দিক না যতই আশ্বাস।
.                জীবন দাতা বীর সেনানীর,
.                পরিজন আজ পায় পরিহাস।
.                প্রাপ্য শুধু দীর্ঘশ্বাস!
শহীদ হয়ে লাভ কি হোল,
লাভ কি হোল বিশ্বাসে।
বীর শহীদের রক্ত শুকায়,
তপ্ত মরুর নিঃশ্বাসে।
কার নয়নে অশ্রু ভাসে?

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গরীব বড়লোক
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

বড়লোকে চড়েছে গাড়ী,
পড়ছে গরীব চাপা।
গরীবেরই জন্য থাকে,
দুঃখ ব্যথা মাপা।
.                আকাশ ছোঁয়া অট্টালিকায়,
.                ওদের বসবাস।
.                কুড়ে ঘরেই দেয় কাটিয়ে,
.                গরীব বারমাস।
মাংস। পোলাও। কোপ্তা। কাবাব,
ধনীর পাতেই পড়ে।
গরীব গুড়োর দিন কেটে যায়,
হয়তো অনাহারে।
.                বড়লোকের বিত্ত বিলাস,
.                উপ্ চে যে আজ পড়ে।
.                রাস্তা ঘাটে ধুঁকে ধুঁকে
.                গরীব গুলোই মরে।
ভিডছে জলে পুড়ছে রোদে,
শুধুই বার মাস।
মাথার ঘাম ফেলছে পায়,
তবুও উপবাস।
.                নুন আনতে পান্তা ফুরায়,
.                এইতো জীবন কাব্য।
.                নিত্য দিনের এটাই জানি,
.                ওদের ভবিতব্য।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বিড়ম্বনা
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
দর্পণ কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

জঠরে ক্ষুধার জ্বালা,
অন্ন ঘরে নাই
নেতাদের কাছে গ্যালে,
প্রতিশ্রুতি পাই।
.                থালি তার আছে জানি,
.                আশ্বাসে যে ভরা।
.                সতোর সান্নিধ্য নাই,
.                আছে মৃত্যু জরা।
কঠোর জঠর জ্বালা,
কে বুঝিতে পারে।
সে তো জানি ডুবে আছে,
আত্ম অহংস্কারে।
.                বিলাস বৈভব আছে,
.                আছে জুড়ি গাড়ি।
.                দাদনের অর্থ আছে,
.                জানি কাড়ি কাড়ি।
তোমার আমার দুঃখে,
কুম্ভীরাশ্রু ফ্যালে।
নিষ্পেশিত হোতেছি যে,
ভোট যাতাকলে।
.                ---জানি সবে নির্ব্বাচনে,
.                শুধু আছে ফাঁকি।
.                ব্যালট বুলেট হয়ে,
.                মৃত্যু আনে ডাকি।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জীবন
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
রচনা ৫.১.২০২১। কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

কল্প লোকের গল্পতো নয়,
নয়তো জলে আলপনা।
আছে কান্না হাসির সুপ্ত ব্যথা,
আছে ছল চাতুরীর প্রবঞ্চনা।
.                দুঃখ ব্যথার গ্লানি আছে,
.                আছে আলেয়ারই হাতছানি।
.                অন্তরালে আছে যে তার,
.                মরু খামার কানাকানি।
চক্রব্যূহের গোলক ধাঁধাঁয়,
ঘুরছি সবাই নিরন্তর।
দ্বন্দ্ব দ্বিধার ভুলভুলাইয়া,
ভাঙ্গছে কত সুখের ঘর।
.                তমস প্রিয়ার আলিঙ্গনে,
.                হই যে শুধুই বিভ্রান্ত।
.                অন্ধকারে হাতড়ে মরি,
.                পাইনা খুঁজে আদি অন্ত।
এইতো জানি হিসেব নিকেশ,
এই হিসেবেই চলছে ধরা,
কেউবা হেথায় স্বন্নে বিভোর,
কেউবা আবার জড়ায় মরা।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
নিয়তির নীতি
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
রচনা ৪.১.২০২১। কবিতাটি এখানেই প্রথম প্রকাশিত হলো।
মিলনসাগরে প্রকাশকাল ৬.১.২০২১।

গুল বাগিচার ফুলগুলি আজ,
শুকিয়ে গেছে সব।
সবই ছিল জানি ওদের
মিথ্যা কলরব।
.                কল্পলোকের গল্প ফেঁদে,
.                করছে আজব জল্পনা।
.                খলের ছলে হয়না অভাব,
.                আঁকতে জলে আলপনা।
জনস্রোতের জন রোষে,
স্তব্ধ হয়ে ঢেউ গোনা।
স্বপ্ন মুকুল পড়বে ঝড়ে,
করছে যারা আনাগোনা।
.                নীয়ৎ দেবীর নিঠুর খেলা,
.                বড়ই সুকঠোর।
.                মুহূর্তেই দেয় যে ভেঙ্গে,
.                সকল মোহের ঘোর।
কিন্তু যখন বুঝতে পারে,
তখন তো সব নিরাকার।
ভাগ্য, জুড়ে রয় যে পড়ে,
আর্তনাদ আর হাহাকার।

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভোট রঙ্গ
কবি সমরেন্দ্র দাশগুপ্ত
রচনা ১৪.০১.২০২১
মিলনসাগরে প্রকাশ ২৫.১.২০২১


সুপ্ত ব্যথা বক্ষে চেপে,
দেখেছিলাম বঙ্গ ভঙ্গ |
সে সব ব্যথা দেয় ভুলিয়ে,
আজ নেতাদের ভোট রঙ্গ |

.                 পরস্পর আজ পরস্পরের,
.                 গাইছে কুত্সা নির্দ্দিধ্বায় |
.                 শুনেই ওদের বাক্য বিন্যাস,
.                 মুখ ঢাকি সব লজ্জা ঘৃণায় |

যায় যা খুশী যাকনা বলে,
নাই তো কারোর হেল দোল |
লাভের বখড়া কম হোলেই,
করছে স,বাই দল বদল |

.                  শুদ্ধ যে হয় চোর জোচ্চর,
.                  ছিটিয়ে মাথায় গঙ্গাজল |
.                  সব কালি তার যায় যে মুছে,
.                  করলে পরে দলবদল |

হায়রে এ কোন আজব রঙ্গ,
দেখছি আমরা নিরন্তর |
রক্ত হোলির চল’ছে খেলা,
ভাঙ্গছে কত সুখের ঘর |

.                   দেশ ও দশের করতে সেবা,
.                   সবাই বদ্ধ পরিকর |
.                   কেউবা তাতে হোচ্ছে রাজা,
.                   কেউবা যাযাবর |        

পাইনা ভেবে ভোট দেবতা,
কাকে দেবে বর  |
সেই আশাতে আমরা সবাই,
গুনছি যে প্রহর |

.         ***************  
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর