গ্রীষ্মের গান
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
বড় গরম ! ভারি গরম ! ঠান্ডা
হাত পা কেমন করছে ছন্ ছন্
খালে বিলে নাই রে জল, সব
তাতে মাটি ফাটে কাঠ, গ্রীষ্ম ঐ
নৌকা নাহি চলে আর হায় রে
মাঝি মাল্লা বলে ‘আল্লা ! গাঙ্গে
বুনো হাঁস বলে, ‘মোর মাথা গে
এই বেলা সেই ঠান্ডা দেশে পলা
মহিষ গরু যত ছিল, গেল রোগা
দেশে নাহি মিলে ঘাস, বাঁচে কি
ঠান্ডা মাটি আগুন হল, তেতে
ঘরে বসে রাখি প্রাণ, রইল পথে
হাঁ করিয়া থাকে শালিক বসে ম
শুকায়েছে গলা তার কথা নাহি
গ্রীষ্মে লোকে বলে ‘ভাই, কেন তু
গ্রীষ্ম বলে ‘এনু তাই আম খেতে
দুটো মাস থাক ভাই গরমেরে
ফল শষ্য পাকে যদি, খাবে খুশি
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর

পাখির গান
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
কত পাখি আছে, তাহা কহ
আহা, কত মত সাজে তারা
তারা বলে কত বুলি, তারা
দুখ নাহি কারো মনে, কারো
নাচে খঞ্জনা বাটে মাঠে, আর
আর কিবা মনে ক’রে কাক
মুনিঠাকুরেরি মত বক থাকে
মাছ এলে মুখ মেলে তারে গে
কহে হুতোমেরে প্যাঁচা, ‘মুই
এই যে হাঁড়ি মুখে দাড়ি, এর
শ্যামা, বুলবুল গাহে বনে, মি
এসে চড়াই ঘরে বড়াই করে
বলে শঙ্খচিল কেন যত ঘটি
আর গোদা বেটা কেন খালি
কহ সে বা কোন পাখি যার
কিবা নামটি যার চোখে বড্ড
বটে চালাক বড় শালিক, রাখে
আর ময়না কাকাতুয়া তারা কথায় বড় জবর |
তার গলে দোলে ঝোল্লা, গায়ে কালো আলখাল্লা,
রূপের কিবা হয় জেল্লা, হাই তুলে হাড়গিল্লা !
আছে গগনবেড়, গৃধিনী, শাঁচানী, শকুনি,
পায়রা, ঘুঘু, ফিঙ্গা,পানকৌড়ি মাছরাঙ্গা,
কাঠঠোক্ রা, কাদাখোঁচা, হরবোলা, হাঁড়িচাচা,
টিয়া, টুনটুনি, টিঠিপাখি----- কহ কত আর বাকি |
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর

যখন বড় হব
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
শেষে যখন বড় হ’ব যখন বড় হব তখন কিবা করব সবে |
তখন মোরা সবাই হব অতিশয় সুস্থির,
আর ভারি বিদ্বান্ গুণবান মানুষ আর বড় গম্ভীর |
থাকব নাক দিন রাত শুধুই খেলা নিয়ে,
কব কজের কথা ( সবাই ) শুনবে মন দিয়ে |
বড় লোক হই যদি কাজ করব ভারি,
না হলেও করব কাজ যতটুকু পারি |
সব কাজ কাজ ভাই ছোট বড় হোক যাই,
ভাল পথে খেটে খাই তাতে লাজ নাহি ভাই |
দোকান করিলে দিব জিনিসটা খাঁটি,
. ******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর
কবি উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর কবিতা যে কোন গানের উপর ক্লিক করলেই সেই গানটি আপনার সামনে চলে আসবে।
|
সকলে : অবিচার সহি কত বলি তাহা কা’য় ?
. দিয়েছি ছোট করে পাঠিয়ে ধরায় !
. হায় রে হায়, তাইতো মোদের কেউ মানে না,
. চলে যায় অবহেলি !
দেবদূত : কে তোরা কাঁদিস হেথা ?
. তোদের মনে কিসের ব্যথা ?
সকলে : আমাদের ----- ছোট বলে------ সবাই ঠেলে যথাতথা |
. আমাদের এমনি কপাল
. কত মতে হই গো নাকাল !
২য় দল : ক্ষিধে ফুরায় খাবার আগেই,
৩য় দল : ঘুমাতে আসে সকাল,
প্রথম : যদি যাই খেল্ তে মোরা,
. অমনি উঠে পড়ার কথা !
দেবদূত : তোরা কি চাহিস্ তবে ?
সকলে : মোদের মতেই সকল হবে !
দেবদূত : ভাল মতে মিলে মিশে থাকিস্ যদি তাহাই হবে |
সকলে : কি মজা হলো মোদের ,
. নাচে রে মন, ঘোরে মাথা !
প্রথম : ঘুচিল পড়ার জ্বালা, এখন হতে শুধুই খেলা !
তৃতীয় : না ভাই শুধুই ঘুমের পালা !
দ্বিতীয় : তা নয়, আসুক লুচির থালা !
তৃতীয় : তোরা ত কুটিল ভারি
. বলিস না কেউ ঘুমের কথা !
১ম ও ২য় : চলে যা ! কে চায় তোরে ?
প্রথম : খেলাই হবে !
দ্বিতীয় : খাবার পরে !
১ম ও ২য় : ছি ছি, পেটুক !
দ্বিতীয় : চুপ ! বেয়াদব, লক্ষ্মীছাড়া !
১ম ও ৩য় : দাঁড়া তবে !
১ম ও ৩য় : হায় রে হায়, বিবাদ করে সবি যে রে হলো বৃথা !
দেবদূত : কে তোরা কাঁদিস হেথা,
. আবার তোদের কিসের ব্যথা ?
১ম ও ৩য় দল :
.
দেবদূত :
.
******************
. সুচিতে...
মিলনসাগর
অসন্তোষ
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
(কলিকাতা রবিবাসরীয় নীতিবিদ্যালয়ের উপহার বিতরণ উপলক্ষ্যে অভিনীত )