কবি জগদীশ গুপ্ত - এর পুরো নাম জগদীশচন্দ্র গুপ্ত। তিনি জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার কুষ্টিয়া
জেলার আমলাপাড়া গ্রামে। পিতা কৈলাসচন্দ্র গুপ্তর আদি নিবাস ছিল অবিভক্ত বাংলার  ফরিদপুর জেলার
খোর্দমেঘচামী অথবা খোর্দ মেঘচারমি গ্রামে। তিনি কুষ্টিয়া আদালতের বিশিষ্ট আইনজীবী ছিলেন। কবিপত্নি
চারুবালা সেনগুপ্ত।

কবির শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯০৫ সালে কলকাতার সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার
রিপন কলেজে ভর্তি হন। ১৯০৭ সালে তিনি এফ.এ. (ফার্স্ট আর্টস) পরীক্ষা দিয়ে পড়া ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে
কলকাতা কমার্শিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে শর্টহ্যান্ড ও টাইপরাইটিং শিক্ষা গ্রহণ করেন।

কবি জগদীশ গুপ্ত কর্মজীবন শুরু করেন বীরভূম জেলার সিউড়ির জজকোর্টে টাইপিস্টের চাকরি দিয়ে ১৯০৮
সালে। সেখানে চার পাঁচ বছর চাকরি করার পর উড়িষ্যার সম্বলপুরে একজিকিউটিভ এঞ্জিনিয়ারের অফিসে  
টাইপিস্টের চাকরি নিয়ে চলে যান ১৯১৩ সালে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় সেই চাকরি ছেড়ে  
কলকাতার "জাগো'স ইঙ্ক" নামের ফাউন্টেনপেনের কালি তৈরির একটি কারখানা খোলেন। ১৯২৭ সালে
ব্যবসা গুটিয়ে বোলপুরের চৌকি আদালতে টাইপিস্টের চাকরিতে যোগদান করেন। সেখান থেকে ১৯৪৪  
সালে তিনি অবসর গ্রহণ করে কুষ্টিয়ায় বসবাস করতে থাকেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর কুষ্টিয়া ত্যাগ
করে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

কবি হিসেবে তিনি প্রথমে আত্মপ্রকাশ করলেও ছেটোগল্পকাররূপে বাংলা সাহিত্যে খ্যাতি লাভ করেন।   
সাহিত্য জীবনের শুরু থেকেই তাঁর কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। আমরা কবির যে
কবিতা সংগ্রহ করতে পেরেছি তার মধ্যে একটি কবিতা প্রকাশিত পাই রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত  
“প্রবাসী” পত্রিকার পৌষ ১৩১৭ (ডিসেম্বর ১৯১০) সংখ্যায়। তিনটি কবিতা পাই জীতেন্দ্রলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
সম্পাদিত “বীরভূমি” পত্রিকার পৌষ-মাঘ ১৩১৮ (১৯১১) সংখ্যায়। জীবনের প্রায় শেষ দিকে লেখা তাঁর  
একটি কবিতা পাই ১৯৫৪ সালের “শারদীয়া যুগান্তর” পত্রিকায়। অর্থাৎ তিনি গল্পকার হিসেবে যতটা প্রতিষ্ঠা  
ও খ্যাতি পেয়েছিলেন, ততটা কবি হিসেবে না পেলেও, সারা জীবন ধরে তিনি কবিতা লিখে গিয়েছিলেন।  
গল্প তাঁর সহজাত বিষয় ছিল বলে বহু ক্ষেত্রে কবিতার আকারে আসলে গল্পই বলে গিয়েছিলেন। তাঁর  
একটিই প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “অক্ষরা”। মিলনসাগরে কবি জগদীশ গুপ্তর পাতায় মোট ১২টি কবিতা প্রকাশিত
করা হলো।    

তাঁর প্রথম গল্প “পেয়িং গেস্ট”, “বিজলী” পত্রিকায় ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়। তাঁর গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে
“বিনোদিনী” (১৯২৭), “রূপের বাহিরে” (১৯২৯), “শ্রীমতি” (১৯৩০), “উদয়লেখা” (১৯৩২), “শশাঙ্ক কবিরাজের  
স্ত্রী” (১৯৩৪), “মেঘাবৃত অশনি” (১৯৪৭), “স্বনির্বাচিত গল্প” (১৯৫০) প্রভৃতি। তাঁর উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে  
“অসাধু সিদ্ধার্থ” (১৯২৯), “লঘুগুরু”(১৯৩১), “দুলালের দোলা” (১৯৩১), “নিষেধের পটভূমিকায়” (১৯৫২),  
“কলঙ্কিত তীর্থ” (১৯৬০), “রোমন্থন” প্রভৃতি। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে
"পাইক শ্রী
মিহির প্রামাণিক
" (১৯২৯), উপায়ন (১৯৩৪) প্রভৃতি।

কবি অধ্যাপক শিশির কুমার দাশ তাঁর “সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী” গ্রন্থে কবি জগদীশ গুপ্ত সম্বন্ধে
লিখেছেন . . .
“কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও তাঁর প্রতিভার যথার্থ প্রকাশ হয় ছোটগল্পে। তাঁর প্রথম গল্প পেয়িং গেস্ট
(বিজলী ১৩১১ বঙ্গাব্দ / ১৯০৪) ও প্রথম গল্প সংকলন বিনোদিনী (১৯২৭)। কালিকলম ও কল্লোল পত্রিকাতেও
তিনি লিখেছেন। বিনোদিনীর গল্পগুলিতে অবচেতন মন, মনোবিকার ও কূটৈষণার প্রতি তাঁর আগ্রহ খুবই  
স্পষ্ট। . . .  তাঁর প্রতিভা বিশেষ জনসমাদর লাভ করেনি, কিন্তু তিনি অনেক পরিমাণে “লেখকের লেখক”  
ছিলেন সন্দেহ নেই।”

এই পাতা  
মিলনসাগরে  কবি জগদীশ গুপ্তর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি। কবির কবিতা আগামী প্রজন্মের  
কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের
এই প্রচেষ্টা সার্থক মনে করবো।


উত্স -   
  • কবি শিশির কুমার দাশ সংকলিত ও সম্পাদিত “সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী”, ফেব্রুয়ারী ২০০৩।
  • সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত “সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান” জুলাই ২০১০ সংখ্যা।
  • বাংলা উইকিপেডিয়া। সেই পাতায় যেতে . . .


      
কবি জগদীশ গুপ্তর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন



আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     



১২টি কবিতা নিয়ে এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২৪.৭.২০২২
.                                                                                                                      
 ^^ উপরে ফেরত   





...