আজানের জান মন্দিরের মন কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৮.২০২২।
মাটি এবং আকাশ সম্পর্কে সারসংক্ষেপ অথবা ভাবসম্প্রসারণ করতে বললে একটি আমগাছ এবং কাঁঠালগাছ নিম অথবা বাবলা সজনে কিংবা চালতার গাছ এক ভাষাতেই কথা বলে, প্রত্যেকেরই মাবাবা ভাইবোনের সঙ্গে গল্পগুজব করার হাহা হিহি, আচ্ছা আচ্ছা, তাই নাকি, বেশ বেশ, ও মাগো - এইসব এক এবং হুবুহু এক ওরা প্রত্যেকেই ঘন দুধের চা এবং সময়ে সময়ে হাল্কা রঙের লেবুচাও পছন্দ করে
কাপে আর ঠোঁটে উষ্ণতা বিনিময় হলেই একঝটকায় মনে পড়ে যায় উনিশশো চল্লিশের বায়োস্কোপের কথা
বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে শরৎপল্লির শিশু উদ্যান প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ সংসারে খুব সুখী প্রয়োজনে এক বিছানায় রাত কাটায় কচুরিপানার সঙ্গে বটবৃক্ষ আজানের জান আর মন্দিরের মন নিয়ে বসা মেলায় তারা খুব বেচাকেনা করে নেওয়া আর দেওয়ার ভাষায়
তাদের কোনো আকবর-নামা নেই, কাকাতুয়া নেই অপহরণ নেই, খুন নেই, ধর্ষণও নেই ছিটেফোঁটা . **************** . সূচীতে . . .
বিবমিষার আগে কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৮.২০২২।
কত যে কথা জমে উঠছে চতুর্দিকে পাহাড় ছাপিয়ে সব অব্যক্ত , সব অশ্রুত দরজায় কেউ কড়া নাড়ছে শুনলেই সেসব কথা গুছিয়ে নিয়ে বসি তীব্র বিবক্ষায়
জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে আমার নাম নেই গণধর্ষণ বিরোধী আইনেরাই দলবেঁধে গতকাল থেকে ধর্ষণ শুরু করেছে এবার ধর্ষিত হবার জন্য আমার আমন্ত্রণ
নপুংসক রামচন্দ্রের খিদে এগিয়ে আসছে মানুষের দিকে এরকম আরও অনেক ব্রেকিংনিউজ দরজায় হুমকি দেয় হুমকিরা শুনতে পায়না , দেখতে পায়না তারা শুধু শোনায় , তারা দেখায়
কত যে কথা বলা বাকি রয়ে গেল জমে জমে পুঁজ হয়ে গেল কে শুনবে ? শুনবার কেউ নেই কানে কানে হেডফোন শ্রবণের দ্বাররক্ষী প্রতি মানুষের সাগরপার থেকে ধ্বংসের খবরেরা ঝলমলে পোশাকে ও ধ্বনিতে মনোহারী . **************** . সূচীতে . . .
গাছের তলায় গিয়ে বসি কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৮.২০২২।
এখন আমার সামনে একটা ব্যবহারবিহীন অ্যাসট্রে একপাশে একটা পুরনো টেবিল-ক্যালেন্ডার অন্যপাশে একটা ঝুলন্ত পর্দার ছায়া দূরে কাছে দুচারটে স্মারক, স্ট্যাচু, একটা রামচরিত মানস, একটা চণ্ডীমঙ্গল আর একগুচ্ছ ওমর খৈয়াম
আমি কি কোনোদিন মানুষ হতে পারতাম যদি চেষ্টা করতাম প্রত্যেক ঘরেই তো আমি আমার বাবার ছবি রেখেছি প্রত্যেক বন্ধুকেই শুনিয়েছি মায়ের আঁচল থেকে কীভাবে জন্ম নিত ছোট ছোট নদী নদীরা তো বড় হয়, প্রতিদিন আরও বড় হয়, তবু মায়ের মতন অত বড় হতে পারেনা কখনো
শতকরা নব্বইভাগে পোকা লেগে গেছে আমার জীবনে প্লাস্টিক লেগেছে লেগেছে ক্যান্সার বাকি দশভাগে গালিব হবার কোনো সম্ভাবনা আছে কি পানকৌড়ি হবার
প্রাপ্তির প্রতিশব্দ কবি দিশারী মুখোপাধ্যায় মিলনসাগরে প্রকাশ ১.৮.২০২২।
পাওয়া কোনখান দিয়ে কখন সংঘটিত হয় কেউ জানে না
কাল যখন আমার সমস্ত ঐশ্বর্যের ক্ষরণ অনাদরে অপ্রয়োজনে ভেসে চলে যাচ্ছিল এই শহরের ড্রেন বেয়ে মুচিপাড়ার জাতীয় সড়কের ধারে প্রদর্শিত অন্ধ এবং খঞ্জ ভিখারীটির কাছে ট্রেনিং নিচ্ছিলাম আমি ভিখারী হওয়ার কলাকৈবল্যে তখনও জানতাম না বিকল ঘড়ির ডায়ালে অবিকল্প ফুটে উঠছো তুমি কেবল আমার জন্য
সূর্য-স্নান করব বলে আমি কুড়িতলা বাড়ির ছাদের উপর নগ্ন শুয়ে আছি আকাশ আর আমি প্রায় সংলগ্ন এখন কেউ কারো কাছে কিছু লুকোচ্ছি না আমি সূর্যের সৃষ্টিরহস্যে ডুবে আছি সূর্য আমার আকাঙ্ক্ষায়
কীভাবে কখন কোথা থেকে প্রাপ্তির প্রতিশব্দ হয়ে ওঠো তুমি ! আমি তাই অতি তুচ্ছ আমাকেও রোজ ভালোবাসি . **************** . সূচীতে . . .