কবি মানস কুমার মাইতির কবিতা
*
আমার ঠাকুর
কবি মানস কুমার মাইতি

তখন আমি নির্বোধ এক শিশু
প্রথম আলাপ গ্রীষ্মের এক ভোরে
প্রভাত ফেরীর বনেদি আয়োজনে
হাজির ছিলাম চৌরাস্তার মোড়ে।

অবোধ সুবোধ নানা বয়সের ভিড়
সবার সমুখে তোমার গলায় মালা
শৃঙ্খলে বাঁধা স্লোগান বিহীন মিছিলে
কাব্য গীতিতে সামনে এগিয়ে চলা।

পথের দু'ধারে দাঁড়িয়ে মানুষ কত
মুগ্ধ হৃদয়ে দেখেছিল শোভাযাত্রা
মনের ফ্রেমে বাঁধানো সে ছবিখানি
অনুভব রঙে পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।

তারপর হতে প্রতি বৈশাখী প্রাতে
হেঁটেছি আমি। কন্ঠে তোমার মন্ত্র
দুঃখ বেদনা সব শোক তাপ ভুলে
তোমাকে ঘিরেই বাঁচার ষড়যন্ত্র।

ভরসা রাখিনি মূর্তির দেবালয়ে
স্বজন বিয়োগে হইনি তো শোকাতুর
'গীতবিতান'ই আমার সুধা-পাত্র
হৃদয় দেউলে তুমি জাগ্রত ঠাকুর।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চণ্ডালের ভবিতব্য
কবি মানস কুমার মাইতি

বুড়ো আঙুলটা আজ আর ডানহাতে নেই। ছিন্ন করেছি অবলীলায়। সগৌরবে।
ঝরেছে রক্ত। দু'চোখ থেকেছে অশ্রুহীন।
এ যে আমার আত্মার তৃপ্তি। সাধনার স্বীকৃতি।
গুরুর আসনে বসিয়েছি তোমায়। হোক শিষ্যত্ব না মঞ্জুর।
তোমার নিষ্প্রাণ মূর্তি আমাকে জুগিয়েছে শক্তি। চিত্তে এনেছে একাগ্রতা।
তোমার প্রত্যাখ্যানই আমার প্রেরণা। আপন  অনার্য সত্তায়  নিজেকে করেছি চালনা।
বঞ্চনার আগুনে  নিখাদ করার প্রচেষ্টায় প্রয়াসী আমি, ক্ষত্রিয় কৌলিন্য রহিত এক নিষাদ।
বন্যতার ছাপ আমার দেহে স্পষ্ট। ধূলিধূসরিত শরীর অবজ্ঞার ন্যায্য দাবিদার।
ক্ষত্রিয় ঔদ্ধত্য, সূচির ব্রাহ্মণ্য, আর্যের সৌন্দর্য; কিছুই নেই আমার।
সভ্য সমাজের আদব কায়দায় আমি অনভ্যস্ত।
তাইতো তোমার প্রত্যাখ্যানে আমি বিন্দুমাত্র হয়নি বিচলিত।
কঠোর শ্রম, একান্ত নিষ্ঠা, প্রতিষ্ঠার আকূলতায় তোমার যথার্থ শিষ্য হওয়ার চেষ্টা ছিল
আপ্রাণ।
আয়োজিত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ হয়নি কখনো। আমার শস্ত্র জ্ঞান কোনো অস্ত্র
গুরু কর্তৃক হয়নি শংসিত।
ব্রাত্য আমি শুধু তোমাকেই জেনেছি গুরু।
ধ্যানমগ্ন থেকেছি তোমার মূর্তিসমুখে। প্রার্থণা করেছি তোমার শিক্ষা।
তোমার প্রিয় ছাত্র হতে পারিনি।
তবু তুমি যখন গুরুদক্ষিণা চাইলে,সে তো আমার স্বপ্নপূরণই।
ধন্য হলো আমার তপস্যা। সার্থক হলো আমার অস্ত্র শিক্ষা।
আমাকে শিষ্যের মর্যাদা দিয়েছো তাইতো চেয়েছো গুরুদক্ষিণা। জানিনা কোন্ অভিপ্রায়ে
তোমার এ মহানুভবতা।
আমি তুষ্ট।
ভিখারি হয়েও দাতা হওয়া কম নয়তো গর্বের।
প্রসন্ন হৃদয়ে তোমার প্রস্থানের পর আমার নয়নে প্লাবনের ধারা।
যার উৎস কোনো ক্ষতের যন্ত্রণা নয়।
ছিন্ন বৃদ্ধাঙ্গুলের শোকও নয়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, স্থির অধ্যাবসায়, নিরলস অভ্যাস আর গিরি লঙ্ঘনের পরিশ্রমে গড়া
সাফল্যের হিমশৈল প্রতিদানের উষ্ণতায় বিগলিত।
পুনরায় সাধনায় হয়েছি নিবিষ্ট।
চার আঙ্গুলেই ধনুকে  যোজনা করেছি তূণ। বারংবার চেষ্টা করেছি। বারংবার--
হতাশ হয়েছি আমি।
অন্তরে স্মরণ করেছি তোমায়। হে আচার্য! আমাকে শক্তি দাও। হে পরমাত্মা! আমাকে
লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা দাও। আমার শরক্ষেপণে ক্ষিপ্রতা দাও।
লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা দাও...
শরক্ষেপণে ক্ষিপ্রতা দাও...
হায় রে অদৃষ্ট! হায় রে আমার ললাট!
ব্যর্থ। সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ।
প্রাপ্তি শুধু সহানুভূতি। বুক ভরা সহানুভূতি।

চণ্ডাল রবে বিজিতের দলে
এটাই তো ভবিতব্য
মহাভারতের প্রতিনায়ক আমি
নিষাদ একলব্য।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বহুদিনের পরে আবার
কবি মানস কুমার মাইতি
রচনা ১লা এপ্রিল ২০২০

উড়ছে পাখি নীল আকাশে
.           সাগর জলে তিমির ঢল,
সবুজ গাছে রঙ ফিরেছে
.           স্বচ্ছ দেখায় নদীর জল।
আপন মনে হাঁটছে পথে
.        বনের শেয়াল, চামরী গাই,
ভয়-ডর হীন স্বাধীন জীবন
.           ওদের খুশির অন্ত নাই।
গাছের ডালে ভিড় করেছে
.              ময়না দোয়েল বুলবুলি
সকাল সকাল ভাঙা গলায়,
.          গাইছে শালিক প্রাণ খুলি।
রেল লাইন ও সেতু সড়ক
.                 '
বাসন' এর বিশ্রামে,
কাজ হারানো গাড়ি যেন
.                      ধ্যান-মগ্ন আশ্রমে।
মলিন বেশের বিষ্য বাতাস
.                    মুখ ধুয়েছে শুদ্ধতায়,
মেরু দেশে জমছে বরফ
.                  শীতল হওয়া উষ্ণতায়।
মুক্ত ঝরা রবির হাসি
.                    সুপ্রভাতে ভরায় মন
ধরার প্রাণে খুশির জোয়ার,
.               দিচ্ছে জানান প্রতিক্ষণ।
চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে
.                মাঠ ঢেকেছে নরম ঘাস,
বহুদিনের পরে আবার
.            শান্তি সুখের নিসর্গ- বাস।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অবাধ্য খিদে
কবি মানস কুমার মাইতি

অবাধ্য খিদে পিঁপড়ের ডিমে ভরে না
কচুপাতা দেয় সেদ্ধ ভাতের গন্ধ।
সরকারি দান ওদের কড়া নাড়ে না
রাষ্ট্রনেতা এক চোখো, নয় অন্ধ।

মোমের আলোয় জ্বলেনা বিবেক বাতি
ঘন্টার ধ্বনি খোলে না হৃদয় দ্বার
ছুঁচোর ডনে অনশনে কাটে রাতি
সুখের দেশে বেঁচে থাকাটাই ভার।

চাওয়া না পাওয়ার চলছে দীর্ঘ লড়াই
এক সের চাল,হোক না পোকায় ধরা
রাজার মুখে নিজের কাজের বড়াই
ক্ষুধার ডাকে নয়া ডাক হরকরা।

ঘুমনো পৃথিবী জাগবে নতুন ভোরে
পথে প্রান্তরে ছড়ানো নিযুত লাশ
সমাজের চাকা যাদের হাতে ঘোরে
জোটে না কপালে গরম ভাতের বাস।

জেগেছে ওরা করেছে ভীষণ পণ
একরোখা আজ বাঁচার কঠিন জিদে
লুটে নেবে ঐ তোমার জমানো ধন
হাঁটছে মিছিলে সব অবাধ্য খিদে।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ফাগ ফাগুনে
কবি মানস কুমার মাইতি

ফাগের রঙে রঙিন করা এই বসন্ত বেলা
সব বেদনা থাকুক দূরে
চলুক হোলি খেলা।

মরমে সবার বসন্ত রাগ বাজুক  গুঞ্জরনে
সকল হৃদয় হিংসা ভুলে
মাতুক উল্লসনে।

দখিন হাওয়ার পরশেতে উদাসী সব মন
স্মৃতির পটে থাকুক আঁকা
এই মিলনের ক্ষণ।

শেষ ফাগুনের মনের কথা হয়নি যাদের বলা
বুকের মাঝে জমিয়ে রেখে
একটি বছর চলা।

এই ফাগুনে মিটুক আশা ভরুক সবার প্রাণ
"রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও গো এবার"
বাজুক রবির গান।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
চেতনার কবি
কবি মানস কুমার মাইতি

ধূলো-খেলা নয়। পেয়েছিল নোনা শৈশব
দুখের সাগরে এলেমেলো ব্যথা ঢেউ
অভাবী পিতা দাফনে গভীর ঘুমে
দুখু মিঞাকে দেখার ছিল না কেউ।

কচি কাঁচা হাত। লিখে চলে লেটো গান
সুর আর স্বর বিকিয়ে ভরানো পেট
রুটির দোকানে মেহনত বেচা শিশু
খিদের উনুনে পুড়ে যাওয়া ওমলেট।

বটবৃক্ষের ছায়া মেলে নাই কভু
বিদ্যা-সাগরে কুড়িয়েছে কিছু নুড়ি
ভেঙেছে প্রাচীর গড়েছে সৃষ্টি মিনার
শত কষ্টেও বিবেক যায় নি চুরি।

মৈত্রী  সাবানে ধুয়েছে জাতের গন্ধ
সমতার রঙে চেয়েছে রাঙাতে মন
পরাধীনতার শিকল ভাঙার টানে
সৈনিক বেশ। জীবন করেছে পন।

হৃদয় ভরানো শ্যামা সংগীত ফুলে
করেছে পূর্ণ আপন গানের সাজি
"বাগিচায় বুলবুলি তুই।" দরদি পরশে
কশাই হৃদয় এখনও কাঁদতে রাজি।

জীবন আকাশে ভেসে চলা কালো মেঘ
প্রায়স ঢেকেছে সংসার সুখ - সূর্য
সৃষ্টি সুখের উল্লাসে  হাসা মুখে
দীর্ঘ বিরতি। বাজেনি তো বাক-তূর্য।

পাষাণের ঘুম ভাঙাতে পার গো তুমি
তোমার কথায় তোমার সুর-মূর্ছনায়
বিদ্রোহী কবি চিরদিনই রবে অমর
বিশ্বের মাঝে সকল চিত্ত চেতনায়।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কালরাত্রি
কবি মানস কুমার মাইতি
রচনা ২৭শে এপ্রিল ২০২০

পথটা যখন চেনা
হাঁটতে কিসের  মানা
এগিয়ে চলা দেহের ক্লান্তি ভুলে।

ঝরছে ঝরুক ঘাম
জানতে চেয়ো না নাম
পরিচয়টা ঢেকেছে  কালো ঝুলে।

জ্বলছে জ্বলুক উদর
করবে কে আর কদর
ভুলেই গেছি দেশটা আমার ভারত।

ফিরব নিজের ঘর
সয়না যে আর তর
উত্তেজনায় চড়ছে ভীষণ  পারদ।

রক্ত ঝরা পায়
এগোনো বিষম দায়
শক্তি দেহে নেই তো বিশেষ কিছু।

মাঝ দরিয়ায় এসে
যায় যদি নাও ভেসে
বৃথাই  ছোটা তখন মাঝির পিছু।

সাঁতরে ওঠার চেষ্টা
জলেও গলায় তেষ্টা
ডুবছি তখন গভীর অতল তলে।

চোখটা রেখে বন্ধ
আজকে যারা অন্ধ
অল্পদিনেই পড়বে জাঁতাকলে।

সামনে আঁধার দিন
বাঁচার আশা ক্ষীণ
আমরা যে হই কালের অভিযাত্রী।

আতঙ্ক এক রাশ
করবে সবায় গ্রাস
দেখবে তখন প্রতিদিনই কালরাত্রি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমার ডিঙি নৌকা
কবি মানস কুমার মাইতি

আমাকে তুমি দিয়েছ অনেক কিছু
নৌকো করে ভাসিয়েছ সারাদিন
বনবিতানের ছায়া সুনিবিড় বুকে
প্রাপ্তির মোহে গুটিয়েছি আস্তিন।

আমাকে তুমি চিনিয়েছ গলিপথ
মুজরো আসর। দেহ বিক্রির হাট
মরে বাঁচার নিদারুণ এক মোহে
ভোগের খাঁচায় অসহায় পাখসাট।

আমাকে তুমি দেখিয়েছ হিমালয়
স্বভাবে করেছ ক্ষুধার্ত এক হাঙর
যাত্রাপথের অন্তিমে এসে দেখি
সজল ঠোঁটে হাসছে টেথিস সাগর।

আসলে তুমি আমার ডিঙি নৌকা
ভাসার ছলে উথল ঢেউয়ে দোলো
সুযোগ বুঝে নিজেকে ভিজিয়ে নিতে
নারীর লাজুক অঅবগুণ্ঠন খোলো।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অহম্
কবি মানস কুমার মাইতি

প্রতিদিন আমি দাঁড়কাক সাথে বাঁচি
বসন্তে তাই  কোকিল না এলেও চলে
সব অনুভূতি জমিয়েছি মুঠোফোনে
সুখের ঠিকানা এ্যানড্রয়েড করতলে।

কৃষ্ণচূড়ায় খুঁজিনা প্রেমের রঙ
দখিনা বাতাসে ধরেছে ধূসর জং।

মনের ফোকরে চামচিকি করে বাস
প্রজাপতি ডানা মেলবে কিভাবে শুনি?
পিঁপড়ে ঢিপিতে লুকোনো দস্যি দেহ
অন্তরে বাজে বাল্মিকী মধু - বাণী।

এখন আমি হায়নাকে ভালোবাসি
পুণ্য কুড়োতে যাই বেনারস কাশি।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সুবাসিত সুভাষ
কবি মানস কুমার মাইতি

তোমার সঙ্গে আমার প্রথম আলাপের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল একটা লজেন্স।
স্থানটি ছিল গ্রামের এক খড়ের চালের মাটির ঘরের সামনের মাটির অঙ্গন।
জাতীয় পতাকার নীচে একটা ছোট্ট কাঠের চেয়ারে হেলান দিয়ে তোমার অধিষ্ঠান।
গলায় গাঁদা ফুলের মালা। কপালে চন্দন। লাগছিলো বেশ।
আমি অবাক চোখে তোমার পানে চেয়েছিলাম।
তুমিও স্থির দৃষ্টিতে সবাইকে দেখছিলে।
তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিয়েছিলেন এক হাঁটু ধুতি,হাফ হাতা ফতুয়া,কালো ফ্রেমের
চশমা পরা আমাদের গ্রামের সবার মাষ্টার মশাই- স্বদেশ বাবু। ছোটোখাটো চেহারার ঐ
মানুষটি তোমার সম্বন্ধে অনেক কিছু বলেছিলেন।  তার সব আজ আর মনে নেই। কেবল
ভুলিনি তোমার নাম। ভুলিনি তোমার আহ্বান "তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি
তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।"
ভুলিনি তোমার আপোষহীন সংগ্রাম। ভুলিনি তোমার অন্তর্ধানের লোমহর্ষক কাহিনী।
ভুলিনি তোমার কষ্টের কারাবাসের কথা।
তারপর, প্রতি বছর আজকের দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখা হয়। আমরা বলি। তুমি
থাকো নির্বাক।
তোমার অবয়বের কোনো পরিবর্তন নেই।
দৃষ্টি ঐ সুদূরে। লালকেল্লায় উড্ডীন ত্রিবর্ণ নিশান তোমায় যেন  বলে, 'আমি তো তোমার
হাতে উত্তোলিত হওয়ার অপেক্ষায়। '
বছরগুলো যত এগিয়েছে তোমাকে ফিরে পাওয়ার আশা তত পিছিয়েছে।
এক নৈশপ্রহরীর বিনিদ্র রাত্রি জাগরণ শত চোখের নিশ্চিত নিদ্রার কারণ।
তার প্রকৃত উদাহরণ তো তুমিই।
আমার হাত পা শরীর যত বড় হয়েছে তত বেশি তোমায় জানতে শিখেছি।
প্রথম দিনের সামান্য লজেন্সের লোভ আজ এক হৃদয় শ্রদ্ধার রূপ পেয়েছে।
সব কিছু পাল্টেছে। আলো বাতাস পৃথিবী আকাশ, সব।
সংখ্যায় বেড়েছে জনগণ প্রদেশ গ্রহ উপগ্রহ।
বদলেছি আমি। বদলেছে দেশ, সরকার, সংবিধান। শুধু বদলাওনি  তুমি। অবিচল।
সারা দেশে তোমার সংখ্যাও বেড়েছে। মূর্তিতে। উপলে বা ধাতুতে। কিন্তু তোমার আদর্শ
বদলায়নি।

আজ অনেক গুলো জানুয়ারী পেরিয়ে এসে তোমার সাথে আলাপ হওয়া জানুয়ারীর
তেইশে ফিরে যেতে বড্ড ইচ্ছে করে। যেদিন তুমি ছিলে সবার। সব ভারতবাসীর।
যেদিন আয়োজনের আড়ম্বর ছিল না।
ছিল অন্তর। যান্ত্রিক আধুনিকতা ছিল না। ছিল আবেগ।
শব্দ দানবের বুক কাঁপানো হাহাকার ছিল না।
ছিল নিঃশব্দ শ্রদ্ধা।
প্যাকেট ভর্তি আপ্যায়ন ছিল না। ছিল এক লজেন্স ভালোবাসা।
আজ তুমি আমাদের ওদের। পৃথক ভাবে। আয়োজনের আতিশয্যে তোমায় ঘিরে থাকা
আবেগ ভিন্ন ভিন্ন দলের পতাকায় ঢাকা।
তুমি কেবল একটা অনুষ্ঠানের উপলক্ষ্য। চাঁদা আদায় আর মোচ্ছবের।
এখন স্বদেশ মাষ্টার মশাই তোমার পরিচয় করান না। করায় উজ্জ্বল পোষাকের ধূসর
স্বভাবের বিজ্ঞের ভান করা নন্টে ফন্টেরা।
মাষ্টার মশাইরা থাকেন মঞ্চের নীচে, তফাতে।
আর তুমি থাকো সবার হৃদয়ে।
তুমি যে সুবাসিত সুভাষ।
আমাদের সকলের বাঁচার আশ্বাস।

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর