যারা দেখতে পাচ্ছো কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
যারা দেখতে পাচ্ছো, যতদূর দেখতে পাও, দ্যাখো যারা দেখতে পাচ্ছে না,তারা তো দেখবেই না কেননা যে ঝড় আসছে, সে শুধু বর্ষণ আনবে না,শীতযুগও আনবে
কটা কম্বল আছে তোমার তুমি কি ইতিমধ্যেই অপ্রয়োজনীয় ভেবে প্রায় সব ত্যাগ করেছো চারপাশ এত উষ্ণ ভেবেছো, গো-ধূলি রঙিন দিন তোমাদের
প্রাগৈতিহাসিক ছাতা নিয়ে নিখিলে বেরিয়েছো কেউ কেউ যেন তা সর্ববিঘ্নহর, যেন তা তুষারাঘাত ঠেকাবে যেন ঈশ্বর আছেন, তিনি অসুরবধ করবেন
চোখ বুজে নেবার আগে অক্ষিগোলকের কাছে নতজানু হও প্রার্থনা করো জাগৃতির, প্রার্থনা করো দৃষ্টির কেন না যে ঝড় আসছে, ধ্বংস আর মৃত্যুর পরে প্লাবন ও বরফ পেরিয়ে তোমাকেই খুঁজে নিতে হবে তোমার আস্তানা
ওই ছররা-বেঁধা মুখখানি দেখেছো? কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
ওই ছররা-বেঁধা মুখখানি দেখেছো? বিশ্বাস করো ও আমার ছেলের তোমার ছেলেরও হতে পারে, যদি বিশ্বাস করো নিথর বাঙ্ময় মুখখানি তবু বলছে, স্থির হও,আমি তোমাদের কারোরই নই
সত্যিই তো, দূর ভূখন্ডের নদী মাঠ আকাশ পেরিয়ে ওই হিমার্দ্র মুখ কি করেই বা আমাদের ঔরসজাত হবে আমাদের এই মোহন মহান জ্যোতির্বলয়ে ওর কোনো স্থান নেই
শুধু ভয় পাই,স্বপ্নে দেখি ওই মুখ ভাবী রাত্রির বিস্রস্ত তারাদের দেখাচ্ছে আমাদের জায়মান পৃথিবীউন্মুখ সন্তানদের মুখগুলি ধরে ধরে দেখছে কোনো ছররা বিঁধে আছে কিনা, কোনো রক্তবিন্দু গড়িয়ে গড়িয়ে নেমে আসছে কিনা . **************** . সূচীতে . . .
তোরা যেই এক বলবি কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
তোরা যেই এক বলবি, আমি বিকশিত হয়ে ঠিক বলবো ওটা দুই পশ্চিমী ধাঁচের বিদ্যে তোদের, সনাতন শাস্ত্রাদি কিছুই জানিস না তুই বিদ্যার সাথে যাদের একটু সাহস আছে, তারা বলবে হয়তো কি করে কি করে অন্যেরা ফিসফিস করবে চারপাশে তাকিয়ে, কিম্বা মাথা হেলাবে সজোরে
এই যে পাঁচ বোধক একটি সংখ্যা,বছর হতে পারে, অর্থনীতিও হতে পারে তোরা বলবি গল্পের গরু গাছে উঠলো, আমরা যে খাদের কিনারে- বইপত্তর খুলে চটাপট অংক কষে বলবি,হবে না, কিচ্ছুতে নয় আমরা কার্পেটের ওপর ঢেলে সাজানো আবর্জনা স্তুপ নাড়াচড়া করতে করতে বলবো,দ্যাখ এও হয়
কিম্বা অম্লজান জননীর নধর গলায় মালা পরিয়ে, গলকম্বলে হাত বুলোতে বুলোতে যখন বলি সব সম্ভব তোরা অবিশ্বাসীর দল মনে মনে মানবি না ঠিকই, জানি আওড়াবি পরিত্রাণ স্তব এখন যেটা বলবো, সেটা শোন্, আখেরে তোদেরই লাভ কে যেন এক 'ভাট' বকছিলো,এখন শেকলে, তোদের তো এমনিতেই নতজানু স্বভাব
আসলে যেটা বলতে চাইছিলাম, অংক নিয়ে বেশি মাথা ঘামাস না, খ্যাপা খুঁজে ফিরছিস পরশপাথর অভিকর্ষ বল পর্যন্ত অংকের তোয়াক্কা করে নি,তুই তাকেই করেছিস নির্ভর এই নে সংখ্যারাশি, রাশিফলও বলতে পারিস, জ্যোতিষশাস্ত্র তো জ্ঞানের মহামহোপাধ্যায় ঠিক এক আর দুই মিলিয়ে দেবো, আপাতত বরফ সরানো দ্যাখ, উইপোকা দ্যাখ,জোরসে বল্ জ্যায়…. . **************** . সূচীতে . . .
যখন গত জন্মের কথা ভাবি কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
যখন গত জন্মের কথা ভাবি, তা কালো অন্ধকার কোনো স্মৃতি নেই যখন পরজন্মের কথা ভাবি সেটাও যেন অন্ধকার শুধু স্মৃতি এই জন্মের মেষপালকের হাতে নিজের কর্তিত মাংস অথবা নিদেনপক্ষে পশম উৎপাটনের অপেক্ষায় আছি
পরজন্মেই কি তবে দিব্যদৃষ্টি পাবো সাথে সাথে আমার ভাই পাবে, আমার পরিচিত স্বল্পপরিচিত বন্ধুরাও কি পাবে আমরা কি টের পাবো যারা আমাদের লালন করছে এই জন্মে, তারা ফকির নয় ওদের মাংসে বড় লোভ
জন্মের ওপার থেকেই কি অবশেষে শুনতে পাবো মেষপালকদের শলাপরামর্শ লক্ষ মানুষের অন্তর্জলি যাত্রা,লক্ষ মানুষের শিকলের ঝনঝন এই জন্মে কিছুই তো জীবিত মেষেদের স্পর্শ করেনি . **************** . সূচীতে . . .
হঠাৎ যখন কিছু চোখের সামনে ঝলসে উঠলো কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
হঠাৎ যখন কিছু চোখের সামনে ঝলসে উঠলো আমি দেখলাম সে ইস্পাতের ফলা আশেপাশের অনেকে,আমার স্থিরবুদ্ধি ভাই, আমার সর্বজ্ঞানজ্ঞ বন্ধু সবাই দেখলো ওতো আলোর ঝলকানি
সত্যিই রোদ বড়ো তেজি সেসময়, খর রৌদ্র- ভালো করে তাকানো সেই তাপ-কুয়াশায় খুব কঠিন তারপর দিন গেলো, রাত্রি গেলো অনেকরা দলে ভারি হলো সেই আলো ওদের পতাকায় রঙ হয়ে ঝলসাতে লাগলো
সার্বজনীন উৎসবের মতো হইচই, ফোয়ারা, অবিশ্রাম ক্লান্তি সবার উৎসে ঘৃণায় শান দেয়া ইস্পাতের ফলা, রোদ ঝলসাচ্ছে ওরা দেখছে অন্ধ করে দেয়া এই ঔজ্জ্বল্যে ওরা কেউ ধীর রক্তপতন দেখছে না
বড়ো দেরি হয়ে যাচ্ছে, হে বৃদ্ধ তোমার আকাশের সীমা পেরিয়ে চলে যাচ্ছে নতুন নরম আলো, অম্লজান, স্বাধীন পাখিদের উড়ান . **************** . সূচীতে . . .
আজ পাঁচজন, কাল পঞ্চাশ, পরশু হয়তো পাঁচশো কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
আজ পাঁচজন, কাল পঞ্চাশ, পরশু হয়তো পাঁচশো জবাবে পাঁচ হাজার, ধীরে ধীরে হয়তো বা পাঁচ লক্ষ তাতে আমার কি আমার মেয়ে যাস্ট ইউএসএতে সেটল করেছে ছেলে পুণেতে এমবিএ করে দিদির পদানুসরণ করবে
যারা একটু নিম্নশ্রেণী, ব্যাঙ্গালোর,মুম্বাই,দিল্লী আলু পটলের দামের প্রাত্যহিক ওঠাপড়ায় যারা চায়ের দোকানের অবসরে দিনযাপন করি বা আরো নিচের ওই কোলকত্তাওয়ালেদের আফশোষেও কোথাও হনন নেই, কোথাও অমর্যাদা নেই আমাকে অস্বীকার করে আমার ভালোমন্দের দায়িত্ব নেয়া নিয়েও বিস্ময় নেই
এইসব ক্লীব মানুষদের আমারই সমার্থক মনে হয় আমার দু'ছত্রের আতসবাজি মনোরোগিদের শীৎকার বলে মনে হয় . **************** . সূচীতে . . .