কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা
*
শেষ চেষ্টায়
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

ফুটোফাটা বেড়ে যাওয়া জ্যাকেট খুলে ফেলেছে লোকটা
বর্মের ধর্মহীনতা নিয়ে এতদিন সে এঁটুলির রক্ত সংযোগে
এখন কান বন্ধ চোখ বন্ধ দেওয়ালদের এগিয়ে আসা শব্দ
পলায়নপর হতে চাইছে এইসব পারিপার্শ্ব পরিস্থিতি ছেড়ে
কিন্তু জ্যাকেট খুলতে না পারলে কোথায় নিশ্চিন্ত নিস্তার

দখল নিয়ে শ্বাদন্ত  হুমকি হুঙ্কার, হিংসার কামজ কামড়
পারস্পরিক পশ্চাত দংশন উল্লাস,বর্গীহানা, বিভিষণ উদয়
নিতান্ত ভদ্রলোক গায়ে পড়ে শুনিয়ে যায় ভয়ের শুভেচ্ছা
বিগলিত প্রান্তিক মেঝে, দস্যুর ছদ্মবেশী পাত পেড়ে খাওয়া
চাটুকারীতা লব্জ করে ফ্যালে শিখর সন্ধানী মহল্লা তরুণী

তীরবিদ্ধ জ্যাকেটের ক্রমশ ফুটো দিয়ে ঢুকে পড়ছে ইত্যাদি
দ্রুতগামী কেউটে এড়াতে সেলাইয়ের ফোঁড় খুঁজছে লোকটা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
অবশেষে
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

গভীর গূঢ় প্রাজ্ঞ কুয়োতলা ছেড়ে আটচালা হাটে
সহজে মানিয়ে থাকতে চায় জন্মের এই অতঃপর
গরমে নামতে হয় ভোর কিম্বা বিকেলের পুকুরেই
কেটে গেলে গাঁদা দুব্বোঘাস থেঁতো করা টোটকা
সাধারণ গ্রামজ গম্যি যথেষ্ট সুখকর লাগে ইদানিং
কয়েকজন ঘোড়েল সূক্ষ্ম সারে আড়চোখে চেয়ে
তলে তলে তদ্রূপ আকাঙ্ক্ষী হয় কিছু অনুগমন
ইতিমধ্যে বুঝি মুষ্টিমেয় পরিসরে হতভাগ্য থাকে
যদিও বহুতল খাঁচা কোণে মাথা কোটে বহুত্ববাদ
পাল্লার ডানা মোড়া রুটি আসে ফোকরের ফাঁকে
তবু চলো মনো ঢালাও সবুজের ধানক্ষেত আলে
নির্বোধ বহুস্বর গুঞ্জনে, সাদামাটা হাটবাজার কথা
কখনো স্বপ্নের মতো, এখনো ধরে রেখেছে আমায়
সেখানে তৃপ্ত পুলক আহার বিহার কাম্য আর দেয়
যথেষ্ট সর্বস্ব হোক সবার এই মতো বিবেচনার সার
জ্ঞান গূঢ় পরোক্ষের বিপক্ষে রয়ে গেলাম ইহজন্ম

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
উম্পান শেষে
কবি নীলিম গংগোপাধ্যায়

অনর্গল কলকল জল ঢোকার শব্দ
অবিরাম ধুপধাপ দেয়াল চালার
মড়মড় গাছ ডালপালা

আকাশ ভাঙা বেপরোয়া বৃষ্টি
শোঁ শোঁ সাঁই সাঁই ঝড়ের তাণ্ডব

কলকল জলে গিয়ে মিশে যাচ্ছে
অসংখ্য কান্নার স্রোত
ধুপধাপ মড়মড়ে মিশে যাচ্ছে
চাপা পড়া মানুষের
হাড় ভাঙার ভবিতব্য
শোঁ শোঁ সাঁই সাঁই বাতাস গিলছে
ওঠানামা বুকের হাপর নিঃশ্বাস

ওখানে বিছানা বালিশ ছিল
রান্নাঘর হাঁড়ি পাতিল, ছোট্ট
বারান্দায় ছেলের বইয়ের তাক
মায়ের টিপ গাঁথা আয়না চিরুনি
পিছনে ছাউনি ঢাকা চিলতে বাথরুম
মোটামুটি যাপনের আস্থাশীল
ছবি, উত্তরণ সম্ভব খাটাখুটি

সেইখানে, সেইসব খানে
আকাশের খতরনাক নখ
বয়ে যাওয়া জলের উপর
নিচে তার দাঁত মুখগহ্বর
উদর ভর্তি গেরস্থালী

শহরে কারেন্ট এলো
জল নামছে স্বভাবে, পাম্পে
ঝড়ে পড়া গাছ কাটে মিলিটারি
কেবা আগে ত্রাণ করিবেক দান
ভোটনীতির চালু খেয়োখেয়ি
পানীয় জলের সমস্যা মিটলেই
ফুটে উঠবে নির্ঝঞ্ঝাট অলিগলি
স্বাভাবিক ঘরবাড়ি রাস্তার মোড়

ওখানেও জল নেমে যাবে একদিন
স্কুল বিল্ডিং ক্যাম্পের আশ্রয় ছেড়ে
নিজের ঘর খুঁজতে যাবে মানুষ
কিন্তু এমন ভাসান গেছে
কিছুতেই ফুটবে না গার্হস্থ প্রতিমা

অনর্গল কলকল জল ঢোকার শব্দ
অবিরাম ধুপধাপ দেয়াল চালার
মড়মড় গাছ ভাঙার
চাপা পড়া মানুষের
হাড় ভাঙার ভবিতব্য
ওঠানামা বুকের হাপর নিঃশ্বাস নিয়ে
তাকিয়ে থাকবে বেশ কিছু মানুষ
পাঁক হয়ে যাওয়া জীবনের দিকে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইউনিভার্সিটি যেমন রেখেছ
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়
 
সুযোগ খাতার পাশে নির্বিবেক ফাঁদ
পুষ্ট দিস্তা খাড়িয়েছ হামাম বিছানায়
চেঁছেছ হামান যত্নে নিপুণ নীল ছবি
পর্ণস্টারকে দিয়েছ টেক্কা মহিমায়

দিস্তা প্রহারে থেঁতো করো নিয়মিত
হামানের তলদেশে নবীন বৃক্ষদেশ
সবুজ ক্ষেতে ফলা শুদ্ধ অভিলাষ
প্রান্তিক উঁচু দাঁত বনলতা তরুণীর
অপুষ্ট বুক, ভিতরের সাধ্য সাধনা

যোনির শ্বাদন্ত মাজো দামি পেস্টে
সজ্ঞানে চেবাও প্রান্তস্থিত সম্ভাবনা
মাতৃগর্ভে রপ্ত বিদ্যা জিনবাহী নিয়ে
লুঠ করো ব্রাহ্মণ্যবাদী বিদ্যা সম্ভার
জিনের সূত্রে যাবে আত্মজায় ফের
আহরিত কূটবুদ্ধির গূঢ় আবর্তন   
যোগ্যের অধিকারে ডাকাতির গ্রাস
আগামীর মুক্তিকে  ধর্ষণকারক
মেরেছ সর্বস্বে তাদের লিঙ্গ শাবল
সাহসে হিম্মতে ধারণায় মনোবলে
নিঃস্ব করে ভরিয়েছ বিশ্ববিদ্যালয়
শ্রোণী আর শ্রেণির লুঠ পরম্পরা

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধুরা যায়
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

মিছিল এসে দাঁড়িয়েছে সদর দরজায়
কেবল বেল বাজায়
নিজের গান খাতাগুলি সন্ততিকে দিয়ে
সারিতে বেরিয়ে

হাঁক শুনি, অনেক হয়েছে লেখা গান
থামা হারমনিয়াম
টিউনিংহীন সুরে খামতি বাজিস এখনো
অতীব পুরনো

ছিলি সাথে যাবি,পারবি না হতে দলছুট
তোরও চিরকুট
ভাসছে বাতাসে, সামিলের পরোয়ানা
খুঁজছে ঠিকানা

তৈরি হচ্ছি গুটিয়ে শরীর হালকা লাগেজে
স্বচ্ছ মগজে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
০২/১০/২০, এবিপি আনন্দ
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

এতো কালো পোঁচ ছিল তবু সাদা ছাই
জাতপাত বিদ্বেষ নাকি ডিজেল পেট্রল
জানে রয়ে যাওয়া জাড্য জেরিকেন

ইতিমধ্যে ক্যামেরায় টুকরো সাদা হাড়
পুড়ে ছাই হওয়া কেন্দ্রে, তাহার তাহার
মাধ্যমে পড়ে দৃশ্য দেশে দশে ভাইরাল

লেন্সের তীক্ষ্ণ চোখ ধূর্ত্ত নেতা রিপোর্টার
হাড়ের স্বাদ বাঁটে  নিজেদের প্রথামতো
কটু ঝাল কেউ ভালোবাসে কেউ কাঁদে

বৃত্তাসুর তাঁবে রাখে কৃষাণীর ভাগ্য ও ভগ
উচ্চবর্গ ইন্দ্র নয়, মণীষার বজ্রাঘাত, ওই
হাড়ে বড্ডো জরুরী, লিখুক নব বাল্মীকি

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
প্রস্থান পর্ব যদিও
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

ঘোর দাও, ভানুমতী ঘোর
এখনও কী? কেন কুম্ভিলক
অভ্যাসের সিঁদ কাটা চোর

কষ্ট দাও, নির্ভেজাল শোক
সংশ্লেষ অপারগে হেয়
ধিক তার মিথ্যা নির্মোক

শেষ এলো,কথা দাও তবে
পূর্ণিমার চাঁদ ঝলসানো
চাঁচরেই নির্গমন হবে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বাসনায় স্থিরছবি
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

দুই পাশে কাশফুল বিস্তারিত
দিগন্ত ছুঁয়ে আছে শুভ্র পাখায়
লিচু রঙ আকাশের সমান্তরাল
বাতাসের গান আলোর ডিমার

পায়ে হাঁটা দীর্ঘ তন্বী সেতু এক
পিঠ পেতে অহল্যা এপার-ওপার

তুমিও রেখেছ যেই ওই পারে মৃদু
পায়ের পাতাখানি সেতুর শুরুতে
তদৃশ এই পারে আমি অনুরূপ

সেইক্ষণে যোগ হল দৈব নির্দেশ
বজ্রবিদ্যুৎ চমকে স্থির হল চরাচর

সেই থেকে ঝুলে আছে সেতুছবি
অনন্ত বাসনার বায়বীয় চিত্তপটে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এখনো ঘোড়ায়
কবি নীলিম গঙ্গোপাধ্যায়

কলমের জেনেটিক ক্ষোভ ছিঁড়ে
মিউটেশনের হারমনিয়াম বাজে
আঁচড় না পড়া ভার্জিন বালিতট
লাল কাঁকড়া ঝাঁক দৌড়ে বেড়ায়
দল ভালোবাসে, দলে পাল খেলা
সে গর্ত ছাড়া মনোরথে মুক্ত স্বাধীন
সাদা-কালো রিডে গীতবিন্যাস গমন
লাল প্রাণ লাল রঙ কুসুমে কুসুমে

কাঁকড়া আঙুল বেবাক ধ্যাড়ালে
কোনো হেঁক্কোড় হাঁকলে দূর বাল
গল্পের প্লট নামতে পারে কড়ারে

প্লটে প্লটে দ্রুত ওঠে জি প্লাস ফোর
নতুন সংসার পাতে প্রজন্ম যুগল
রমণ রমণ শেষে করে জন্মদান
জানালা গল্প টানে, এবং অন্তর্দৃষ্টি
কবিতা গল্প গান অল্টারনেটিভ
তিন ঘোড়া ছোটে সীমান্ত অভিমুখে

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর