কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা
|
আমার... কবিতা সুন্দরী
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
তোমায় দেখে দূরে , দুপুরে রোদ্দুরে
গলা শুকিয়ে কাঠ
ভাবছি বলবো কি না !
আর যে পারছিনা !
তোমার প্রেমে ..... আমি তো কুপোকাত ;
এক পা দু-পা এগিয়ে সাহস করে
ভাবছি এবার বলি ,
তোমাকে আমি চাই ,
আমার পুরো জীবনটাই
তোমার নামের একটি গানের কলি !
তোমার সামনে থেমে ,গাড়ির থেকে নেমে
কে ওই সুন্দরী
ধরল তোমার হাত
আমি তো চিৎপাত
কেমন করে এগিয়ে গিয়ে তোমার ও হাত ধরি !
শীত গ্রীষ্ম বর্ষা যায় চলে
যায় ..দিন মাস বছর
আমি এখনো আছি থেমে
সে ই তীর্থস্থানে
আজও আমার মনে তুমি ই আনো ভোর !
তোমায় দেখে দূরে , দুপুরে রোদ্দুরে
আমার.. কবিতা সুন্দরী
তোমার দু হাত ধরে
তোমায় আপন কোরে ,
শোনায় আমার কথা ..... দিবস বিভাবরী
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
আমরা কবির কাছে কৃতজ্ঞ কারণ এই সব কবিতাই কবি নিজে আমাদের টাইপ করে পাঠিয়েছেন।
লাল বট ফল টুপ টাপ ঝরে পরে
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
লাল বট ফল টুপ টাপ ঝরে পরে
কাজল দিঘির জলে মুখ দেখে মেয়ে
দিঘি তুই গভীর কত! সে কি তার
চোখের মতো - ডাক দিয়ে ডুব দেয় চাঁদ,
চেয়ে দ্যাখ সোনালী সকাল হাসে ভোরের আকাশে, সূর্য বলে যায়
দিঘির কালো জল ভরে ওঠে ঝরে পরা খয়েরি পাতায়
রাত যায় দিন আসে দিন ঢলে গোলাপি সন্ধ্যায়,
দিঘি তার মত শুয়ে থাকে
নিথর নিঝুম, বুক চাপা কান্নায়
ভেঙ্গে পরে মেয়ে, দিঘি পারে বসে বসে
কাল বয়ে যায়, ফিরে আর আসেনা যে কেন,
শহুরে মানুষ,
সবুজ মেয়ের অবুঝ হৃদয়ে
বেঁধে রেখে গেছে কেউ রঙিন ফানুস -
দিঘি ডাকে বুকে আয় সব দুঃখ ভুলে
লাল বট ফল যেন ঝোরে পরে মেয়ে
দিঘির শীতল কোলে সব আশা ফেলে।
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
আকাশ নীল আর নেই
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
আকাশ নীল আর নেই,
তাকে ঘিরে আছে ধুসর
ধুলো আর ধোঁয়া,
কবি,
তোমার সোনালী ধানের শিষে
বিষাক্ত হাতের ছোঁয়া
কেড়ে নেয় কৃষকের প্রাণ!
মাঠের সবুজে কেউ আগুন দিয়েছে
সে আগুন জ্বলে তার পেটে,
হাল -চাষি কার খোঁজে শহরে গিয়েছে,
সে যে ভুলে গেছে রসদের খোঁজে হেঁটে
শস্যের ঘ্রাণ
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
শেষ সে দিনের ছবি
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
সন্ধ্যা নামছে দেখো ধীর পায়ে লজ্জা রাঙা, আকাশের বুকে,
তারা ঝিল মিল চোখ দুটি খুলে ও খোলেনা,
শতবার বিদায় জানায় তাকে, ফিরে ফিরে চায়,
পশ্চিম দিগন্তে সূর্য যায় অস্তাচলে
দিন শেষে পাখী যত ফেরে নীড়ে,
বউ কথা কও বলে আর সে ডাকেনা,
বড় চেনা পৃথিবী ছেড়ে আজ যাব চলে
একবার কাছে এসে বসও,
দুটি কথা বলও তুলে আনত নয়ন মুখ পানে,
আজ শেষ গানে বলে যাই
তোমায় কি চোখে যে দেখি, ডেকে বলে কবি,
চেয়ে দেখো সন্ধ্যা নেমেছে সাথে তার
শেষ সে দিনের ছবি
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
না-পাওয়ার শোকে কাঁদে
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
ঝরা পাতাদের পথে গেছি যার খোঁজে,
জীবনের আনন্দ সে পেয়েছে কি খুঁজে!
ভেবেছি বারংবার, কোন কথা
ব্যথা দিয়েছে আর কার সুরে গান গেয়েছে
হৃদয় তার, আকাশে বাতাসে কেবলই তো হাহাকার,
জন্ম মৃত্যু কোথাও পাই না খুঁজে, হৃদয়ের চোখ বুজে,
কান্নার মতো শুনি গান তার
আমার এ হৃদয় মাঝে,
কোন দিশা পেলে বয়ে গেলে কার পানে
আমি বসে থাকি পথ চেয়ে নির্জনে
যতবার শুনি গান চিনি তোকে বলে প্রাণ
সে গান আমায় পাকে পাকে বাঁধে -
এ প্রাণ আমার না-পাওয়ার শোকে কাঁদে
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
নীরবতা
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
তোর কাছে আমি যতবার যাই
ততবার ফিরে অসি বরফ জমানো বুকে
নীরবতা সুধু ডেকে বলে যায়
ভালোবাসি ওরে ভালবাসি আমি তোকে
তুই এক পাখি নরম হৃদয় -
উষ্ণ প্রেমের কথা, বলে যাই
আমি উত্তুরে হাওয়া
তুই. বুঝিসনা সে বারতা!
দখিন হাওয়ায় উড়িয়ে পালক
যে এসেছে কাছে তোর -
তাকে টেনে নিয়ে বুকের মাঝারে
হোক মহা নিশি ভোর ;
আমি ফিরে যাই শূন্য হৃদয়ে
তোর অভিযোগ নিয়ে বুকে
কি করে বোঝাই কতখানি চাই
তোর জীবন ভরুক সুখে!
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
সোনার বাংলা-
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
কেন যে ব্যথা পাস শুধু
রোদে পুড়ে জলে ভিজে
আমি ও হয়েছি বড়
গাছ ফুলে ফলে - দিয়েছি
সবুজ পাতার ছায়া
শস্যের খেতে সোনালী ফসল
আমি থেকেছি বুক পেতে
ভালোবেসে আমায় ডেকেছে
সোনার বাংলা- শস্য শ্যামলা
কখনো আকাল অগ্নি দহনে
পুড়েছে আমার সব - কখনো বা
ভেসেছে প্লাবনে
তবু আমি বাড়িয়েছি হাত ভালোবেসে
কাছে আয় ধরা দিতে আলিঙ্গনে
ব্যথা নেই কাটাস না কাল
বৃথা ক্রন্দনে
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
সময়ের সাথে দিল্লাগি
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
খালি মুহূর্ত গুলি চলে যায়
না ধরতে পারে দিল
মুশকিল মুশকিল
হিসাব বিহীন
না হাসি না খেলা
হারিয়ে গেল চির তরে হায়!
না কিছু ভেবেছি না লিখেছি
সুধু চেয়ে থাকি
তুই আসবি কি
প্রেম আমার কাছে আয়
জীবন ফাঁকি দিয়ে যায়
মনে পড়েনা যে কবে দেখেছি
ওই নীল আকাশে গোলাপি মেঘের ভেলা
উঁকি মারে ডুবন্ত রবি
হেসে বলে কি লিখেছ কবি!
দিল বলে হায়
সময় হারিয়ে যায়
ফিরে আর আসেনা যায় বয়ে যে বেলা!
তাই অন্তর্মুখী মন দিল্লাগি করে সারাক্ষণ
যায় যাক সময়
যার সাথে এ প্রণয়
সে ঠিক বুঝেছে - নারী
আমি জীবন দিতে পারি
বেলা অবেলার খেলা তবু করবোনা সমাপন!
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
সর্বংসহা মা আমার
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
আমাকে ও কেউ ভালবেসেছিল
মার স্নেহে টেনে নিয়েছিল কোলে
কোনও এক বৃষ্টি ভেজা রাতে
ফুটপাথে রাস্তার ধারে সদ্যজাত
শিশুটিকে ছেড়া আঁচলের তলে
ঢেকেছিলে, স্নেহের ওমে মাখও মাখও
আমি চেয়েছি তোমার মুখে -
কে তুমি স্নেহময়ী, ফেলে দেওয়া
ভার নিজ হাতে তুলে নিলে
ভিখারিনী জননী তুমি কার,
ধরিত্রীর মতো সর্বংসহা মা আমার !
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর
জয় গোস্বামীর জন্য
কবি সান্ত্বনা চট্টোপাধ্যায়
জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখি রাস্তা বয়ে যায়
কত রকম গাড়ি, কেউ বা রিক্সায়
চলার নাম জীবন - সময় দাঁড়ায় না -
জিততে যদি চাস জীবন এগিয়ে চলে যা
আমিও চলি .. পা চলেনা .. মন
হওয়ায় ওড়ে মেঘের কোলে যথেচ্ছা ভ্রমণ
মেঘের সাথে জয় কে দেখি
কেমন চলে যায় ...কালির সাথে মন চলে তার ... পাতায় পাতায়
জয় কে ? আরে তাও জানোনা - কবি সে গোস্বামী,
আমার সাথে তার তুলনা হয়না? আমি জানি!
তবু ও ভাবি ..রাস্তা কেন ..চলতে যদি হয়
এমন ভাবে ই কলম কালির হোক না পরিচয়
জীবনের দিন শেষের পথে ..অনেক হলও চলা
জমে জমে পাথর হোলা অনেক না-বলা
সে সব কথা ছন্দে চলে ..তাল মিলিয়ে পা
হোক শুরু আজ ... মন রে আমার যা এগিয়ে যা.
. ****************
. সূচিতে . . .
মিলনসাগর