কবি ডঃ কৌশিক ঘোষের কবিতা
*
রক্তাক্ত স্বাধীনতা
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

তর তাজা প্রাণ দিয়ে বলিদান
স্বাধীন বাংলা পাই,
লাল সবুজের পতাকার তলে
বিজয়ের গান গাই।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে
পাক হানাদার দল,
রক্তের হোলি খেলে রাজপথে
দেখায় শক্তি বল।

রেস কোর্সের ময়দান থেকে
শেখ মুজিবের ডাকে
পাক পায় ভয় হাতে বাঁশ লয়
শ্রমিক কৃষক ঝাঁকে।

বাবার কোলেতে খুন হয় মেয়ে
নারী ইজ্জত হারা,
বীর বাঙালিরা করেছে লড়াই
করে পাকেদের তাড়া

পাকিস্তানীরা পরাজয় মেনে
ছেড়েছে সোনার দেশ,
লাল সবুজের নিশানে রক্তে
শহীদের স্মৃতি বেশ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফিরে এসো একবার
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

ভালবেসে গেলে হেসে রেখে মোরে একা
বেদনাতে থামে নাকো প্রেম কাব্য লেখা।
কতশত স্মৃতি মনে আসে মনে ভাসি,
ভুলে যেতে পারিনি গো আজো ভালোবাসি।

সেই মুখ সেই চোখ ভাসে আঁখি পাতে
অবিরাম ভেবে চলি ঘুম হীন রাতে
হয়তো পেয়েছো দেখা আরো প্রিয় জনে
মুসাফির কেঁদে চলে প্রিয়া হারা মনে।

তুমি থাকো ফুল বনে সাহারায় আমি
ব্যথা বুকে শত দুখে অশ্রু আসে নামি।
বুঝি নিকো ছিন্ন হবে প্রেমের মুকুল
বিরহের ঝড়ে ঝরে সব প্রেম ফুল।

খুঁজে ফিরি তবু আমি প্রিয়তমা মোর
ব্যথা কাঁটা পথে চলি অবসাদে ঘোর।
বুনোফুলে মালা গাঁথি যদি ফিরে আসো
পাশাপাশি বসে হাসি যদি ভালোবাসো।

সুখ স্মৃতি  প্রীতি বাতি শুধু নিভে যায়
প্রেমহীন আকাশেতে তারা গুণি হায়।
একবার শেষ বার ভুলে ফিরে এসো,
ময়দানে হাতে হাত রেখে ভালোবেসো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ঘটমান বর্তমান
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ
কবির করোনা কালে লেখা কবিতা।

একটা পৃথিবী জাহাজ সাগরে ভাসে
নোঙর করবে শান্তির বন্দরে
একটা আকাশে অজস্র বারুদ তারা
লেখে ইতিহাস ব্লাকহোল অন্দরে।

পৃথিবীর বুকে অহর্নিশি উল্কাপাত
নক্ষত্রদের আতঙ্কে মুখচুন
অবিরাম বজ্রপাতের আশঙ্কা
পাখিদের সাথে মানুষের মৈথুন।

অমাবস্যা চাঁদ আলো ও ঈর্ষায়
যুদ্ধ থামবে কী কারো জানা নেই
লোহিত সাগরে ঢেউ খুব উত্তাল
আগামী সূর্য উঠবে তবুও ভোরেই।

শান্তির দূত পায়রা সব নিরুদ্দেশ
দেবতা থাকে না ভগ্ন মন্দিরে
মিছিলে দেখি আমজনতার ঢেউ
গণতন্ত্রের নিধন হচ্ছে ধীরে।

যারা শেষ থেকে শুরু করে যাত্রা
প্রান্তরময় ধ্বংসের বীজ বোনে
তৃতীয় ঢেউয়ে কোভিডের প্রস্তুতি
সীমান্তে সেনা আক্রান্ত ড্রোনে।

যবনিকা পড়ে মানবতা অন্তরে
বাতাসে ভাসে বারুদের গন্ধ
আলোর যাত্রী সব আসবে ফিরে
সব পালাবার পথ আজ বন্ধ।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এই বেশ ভালো আছি
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

এই বেশ ভালো আছি
খেলে চলি কানামাছি বেঁচে মরি মেরে বাঁচি
যে যা বলে শুনে নাচি নাই কোন বাছাবাছি
দূরে নয় কাছাকাছি কভু কাশি জোরে হাঁচি
মাছেদের কাঁটা বাছি
শীতে কেঁপে খুঁজি আঁচই ফিতে কাটে নেতা কাঁচি
জিলেটেতে দাড়ি চাঁচি ধোপা হয়ে ধূতি কাচি
জরদায় পান সাঁচি কারো ধার নাহি ধাঁচি
এই বেশ ভালো আছি....
জীবনকে বাজি রেখে পথ চলি পাঁজি দেখে
পেন্সিলে স্লেটে এঁকে মুখে নানা রঙ মেখে
কশেরুকা যায় বেঁকে....
স্বপ্ন যা ভুলে থেকে কবিতার রুটি সেঁকে
কাটি ধান মাঠ থেকে মিডিয়াকে আনি ডেকে
ত্রাণ দিই দল দেখে
কোন প্রমাণ না রেখে মদ খাই বসে ঠেকে
গিয়ে দেখি সল্ট লেকে কত কবি শুধু লেখে
রাজনীতি করে শেখে নেতাদের অভিষেকে
বেকার জীবন থেকে হারিয়ে যায় যে কে কে
জীবন কে বাজি রেখে......
ভালো আছি এই বেশ বেচি কিনি সারা দেশ
শুরু থেকে হয় শেষ বাঘ সব হয় মেষ
পথে চেয়ে অনিমেষ মনে কোন নাই ক্লেশ
সারা দেশে বিদ্বেষ পেকে সাদা কালো কেশ
ময়দানে খেলে রেষ অনুতাপ নেই লেশ
খেলি পাশা খেলি চেস চেয়ারেতে দিয়ে ঠেস
ভালো আছি এই বেশ॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অশনি সংকেত
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

বিদ্রোহী কবিতা শোনো সিংহ নিনাদে
প্রেমের বাদল কাব্য ময়ূরের পেখমে
ফাগুন রাঙা পলাশ কোকিলের ডাকে
সাগর গর্জন বজ্রে অজস্র কবিতা।

ফুটেছে সফেন কাব্য ভাত শূণ্য হাঁড়ির
তোর্সার তীব্র স্রোতে ঘোলা জলে ছন্দ
সবুজ ঘাসের শিশিরে লেখা মুখবন্ধ
ফুসফুসে যক্ষা বা কোভিড উনিশ।

কিলবিস গ্রাস করে দারুচিনি দ্বীপ
বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল কবিতা জাহাজ
ব্লাকহোলে অভিকর্ষের অনন্ত শক্তি
বনলতা নীরা পারু পালায় কোথায়।

পরমাণুর তেজস্ক্রিয়তা কী বলে যায়
গরুগুলো মাঠে চড়ে ঘাস খুঁজে চলে
কতো শিশু ঘুরি ছাড়া লাটাই হাতেই
বুড়ো সেগুন স্তব্ধ স্থবির বিস্ময়ে চেয়ে।

নেমেছে আঁধার রাত কালির দোয়াতে
যামিনী রায়ের তুলির সাঁওতালি মেয়ে
পিয়ানো বাজান কী আজো বিটোফেন?
একুশের বিউগল আর বাজে না কো

একাদশ শতাব্দীর চে গুয়েভারার নেই
ফ্যাননের ব্লাক স্কিন হোয়াইট মাস্ক লীন
কার্লমার্কস লেলিন নেলসন ম্যান্ডেলা
সুভাষ বিনয় বাদল দীনেশরা কোথায়?

কবিতারা গড়ে যায় পরাধীনতা শৃঙ্খল
জীবাশ্ম রবীন্দ্রনাথ কাজী নজরুল!!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফাগুনিয়া
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

ফাগুন আগুন মনে আসে প্রেম নিয়ে
শিমুল পলাশ রাঙা ধরা রূপে ভরে
ভাটিয়ালি গান গায় মাঝি নাও পরে
মুখরিত চারিদিকে সুখে ভরে হিয়ে।
কোকিলের গানে মন যায় শিহরিয়ে
প্রিয় প্রিয়া মন মাঝে প্রেম স্বর্গ গড়ে
স্বপ্ন আশা নিরন্তর অশ্রু হয়ে ঝরে
বিরহের আঁখি নীরে ভাসে প্রিয় প্রিয়ে।

অলি দল নেচে চলে গানে গানে নেচে
ধরণীতে আসে নেমে স্বর্গ খানি যেন
ফাগ খেলে ছেলে মেয়ে নানা রঙ মাখে
পাতা ঝরা দিন আনে কিশলয়ে যেচে
কোথা গেলে পাবে তুমি এতো সুখ হেন
ফাগুনিয়া কাব্য মাঝে কবি ছবি আঁকে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বেশ হয়েছে বেশ
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ
করোনা কালে রচিত কবিতা।

বেশ হয়েছে বেশ
হরেক মাল কিনতে মেলায়
টঙ্কা মামার শেষ
মগজ ঘরে কাগজ ভরে
লিখছে অনিমেষ
ছাপবে নাকি দেশ
আরাম করে নিজের ঘরে আমড়া আঁটি চোষ
দেখবি আকাশ বাতাস নদী ফুঁসছে করে রোষ
বাগেরহাটে সূর্য পাটে
সবাই দেখি খিচড়ি ঘাটে
নাটের গুরু বটের ঝুরিই খাচ্ছে শুধু দোল
আজকাল হয় খোল করতাল বাজিয়ে হরিবোল
যাসনে বাপু শোন
এক থেকে এক লাখ অবধি নামতা টাকার গোন
গুনতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে কাঁদাস না রে মন
পার্লারে ভিড় খুব জমেছে
ফেসিয়ালের রেট কমেছে
পুজোয় কামাই করে পার্লার বানায় নতুন ড্রেস
আহা কী আবেশ..
কলপ করে করছে কালো সবাই পাকা কেশ
এখন সবাই ময়দানেতে খেলবে ঘোড়ার রেস
হেস্তনেস্ত করাই আগে কেউ ঘুমোয় কেউ ঘুমিয়ে জাগে
কম্পজ্বরে লেপ মুড়ি দেয় কবি অনিমেষ
বেশ হয়েছে বেশ
ধুসনি কেন সাবান দিয়ে চোখ মুখ হাত ফেস?
ঢুকবি জেলে নিয়ম ভেঙে কোভিড উনিশ কেস।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রথম প্রেমের কদম ফুল
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

প্রথম প্রেম জানাই তোকে, "অনেক ভালোবাসি"!
আমার হৃদয় আকাশে তোর স্মৃতিরা রাশিরাশি।
আজো সেই স্বপ্ন রঙিন প্রজাপতির ডানা,
সাজানো আছে মন শোকেসে উড়ে যেতে মানা।

কখন কোথায় হারিয়ে গেছে অজানা মনে হয়
সেই শিহরণ, স্নিগ্ধ শোভন নয়ন জলেই রয়।
হঠাৎ করে পালিয়ে গিয়ে লুকালি কোথায়?
খুঁজতে গিয়ে শুনতে পাই টু'কি মেরে যায়।

রূপকথার এক রাজকন্যা হঠাৎ কোথা হতে?
নিষ্পলক করলে আমায়, নিজের চলা পথে।
জোড়া নয়ন তাকিয়ে ছিল জোড়া নয়ন পানে
মনে হয় হয়তো ছিলাম পরস্পরের সন্ধানে।

তখন তুমি কলেজে যেতে ব্যাগ নিয়ে কাঁধে
সকাল ন'টার নৈহাটি লোকাল, স্মৃতি বাঁধে।
আড়ষ্ট ভাব, রক্তিম গাল আমাক শুধু দেখে
কোন শব্দ বের হতো না আমার মুখ থেকে।

সকাল থেকে চারদিকে বহু লোকের ভিড়ে
সেই মেয়ের মুখ দেখা, প্রেম নয়নে ঘিরে।
শিয়াল'দা স্টেশনে থেকে অধীর প্রতীক্ষায়
ভালোবাসা জাগতো মনে তার মুখ দেখায়।

কৌতূহলে তোমার পিছু ধাওয়া যে কেবল
কি অদ্ভুত অনুভূতি প্রথম প্রেমের ফল।
কি নাম যে, কোথায় থাকো, বহু প্রশ্ন নিয়ে
ভাবতে গিয়ে সব কথারা যেতো হারিয়ে।

কেন আমি রোজই আসি ঠিক ন'টার সময়?
এ প্রশ্ন তোমার মনে জাগতো কি নিশ্চয়?
হঠাৎ সেদিন চমকে উঠে তোমার গলা শুনে---
কেন যে রোজই আসি শিয়াল'দা স্টেশনে?

বলতে গিয়ে আড়ষ্টতায় শুকিয়ে যায় গলা,
প্রথম দেখা, প্রথম প্রেমের একথাটা বলা।
এই মনে তোমার আসন গভীর প্রেমে পাতা---
বলা ভীষণ কষ্ট হতো, বলবে নাকি যা তা?

ভয়ে আমি কাঁপি শুধু, যেদিন বল্লে তুমি এসো
বল্লে, "আর চুপ না থেকে একে ভালোবেসো"!
নামিয়ে মাথা কাঁপা গলায় বলি, "ভালোবাসি,
তাইতো এ মুখ দেখতে রোজ হেথা আসি"!
"বেশ ছেলে তো, এতোদিন কেনো বলো নাই"?
আমি ও যে তোমার প্রেমে পড়েছি গো তাই"!

এমনি করেই আমাদের প্রথম প্রেমের খেলা
প্রেম পর্ব শুরু হতেই কেটেছে অনেক বেলা---
তার পরে অনেক দিন রাত কেটেছে প্রেমে
আমায় দেখামাত্র কাছে ছুটে আসতে নেমে।

কতো ভালবাসি তোমায় বুঝতে যেই পারলাম,
তোমা-ছাড়া অন্য কারো, ছিল নাকো দাম।
সুখ দূঃখ পালিয়ে যেতো উভয়ের মন থেকে
ঘুমের ঘোরে প্রতি ভোরে তোমার স্বপ্ন দেখে।

প্রথম প্রেমের বৃষ্টি-ভেজা মেঘের বিষন্নতায়
পার্কে বসে গাওয়া গান আজো শোনা যায়।
কতো জমা কথা-বলা দুজন দুজনের মাঝে---
শব্দ গুলো আজো যে হৃদয় বীণায় বাজে।

যেদিন তুমি বিদায় নিলে সুখের আমন্ত্রণে---
সেদিন আমার ভেজা বালিশ অশ্রু ক্রন্দনে।
আমার মনের প্রথম প্রেমের প্রত্নতত্ত্ব গুলো
তোমার লেখা প্রেম পত্রে পুড়ে ছাই হলো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চাবুক
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

তোমরা সবাই আমার পিঠে আঘাত করতে পারো।
এই পিঠ সারাদেহ রাজপথে পেতে দিলাম।
তোমরা সবাই আমার পিঠে চাবুক মারতে পারো।
আমার দেহের প্রতিকোষে, স্নায়ুতন্ত্রে,
আমার রক্ত কণিকার প্রতি সেল ভেঙে চুরমার করে দিতে পারো।
প্রতিবাদ করবোই না।
কারণ আমি মানুষের মুখোশে দানব, দৈত্য বা বর্বর।
আমি অমানুষ সমাজের প্রতিভু।
আমি আঘাত চাই, পাথরে নিষ্পেষিত হতে চাই।
আঘাত আঘাত আর আঘাত করে আমার দেহে আগুন জ্বালিয়ে দাও।
আমি পুড়তে চাই, লাশ থেকে ফসিল হতে চাই।
আমার জন্য একটা পিরামিড তৈরির আবেদন করতে চাই।
কোন ফুল নয় শুধু ক্যাকটাসের চাদরে ঢেকে দিও।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ছন্দের জগত
কবি ডাঃ কৌশিক ঘোষ

সাঁঝের বেলা সূর্য ডোবে
ভোরে উদয় হয়,
দিনের পরে রাত আকাশে
চাঁদ তারারা রয়।

সৌরজগৎ  জুড়ে সকল
ঘুরছে গ্রহগন,
বিবর্তিত হচ্ছে জীবন
জন্ম- মৃত্যু ক্ষণ।

বর্ষাকালে রিমঝিমিয়ে
বৃষ্টি ঝরে যায়,
ছন্দে উড়ে পাখির দলে
ফুলে ফুলে গায়।

আজ যে আছে কাল রবে কি
বলতে পারে কেউ?
জোয়ার ভাটার ছন্দে নাচে
অশ্রু স্রোতের ঢেউ।

হৃদয় মাঝে ছন্দে ছন্দে
শুনি যে লাব ডুব,
অমোঘ ছন্দের স্রষ্টায় জানতে
ইচ্ছে করে খুব।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর