কবি ডঃ অশোককুমার মিশ্র - জন্মগ্রহণ করেন বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মহকুমার
রাধানগর গ্রামে। পিতা শ্যামরেণু মিশ্র, মাতা আনন্দময়ী দেবী। স্ত্রী সুতপা, দুই কন্যা দেবতুষি ও দেবোপমা।
কবি গ্রামের পাঠশালার প্রাথমিক স্কুলে প্রথম পর্বের পাঠ, খানাকুলের রাজহাটি বন্দর জুনিয়ার হাইস্কুলে ও
খীরপাই হাইস্কুলে বিজ্ঞান বিভাগে হায়ার সেকেন্ডারীর পড়াশুনা সেরে অর্থাভাবে ডাক্তারীর পরিবর্তে ঘাটাল
কলেজে বাংলা সাম্মানিক এবং কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম.এ. পড়ার পর ডঃ
ক্ষুদিরাম দাসের তত্ত্বাবধানে ‘বাঙালি মানসে সমাজমুখী কবিতা ও গানের প্রতিক্রিয়া (A Literary cum social
studies)1850-1910’ শীর্ষক গবেষণার জন্য ১৯৮৮ সালে পি.এইচডি. ডিগ্রি লাভ করেন।
কবির কর্মজীবন খুবই বর্ণময়। তিনি বি.এ. পার্ট টু অনার্স পরীক্ষা দেবার পর রেজাল্ট বের হওয়ার পূর্বেই
প্রায় এক বছর মনোহরপুর রামকৃষ্ণ হাইস্কুলে ডেপুটেশন ভ্যাকান্সীতে কাজ করেছেন। গ্রামীন স্কুলের
হেডমাস্টার মশায়ের আগ্রহে ছেলেমেয়েদের জন্যে দেওয়াল পত্রিকা ও স্কুল ম্যাগাজিন প্রকাশ করেছেন।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ. পাশ করার পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জগন্নাথ
চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে ‘জাতীয় অভিধান’ রচনায় শব্দ সংগ্রাহকের কাজের সাথে সাথে কলকাতার শেঠ
আনন্দরাম জয়পুরিয়া কলেজে পার্ট টাইম লেকচারার হিসেবে কাজও করেন। ঝাড়গ্রাম এড়গোদা নিত্যানন্দ
বিদ্যায়তনে কয়েক মাসের জন্য সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর কলেজ
সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে বেলঘরিয়া ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে কাজে
যোগ দেন। নিয়মিত শিক্ষাদান সংক্রান্ত কাজ ছাড়াও কলেজের নানা প্রশাসনিক কাজে আগাগোড়া যুক্ত থেকে
কলেজের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করেছেন।২০০৮ সালে কলেজের প্রথম ন্যাক ভিজিটে কনভেনরের দায়িত্ত্বও
পালন করেন। ১৯৮২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত এন.সি.সি.র অফিসার হিসেবে কাজ করে ছাত্রমহলে এবং
স্থানীয় এলাকায় সুপরিচিত হয়েছিলেন নানান সমাজমুখী কর্মকান্ডের জন্য । ইন্দিরা গান্ধী মুক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কিছুদিন কাজ করেন, এবং সেখানেও একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।
২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই কলেজের থেকে অবসর নিয়েছেন। তবে ২০১৫ সাল থেকে বিরাটি মৃণালিনী
দত্ত মহাবিদ্যাপীঠে স্নাতকোত্তর বাংলা বিভাগে পাঠদানের আমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে আমন্ত্রিত অধ্যাপকরূপে
কাজ করে চলেছেন।
১৯৯৪ সাল থেকে ‘দি থ্যালাসেমিয়া সোসাইটি অব ইন্ডিয়া, কোলকাতা’র কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই
সংস্থার সভাপতিরূপে সমাজ কল্যাণমূলক নানা কাজ করছেন। থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং
থ্যালাসেমিকদের সমাজের মূলস্রোতে চালিত করার ভাবনা থেকে ২০০০ সাল থেকে তাঁর সম্পাদনায়
সোসাইটির সহায়তায় ‘থ্যালসেমিয়া দর্পণ’ প্রকাশিত হচ্ছে।
ছাত্রাবস্থা থেকে নানা ধরণের গবেষণাধর্মী ও সৃজনশীল লেখা লিখেছেন। এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা
প্রায় ষাটটির বেশি।
তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে এ মুখার্জী এন্ড কোং থেকে "রাম গিয়েছেন বনে", "সবুজ নক্ষত্র",
"ঝাড়গ্রাম ঝাড়গ্রাম", "অশোককুমার মিশ্রের কবিতাসংগ্রহ", "উপেনের জমি" (বিশ্বজ্ঞান), "জতুগৃহে একা পান্ডব"
(প্রতিভাস), "হে ব্যারাক দ্বারটুকু খোলো" প্রভৃতি।
রয়েছে তাঁর নাটকগ্রন্থ "অশোককুমার মিশ্রের নাট্যসংগ্রহ"।
সমালোচনা ও প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে দেজ থেকে প্রকাশিত "আধুনিক বাংলা কবিতার রূপরেখা" (১৯০০-
২০০৮, তৃতীয় সংস্করণ), "দর্পণে রবীন্দ্র কবিতা" (৩য় সংস্করণ), "উপন্যাস শিল্পী রবীন্দ্রনাথ", "রবীন্দ্র
ছোটগল্পের রূপরেখা", "রবীন্দ্র নাট্যে রূপ", "অরূপ সাহিত্যসঙ্গী", "বাংলা সাহিত্যের সম্পূর্ণ ইতিহাস" (২ খন্ডে,
৫ম সং), "বাংলা কাব্যে মোহিতলাল", "গিরিশচন্দ্রের সামাজিক নাটক" (২য় সং), "প্রবন্ধে সাহিত্যের একাল
সেকাল" (৭ম সং), "প্রজ্ঞাবিকাশ", "বাংলা প্রহসনের ইতিহাস" (৩য় সং), "বাঙালি মানসে সমাজমুখী কবিতা
ও গানের প্রতিক্রিয়া" (২য় সং), "বিধবাবিবাহ ও বাংলা কবিতা" (৩য় সং), "জয়দুর্গা লাইব্রেরী", "নজরুলের
জীবন ও কাব্যের সীমারেখা", "বাংলা ছোটগল্পের রূপরেখা" ( ১৮৮৪-২০১৬, বঙ্গীয় সাহিত্য সংসদ), "বাংলা
রঙ্গমঞ্চের রূপরেখা (৩য় সং), "গণনাট্য আন্দোলন ও নবান্ন" (৪র্থ সং) প্রভৃতি।
কাব্যতত্ত্ব ও কাব্যশৈলী বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে দেজ থেকে প্রকাশিত "নন্দনতত্ত্বের নন্দন কাননে", "নন্দন
তত্ত্বের রবীন্দ্রনাথ", "কাব্যশৈলীমঞ্জরী", "সাহিত্যের রূপরীতিকোষ ৯ম" (২য় সং), "বাংলা ছন্দোমঞ্জরী" (১২শ
সং), "বাংলা অলঙ্কারমঞ্জরী" (১০ম সং), "প্রজ্ঞাবিকাশ-ভাষাতত্ত্ব ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ" (২য় সং)
প্রভৃতি। ইউনাইটেড বুক এজেন্সী থেকে প্রকাশিত "বাংলা ছন্দের রূপরেখা"।
ভ্রমণসাহিত্য নিয়ে দেজ থেকে প্রকাশিত "অন্যমনে আন্দামানে", "অরুণাচলের পাহাড়ে পাহাড়ে", "বাংলা
থেকে বাংলাদেশে" প্রভৃতি।
কবির সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্য", "মধুসূদনের বীরাঙ্গনা কাব্য",
"রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা", "মধুসূদনের একেই কি বলে সভ্যতা?", "দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ", "দ্বিজেন্দ্রলালের
সীতা", "গিরিশচন্দ্রের জনা", "দ্বিজেন্দ্রলালের সাজাহান", বঙ্গীয় সাহিত্য সংসদ থেকে প্রকাশিত "গিরিশচন্দ্রের
প্রফুল্ল", এস ব্যানার্জী এন্ড কোং থেকে প্রকাশিত "বিদ্যাসাগরের সীতার বনবাস", "তুলসী লাহিড়ীর ছেঁড়া তার,
একটি সমাজ দর্পণ", "মন্মথ রায়ের রাজপুরী", "দিয়া", "কবিতার স্বাদ (হাজার বছরের পুরাণো বাংলা
কবিতা)", "কবিতার নকশিকাঁথা" (বাংলাদেশের কবিতার রূপরেখা) করুণা প্রকাশনী, "বাংলা সামাজিক
নাটকে গিরিশচন্দ্র" (২য় সং), "বৈষ্ণব পদমঞ্জরী"।
তাঁর গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "শৈব্যা", "বৃতিহীন" (গল্পসঙ্কলন) নান্দনিক, "হাসির বারোটা" (গল্পসঙ্কলন), "সাতশ
বছরের বৈঠকী গল্প" (২য় সং) প্রভৃতি।
তাঁর সমাজ সচেতনতামূলক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে "থ্যালাসেমিয়ার অ আ ক খ"
আমরা মিলনসাগরে কবি অশোককুমার মিশ্রর কবিতা তুলে আনন্দিত।
কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
উত্স -
- কবির সঙ্গে ইমেলে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান।
কবি অশোককুমার মিশ্রর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ৩১.৩.২০২২ ^^ উপরে ফেরত
...