আমার স্বপ্নের কোনো রঙ নেই_ তবে ভেবোনা তা বিবর্ণ...... আমার স্বপ্ন ....... আমার স্বপ্ন? ধরে নাও জলের মতো... তোমার মতো কারূকার্য, স্থাপত্য ভাস্কর্য্য নেই অতো উদাসী বিকেলে পাখির নীড়ে ফেরার মতো বৈশাখে রিক্ত শালিকের বুকের মতো . চাপা আকাঙ্খা_ অথবা তোমার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যথা কোনোটাই ফুটে ওঠে না তাতে... তবু যা ফিরে ফিরে আসে তা হ'ল প্রাগৈতিহাসিক সাম্য, ইউটোপীয়ান প্রেম তাইতো আমার স্বপ্নে_ বারুদের গন্ধ নয়_ ভেসে আসে বনজ মধুর গন্ধ চাক ভাঙা আনকো মধু..... স্বপ্ন ফেরে বার বার মানেনা জীবণের ব্যকরণ মিশরীয় সুন্দরীর একচিলতে হাসি বয়ে নিয়ে আসে আমার শরণ স্বপ্ন ফেরে ব্যাবিলন হয়ে প্রাচীন গ্রীসে, কলসিয়ামে বেধে যায় লড়াই আমার আর আমার জলজ স্বপ্নের।
একটা নদীর গল্প বলি শোনো ; নদী তার মেঘ রঙা ওড়নায় নীল মেখলায় অফুরান গতিতে বেড়িয়ে এসেছিল দুধ সাদা হিমবাহ গলিয়ে...... তারপর একের পর এক খাদ সৃষ্টি করে বানভাসি করে দুকূল প্লাবিয়ে সে চলতে থাকে অন্যমনে অকারণে ভাঙতে থাকে পাড় নিজের মনে নিজের আনন্দে...... তারপর একদিন শান্ত হয় জল স্তিমিত হয় ঢেউ পাড়ভাঙা নদীর দিকে তাকায় না কেউ!!
এমনি করে এক পড়ন্ত বিকেলে আগুন রাঙা লালচে আভায় যখন নতুন করে চোখ মেলল সে, পাড়ের কৃষ্ণচূড়া গাছটা থেকে- টুপ করে লাল কৃষ্ণচূড়া অস্তগামী- সূর্যের লাল আভা মেখে ঝড়ে পড়ল তার কোলে! অতল জলে লাগল বিষম ঢেউ ইচ্ছে হল করতে শতেক ভুল! এই তো তার, বিকেলে ভোরের ফুল॥
সে একটা দিন ছিল বাবু,যখন ফাঁকা ঘরে একলা থাকতে ভয় পেতিস ছুট্টে এসে নক্সা পেড়ে আঁচলটা তে অভিমানী মুখ লুকাতিস, "তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে" এক নিঃশ্বাসে বলে উঠতিস 'বীরপুরুষ 'বলেই গলা জড়িয়ে অস্থির হয়ে উঠতিস, কখন আমি বলে উঠবো "এই তো আমার বীরপুরুষ"....
"জীবন গিয়েছে চলে কুড়ি কুড়ি বছরের পার" বাস_ভূমির সঙ্গে আছে সুগার,প্রেসার। আজ গঙ্গাপাড়ের ফাঁকা বাড়িতে পড়ন্ত রোদের ছায়া মাখানো ব্যালকনিতে, নিঃসঙ্গ দাঁড়িয়ে আছি সেই স্মৃতি -সাম্পানে! শুধু একটা রিংটোনের অপেক্ষায়.... সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে একটাই স্বর কখন বলে ওঠে "কেমন আছো মা?"
সৃষ্টির অন্তরালে বয়ে চলে শোক-ফল্গুধারা, চোরাবালিতে সাজানো সুখে বাঁধা ঘরখানা ! শব্দে শব্দে সেজে ওঠে ব্যথা! প্রিয় যেন হয়ে ওঠে দেবতা, ছন্দে তালে শুরু হয় সেই আরাধনা প্রকৃতি পুরুষ বাজে সেই দ্যোতনা!
মহাকবি যখন বলে ওঠেন, "মা নিষাদ প্রতিষ্ঠানং ত্বমগমঃ শাশ্বতীঃ সমাঃ। য়াতক্রৌঞ্চমিথুনাদেকম্ অবধীঃ কামমোহিতম্॥" তির বিদ্ধকোঁচবকেরমৃত্যুতে তার সঙ্গিনীর আর্তরবে ব্যথিত কবিহৃদয়ের শোকাগ্নি জন্ম দেয় মহকাব্যের, কবিতার উৎস মুখ খুলে যায় নিষ্ঠুর নিয়তির অঙ্গুলি হেলনে নিয়তির পরিহাসকে পাথেও করে আক্ষেপের বিলাপে জন্ম নেয় ট্র্যাজিক কবির ছক ভাঙা ছন্দের আত্মবিলাপ, মৃত্যু-সহযোদ্ধা করে তার অহংকারী অশ্বের লাগামটি ধরে মৃত্যুঞ্জয়ী কবি হৃদয় ছুটে চলে বেদুইনের মতো বল্গাহীন তবুওসবাই কি রবি ঠাকুর হতে পারে? হে, ঈশ্বর শোক ঠিক কতো টা হলে তা সহনীয়, কে বলে দিতে পারে! লালনের মতো সবাই কি প্রশ্ন করতে পারে! "খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়"... মোমের দহনের মতো জ্বলে ওঠে হৃদয় জেগে ওঠে মৃত্যু নীলাভ ঈঙ্গিত জন্মানোর দায় শোধ করে দিতে হবে পারি, বুকের উপর বেঁচে থাকবে সসাগরা পৃথিবী যত দুঃখ যত শোক জন্ম দেবে কবিতার, দুঃখ যদি দিয়ে থাকো শক্তি দাও সহিবার, শোক তাপ জড়া ব্যাধি, আনন্দ, দুঃখ পরিহাস !
সন্ধ্যা নামে যখন গলির মোড়ে একলা আকাশ নামে ঘরের কোণে
তখন শুধু ভাবি মনে মনে এমন করে বলতে ক'জন পারে "যদি প্রেম দিলে না প্রাণে "...…. আবার তিনি ই বলেন "ওরা চিরকাল টানে দাঁড় ধরে থাকে হাল!" . **************** . সূচীতে . . .