বর্শার তীক্ষ্ণ ফলা উড়ছে বাতাসে কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
বর্শার তীক্ষ্ণ ফলা উড়ছে বাতাসে আরো শাদা হয়ে যাচ্ছে মাটি পাথর চিনার গাছেরা তোমরা তবু বেঁচে আছো বুঝি? সমতলভোজী আমাদের মতো এখনো,এখনো নিস্পৃহ মৃতদেহ হও নি বুঝি?
আমি দুঃস্বপ্ন দেখি, আতঙ্ক স্পর্শ করি ছেঁটে ফেলা নখগুলো চেপে রাখি মোলায়েম তুলোয় এতদূর থেকে আমার এই ছত্রাণুর উষ্ণতা তোমাদের কাছে পৌঁছবে না তাও জানি পঙ্গুত্বের ক্লীবতার সমান্তরালে আমার সাবধানী প্রৌঢ়ত্বও ব্যঙ্গ করছে
কোনো পতনের সাক্ষী হয়ে যাচ্ছি আমি? তুষারপাতে আমার বাড়ি, আমার পাড়া, আমার শহর ঢেকে যাচ্ছে কে দেবে আমাদের শীতবস্ত্র, কাঠকয়লার আগুন, বুখারী? . **************** . সূচীতে . . .
নষ্ট হয়ে যেতে যেতে মাঝে মাঝে যেন শুদ্ধ হয়ে উঠি কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
নষ্ট হয়ে যেতে যেতে মাঝে মাঝে যেন শুদ্ধ হয়ে উঠি ভদ্রতার মতো কিছু খড়কুটো আঁকড়ে ভাবি ভেসে থাকবো কাল বহমান কূলপ্লাবী স্রোত রাজাধিরাজের জন্যও অপেক্ষা করে না
আমি জানি,আমার বাড়িতে নাম ভাঁড়িয়ে যে মেয়েটি কাজ করতে আসে সে সরস্বতী নয় আমি জানি আমার সুহৃদ বটুদা নামে স্বধর্মী হলেও আসলে বিধর্মী আমি জানি আমার মেয়ের আরবগন্ধী বন্ধুকে যে কোনোদিন লাভজেহাদের বলি হতে হবে
আমি তো শুদ্ধতাপন্থী, বিশ্বাস করি আমরা বিপন্ন কিন্তু ওই ভদ্রতায়, আধুনিক মানসিকতার মুখোশে, নবউদ্গাত উদারতার প্রলেপে যেন মহীয়ান হয়ে উঠি
অবিশ্বাসে সহমত স্ত্রীকে চুপিচুপি বলি, মেনে নাও ওই যে বদমায়েশগুলো আমাদের ভাগ করছে আমাদেরও ভালো চায় না আমাদের, মানে আমাদের আর একই বৃন্তের অন্য কুসুম, যারা ওরা মানে, ওরা আমাদেরই তো অন্ত্যজ ছিলো . **************** . সূচীতে . . .
কি নিশ্চিন্ত নিরাপদে আছি, ভাবো কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
কি নিশ্চিন্ত নিরাপদে আছি, ভাবো বউ-এর নাসিকা রাত্রিছেদন করছে, চরাচর শান্ত, কোথাও কাশ্মীরিয়ৎ নেই সদ্য সন্ধেয় শ্যালিকাসমারোহে হনুমান মন্দিরে ঘন্টা বাজিয়ে এসে আমি মারাঠা জাত্যভিমান দেখে বাংলায় এরকম কেন নেই ভাবছি
বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছি এখন কোনো এক হায়দ্রাবাদে কোনো এক ধর্ষণহত্যা আমাকে মনে করিও না ওই মেয়েটি তো আমার ঔরসজাত নয় বুক দুরদুর করে বটে, আমার মেয়েকে বলেছি বটে সাবধানে থেকো এই মুহূর্তে যেমন মৃত্যু আমাকে স্পর্শ করবে না, সেরকম বিশ্বাসে ওউ ঠিক থাকবে ভাবি
ভাবলেই দমবন্ধ হয়ে আসে বরফের চাদরে যেন অন্তহীন জলের গভীরে ক্রমশ ডুবে যাচ্ছি যারা এখন সব খবরের বাইরে পর্বতের ছায়াফেলা হ্রদে যারা ফুল ফোটাতো ঈশ্বরের হিমে স্নাত সেইসব সন্তানেরা অক্ষত বেঁচে আছে বুঝি? . **************** . সূচীতে . . .
এইমাত্র মর্গ থেকে যে মেয়েটির লাশ বেরিয়ে এলো কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
এইমাত্র মর্গ থেকে যে মেয়েটির লাশ বেরিয়ে এলো সে আমার কন্যাসন্তান তোমরা ওর মুখ দেখতে চাওনি হতে পারে সে নির্ভয়া, হতে পারে সে আসিফা, হতে পারে সে জীবন্মৃতা, হতে পারে সে প্রিয়াঙ্কা
তোমরা যারা লুকিয়ে রেখেছো রামরহিম, সেঙ্গার, চিন্ময়ানন্ন্দ ও নিত্যানন্দকে বুকের ভেতরে আমি জানি, কাল তোমরা সবাই মোমবাতি জ্বালিয়ে এর ওর মুখের দিকে তাকাবে, স্বল্পপথের নির্বাক মিছিল নিস্পন্দ থাকবে
চিতায় বা কবরে ওই মুখহীন কবন্ধেরা শুয়ে থাকবে তোমাদের ধর্ম আকাশে রামধনুর মতো ঈষৎ বৃষ্টিতে জ্বলবে কিছুক্ষণ তারপর তোমরা বাড়ি ফিরে যাবে আরেক প্রস্তুতির জন্য
এই রাষ্ট্রীয় অবসরে আমার মেয়ে ঘরে ফিরে আসবে আমার গলা জড়িয়ে বলবে, ওই ছেলেপুতুলটা দাও, ঝুমঝুম বাজবে আমি উদ্বেগ বিষাদের মাঘনিশীথেও নব উন্মেষে জানালা খুলে রাখবো
ওরা ফিরছে স্কুল কলেজ থেকে বা কর্মান্তে ওদের দেরি হবে, স্কুটি খারাপ হবে ওরা ঠিক বিশ্বাস করবে আমাকে আমার মেয়ে, মেয়েদের লাশ যেখানে লীন হয়ে আছে ওরা তার ঠিকানা জানে না . **************** . সূচীতে . . .
কিছুই তো বাকি রাখিনি জীবনে কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
কিছুই তো বাকি রাখিনি জীবনে প্রেম, বিবাহ, সন্তানোৎপাদনের চেষ্টা অপানযোগ্য পানীয়, অপ্রাপনীয় যা বুদ্ধিতে, মেধায় ধরেছি, সব
ওদের সঙ্গে ঈর্ষায় মেতেছি যারা কথায়, তর্কে, উচ্চতায়, দর্শনে নক্ষত্রের মতো আমার কাছাকাছি পদ্যের শব্দ শুধু নিশিডাকের মতো কুয়াশায় ডেকে নিয়ে গেছে
আজ এই সন্ধ্যাকালে শব্দরা স্থির হয়ে যাচ্ছে তুমি আমার একক পাঠক সহমর্মে শিহরিত হচ্ছো হয়তো বা এতদিনে বুঝতে পারছি কতকিছু বাকি দলনে হরণে ক্ষরণে মানুষের শরীর ন্যুব্জ হয়ে আসছে আত্মমেহনের বৃত্তের বাইরে এসে এদের তো কখনো দেখিনি . **************** . সূচীতে . . .
আমি তোমাদের উঁচুতে তোলা হাত গুনে গুনে দেখলাম কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
আমি তোমাদের উঁচুতে তোলা হাত গুনে গুনে দেখলাম অসংখ্য, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ আমি কুঁকড়ে যাই আমি তো তবে সংখ্যালঘু অধুনা চিহ্নিত, আমাকে ঘিরে ধরে তোমাদের মারবার অধিকার আছে
আমি পিতা,পিতামহও বটে পুত্রের সাথে ভাগাভাগি করে আমার কন্যাও পিঠে উঠে একদা বলেছে,চল্ ঘোড়া,চল্ চিতায়, কবরে শায়িতা সেই কন্যা আজ হঠাৎ দুঃস্বপ্নে জেগে উঠছে ভোর হবার আগেই
অনেক দূরে, একটু দূরেই বিচারকেরা তাদের সফেদ হাত ধুয়ে ফেলছে হাততালি, ফুলের বৃষ্টি উন্মাদশালার প্রাচীর ভেঙে বরণ করছে নবপুত্রদের . **************** . সূচীতে . . .
বরাহনন্দনেরা কাদাতেই থাকতে ভালোবাসে কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
বরাহনন্দনেরা কাদাতেই থাকতে ভালোবাসে সুকুমারমতিরা ভুল বুঝবেন না আমি পশুদের কথাই বলছি
এখন কেউ যদি স্বাধীনতার আগে পরের কথা ভাবেন কেউ যদি সেই গ্রেট কলকাতার কথা এখনো না ভুলে যান কেউ যদি ভাগলপুর ইত্যাদি বা গুজরাট নিয়ে তর্কে মেতে ওঠেন আমি অপারগ আমি শুধু বলবো, ওসব তো পশুদেরই কান্ড মানুষ কোথায়
এই যে চারদিকে একটা শিরশিরানি যারা নাককানচোখ ঢেকে আছে,তারা টের পাচ্ছে না মধ্যরাত্রে তাদের ডোরবেল এখনো বাজেনি ধর্মপশমের উষ্ণতায় তাদের ঘুম রাত্রিকেও গভীরতর করছে তারা কি জানে ওই নন্দনেরা নিরন্তর জেগে রয়েছে কাশ্মীরে, আইনসভায়,বাজারে হাটে ওরা তো সহজাত প্রবৃত্তিতে জানে আর্দ্র আবহাওয়া, ঘোলা জল, মেঘলা আকাশ সবই তো অনুকুল, যেমন বীজাণুরা জানে . **************** . সূচীতে . . .
একটি বাংলা কবিতা কবি বিপ্রতীপ গুহ রচনা আগস্ট ২০১৯-ফ্রেব্রুয়ারী ২০২০। মিলনসাগরে প্রকাশ ৪.৬.২০২২।
কাঁকড়া তো আমরা বরাবরই রবীন্দ্রনাথকে টেনে নামিয়েছি সুভাষচন্দ্রকে জাপানী পুতুল বানিয়েছি আরো সমসাময়িককালে প্রফুল্ল সেন আর অতুল্য ঘোষকে কাঁচকলা আর কানা বেগুনের রূপ দিয়েছি তারপর চারু মজুমদার সরোজ দত্তের শবদেহের সারি পেরিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে মেতেছি
তারপর কতবছর কেটে গেলো মরিচঝাপি বাণতলা নানুর নন্দীগ্রাম সিঙ্গুর রিজওয়ান পেরিয়ে পঞ্চায়েত সারদা নারদা তোলাবাজি আর ক্রমাগত অনুপ্রেরণার সঙ্গী হয়ে আছি আজ মধ্যমেধার অংশ হয়ে কী যে আনন্দে আছি!
এখন আবার যখন মুখ ঢেকে দানবেরা আমার সন্তানকে মারছে আমি কড় গুনে হিসেব করছি, কয়জন একজনও তো আমার গর্ভজাত বা ঔরসজাত নয়
সুতরাং আমি সমর্থন করবো, ধর্মঘটে অংশ নেবো না সুতরাং আমি 'ওরা আসলে এক' বলে চিৎকৃত হবো দেশভাগের যন্ত্রণায় বিদ্ধ বাঙালী যে ফাটলকে ভুলে উঠছিলো তাকে প্রশস্ত করবার কারবারিদের প্রকারান্তরে আহ্বান জানাবো
আমি পিষ্ট হই উত্তর দক্ষিণের পাথরে ওরা এগিয়ে আসছে দিগন্ত ছাপিয়ে, টেরও পাই না . **************** . সূচীতে . . .