কবি পিন্টু পোহান-এর কবিতা
*
বীজ
কবি পিন্টু পোহান

না, আমাদের শহর জ্বলেনি
বান্ধবীরা প্রিয় প্রিয় পুরুষের কাঁধে
মাথা রেখে দিব‍্যি ঘুমিয়েছে
পাড়ার ক্লাবে যথারীতি চলেছিল মদের ফোয়ারা
জল্লাদের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি!
আমি শুধু সারারাত ঘুম নষ্ট করে
ভেবেছি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো
এ কী করলাম--
"ছত্রিশ হাজার লাইন কবিতা না লিখে
যদি আমি সমস্ত জীবন ধরে
একটি বীজ মাটিতে পুঁততাম. . .

যদি আমি একটি বীজ মাটিতে পুঁততাম!"

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ভারতবর্ষ  
কবি পিন্টু পোহান

আপনারা যখন ভারতবর্ষের কথা বলবেন
মনে রাখবেন, ভারতবর্ষে একটা নদী আছে!
যে নদীকে ভালোবেসে আমাদের পূর্বপুরুষেরা
একদিন ঘর বেঁধেছিল !

আপনারা যখন ভারতবর্ষের কথা বলবেন
মনে রাখবেন, ভারতবর্ষে আজও
পায়েচলা সুদীর্ঘ একটা পথ পড়ে আছে!
আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে পথ দিয়েই হেঁটে যেত!

আপনারা যখন ভারতবর্ষের কথা বলবেন
মনে রাখবেন, ভারতবর্ষে আজও একটা সবুজ বন বেঁচে আছে!
আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে বন থেকে নিয়েছিল বাঁচার রসদ একদিন!

আপনারা যখন ভারতবর্ষের কথা বলবেন
মনে রাখবেন
ভারতবর্ষে এখনও
একটা নদী
একটা সবুজ বন
সুদীর্ঘ একটা পায়েচলা পথ
আর বেঁচে আছে তাহাদের উত্তর পুরুষেরা!

তারা কোনদিন আপনাকে প্রশ্ন করবে না,
কে আপনি? হিন্দু না, মুসলমান?
তারা কোনদিন আপনাকে বলবে না, এনআরসি সার্টিফিকেট দেখান,
এদেশে বহিরাগতের ঠাঁই নেই!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রাম জেগে আছে
কবি পিন্টু পোহান

আপনারা ভেবেছিলেন,
গলা টিপে ধরলে
সে হাত-পা ছুড়বে কিছুক্ষণ
গালিগালাজ করবে...
তারপর আপনারা
তার এই হাত-পা ছোড়া
আর গালিগালাজকে
সন্ত্রাসবাদের
বহিঃপ্রকাশ বলে
নিঃশব্দে খুন করে চলে যাবেন!

আপনারা ভাবতেই পারেননি,
রহিম নয় রহিমের পাশে
রাম নামের যে ছেলেটা বসেছিল
নিরীহ-গোবেচারা
সে ছেলেটা মাটিতে কান পেতে
খুনেদের গোপন ষড়যন্ত্র আঁচ পাবে।
সে ছেলেটা মাঠে নেমে বলবে, খবরদার!

রাম জেগে আছে আজও রহিমের পাশে!

সে ছেলেটা পথে নেমে পড়বে এভাবে
সে ছেলেটা হেঁটে যাবে আলপথ ধরে
সে ছেলেটা যাবে প্রতি মানুষের কাছে
খুঁটে খুঁটে তুলে নেবে বিভেদের বীজ
হৃদয়ে হৃদয়ে দেবে সম্প্রীতির সুর
প্রতিটা পথেই লিখে রাখবে ভালোবাসা!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
দ্রোণাচার্যের প্রতি
কবি পিন্টু পোহান

দ্রোণ তুমি মহীরুহ ; সামান‍্য একলব‍্য আমি!
আমার বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ নিয়ে সুখী হতে চাও?
সুখী হও তুমি!
পাণ্ডব-কৌরব যত রাজার দুলাল
থাক তোমার আশ্রয়ে!
শূদ্রের স্পর্ধা কেড়ে
তাকে নির্বাসন দাও অরণ‍্যজঠরে!

অদ্ভুত বিচার বটে মহাভারতের!

আমি জাত শূদ্র এক কর্তব‍্যপালনে
নিঃস্ব হব রিক্ত হব গুরুর আদেশে
বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠও দেব গুরুর চরণে!

শেষ হয়ে যাব?

হে ব্রাহ্মণ গুরুশ্রেষ্ঠ ভুলেও ভেব না।

আমার ঘৃণা ও ক্রোধ জোটবদ্ধ হয়
একলব‍্য আমি থাকি ঘোর তপস্যায়!

হ‍্যাঁ, আমি নিজেকে ঋষিতুল‍্য মনে করি
হ‍্যাঁ, আমি ক্ষত্রিয় নিত্য শূদ্র জাগরণে
হ‍্যাঁ, 'আমি বীরশ্রেষ্ঠ' এই দাবি নিয়ে
মহাকাব্যে রয়ে যাব সোনার অক্ষরে!

শুনে যাও পিতৃতুল্য দ্রোণাচার্য গুরু তুমি
শূন্য থেকে শুরু করতে জানি শুধু আমি!

.              ****************                          
.                                                                            
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর