কবি পিন্টু পোহান - জন্মগ্রহণ করেন কলকাতায়। পিতার স্বর্গীয় পূর্ণচন্দ্র পোহান এবং মাতা উজ্জ্বলা
দেবী।
কবি, কলকাতার দক্ষিণে বেহালায় অবস্থিত জয়শ্রী হরিচরণ বিদ্যাপীঠ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করে
বড়িশা শশীভূষণ জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠ থেকে মাধ্যমিক পাশ ও সোদপুর শ্রীমন্ত বিদ্যাপীঠ থেকে
উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। অভাবের কারণে দীর্ঘকাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে দূরে থাকতে হয়।
দারিদ্র্য তাঁর আজন্ম সঙ্গী। আর পাঁচজন জন্ম থেকেই স্বাভাবিক ভাবে যা পেয়ে থাকে তিনি তা পাননি।
আর্থিক কারণে বারবার বিঘ্নিত হয়েছে তাঁর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। বারবার বিঘ্নিত হয়েছে তাঁর
পড়াশোনা। দুমুঠো ভাতের জন্য কখনও অন্যের দোকানে চাকরের মতো খেটেছেন। কখনও রাস্তার ধারে
ফুল বিক্রি করেছেন, কখনও মাছের দোকান দিয়েছেন। কখনও রাজমিস্ত্রির জোগাড়ের কাজ করেছেন।
১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর আর্থিক কারণে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় বরাবরের জন্য ইতি
টেনে তিনি ফুটপাতে খুলেছিলেন ছোট্ট একটি গুমটি। পান-বিড়ির দোকান। তাই এখনও পেশায় কবি একজন
পান বিক্রেতা। কিন্তু হাতে তুলে নিয়েছিলেন বই আর কাগজ-কলম। খদ্দের এলে বইখাতা কোল থেকে
নামিয়ে রেখে খদ্দেরের চাহিদা মেটাতেন। খদ্দের চলে গেলেই আবার কোলে তুলে নিতেন বইখাতা। তা
দেখে কিছু মানুষ তাঁকে শুধু ব্যঙ্গবিদ্রুপই করত না, সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টাও করেছে পদে
পদে। তাঁর এই দোকানে বসে পড়েই তিনি নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথমে বাংলায় স্নাতক
হন ও পরে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তারপরে দোকানে বসে পড়েই হিন্দি সাহিত্যে প্রথমে ডিপ্লোমা ও
পরে অ্যাডভান্স ডিপ্লোমাও অর্জন করেন তিনি। শুধু কি তাই? দেশ-বিদেশের সাহিত্যের অমূল্য রত্নভাণ্ডার
নিয়ে তাঁর পড়াশোনার বেশিরভাগটাই এই দোকানে বসেই।
কোনও প্রতিবন্ধকতাই তাঁকে দমাতে পারেনি। তাঁর তিন ফুট বাই তিন ফুটের ফুটপাতের একটি ছোট্ট
পানের দোকানে বসেই তিনি যা লিখেছেন, তা এমন সব পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে যা যে কোনো
প্রতিষ্ঠিত লেখক-কবিরও ঈর্ষা জাগানোর জন্য যথেষ্ট! তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে “আনন্দবাজার পত্রিকা”,
“আনন্দমেলা”, “সানন্দা”, “দেশ”, “চিরসবুজ লেখা”, “নবান্ন”, “বলপয়েন্ট”, “নবকল্লোল”, “শুকতারা”, “বর্তমান”,
“প্রতিদিন”, “আজকাল”, “দৈনিক স্টেটসম্যান”, “সাপ্তাহিক বর্তমান”, “শিলাদিত্য”, “ঘুম নেই”, “পালক”, “কথা”,
“পত্রী”, “কথাসাহিত্য”, “শ্রুতি”, “জনতার দরবার”, “চিরাগ”, “এই সময়”, “কৃত্তিবাস” প্রভৃতির মতো বাংলা
সাহিত্যের প্রথম সারির পত্র-পত্রিকায়।
সেই দোকানে বসে ছোটদের জন্য লেখা তাঁর গল্পগুলি নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে পাঁচটি গল্পের বই।
“পারুলমাসির ছাগলছানা” (প্রকাশক: মান্না পাবলিকেশন, প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর ২০১৭), “নোটন নোটন
পায়রাগুলি” (প্রকাশক: মান্না পাবলিকেশন, প্রথম প্রকাশ: কলকাতা বইমেলা, ২০১৯), “ইলিশখেকো ভূত”
(প্রকাশক: মন্দাক্রান্তা, প্রথম প্রকাশ: এপ্রিল ২০১৯), “কচুরিপানার ভেলা” (প্রকাশক: বৃন্দা প্রকাশনী, প্রথম
প্রকাশ: কলকাতা বইমেলা ২০২০) ও “ঝিনুককুমার” (প্রকাশক: বৃন্দা প্রকাশনী, প্রথম প্রকাশ: নভেম্বর ২০২১)।
তাঁর লেখা উচ্চ প্রশংসিত সাহিত্যের গুণগত মানের বিচারে।
কবি তাঁর দোকানে বসেই খদ্দের সামলানোর ফাঁকে ফাঁকে চরম দারিদ্র্য আর হাজারো মানুষের ব্যঙ্গবিদ্রুপ
উপেক্ষা করে লিখে ফেলেছেন এগারোটি উপন্যাস, দুই শতাধিক গল্প, দুই শতাধিক কবিতা ও একশোটি প্রবন্ধ
সহ অসংখ্য মন ছুঁয়ে যাওয়া গদ্য।
আজও ফুটপাতের একটা ছোট্ট দোকানে রোদ-ঝড়-বৃষ্টিতে দোকানদারির পাশাপাশি নিন্দুকদের ব্যঙ্গবিদ্রুপ
উপেক্ষা করে, সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন কবি পিন্টু পোহান। যাঁর ঠিকানা এখনও বেহালার মদনমোহন
তলা বাজারের ফুটপাতের একটি ছোট্ট দোকান।
কবির রচনায় রয়েছে শিশুসাহিত্য থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রতিবাদী লেখনীর রুদ্র নির্ঘোষ।
তিনি জানিয়েছেন যে তাঁর ধর্ম “মানবতা” এবং জাতিতে তিনি “ভারতীয়”!
এই পাতা প্রকাশিত হবার কাল পর্যন্ত কবি কোনোও সরকারি বা বেসরকারি পুরস্কার বা সম্মাননায় ভূষিত
হননি। যাঁর জীবন এত সংঘর্ষপূর্ণ এবং অনুকরণীয়, যিনি এই বয়সেই সম্ভবত লক্ষ লক্ষ নবীন প্রজন্মের
বাঙালীর রোল মডেল হয়ে গিয়েছেন, তাঁর এর চেয়ে বড় সম্মাননা আর কি হতে পারে!?
আমরা মিলনসাগরে কবি পিন্টু পোহান-এর কবিতা তুলে আনন্দিত।
কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
উত্স -
- ইমেলে যোগাযোগ ও আদান-প্রদান।
কবি পিন্টু পোহান-এর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ২১.৪.২০২২ ^^ উপরে ফেরত
...