সূর্যের সাথে তুমি জেগে ওঠ রোজ আর ছুটে চল সময়ের খুরে খুরে শক্ত পেশিতে টানো সংসার বোঝ যত কষ্ট চেপে রেখে অন্তরে।
চোখের পাতা যখন খোঁজে বিশ্রাম ঘুম হীন আমি। গল্প শোনার আবদার তোমার দু'ঠোঁট নড়ে চলে অবিরাম মন গড়া সব গল্পের নেই জুড়িদার।
এগিয়েছি আমি সময়ের পিঠে চেপে চিনেছি জগত তোমার দৃষ্টি দিয়ে। হাজার কাহিনী। বলা যায় কি সংক্ষেপে? অনুভূতিগুলো যাবে না কখনো হারিয়ে।
জীবনের পথে বটবৃক্ষের ছায়া ভুলেছি ক্লান্তি। চলেছি নতুন করে এখন আমার শরীরে তোমার কায়া আজো বেঁচে আছি স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে।
পেয়েছি অনেক পারিনি দিতেই কিছু হাতটি তবুও আমার মাথায় রেখো আমিও হাঁটছি বাবা হয়ে পিছু পিছু প্রণাম নিও। শুধু বাবা হয়ে থেকো। . **************** . সূচীতে . . .
আমি তৃতীয় পান্ডবের অজ্ঞাতবাস কালের ছদ্মবেশী দশা-বৃহন্নলা আজানুলম্বিতবাহু জিষ্ণুর বর্ষব্যাপী ক্লিব রূপ। আবার শিখন্ডী রূপে ভীষ্মের পরাজয় ও মৃত্যুর কারণ। আমি স্রষ্টার অদ্ভুত সৃষ্টি। মানুষের হাস্যরস উৎপাদনের উৎস। চালু কথায়---হিজড়া। আমার কোনো খেদ নেই। আমার কোনো আপশোস নেই। নেই কোনো অনুযোগ। আমার না আছে সৃষ্টির ক্ষমতা। না আছে সম্ভোগ ক্ষমতা। আমি যে নপুংসক। দীর্ঘকাল আমার জন্মভূমি, আমার দেশ দেয় নি আইনি স্বীকৃতি। পাইনি নাগরিক অধিকার। অনুকম্পায় অনুগ্রহে বাঁচিয়েছি নিজেকে। জোড়া হাতের শব্দে জানান দিয়েছি নিজের অস্তিত্ব। স্বতন্ত্র আওয়াজে চমকিত হৃদয়ে তোমরা দেখেছো আমায়। আমি তোমাদের হাসির খোরাক হয়ে জোগাড় করেছি নিজের বাঁচার খোরাকি। তবু,এ জন্মে আমি ধন্য। আমার কোলে দোলে নিষ্পাপ শিশু। আমার ঢোলের বোলে মাতৃ হৃদয়ে ধ্বণিত হয় সন্তানের মঙ্গল বার্তা। আমার নৃত্য ভঙ্গিমায় পুলকিত হয় কিশোর যুবক মন। আনন্দ দানের অফুরান ভান্ডার আমি, নিজ গৃহচ্যুত। মা বাবার স্নেহসুখ সীমিত কালের জন্য বরাদ্দ। না পাই পিত্রালয়, না পাই শ্বশুরালয়। রক্তের সম্পর্কহীন সমগোত্রীয় আমরা থাকি একসাথে। নাড়ির যোগ ছিন্ন করে। আমার জন্মদিন পালিত হয় না। 'শুভ জন্মদিন' লেখা শুভেচ্ছা বার্তা কেউ প্রেরণও করে না। বেঁচে থেকেও আমি মৃত। আমি না কারো ভাই,না কারো বোন।না কারো বাবা,না কারো মা। আমি কাপুরুষতার বিশেষণে ভূষিত- নপুংসক, হিজড়া। কারো মা- বোন নই তো আমি হই গো সবার মাসি। আমার চলন বলন দেখে পায় তোমাদের হাসি। আমি হই গো সবার মাসি... . **************** . সূচীতে . . .