কবি মামুন বাদশা খানের কবিতা
*
সন্ধ্যাতারা
কবি মামুন বাদশা খান

'তারা' মনে পড়ে -
বুকের ভাঁজ যেদিন দেখেছিলাম উন্মুক্ত।
ছোট্ট তিলটি সন্ধাতারা।
হৃৎপিণ্ডের লাজুক শব্দ নিঃশাস।
পৃথিবীর এক কোনে দাঁড়িয়ে  লেনদেন বিশ্বাস।

ঠোঁট সন্ধ্যাতারা স্পর্শ,
কি বিশ্বাসে না বলেছিলিস আহঃ !
কোমর হয়ে উঠেছিল আস্ত নাভি,
স্পন্দন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে।

আমার দেহ তখন লিপটে যায়নি দেহে
চুল আধা ভেজা শরীর চুমু চেয়ে।

কত বিশ্বাস এক করে ঠোঁটে ঠোঁট জুড়ে ছিলাম।
কত স্বপ্ন কাছে টেনে জাপটে ধরে ছিলাম।

এখনো স্বপ্ন দেখি সকাল সূর্যের মত
এখনো ভালো লাগে নাকি সুরে গান
নতুন ঠিকানার ঘাস অপেক্ষায় গল্প শুনতে।
আমি বলব আর তুই শুনবি।

আমার সমস্ত ভালোবাসা
তোর সন্ধ্যাতারায় ঠাঁয় দিবি॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চাহিদা
কবি মামুন বাদশা খান

পিত্ত জ্বলিয়া যায় দেখিলে-
বদন বিহিন পোশাকে।
হাতে নকল শাখা নকল সিঁদুর লাগিয়া
দিব্যি রাত কাটায় হোটেলে।
ভ্যানিটি ব্যাগ এখন স্তন্য হইয়াছে
খোলা চুলে বুক ঢাকিয়া পুরুষকে কয়-
প্রাণের সুখ চিৎ হইয়া নিজের উপর লয়
বুকের মালিশ যোনিপুট ঘর্ষণ সেবা দেয়।
আমি ভাবি কে সুখী
বোকা স্বামীর কি সতী সুখী হয়?

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এক যুগ
কবি মামুন বাদশা খান

মায়ের আঁচলে মাথা মোছা হয়নি
ভালোবাসা পাইনি আজ এক যুগ ধরে।
বুঝেছি চোখের জল ছল ছল করে।

দুঃখ করলে কি আর হবে সেই তো ছিলাম দূরে।
হোস্টেলের বেড বিছানা বালিশ মনে করাতো ভোরে।

চোখের জল শুষে নিত বালিশ ঘুমের ভোরে।
কেউ দেয় না হাত বুলিয়ে মাথায় আদর করে।
মাগো তুমি চলে গেলে আমায় ছেড়ে একা।
বড় হচ্ছি অনেক বড় তবু লাগে একা।
কষ্ট ভীষন হচ্ছে মাগো বড় হচ্ছি যত।
স্বপ্ন আমার আকাশ ছোঁয়া দিনরাত্রি কত।
তোমায় মাগো ছেড়ে আমি ভালো থাকি না।
কবর থেকে উঠে মা তুই একদিন থেকে যা॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অপেক্ষায়
কবি মামুন বাদশা খান

আমার হারিয়ে যাওয়া সন্ধ্যা গুলো,
ঝাপসা কেন দেখি প্রতিদিন,
সময় বড়ো স্বার্থপর হয়ে
দেখা নেই কোনো দিন ।

তোমার শরীর রাগরাঙা দেখি
ফেসবুক ওয়ালে -
দিন রাত এক করে
থাকি সেটে দেওয়ালে ।

তুমি নেই ঘুম নেই
অযথা কথা নেই,
জানালার কাঁচ থেকে,
তোমার আর দেখা নেই।

আসবে কবে কাছে
মাঝ রাত এড়িয়ে,
মাঝ রাতে তারা'দের
পাহারা বাড়িয়ে।

এসো কাছে পাশে বসে
এক সাথে থাকবো,
সময়ের দেওয়ালে
রাঙা ঠোঁট জুড়বো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জন্মদিন
কবি মামুন বাদশা খান

আগুনের শিখায় জন্মদিনের
বার্তা দিয়ে যায়
ক্ষমা করো  আসতে পারিনি
বিয়োগের চিহ্ন প্রায়।

ভেসে আসা গন্ধ,
ভেজা চুলের স্পর্শ
সবি বন্ধ, এই প্রদীপ শিখায়
শুধু দুঃখ দিয়ে যায়।

তুমি গৃহিনী মাতৃনাড়ী তৈরিতে
বিছানায় অন্য পুরুষ,
তবুও সংশয়, তবুও সংশয়-
জন্ম বার্তা দিয়ে আসে আগুনের শিখায়॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মাটি যে স্বার্থপর
কবি মামুন বাদশা খান

এই বুক তোমার হারানো কিভাবে সপে নেবে।
মেনে নেওয়াও বৃথা,
শ্রাবণে খোঁজা শুরু করে আজও ক্লান্ত ভবঘুরে।
যে সন্ধ্যায় আলো জ্বলেনি,শুধু জোনাকিরা খুঁজে বেরিয়েছে তোমায়।
যে সন্ধ্যায় চাঁদ উঠেনি হয়তো,তোমাকে খোঁজার টানে উঁকি মেরেছে মেঘ ছিন্ন করে।
নিশাচরেরা খুঁজেছে গভীর রাতে চোখের রড কোষ কাজে লাগিয়ে।
তোমাকে খুঁজতে গভীর রাত্রি আলো টেনে এনেছে বহুবার।
তুমি কোথায় হারিয়ে গেলে,এই ক্ষুদ্র সাম্রাজ্যের মধ্যে।
তোমার তো আমি ছাড়া আর কেও ছিল না!
পৃথিবীর অভ্যাসে তোমাকে রেখে এসেছিলাম মাত্র তিন হাত মাটির নিচে।
মাটির কাছে চলে গেলে কে বা খুঁজে পায়?
মাটি যে বড়ো বেঈমান,স্বার্থপর !
তোমায় নিয়েছে,ফিরিয়ে দিবে না কোনোদিন।
তোমায় খুঁজতে আমি ও যাবো মাটির কাছে,
আমার যাওয়াটা যে খুব  জরুরি॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অনন্তকাল
কবি মামুন বাদশা খান

তুমি চাইলে দুঃখ ভুলে যাবো
মাথায় রোদ নিয়ে ঘুরবো।
বৃষ্টির ছাতা হবো,মন খারাপের সন্ধ্যা হবো।
ফিকে জ্যোৎস্নায় গা ভাসিয়ে
ঘড়ির কাঁটা হবো।
তুমি চাইলে অনন্তকাল ঘুম গুছিয়ে রাখবো।
নিশাচর হয়ে ধোঁয়া গুনব,
বাষ্পসকট চলা শুনবো।
এলোমেলো চুল গুছাব,
বাবুঘাটে নাহয় বসে থাকবো
অনন্ত অনন্ত কাল॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফুটপাত
কবি মামুন বাদশা খান

তবুও শান্ত এই পৃথিবী তবুও ক্লান্ত।
ভবঘুরে ঘোরাফেরা ফুটপাত ভুখা পেট
ঝিরি ঝিরি বর্ষা কষ্টের সংকেত।
বিল্ডিং বিলাসিতা হাইফাই চপ্পল
কেনারাম বেচারাম ফুটপাত সম্বল।
ছেঁড়া জামা চটি পরে রোদ শুষে চামড়ায়
অর্থের অভাবে তালা মুখ আওড়ায়।
রোজগার ট্যাক্স ভাতা কেটে যদি পেটে দিত
খুশি হতো ভুখা পেট রাত ঘুম কেটে যেত।
অন্যায় প্রতিবাদ করে আর কে কে
তুমি আমি যাব না মরে যাক ক্ষুধা তে।
এই হল স্বাধীনতা  উন্নয়ন সমিতি
শিক্ষা স্বাস্থ্য খাদ্যের কমতি।
মশারা বেঁচে থাক ফুটপাত রক্তে
নিরবে বেঁচে আছে রাজনীতি ভক্তে॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
উদ্বাস্তু
কবি মামুন বাদশা খান

হৃদয় থেকে ভাগাড়ের গন্ধ পাইতেছি,
বুঝিনা কেন এত জ্বালা ছাই হয়ে উড়তেছে।
বোকা মাথায় বারুদের গন্ধ পাইতেছি,
তবুও জ্বালাতন কষ্ট সেদ্ধ হয়।
তুমি এসো,এই মরা দেশে ভিখারি হতে
আমার কান্নার জল ভাত দিবে ,তোমার নাহয় পেটে।
তবুও এসো ওই ঠিকানায়,পঁচা মাংসের ভাতে।
আমার কষ্ট তোদের নিয়ে,গায়ে টাকার গন্ধ
ভিখারির ছাদ খোলা আকাশ,অট্টালিকার দ্বন্দ॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জ্বালাতন
কবি মামুন বাদশা খান

যতসব জ্বালাতন
সেক্সের পর কি তা খুঁজে বের করো
হাসি পাচ্ছে-পাছায় শান্তি মনে শান্তি, বুকের শান্তি মন খাচ্ছে।
তুমি তো জানো কন্ডোমের দাম বেড়ে যাবে প্যান্টির মতো।

সব আশ্চর্য,

এই মন হয়ে গেছে পুষ্করিনি, মন্দাকিনি হলে জানিও-
তবুও তো জানি না সেক্সের পর কি-কুকুরের মত জিভ বের করে হাঁপানো!

না! এসব বৃথা, শান্ত হও শান্ত হও॥

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর