এভাবেই আমি আরো কিছুক্ষণ জেগে থাকব : একটু একটু ক’রে জ্যোত্স্নার মোম গলে . মাটির উপরে . প্রহর বদলায়। ঘুমের মধ্যে দুটি কাক এইমাত্র গভীর হয়েছে, আমি কার অপেক্ষায় আছি---আমি তা জানিনা।
শুধু এক ক্লান্ত বেদনা আমার দু’চোখে ছড়িয়ে পড়েছে, আমি তা কিছুতেই এড়াতে পারছি না।
আসলে আমি নীলিমার স্তব্ধতা চিনি : সন্ধ্যামলতীর মতো মৃদু, স্বভাবদুঃখী, অভিমানী ; হঠাৎ অন্ধকারে হাওয়া দিলে ঝরে পড়ে হাহাকারটুকু।
কে ? কে সে ? যে আমার এটুকু বোঝেনা ? বেশ তাই হোক! আমার গহন চিতায় তীব্র দহন আরো কিছুক্ষণ জ্বালিয়ে রেখো--- পুড়ে যেতে যেতে আমি বুঝে নেব কে ? কে সে ?
এর নাম প্রেম নয়--- পরিণতিহীন এক ছায়ার গল্প : ঠিক বাঁকা নয় ভাঙা চাঁদের আড়ালে আরো এক . ক্লান্ত অন্ধকার,--- মর্মন্ত্তদ বৃষ্টির আড়ালে আরো কিছুক্ষণ নিঃসঙ্গ দাঁড়ানো!
এ মৌন সরণীতে এলে মনে পড়ে একদিকে পাহাড়ের সুদীর্ঘ ছায়া, অন্যদিকে আকাশের উদাস শূন্যতা . শীতের নক্ষত্রে সমাচ্ছন্ন ছিল।
তাছাড়া, সমুদ্রের দিকে জনপ্রাণীহীন প্রভাব বালুচর ধূ-ধূ জ্যোত্স্না মুখরিত।
মনে পড়ে বারবার নৈশ-অনুভূতি রোমাঞ্চে রঙিন এবং কিভাবে মদির হয়ে তুষারাবৃত নিঃসাড় বোবা অবয়বে বাঙ্ময় শিহরণ সঁপে দিয়ে গেল। মনে হয়, সে রাতে পৃথিবীর প্রতিচ্ছায়ায় . কী একটা কথা লুকনো ছিল।
তাই আজ নিঃসঙ্গতম জীবনের ধূলিরেণুমাখা প্রান্তর থেকে অসমসাহসে দেখি আমার চতুঃসীমায় তোমার নীলাঞ্জন হাজিরা, স্বপ্নমগ্ন, মন্ত্রমুগ্ধ!
দ্যাখো, যে মর্মে মর্মে অভিমানী জীবনে কখনো সে নিজের হয়ে ওকালতি করেনি। তুমি বলেছিলে “ভালো লাগে না”, আমি বলেছি কেননা নতুন ক’রে ভাবতে পারনি। বলেছি, অপরাধ স্বীকার করা চিরদিন সহজ। অবশ্য অনুতপ্ত হওয়া কঠিন। যাক্ জীবনের অনেকগুলো দিক তো দ্যাখা, শোনা হল। সুবিধাবাদের রাজনীতি কিংবা মেকি সংস্কৃতি আজ থাক। আমার নালিশ--- আকাশ, মাটি, পাখির গান, সংগ্রাম না অশ্রু ? কাকে তুমি পরম ভালোবাসো ?