ছোকরা ছোকরা শ্যাম রায়-বাই কাব্যগ্রন্থ থেকে নির্বাচিত অংশ কবি সুতপা সেনগুপ্ত
১।
আবার বুকের মধ্যে আমের বোলের মতো ব্যথা কত বছরের পর, শ্যাম রায়, তোমার জন্যেই এল এদিক ওদিক বহু কথা হলো পাশাপাশি শুয়ে খোলা রোদে অন্ধকার উলটে পাল্টে ফিসফিসিয়ে পাথুরে খাদানে
তোমাকে বুকের মধ্যে নেবে বলে টান টান আকাশ মেলে দিয়েছে চড়া তাপে বীরভূমের লালপাহাড়ি দেশ তোমার গালের নীল আভা থেকে লেগেছে শিহর টক-ঝাল তারিণ্য মেখে ফেঁসে গেছে বেশিবয়সি মেয়ে সূচিতে . . .
২।
কথাবার্তা নেই কোনো, এসে পড়লে যেন এখানেই তোমার আসার কথা ছিল আগে থেকে, বহু আগে
যেন কত জন্ম ধরে আসছ আসছই
এ জন্মে দেখা হয়ে গেল, কেন, . কেন দেখা হলো ? না এলেই ভাল হতো, হতো না কি, বলো শ্যাম রায়
অত্যন্ত নরজ করে খুঁটিনাটি সমস্ত আমার পড়ন্ত কফিটি সামলে যাচ্ছেতাই শিভালরি দেখায়
‘থ্যাঙ্ক ইউ’ বলতেই, হেসে, বসে পড়ে পাশের কুর্সিতে
তারপর ছাড়ে না আর, জেঁকে ধরে, লেপ্টে যায়, সাপটে তোলে . ডেসপ্যারেট . কমবখ্ত যৌবন সূচিতে . . .
৭।
এ কেমন হাওয়া দিচ্ছে এ কেমন গজরাচ্ছে রোদের ঠা ঠা সকালের আলো, এ কেমন ফোসলাচ্ছে আমাকে আমার বয়স থেকে চেনা গল্পগাছা ভেঙে চুরে এ কেমন কুমতলবি, এ কেমন আহ্লাদ ইয়ার
যতই শয়তানি করো, ও হাসিতে ভুলছি না কো মোটে সুতো ছাড়ছি দেখে ভাবছ কাঁচা মাঞ্জা খেলায় নেমেছি ? উড়ে যাব যতদূর পারি, আর তারপর তোমার কিচাইন করে দেব, গুডি গুডি ছোকরা শ্যাম রায় সূচিতে . . .
৮।
দ্যাখো শ্যাম রায় আমি বলে দিচ্ছি, লাস্ট ওয়ার্নিং--- আছো ভাবনায় আছে, স্বপ্নে এসে ওস্তাদি মেরো না ওখানে নিজের মতো থাকতে দাও আমাকে আর সে-বিচ্ছু ছোঁড়াকে যাকে ভেবে খিদে পাচ্ছে, এত খিদে, খাচ্ছি না কিছুই
স্বপ্নে আমি তাকে নিয়ে খেতে যাব সঙ্গম ধাবায় চাইলে সঙ্গে আসতো পারো,
‘মননে আকর্ষণীয়া’ সে তো বড্ড বড় বড় কথা কীই বা মমন আর কীসের আকর্ষণ, . শ্যাম রায় ?
পাশে বসে কথা বললে বাতাস গরম লাগে, শীত কমে আসে এর বেশি আর কিছু বুঝবার কী দরকার আমার উষ্ণতা, শ্যাম রায়, উষ্ণতার অবাব কি জেনেছ কখনও ? তাহলে কী করে বুঝবে চল্লিশোর্ধ্বা কেন এত হেসে উঠতে চায় সূচিতে . . .
১৪।
উচ্চতা মাঝারি, নম্র, ঋজু---যেন তরুণ শালের সবুজ পাতার মতো আলো-খেলে-যাওয়া
তোমার শরীর খুহ মুগ্ধ করে, . আর আঝোর বৃষ্টিতে নেমে ছাতা মেলে ধরা
কেন এত ভয়ে ভয়ে না ছুঁয়ে থেকেছ ভেবেছ যত্নই নেব, আদর নেব না ? সূচিতে . . .
১৬।
কী দেখা দেখেছ গুরু, শ্যাম রায়সাহেব আর কোনো চোখ আমি চোখ বলে ভাবতেই পারছি না
অত বোকা নই, পাশে বসিয়েছি বাবু সে শুধু জ্বলার জন্যে ?---তোমাকেও ব্যাপক জ্বালাব সূচিতে . . .
২৩।
আবার শ্যাম রায় ? যাও, যথেষ্ট হয়েছে, বাড়ি যাও বউকে নিয়ে লং ড্রাইভ, পার্টি শার্টি, বিলিয়ার্ড, হেলথ ক্লাব . যেখানে যা খুশি যাচ্ছেতাই করো, প্লিজ---হাতজোড়---আর কাছে এসো না
এসো না বললেই স্রেফ চলে যাবে ? মাইরি আচ্ছা ছেলে
টিপিকাল মেয়ে নই বলে কখনো কি মুখে না না . মনে মনে হ্যাঁ বলতে পারি না ? সূচিতে . . .
. ক বছর উপোসি শরীর গরিবের খাওয়ার মতো অল্প অল্প করে মেখে নিয়ে অনেকটা সময় ধরে পেতে চাইছে হাতের আস্বাদ
একটা সিগারেট শেষ, আবার ধরাচ্ছি, ফের, আরেকটা, আবার . . .
ফাঁকা করিডোর জুড়ে না-বোঝার ভান করছে . খয়েরি পিঠ আর ফরসা হাত সূচিতে . . .
২৬।
জামা বদলাব না আমি, যে জ্যাকেট নিয়ে পড়েছিলে জড়িয়ে-পাকিয়ে তাকে শুয়ে থাকব অবেলার খাটে রোদ এসে কানকি মারবে, বলবে, ওঠো ইস্কুল যাবে না ? ক্লাসরুম পড়ে আছে বোকা মাস্টারনির অপেক্ষায়
উঠে পড়ে স্নান করব, স্নান করতে করতে ভাবব, আজ আরেকবার দেখা হতে পারে নাকি স্টেশনে আবার কফিকাপ চলকে যাবে, নেমে এসে গড়াবে কাপড়ে তবু বদলাব না আমি যে জামা ছুঁয়েছে শ্যাম রায় সূচিতে . . .
২৯।
এভাবে তোমার সঙ্গে দেখা---আর ফিদা হওয়া চূড়ান্ত ফ্যানটাসি
বুক-ওঠার সময় যে স্বপ্নের বাসস্টপে প্রত্যেকটা মেয়ের জন্যে রাজপুত্র বাইক নিয়ে আসে
কীভাবে নিয়েছ টেনে, বসিয়েছ কোলের ওপর আছড়ে পড়ে ডুবেছি ভেতরে---
কয়েক শো বছর পরে শ্যাম রায় খেয়েছি বলে বৃষ্টি এল, ইণ্ডিয়া জিতেছে সূচিতে . . .
৪৪।
হইহই কোরো না অত, একটি ধীর স্থির হয়ে বোসো ছটফটে ছেলে, শোনো, মাঝে মধ্যে শান্ত হয়ে থাকা তেমন খারাপ নয়, সে-দুপুরে তুমিও তো আমার ভেতরে এলে নির্দ্বিধায়, আর সর্বস্ব হারালে দ্বিধা ফেলে এমন প্রেমের দাম কে দিয়েছে কোন্ গিন প্রকাশ্য সমাজে ?
---ওসব গোপন থাক্, প্রকাশ কোরো না . লেডি চ্যাটার্লির যুবা সূচিতে . . .
৪৬।
ধাক্কা দিচ্ছ ধাক্কা দিচ্ছ চাপা শ্বাসে বলে উঠছ ‘সেক্সি মহিলা’