কবি আবু ওবায়দা টিপু-র কবিতা
*
কোনো একদিন
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ১৬.৬.২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

কোনো একদিন,
দীঘল চুলের মেয়েটি
রুমালে লিখলো,
.          " ভুলো না আমায়"।
অথচ নিরুত্তর পৃথিবী।
কেবল জুই ফুলগুলো।
পরম মমতায় ছড়ালো
শুভ্রতা।
আকাশের মেঘ থেকে
রং তুলে মেয়েটি,
শরীরে জড়ালো নীলাম্বরী।
কপালে পড়লো লাল টিপ।
উপেক্ষার  উত্তর পেলো, পৃথিবী।
কেবল জুইফুল থেকে
ছড়ালো সুবাস।
হৈ হৈ পড়ে গেল পৃথিবীতে।
কেবল মেয়েটি চলল একা।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
যখন মুত্যু আসে
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ৬.৩.২০২২। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

সীমান্তহীন  প্রান্তরে তারকাঁটা হয়ে
সময়ের প্রতিশ্রুতি হতে চাওয়া আমার
মৃত্যুক্ষণেও , রামধনু রাঙায় চোখ !
ব্যারিকেড হয়ে দাঁড়ায় আকাশ
জারুল সোনালু বলে এসো ’স্বপ্নে ফিরে’
নষ্টপাকে বিষাদেরা মেশে জৈব হয়ে ।
ভরদুপুরে চড়া রৌদ্দুরে খেলে চিল
সীমান্তরেখায় হয় সব বিলীন!
তবু, শবদেহ থেকে শীত উঠে এসে
স্বপ্নকে করে তোলে হিম,
নষ্ট মানুষের বিচরণে সে ,
              হারায় শরীর।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
৩ নং রোড
কবি আবু ওবায়দা টিপু
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

গলির মোড়ে বাঁশ ঝাড় ছিলো একদিন
বারো বাড়ি ছিলো একে একে
এখন পৌঁছেছে চৌদ্দের কোঠায়।
হাতবদলে এসেছে  নতুন কেউ কেউ।
সময়ের ফেরে প্রায় বাড়িতে বসেছে
ব্যবচ্ছেদ রেখাও! নিজেই ভাগ হয়েছে
নিজের শরীর---।
অবয়ব পাল্টেছে অনেক।
মাথার উপরের আকাশটাই কেবল অভিন্ন।
যেমন অভিন্ন চলে যাওয়া মানুষগুলোর শেষ গন্তব্যও।
শরীরের মতো একদম পাল্টে গেছে বিবেচনা...!
এমন পাল্টালেই বোধহয় প্রতিবেশিনী হিন্দু নারীকে
তুলে দেয়া যায় পাক বাহিনীর হতের মুঠোয়।
গলির মোড়ে একদম মাথায়
বাঁশ ঝাড় ছিলো একদিন
নুয়ে পড়া বাঁশে ছিলো অশরীরী আবহ
অপর প্রান্তে কবরভূমির ধার ঘেঁষে ছিলো
ঝোপ ; আর ছোট্র খাল।
স্বপ্নের ক্যানভাসে এখন দাঁড়িয়ে তৃতীয় প্রজন্ম॥
পুরাতন স্বপ্নেরা সব প্রাক-ইতিহাস ;
যেন চর্যাপদের কোনো অনাবিস্কৃত পদ ;
আর বন্ধনহীনতার চূড়ান্ত সমীকরণ॥
যে বাবার চোখে ছিলো সন্তান লালনের সবুজ আবেগ
শয্যাশায়ী হয়ে তিনি নিয়েছেন অভিমানী নির্বাসন ।
ভাগের বাবা-মা হয়ে এ ঘর ও ঘর করছেন অনেকেই।
রক্তে রক্তে বৈরিতা যেন চুম্বক মেরুর পারস্পরিক বিকর্ষন
এইসব নিয়ে বেঁচে আছে গলি, নিজের বেঁচে থাকার মতন।
যারা প্রতিবেশি ছিলো একদিন, তারা আজ পথের কাঙ্গাল
পরাজয়ের গল্প নিয়ে যেনো, ক্রমাগতই মৃত্যুর আলাপন॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বাস্তবতা
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ১৫.১০.
২০২১, রংপুর, বাংলাদেশ। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

সময়ের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়াই নিজের পুরোভাগে।
খুঁজি
স্রোতস্বিনীর হারানো স্রোত
অবলীলায়।
হারানো ধারায়
খুঁজি
নিজের ধারাপাত।
আমি কি সেই (!)
বেগের প্রতিবন্ধক ?
তবে কেন;
মৃত নাবিকের মতো খুঁজি দূর্ঘটনার কারণ;
অশরীরিরি ভুলগুলো সব ?
আগাছা উৎপাটনে কি
উদাসীন;
তুলেছি
কোন লকলকে তরু
তুলনাহীন ? কখনো।
গুল্ম হয়ে সেকি বাঁচে আজও !
এসব নিজের ধারাপাত॥
জ্যামিতিক বিবরণে বড়বেশি
অর্থহীন।
বাস্তবতার অ্যালজ্যাবরীয় ধাঁধাঁয় বাঁধা।
অন্যরা অন্যরকম বড়
সন্তানের লাশ ফেলেও
সোৎসাহে মাতে।
অথচ
ওড়ায় বন্ধনের ধ্বজা !
বাস্তবতা॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এসো বঙ্গবন্ধু’র মতো
কবি আবু ওবায়দা টিপু
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

একে একে পাহাড় ডিঙ্গোলো বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার এক একটি বছর।
বুটের তলায় চিপটে হওয়া দেশকেও
রক্তে ভিজিয়ে ফেরত আনতে হয়েছে, কতবার!
আকর্ষীর মতো ক্ষমতায় আঁকড়ে পড়াদের
অন্তর্বাস টেনে ছিঁড়তে হয়েছে ভিখেরিদের।
অথচ ভিখেরিই থেকে গেল এইসব ভিখেরিরা।
শুধু রাজনীতির নামে পদাসীন হল
সামরিক ঊর্দির জেনারেল, ব্যবসায়ী,রঙ্গমঞ্চের অভিনেতাসহ আরো কতজন!
জিডিপি বাড়লেও পেশাদারিত্ব এলো না কিছুতেই।
জমি বন্ধকী টাকায় অটোরিকশা কিনেও
লাইসেন্সের অভাবে পুঁজি ফেরত পেল না হাসমত!
অথচ চাহিদার নামে পণ্যটি  বাজারে দেদারছে সয়লাব করলো কেউ! আহা হাসমত!
গাঁটের টাকায় কাউকে কুটিয়াল বানিয়ে পথের ফকিরই থেকে গেল সে!
বিনিময়ে পেট ফুললো প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের।
হাসমতদের ঘাম রোজ মামলার নামে থলেয় ভড়ালো এরা।
চরম হতাশায়ও প্রগৈতিহাসিক  স্বপ্ন ছড়াতে লাগল
এইসব কুটিয়াল আর অবসরে যাওয়া আমলা, অভিনেতা আর ব্যবসায়ীরা; এক জোট হয়ে।
ভোটের কারবারে দক্ষ কারবারি, এরা!  
অথচ একদিন মাটি থেকে উঠে এসেছিল
"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান"
চাইলে তিনিও হতে পারতেন প্রজাতন্ত্রের চাকর
কৌশলী ও নষ্ট ভোট ব্যবসায়ী।
একে একে পাহাড় ডিঙ্গোলো বাংলাদেশ।
বাড়লো মৌসুমি নষ্ট ভোট ব্যবসায়ীর স্রোত।
হাসমত স্রোত ঠেকাতে এসো
এসো নূরুল দীনের মতো,
এসো সূর্য সেনের মতো,
এসো, রফিক জব্বার আসাদের মতো
এসো এসো এসো
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের মতো এসো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হেরে যাওয়া সকালের গল্প
কবি আবু ওবায়দা টিপু
মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

গাছেদের কোন উৎসব নেই,
ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া।
সকাল বিকাল  সন্ধ্যে কি রাতে
গাছেদের কোন পার্বনও নেই
ফল দেয়া ছাড়া।
নেই প্রজন্মকে দেখভালের ব্যস্ততাও;
শুধু লক লক বেড়ে যাওয়া ছাড়া।
সভ্যতা ভব্যতা নেই
আলোর ধাবমানতা ছাড়া।
গাছেদের শত্রু বধের কোন মিসাইল নেই।
নেই কোন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
নেই আগ্নেয়াস্ত্র, আর্মি সাঁজোয়া জিপ
জলপাই রঙ; কিংবা ক্যান্টনমেন্ট।
আজ তবু শুধু অক্সিজেন অভাবে কাঁতরানো
মৃত্যু মৃত্যু সকাল সন্ধ্যা রাত
এ কোন শত্রুবধ! কোন প্রতিরক্ষা!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জীবনের নানা রং
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ৭ জুলাই ২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

যদি বৃষ্টি শেষে রৌদ্দুর জাগে আকাশে
আমাকে ডেকে নিও কিছু বন্ধ্যাত্ব সময়ের
ফানুষ উড়িয়ে,
কিছু রং মাখানোর চেষ্টা থাকবে আমার।
ঠিক কতটা রং চাও তুমি; আমি জানি না।
শুধু জানি জীবনের নানা রং ............!
সকালের রোদ যেমন হাওয়া হয়ে যায় বিকেলে
সন্ধ্যে মিশে যায় নিকষ আঁধারে
রাত পার করে হয় ভোর
ষোড়শীর চপল চোখেও নামে বিষাদ
জীবনের কোন কোন ঈষানে আবার
প্রেম জাগে; যেন চর জেগেছে কোনো
মাতাল নদীতে !
আহা রং হীন যদি হত একটা জীবন !
ঠিক কতটা রং চাও তুমি; আমি জানি না।
শুধু জানি জীবনের নানা রং ............!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
স্ব-অভিসম্পাত
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ১৫.৫.
২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

পৃথিবীটা মুষরে গেছে
কই
প্রজাপতি দিব্যি উড়ে
ফুল ফুটছে মনের
সুখে
নীল ভাসছে মেঘের
বুকে
ঐ।
মানুষগুলো ডুবছে
শুধুই(!),
করোনা থই থই॥
বন কাটো
মন কাটো
নদী ভরো
বাঁধে
অসততায়
চৌহদ্দি তাই,
মরো করোনাতে॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রতিরোধের বন্ধন
কবি আবু ওবায়দা টিপু
নিবেদন : বন্ধু (রাজিব)। রচনা ২.১০.২০২১। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।


আমার সমস্যাগুলো ঠিক তোর সমস্যার মতো নয়।তবু
সমস্যারা সব ভাই ভাই।
যেমন ধর্ সানকি ফুটো হয়ে ডাল গলছে, কিংবা
রিকশায় পা তুলতেই --ফাড়্ ড়াৎ
মানে ছিড়েছে প্যান্টের হিপ; চটি ছেড়া তো
নেহায়েতই ঘটে হামেশাই।
আসলে সমস্যারা ভাই ভাই।
ধর্ ডাস্টবিনের সমস্যায় গা গুলিয়ে-নাক চেপে হাঁটছে এলাকাবাসী
আর বিষয়টি থোড়াই দেখছেন কাউন্সিলর
আসলে কর্পোরেশনের ময়লায় তলিয়েছেন নিজেই।
সম্যসারা একজোট।
তেড়ে আসেছে। আয়। তাই
একে অপরের হাত ধরে দাঁড়াই।
প্রতিবাদের আগে প্রতিরোধের বন্ধন গড়ি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
গার্হস্থ্য অতীত
কবি আবু ওবায়দা টিপু
রচনা ১৪ই অক্টোবর ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৭.৬.২০২২।

একটি আটপৌড়ে বাড়ির
বারান্দার দিকের জানালায়
পঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধার চোখ
অজান্তেও যে চোখ গুনে না
অতীতের কোন স্বপ্ন ইতিহাস।
অথচ রাজ্যের স্বপ্ন ভেসে বেড়ায়
অযাচিত হয়ে  ইথারে বিথারে
টেলিভিশনের পর্দায় রঙ্গিন মোড়কে
অনুজের চোখ মুখ আর অভিব্যক্তিতে
যদিও পুরানো কোনো এক দিনে
আটপৌড়ে বাড়ির প্রতিটি ইট কাঠ
ছিলো স্বপ্নকাতর॥
বৃদ্ধার চোখ ছানীহীন॥
যৌবনদীপ্ত টান টান শরীর॥
কুচকুচে চুলে সুগন্ধী মিষ্টি গন্ধ, ভুরভুর॥
পাল্টানো সময়ে আজ
স্বপ্নগুলো অস্তিত্বহীন।
তবুও করোনাক্রান্ত সন্তানের শরীর
ছুয়ে দেখার দৃঢ় প্রত্যয় তাঁর
'বাবা আয় দেখি কত জ্বর তোর'!
বাড়ীটা আজ আটপৌড়ে।
সময় সময়হীন, চলমান অতীতে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর