.       ******************     
.                                                                              
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
কবি শুভ দাশগুপ্তর কবিতা
*
একমুখ খিলখিল হাসি
এখনো তেমনি আছে অ্যলবামে ফুলমাসী
একটুও বয়স বাড়েনি।

বিয়ের সাতদিন পরে ফুলমাসী জেনেছিল
স্বামী তার অমানুষ---। বিধবা বৌদির সাথে
লালসার সাতপাকে বাঁধা।

তারপর ফিরে এসে ফুলমাসী ছিল চুপচাপ
ভায়েদের সংসারে
নিতান্তই অনাহুত বিড়ালের মত।

তারপর একদি গোধূলির আলো কিংবা অন্ধকারে মিশে
ফুলমাসি ঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিল।

.              ******************     
.                                                                              
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
যা চায়ের জলটা বসা।

.           ******************     
.                                                                              
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
পায়ের সামনে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান
ফাঁকা রাস্তায় রাতের বাতাসে কান পাতুন
শুনতে পাবেন সেই বিপ্লবী পুরুষের বজ্রকণ্ঠ
আমি তোমাদের কাছে রক্ত চেয়েছিলাম
তোমাদের স্বাধীনতা এনে দেব বলে, আমি পারিনি
কিন্তু আমি আমার সমস্ত জীবন উত্সর্গ করেছি।

আর তোমরা ? --- তোমরা ??

.           ******************     
.                                                                              
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*

.                  ******************     
.                                                                              
সূচিতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমি সুভাষ
কবি শুভ দাশগুপ্ত

তোমার পাথরে দিয়েছি মালা
এত মালা, এত ফুল, তুমিই ঢাকা পড়ে গেছ
ইংরেজের ছেড়ে জাওয়া লুটের রাজ্যপাট, তারা রইল সুখে
ভারতবর্ষের টাকায় তাদের সুখ, তোমার নয়
ভারতবর্ষের অফিসে, আদালতে তাদের ছবি, তোমার নয়
ভারতবর্ষের সংবিধানে তাদের সই-সাবুদ, তোমার নয়
ইংরেজ গরীব মানুষকে পায়র নীচে রাখত
আমরা বড়লোকদের মাথায় করে রেখেছি
স্মাগলার কিম্বা ডাকাতকে জোড় হাতে সভাপতির আসনে আহ্বান করেছি
ইংরেজ এদেশের ধন সম্পত্তি লুট করত
আমরা দেশটাকে বেচে দিচ্ছি
ইংরেজ দিয়েছে চাবুক, লাঠি, গুলি
আমরা দিয়েছি মাস্তান, মাফিয়া, নেতা আর বুলি
ইংরেজ দিয়েছে কালাপানি, সেলুলার জেল
আমরা দিয়েছি টিভিতে সুপারহিট মোকাবিলা
আর আইনসভায় আয়ারাম, গয়ারামের খেল
ছাপ্পান্ন বছর আগের এক মধ্যরাতে
পরাধীন এই দেশ ছেড়ে তুমি চলে গিয়াছিলে
স্বাধীন এক স্বদেশে ফিরে আসার স্বপ্ন নিয়ে, তুমি ফিরে আসনি
স্বাধীনতা এসেছে, তার কাঁধে ঝুলি ভরে নিয়ে এসেছে
ভোট নামক রাজস্যূয় যজ্ঞ
গণতন্ত্র নামক চিরায়ত মাত্স্যন্যায়
প্রগতি নামক লোক-ঠকানো স্ট্যাটিসটিক্স
সংহতি নামক বিস্ফোরণের চুরমার
ফুলমাসী
কবি শুভ দাশগুপ্ত

ঘর বাড়ি ছেড়ে
ফুলমাসী একদিন হারিয়ে গিয়েছিল।
সাবানদানি
কবি শুভ দাশগুপ্ত

মাকে আমি ছোটবেলা থেকেই সাদা শাড়ি পরতে দেখি।
কী যেন ভাবতো মা।
মা হঠাৎ সম্বিত ফিরে পেয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতো :
“হ্যাঁ মা। এ আর আমি নিয়ে কী করবো ? তোকেই দিয়ে দেব।”

একান্নবর্তী কাকা জ্যাঠার সংসারে
চোখের জলে মায়ের দিন কাটতো। লাঞ্ছনা গঞ্জনা অপমান---
এসব দিয়েই ভাত মাখতো মা।
আমার সাদা শাড়ির মা। আমার ফাঁকা কপাল ধূ ধূ সিঁথের মা।
চোখের পাওয়ারে আস্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা বিকেল নিয়ে মা।
আমার মা

অভাগীরো মাঝে মাঝে স্বর্গলাভ হয়। আমারও বিয়ে হল।
ভাল ঘর। ভাল বর।
মামারা এসে দাঁড়িয়েছিল। কাকা জ্যাঠারা যে যার আলাদা বাড়ি করে
দূরে চলে গিয়েছিল অনেক আগেই।
বিয়ের সময়, সেলাই করে সংসার চালানো আমার মা
আমায় ট্রাঙ্কের সব কিছুই দিয়ে দিয়েছিলো :
শুধু ওই সাবানদানিটি ছাড়া।
আমিও চাইনি।

একলা ঘরে ছোট্ট তাকে---চোখের সামনেই রেখে দিয়েছিল মা
সাবানের সেই সুন্দর কেস্ টা। পাশেই মার ঠাকুরের আসন।

জামাই ষষ্ঠীর দিনদুপুরে বেদম খাওয়াদাওয়ার শেষে
খাটের ওপর আধশোয়া হয়ে আরাম করে
জমিয়ে সিগারেট খাচ্ছিল আমার বর।
আমি আর মা রান্নাঘরে গল্প করছিলাম।

হঠাৎ ঘরে ঢুকে দেখি---
সার্থক জনম
কবি শুভ দাশগুপ্ত

যে ছেলেটা চায়ের দোকানে এঁটো কাপ ধুচ্ছে রাস্তার ধারে, তাকে ডাকুন।
তার কানে কানে বলুন সুজলাং সুফলাং মলয়জ শীতলাং,
হ্যাঁ, বেশ সুন্দর করে বলুন, যে মেয়েটা চাকরীর নাম করে
বনগা কিংবা চাকদা থেকে রোজ সকালের ট্রেনে সেজেগুজে
বাবার চেয়ার
কবি শুভ দাশগুপ্ত

আমাদের পুরনো বাড়িতে একটা সেগুন কাঠের চেয়ার ছিল।
রবীন্দ্রনাথ পড়তেন।
চেয়ারটার গায়ে হাত রাখলেই আমার এখনও
মহাভারত গীতা রবীন্দ্রনাথ কানের মধ্যে বেজে ওঠে।
তবু
সেই চেয়ারটাকে রাখতে পারলাম না।

নতুন কেনা একটা স্টীলের আলমারি ঘরে ঢোকানোর সময়
ধাক্কা লেগে চেয়ারটা ভেঙে গেল। একটা পা জখম হয়ে গেল।
তারপর থেকে
ফ্ল্যাটবাড়ির ছাতে---জলের ট্যাঙ্কের পাশে এক কোণায়
চেয়ারটা পড়ে আছে। বৃষ্টিতে ভিজছে। রদো পুড়ছে।
তবু
ছাতে গিয়ে সেই চেয়ারটার দিকে চোখ পড়লে---বাবার কথা ভীষণ মনে পড়ে।
একদিন ভোর রাতের স্বপ্নে বাবাকে দেখলাম।
বাবা বললেন :
খোকন! আমার আলমারিতে ছিল মহাভারত। ছিল গীতা,
( রামায়ণ, রবীন্দ্রনাথ )