আরো একজন ছিলো তার খর্ব শরীরে আশ্রয় ছিলো, ঘুম ছিলো শাদা কাপড়ের কোলে শুয়ে শুয়ে চুলে মুখে বিলি কাটার আরামে রামায়ণ মহাভারতের গল্প শুনতাম
ভাইকে দূরগ্রামে টাকা পাঠানোর সময় মানিঅর্ডারে তাকে টিপসই দিতে হবে জেনে বাবা সই করে দিতো তাকে কোনোদিন কোনো বই পড়তে দেখিনি
সে মা ছিলো না সে অন্য কেউ ছিলো বুকের ভিতরে,আমার চোখের জলের ভিতরে ছিলো স্নানের ঘর থেকে তার আরো খর্বকায় নিথর শরীর ভেতরঘরে নিয়ে আসতে আসতে ঠিক বুঝেছিলাম তার প্রসববেদনা হচ্ছে
কবিতা নয় কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২। কবিতা নয় যখন ফিরে আসছিলাম, কেউ মুখ ফুটে বলেনি আবার এসো কিন্তু ওদের হাসি, দৌড়ে চুম্বনের নাগালে এসে পড়া গোলাপি শিশুরা বলেছিলো, স্তব্ধ গম্ভীর বেয়োনেটের সারিও তো বলে নি এসো না
এখন সেই সৌম্যদর্শন বৃদ্ধকে মনে পড়ছে হজরতবালের অন্দরে তিনপুরুষের ভক্তিতে যিনি ঝাঁট দিতে দিতে পবিত্র দেয়ালে আমার প্রার্থনার অনুরোধে বলেছিলেন, হ্যাঁ
যখন আবার ফিরে যাবো সেই বৃদ্ধ, যদি এখনো জীবিতদের ভিড়ে বেঁচে থাকেন, সংশয়িত আমাকে কি তিনি বলবেন, না, তুমি ভারতীয়
আসলে আমরা তো সবাই নিজের নিজের গর্ত ভালোবাসি কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
আসলে আমরা তো সবাই নিজের নিজের গর্ত ভালোবাসি ছিদ্রবিহীন ছাদ,নরম বিছানা, উষ্ণ সঙ্গ আর ঘুমের মহৌষধির মতো ' কাল দেখা যাবে' এই নিরাপত্তার বৃত্ত ছেড়ে কোথায় বা যাবো
আজকাল আবার বোনাসের মতো এসে গেছে ওই ওই ওরা, যত নষ্টের মূলে তো ওরাই ধ্বজা ওড়াতে পারলেই আর পায় কে নিশ্চিন্ত নিশ্ছিদ্র ঘুম, গর্তে বাদল দিনে ঝরোঝরো বরষণে অকাতর
জমিদার,সেরেস্তার লেঠেলরাও ব্যবস্থা রেখেছেন ভালো আমরা যেন নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারি কীট পতঙ্গ নিদেনপক্ষে উইপোকারাও যেন মাটি ফুঁড়ে না উঠতে পারে একটু আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটালেই তিনটি পর্দা টাঙিয়ে দিচ্ছেন, সত্তরবার সেটা শত্রুরাও জেনেছে
চটকা ভেঙে গেলেই দেখছি ঢাকনা নেমে আসছে গর্তের মুখে জল ঢুকছে ঘুমের মধ্যে,নেশার মধ্যে ভাইকে বলছি,ওরে জাগ, প্রতিবেশীকে বলছি জাগো ওরা আড়মোড়া ভেঙে বলছে ঘুমোও, ঈশ্বর যা করছেন তা মঙ্গলের জন্য
ঘৃণার উল্টো পিঠে ভক্তি কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
ঘৃণার উল্টো পিঠে ভক্তি না ভক্তির উল্টো পিঠে ঘৃণা আমি সজ্ঞানেও তা ঠিক ঠাহর করতে পারি না আমি শুধু বিকল্পহীন ভবিষ্যৎ দেখি
যারা বুঝতে পারছে কিন্তু ভাবছে না যারা ভাবছে কিন্তু বুঝতে পারছে না মশার ঝাঁক উড়ে বেরালেও তাদের ত্বক মসৃণ যারা ভাবছে,বুঝছে তাদের জন্য তো রয়েছেই ছিদ্রময় অনন্ত মশারি
বোঝা, না বোঝার এই মরুদ্যানে এমন করে ঘাসলতাপাতায় নিজেকে ঢেকেছি যেন কেউ চিনতে না পারে কিন্তু ওরা যখন ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে মুখ দেখতে চাইবে কি বলবো আমি,আমি ভক্তিবাদী? আমি ঘৃণায় কোনো কার্পণ্য করি নি?
হে দূরাহত মানুষের দল কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
হে দূরাহত মানুষের দল তোমাদের চোখের জল আমার চোখে বাষ্পও আনে না তোমাদের অসহায় রাগ আমার বুকের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশও পোড়ায় না এ কেমন মানুষ হয়েছি আমি
সভ্যতার আলোয় চারিদিক ঝলমল করছে এখানে বাতাসে সুগন্ধ বইছে পোষ্যদের নিয়ে করছি অবাধ খুনসুটি ধ্রুবতারা যে তোমাদের আবদ্ধ আকাশেও জ্বলে ভুলে থাকছি এ কেমন মানুষ হয়েছি আমি
আরূঢ় ঘৃণায় পোশাকহীন হয়েছি তোমাদের প্রান্তরে নদীতে আমার দর্পিত পা ঘুলঘুলিতে ঘুলঘুলিতে সবাক চাহনি আমাকে লক্ষ্য করছে আমি পিঠ ফিরিয়ে রয়েছি এ কেমন মানুষ হয়েছি আমি