কবি বিপ্রতীপ গুহর কবিতা
*
হৃদয়
কবি বিপ্রতীপ গুহ

যে কথা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে বলেছি
কেন আবার বলবো
ভালোবাসি,ভালোবাসির অভ্যেসের গাঢ় পঙ্কে ডুবে
সেই মুখ সেইখানে দেখেছি
যা তোমার নয়
যাকে চিনি না
দেখেছি দেখেছি বলে মনে হয় শুধু

টিলায় শেষ সূর্য যখন ডুবে যাচ্ছে
পিতামহ মাতৃমহরা ভিড় করে এসে দাঁড়িয়েছেন
হৃদয়ের মতো প্রস্ফুটিত ওঁদের পাঁজরের হাড় দেখতে পাচ্ছি

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কথা
কবি বিপ্রতীপ গুহ

তোমার সাথে
কথা বলবো বলেছিলাম
কি কথা বলবো
তুমি তো
রক্তপাতহীন শূণ্যতার বাক্য বিনিয়ম জানো

তোমার হাতে হাত রেখেছিলাম একদিন
তোমার বুকে হাত রাখলে
নিজের হৃদস্পন্দন টের পেতাম
সেইসব কথা আবার আবার বলবো?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কাল আবার
কবি বিপ্রতীপ গুহ

বাড়ি যেতে যেতে খুব ভাবি
কাল আবার ফিরে আসবো
তখন বৃষ্টি হয়েছিলো
তখন হাওয়া বইছিলো

তুমি দরোজা পর্যন্ত আসো নি
তোমার ইচ্ছে,
তোমার অষ্টপ্রহর প্রতিবেশী ছিলো
তুমি পিছল পথঘাট ভেবে
চিন্তিত ছিলে,তাও মনে হয় নি

আমি উড়তে উড়তে বাড়ি যাচ্ছি
আমার ডানায় ডানায় জুড়ে যাওয়া হাওয়া
কিই বা জানে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সে
কবি বিপ্রতীপ গুহ

পুরোনো আসবাবপত্র বেচে দিচ্ছি বলে খুব রাগ করেছিলো সে
সে মানে কেউ নয়
জেগে থাকতে থাকতে অতি ভোরবেলায় যে রকম মনে হয়

সীমান্তে কাঁটাতারের ওপাশে আমার স্বজন
তাদের অস্বীকার করেছি বলে খুব রাগ করেছিলো সে
সে মানে কেউ নয়
রাত্তিরে পাহাড়ে চারপাশে সবাই চুপ করে আছে ভেবে যেরকম মনে হয়

ছুঁইনি বলে এতো কাব্য,এতো বিস্তার
খুব রাগ করেছিলো সে
সে মানে কেউ নয়
মোমবাতির একটু একটু করে গলে যাওয়া যেমন অন্ধকারের অপেক্ষায় আছে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রামধনু
কবি বিপ্রতীপ গুহ

কি ফেলে এসেছো যে এতো কষ্ট পাও
চূড়ায় চূড়ায় লীন আলো দ্যাখো
বিশুদ্ধ ভ্রমের ঢেউয়ে ভেসে যাওয়া স্থিতি মনে হয়

কি ফেলে এসেছো যে বারবার কড় গোণো
লম্ফের তলায় মানচিত্র
যেন সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে পুনর্যাপনের জন্য চলে যেতে পারো

কি ফেলে এসেছো যে ফিরে পাবে ভাবো
কিছু কি অর্জন করেছিলে
পরাজয় কি মেনে নাওনি কখনো
অধিকারের রামধনু যে জলকণায় ভিজেছে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অপেক্ষায়
কবি বিপ্রতীপ গুহ

সব শেষ হয়ে গেলে
তুমি আমাকে ডাকবে,সেই অপেক্ষায় আছি

সত্তর বছর পরে
আবার যেন তোমাকে দেখছি
তুমি অন্যরকম ছিলে
যখন চোখের জল আমাকে স্নিগ্ধ করতো

গারদের ওইপারে ওই অফুরান আকাশে
পরীর মতো উড়ে যাচ্ছো
এই মেঘ থেকে ওই মেঘে
পালকে পালকে ছেয়ে যাচ্ছে সেই ভোর

অপেক্ষায় আছি,ফিরে যাবো
মাতৃবালিকাদের সঙ্গে নিয়ে
তুমিও থেকো

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
উজান
কবি বিপ্রতীপ গুহ

এ মাসেই কবে যেন সেইদিন ছিলো
ভেসে চলে গেছে উজানে
টের পাই নি

অভ্যেসের চন্দন মালা কেউ দিয়েছিলো হয়তো
তাও স্মৃতি হয়ে গেছে

রাত্রে যাপনের অন্ধকারে
কোনো মুখ পড়ে না
চুল ব্যাকব্রাশ ছিলো, সিঁথি মাঝখানে?

যা কিছু অর্জন করেছিলে
আমিও যা অর্জন করেছি
ঈশ্বরের তহবিলে তুলে দিই

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রাক-অপরাহ্নে
কবি বিপ্রতীপ গুহ

প্রাক-অপরাহ্নে তোমাকে ফোন করেছিলাম
তুমি সাড়া দিলে না
চন্দ্রাহত দূরভাষের বাজনা বেজে বেজে থেমে গেলো

তুমি ঘুমিয়ে ছিলে বোধহয়
আমার ভাবা উচিৎ ছিলো
নির্ঘুম রাত বা দিন কোনোদিন তো তোমার প্রাপ্য ছিলো না

কতদূরে যেন বিদ্ধ হয়ে আছো তুমি
ছবির মতো নিরাকার, স্পন্দনহীন
হাত বাড়ালে তোমার চিবুক ছুঁতে পারবো না

তবু যদি এটুকুর জন্যই বেঁচে থাকা যায়
স্পর্শহীন গন্ধহীন অন্তরালবর্তিনী তুমি
কোনোদিন হয়তো পুনর্জন্মের কথা ভাববে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ঝুমঝুমি
কবি বিপ্রতীপ গুহ

বারোভূতের মেলায়
ঝুমঝুমির দিকে হাত বাড়িয়েছিলো ও
কাঁচের ঝকমকে চুড়ি, পুঁতির মালা সব ছিলো সেখানে

চতুর্দিকে পাপড়ের গন্ধ
কটকটিভাজার স্তূপের দিকে আঙুল উঁচিয়ে রয়েছে অনেকে
ঘুঘনির শরীর থেকে ধোঁয়া উড়ছে
নাগরদোলা, ম্যাজিক শোয়ের সেই চার্লিও ছিলো
ঝুমঝুমির দিকে হাত বাড়িয়েছিলো ও

আরো কতো মহার্ঘের সাথে
সেই ঝুমঝুমি
আমার কাছে ফেলে গেছে ও
বাজাই,শব্দ হয় না

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আজ
কবি বিপ্রতীপ গুহ

বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেলে
তোমাকে ডেকে নেবো
হে আত্মহননের দেবতা
অপেক্ষায় থেকো

তোমার ওই মেঘকুয়াশার রাজ্যে
দীর্ঘ পাইনগাছের নীচে অন্ধকার তুষার
প্রস্তুত রেখো

গতজন্মের জল ছাপিয়ে চলে যাচ্ছে
আগামীর বিস্মৃত উপত্যকায়
পাথরে পড়ে থাকা এই দেহখন্ড ছুঁয়ে যাচ্ছে কখনো

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর